গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

মা-৫০

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (৩৩ পয়েন্ট)



৫০ সাফিয়া বেগম সারা রাত ঘুমান না৷ রোজ রাতের বেলা মেঝেতে শাড়ি বিছিয়ে শোন বটে, কিন্তু দু চোখে তাঁর ঘুম আসে না৷ তাঁর মনে হয়, যদি আজাদ ফিরে আসে, এসে যদি দেখে দরজা বন্ধ, চারদিকে শত্রু, কারফিউ-কন্টকিত একেকটা রাত, এর মধ্যে ও তো চিৎকার করে মা মা বলে ডাকতে পারবে না, আহা রে, ছেলেটা সারা রাত কি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে! তিনি চোখের পাতা এক করতে পারেন না৷ কোথায় নিতে পারে ওরা তার ছেলেকে ? কোনো জেলখানায় ? ঢাকা জেলখানায় তিনি গিয়েছিলেন নিজে, জেলারের সঙ্গে দেখা করেছেন, ওখানে আজাদ নাই৷ অবশ্য অন্য কোনো জেলখানায় থাকতে পারে৷ এমনও হতে পারে, ওরা ওকে নিয়ে যেতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো জেলখানায়৷ বিচার না করে তো আর ফাঁসি দেবে না ? নাকি দেবে ? জুরাইনের বড় হুজুর বলেছেন, আজাদ জিন্দা আছে৷ সহি-সালামতে আছে৷ তিনি দিব্যচোখে না দেখতে পেলে কেন বলবেন ? তাঁর মিথ্যা কথা বলার কী আছে ? জুয়েলের মাও আসে এই বাসায়৷ রুমীর মা আসে৷ সেকেন্দারের মা আসে৷ সেকেন্দারের বাবা তো জয়েন সেক্রেটারি৷ সবাই তো চেষ্টা কম করছেন না৷ এত তদবির উপেক্ষা করে কি ছেলেগুলোর অনিষ্ট করা সম্ভব ? আর তাঁর বুকটা কেঁপে ওঠে অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে৷ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তিনি শুনতে পান ছক্কু মিয়ার বিচ্চুগুলার নানা কাণ্ডকীর্তির কথা৷ মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে পাকিস্তানি সৈন্যদের৷ ওদের দিন আসছে ফুরিয়ে৷ দেশ স্বাধীন হবেই৷ জুরাইনের বড় হুজুরও তা-ই বলেন৷ ওরা নাকি মসজিদে পর্যন্ত গুলি করেছে৷ মেয়েদের ওপর অত্যাচার করছে৷ এই অত্যাচার আল্লাহ কেন সহ্য করবেন৷ মহুয়া কচি এরা কিছু বোঝে না৷ তারা তাঁকে বলে ভাত খেতে৷ আবার কচি বলে, ‘আম্মা, তুমি কি আর কোনো দিনও ভাত খাইবা না ?’ আরে খাব না কেন ? নিশ্চয় খাব৷ আজাদ ফিরে আসবে৷ ও খুবই ভাতের পাগল৷ এসেই তো ভাত খেতে চাইবে৷ এখন কি কাওরানবাজারে পাবদা মাছ পাওয়া যাবে ? জায়েদ অসুস্থ হওয়ায় হয়েছে অসুবিধা৷ ওকে আর আগের মতো কথায় কথায় বাজারে পাঠানো যাচ্ছে না৷ আজাদ ফিরে এলে পাঠাতে হবে৷ পাবদা মাছের পাতলা ঝোল করতে হবে৷ বাজারে টমেটো উঠেছে৷ টমেটো ধনেপাতা দিয়ে সুন্দর করে রাঁধতে হবে৷ আজাদ ভাত খাবে৷ আ দেখব৷ তারপর আজাদ নিজেই আমার মুখে এক গ্রাস ভাত তুলে দেবে৷ ও যা পাগল৷ ও সব পারে৷ দেশ যখন স্বাধীন হবে, তখন কি আর ওরা ওকে আটকে রাখতে পারবে ? পারবে না৷ আল্লাহ মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে তুমি থেকো আল্লাহ৷ এরা ন্যায়ের পক্ষ৷ এদের ট্রেনিং কম, অস্ত্র কম, সব ছাত্রমানুষ, কিষান-মজুর-এরা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা! এদের পাশে থাকতে হবে, হে আল্লাহ, তোমাকে৷ তাই তো তুমি আছ৷ তাই তো শুধু খবর আসছে এখানে ওখানে প্রচণ্ড যুদ্ধের আর মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের৷ আজাদের মায়ের চোখ দুটো একটু ধরে আসে৷ দূরে কোথায় যেন গোলাগুলির শব্দ হয়৷ তাঁর ঘুম আবার যায় ভেঙে৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...