গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

মা— ৫২

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (৩৩ পয়েন্ট)



৫২ আজাদের মায়ের অনুরোধে পুলিশ সুবেদার খলিল একবার যান নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে৷ তখন ঢাকার আকাশ দিয়ে চক্কর দিচ্ছে ভারতীয় বিমান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় তখন ঘন্টার হিসাবে গণনা করার বিষয় মাত্র৷ জেলখানার এক বাঙালি কর্তার সঙ্গে দেখা করেন তিনি৷ বলেন, ‘আমার এক আত্মীয় অ্যারেস্ট হইছিল৷ খোঁজ পাওয়া যাইতেছে না৷ দেখেন তো আছে নাকি ?’ ‘নাম বলেন৷ পিতার নামসহ…’ ‘মাগফার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আজাদ, পিতা ইউনুস আহমেদ চৌধুরী ?’ অফিসারটি বন্দিদের নামের তালিকা উল্টেপাল্টে দেখেন৷ ‘না, নাই তো ?’ ‘আবুল বাশার চৌধুরী ?’ খলিল সাহেব আজাদের মায়ের নিজের হাতে লেখা তালিকাটা পকেট থেকে বের করে পড়েন৷ ‘না নাই৷’ ‘বদিউল আলম ?’ ‘নাই৷’ ‘আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল ?’ ‘নাই৷’ ‘চুল্লু ? ‘আছেন’-কর্তাটির মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে৷ ‘সামাদ ?’ ‘আছেন’-কর্তাটির মুখ হাসি হাসি৷ ‘মুক্তিযোদ্ধা আরো আছেন৷ বরিশালের কাজী ইকবাল…’ খলিল সাহেব শঙ্কিত বোধ করেন৷ তিনি তো বলেননি যে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজে এসেছেন… কর্তাটি তাঁর মুখের ভাষা পড়তে পারেন৷ বলেন, ‘আর বেশি দেরি নাই৷ দেশ স্বাধীন হতে চলেছে…’ খলিল সাহেব বলেন, ‘আর সবাই কোথায় ?’ ‘অন্য জেলে থাকতে পারে৷’ ‘তা পারে৷’ খলিল সাহেব মাথা নাড়েন৷ এই একটা সান্ত্বনা হয়তো তিনি সাফিয়া বেগমকে দিতে পারবেন৷ ঢাকা জেলে আজাদ নাই৷ অন্য কোনো জেলে থাকতে পারে৷ তিনি ধীরে ধীরে কারাগার চত্বর ত্যাগ করেন৷ মালিবাগে যান আজাদের মায়ের কাছে৷ সাফিয়া বেগম দরজা খুলে তাঁর দিকে তাকান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে৷ তিনি বোঝার চেষ্টা করেন, কী নিয়ে এসেছে খলিল৷ সুসংবাদ, নাকি দুঃসংবাদ৷ ‘কী খবর খলিল, কোনো খোঁজ পেলে ?’ তিনি কন্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন৷ ‘না৷ এই জেলখানায় নাই৷’ ‘তাহলে অন্য কোনো জেলখানায় রেখেছে!’ সাফিয়া বেগম অকম্পিত স্বরে বলেন৷ খলিল জোরে বলে ওঠেন, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ বুবু৷ অরা তা-ই কইল৷ বরিশালের মুক্তিযোদ্ধারে আইনা রাখছে ঢাকায়, ঢাকার ছেলেদের ঢাকার বাইরে পাঠায়া দিছে৷’ ‘তুমি বসো৷ তোমাকে চা দেই৷’ সাফিয়া বেগম রান্নাঘরের দিকে চলে গেলে খলিল একটা বড় শ্বাস ফেলে যেন মুক্তির আস্বাদ পান৷ এই মুহূর্তটা বড় কঠিন হবে বলে তিনি ভেবেছিলেন৷ কী করে তিনি আজাদের মাকে বলবেন যে আজাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, এই নিয়ে তিনি সারাটা পথ ভেবে ভেবে সারা হয়ে যাচ্ছিলেন৷ কী রকম শক্ত একজন মহিলা হতে পারেন, খলিল ভাবেন৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন'র মৌলিক থ্রিলার, “১৯৫২: নিছক কোন সংখ্যা নয়।”
→ গোরা (৫২)
→ মা— ৫৬
→ মা— ৫৩
→ মা— ৫১
→ ডাকিণী-১, পর্ব-৫১,৫২,৫৩,৫৪,৫৫
→ চোখের বালি (৫২)
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...