বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন বাঙালি আইনস্টাইনের গল্প

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মানসূর আহমাদ (০ পয়েন্ট)



X ২০০৯ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বক্তব্যের এক পর্যায়ে হঠাৎ তিনি বলেন, “আমরা শ্রদ্ধা জানাই এক বাঙালী প্রকৌশলীকে। তাঁর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ, কারণ আমাদের দেশের সর্বোচ্চ আকাশচুম্বী ভবনটি তাঁরই নকশায় তৈরি।” সেই বাঙালী আর কেউ নন, তিনি আমাদের গর্ব, স্থাপত্যশিল্পের আইনস্টাইন ফজলুর রহমান খান (এফ আর খান)। আপেক্ষিকতাবাদের জন্য বিশ্বখ্যাত জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের মতই স্থাপত্যে বিশ্বখ্যাত এফ আর খানকে বলা হয় আইনস্টাইন অব স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। এফ আর খানের জীবদ্দশায় তাঁর নকশা করা সিয়ার্স টাওয়ারই ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন। ১১০ তলা ভবন, যা এক হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব তিনি। সে গর্বের টাওয়ারের রূপকার এক বাঙালী প্রকৌশলী। ভাবতেও গর্বে বুক ফুলে ওঠে। তাঁকে বলা হয় গগনচুম্বী ইমারতের রেনেসাঁর স্রষ্টা। গগনচুম্বী ইমারত ছাড়াও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য স্থাপনার নকশা করেছিলেন এফ আর খান। এর মধ্যে সৌদি আরবের আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হজ টার্মিনালের কথা বলা যায়। ১৯৮১ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাঁবুর মত ছাদ, যা প্রয়োজনে ভাঁজ করে রাখা যায়। আরব বেদুইনদের তাঁবু আর আধুনিক কারিগরি দক্ষতার মিশ্রণে তিনি এই বিশাল আচ্ছাদন তৈরি করেন, যার নিচে প্রায় আশি হাজার হজযাত্রী বিশ্রাম নিতে পারেন। তাঁর নকশায় নির্মিত অন্যান্য স্থাপনার মধ্যে আছে সৌদি আরবের আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, কলোরাডো স্প্রিং-এ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মিনিয়েপোলিসের হিউবার্ট এইচ হামফ্রে মেট্রোডোম। সিয়ার্স টাওয়ারের নিচের একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে কৃতী এই স্থপতির নামে। সেখানে তাঁর একটি ভাস্কর্যও রয়েছে যাতে ধাতুর অক্ষরে লেখা আছে তাঁর বাণী, “একজন প্রযুক্তিবিদের তাঁর আপন প্রযুক্তিতে হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তাঁকে অবশ্যই জীবনকে উপভোগ করতে পারতে হবে। আর জীবন হলো আর্ট, সংগীত, নাটক এবং সর্বোপরি মানুষ।” ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি এবং তহবিল সংগ্রহে ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ জেদ্দায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন এই মহান স্থপতি। মৃত্যুর পর তাঁর দেহ যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় নিয়ে সমাহিত করা হয়। নিজ গুণে ভাস্বর এফ আর খানের মহান সৃষ্টি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে অশেষ গৌরব। তিনি বেঁচে আছেন আমাদের অসীম অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে, অসাধারণ দৃষ্টান্ত হয়ে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...