গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

এ স্টাডি ইন স্কারলেট *২য় খন্ড-১ম পর্ব*

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)



২ ৷৷ অবরোহমূলক সিদ্ধান্ত বিজ্ঞান   পূর্ব-ব্যবস্থা মতো পরের দিন দু-জনে গিয়ে দেখলাম ২২১ বি বেকার স্ট্রিটের বাসাবাড়ি। খান দুই রুচিসম্মত শোবার ঘর। একটা বড়োসড়ো আলো-হাওয়াযুক্ত বসবার ঘর। আসবাবপত্র দিয়ে ভালোভাবে সাজানো— বসবার ঘরে দুটো বড়ো বড়ো জানলা। ঘর যেমন পছন্দ হল, ভাড়াও তেমনি পকেটে কুলিয়ে গেল। দুই বন্ধু ভাগাভাগি করে নিলে গায়ে লাগবে না। সঙ্গে সঙ্গে কথাবার্তা পাকা করে দখল নিলাম বাড়ির। সেই দিনই সন্ধ্যায় হোটেল থেকে জিনিসপত্র নিয়ে এলাম আমি। শার্লক হোমস এল পরের দিন সকালে— সঙ্গে বেশ কয়েকটা বাক্স আর পোর্টম্যান্টো। দু-একদিন গেল জিনিসপত্র গোছাতে। তারপর গুছিয়ে বসলাম নতুন পরিবেশে। হোমসের সঙ্গে একত্রে অবস্থান দুর্বিষহ নয় মোটেই। প্রকৃতি খুব শান্ত, প্রাত্যহিক অভ্যেস নিয়মবদ্ধ। রাত দশটার পর জাগতে দেখিনি। সকালে আমার ঘুম ভাঙবার আগেই উঠে পড়ত – ব্রেকফাস্ট খেয়ে বেরিয়ে পড়ত বাইরে। মাঝে মাঝে সারাদিন কাটাত কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে, কখনো শব ব্যবচ্ছেদ কক্ষে, কখনো পদব্রজে শহর পরিক্রমায়— নীচের মহলেই টো-টো করতে যেত বেশির ভাগ। কাজের ঝোঁক চাপলে এনজি যেন ফুরোত না— আবার কখনো দিনের পর দিন মড়ার মতো পড়ে থাকত বসবার ঘরে সোফায়— একদম কথা বলত না, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গায়ের একটা পেশিও নাড়াত না। এই সময়ে একটা স্বপ্নাচ্ছন্ন শূন্যগর্ভ চাহনি দেখেছি ওর চোখে। জীবন পরিচ্ছন্ন আর স্বভাব-প্রকৃতি শান্ত না-হলে ধরে নিতাম নিশ্চয় মাদক দ্রব্যের নেশাও আছে। যতই দিন যায়, ততই আমার আগ্রহ বাড়তে থাকে ওর সম্বন্ধে। জীবনে ওর লক্ষ্য কী, এই রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হতে থাকে আমার মনের মধ্যে। যে কখনো খুঁটিয়ে দেখে না— ভাসা-ভাসা দেখা যার স্বভাব— সে-লোকও ওকে দেখলে আকৃষ্ট হবে- এমনি আশ্চর্য চেহারা আর ব্যক্তিত্ব আমার নয়া সঙ্গীটির। লম্বায় ছ-ফুটের একটু বেশি কিন্তু এত কৃশ যে মনে হয় আরও দীর্ঘ। দুই চোখ মৰ্মভেদী এবং শানিত— আচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকার সময় ছাড়া। পাতলা বাজপাখির মতো নাকখানার মধ্যে প্রচ্ছন্ন সদাসতর্কতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস। চৌকোন প্রকট চোয়ালের মধ্যেও নিহিত সুগভীর আত্মপ্রত্যয় আর মনের দৃঢ়তা। হাত দু-খানা অ্যাসিড, কেমিক্যাল আর কালিতে বিবর্ণ। অথচ এই হাতেরই সাধারণ সংবেদনশীলতা আর সূক্ষ্মতা লক্ষ করেছি ভঙ্গুর ফিলজফিক্যাল যন্ত্রপাতি নাড়াচাড়া করার সময়ে। পাঠক হয়তো আমাকে অনধিকার চর্চার দোষে দোষী করবেন হোমস সম্বন্ধে আমার আতীব্র কৌতুহলের জন্যে। আমি স্বীকার করছি শার্লক হোমস উদগ্র আগ্রহের সঞ্চার করেছিল আমার মধ্যে— নিজের সম্বন্ধে কথা উঠলেই মুখ বুজে থাকতে চেয়েছে সে এবং আমি প্রতিবারেই সেই প্রাচীর ভাঙবার বৃথা চেষ্টা করেছি। আমাকে দোষী প্রতিপন্ন করার আগে কিন্তু খেয়াল রাখবেন আমার জীবনে লক্ষ্য বলে কিছুই নেই– মনোযোগ আকর্ষণ করার মতোও কিছু নেই। আবহাওয়া ভালো না-থাকলে ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে যখন-তখন বাইরে বেরোতে পারতাম না— বন্ধুবান্ধবও কেউ ছিল না যে দর্শন দান করে একঘেয়েমি কাটিয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে সঙ্গীটির জীবনরহস্য যথেষ্ট আগ্রহের খোরাক জুটিয়েছিল আমার মধ্যে— বেশির ভাগ সময় ব্যয় করতাম সেই রহস্য মোচনে। হোমস মেডিক্যাল স্টুডেন্ট নয়। ও নিজেই তা স্বীকার করেছে— স্ট্যানফোর্ডের অনুমান অভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। বিজ্ঞান-জগতে প্রবেশের ইচ্ছেও নেই– বিজ্ঞানের ডিগ্রি অর্জনের প্রচেষ্টাও নেই। তা সত্ত্বেও কয়েকটা বিষয়ে ওর আন্তরিক আগ্রহ লক্ষ করার মতো এবং খ্যাপামিটুকু বাদ দিলে বিশেষ বিশেষ বিষয়ে ওর জ্ঞান এতই ব্যাপক আর গভীর যে তাক লেগে যাওয়ার মতো। জীবনে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য না-থাকলে এভাবে কেউ খাটে না, নিজেকে তৈরি করে না এবং বিশেষ জ্ঞানের ভাণ্ডার এভাবে বাড়িয়ে চলে না। শৃঙ্খলাহীন অধ্যয়নে অসাধারণ হওয়া যায় না— সঠিক পড়াশুনা থাকা চাই। অকারণে কেউ এভাবে ছোটেখাটো বিষয় নিয়েও মনকে ভারাক্রাস্ত করে না। শার্লক হোমসের জ্ঞান যেমন সুবিপুল, অজ্ঞানতাও তেমনি সুগভীর— দুটোই সমান আশ্চর্যজনক। সমসাময়িক দর্শন, সাহিত্য আর রাজনীতির কোনো খবরই সে রাখে না। আমার মুখে টমাস কারলাইলের নাম শুনে অত্যন্ত অকপটভাবে জিজ্ঞেস করলে কে এবং তার এত নামডাক কী কারণে। চরম বিস্মিত হলাম যেদিন জানলাম কোপারনিকাসের থিয়োরিও কী জিনিস তা সে জানে না এবং সৌরজগতের কী নামে ক-টা গ্রহ আছে সে-খবরও রাখে না। পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে— এ-তত্ত্ব উনবিংশ শতাব্দীর কোনো সুসভ্য মানুষ জানে না— একি ভাবা যায়, না বিশ্বাস করা যায়? কী সাংঘাতিক ব্যাপার। আমার আঁতকে-ওঠা বিস্ময়বোধকে দেখে মুচকি হেসে বলেছিল হোমস, খুব অবাক হয়েছ দেখছি। জেনে যখন ফেলেছি এখন থেকে চেষ্টা করব ভুলে যাওয়ার। ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবে কী হে। আমার মতে মানুষের মগজটা আদতে একটা খালি কুঠরি। দরকার মতো আসবাবপত্র দিয়ে সাজাতে হয়। বোকারই যা পায় তাই দিয়ে মগজ ঠেসে রেখে দেয়— গুদোম ঘরের মতো হাবিজাবি এস্তার জিনিস মাথার মধ্যে ঢুকে থাকার ফলে দরকার মতো আসল জিনিসটি খুঁজে পেতে বেগ পায়। কিন্তু পাকা কারিগর এ-ব্যাপারে ভারি হুশিয়ার। ফালতু জ্ঞান ব্রেন-কুঠরিতে ঢোকাতে নারাজ। কাজের যন্ত্রটি ছাড়া মাথায় কিছুই রাখে না এবং যে-কটি যন্ত্র রাখে— বেশ সাজিয়ে গুছিয়ে রেখে দেয়। মগজ-কুঠরির দেওয়াল রবারের মতো টেনে বাড়ানো যায় এবং যত খুশি জ্ঞান ঠাসা যায়— এ-ধারণা কিন্তু সবই ভুল। বাজে জিনিস ঠাসতে গিয়ে কাজের জিনিসগুলো মানুষ ভুলে যায় এই কারণেই... আগের জ্ঞান আর মনে করতে পারে না। অদরকারি জ্ঞান দরকারি জ্ঞানকে গুতিয়ে বার করে দিয়ে নিজের ঠাই করে নিতে যাতে না-পারে— কারিগরের সজাগ নজর থাকা দরকার সেদিকে!’ প্রতিবাদের সুরে বললাম, তাই বলে সৌরজগৎ কী জিনিস তা জানবে না। অসহিষ্ণু কণ্ঠে হোমস বললে, জেনে আমার লাভটা কী? সূর্যকে প্রদক্ষিণ না-করে যদি চন্দ্রকেই প্রদক্ষিণ করতাম, আমার কাজের দিক দিয়ে তার কানাকড়ির দামও থাকছে কি? এই হল সুবর্ণসুযোগ— কাজটা কী জিজ্ঞেস করবার জন্যে মুখ চুলবুল করে উঠলেও জিজ্ঞেস করতে পারলাম না। পরে কথাগুলো মনে মনে তোলপাড় করে নিজেও একটা সিদ্ধান্তে পৌছোবার চেষ্টা করলাম। উদ্দেশ্য সিদ্ধি যে-জ্ঞানে হয় না, সে-জ্ঞান নাকি ওর নিম্প্রয়োজন। তাই যদি হয়, সে-জ্ঞান ও মগজে ঢুকিয়েছে, তার প্রত্যেকটাই উদ্দেশ্যসিদ্ধির জন্যে ওর প্রয়োজন। মনে মনে ছকে নিলাম ওর বিবিধ জ্ঞানের ফিরিস্তি। শেষকালে কাগজ পেনসিল নিয়ে লিখে ফেললাম। ফর্দের দিকে তাকিয়ে কিন্তু হাসি পেল শেষপর্যন্ত।    (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এ কী অত্যাচার!
→ মুসলীমরা বলে কোরআনের আলোকে দেশ চালাতে,এটা অমুসলীমদের জন্যও কীভাবে কল্যান বয়ে আনবে?মানুষ তার ইচ্ছামত চালাবে স্রষ্টার বানী কেন গ্রহন করবে?
→ বৃষ্টির মাঝে এক ফোঁটা বিশ্বাস
→ সৃষ্টিকর্তা যদি দয়ালুই হন তাহলে এত মানুষ না খেয়ে মারা যায় কেন?এর দায় তো স্রষ্টারই।
→ ""এসএসসি পরীক্ষার্থী""
→ ~জিজেস'রা এখন আমার বাসায়!
→ এক্সিডেন্টে
→ ~আচ্ছা মানলাম যে এই মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা আছেন,তাহলে তাকে কে সৃষ্টি করল? আমি তো মনে করি মহাবিশ্ব নিজেই স্রষ্টা।
→ এইসব বিষাদের শহরে
→ "এখনও আমি অপেখা করছি তোমার জন্য!!!!" পর্ব-২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...