গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

(শার্লক হোমস সিরিজ এর ১ম উপন্যাস)—এ স্টাডি ইন স্কারলেট *১ম খন্ড-১ম পর্ব*

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)



প্রথম খন্ড   [ ভূতপূর্ব মিলিটারি ডাক্তার জন এইচ ওয়াটসন এম ডি-র স্মৃতিচারণ থেকে পুনর্মুদ্রিত ]   ১. শার্লক হোমস   ১৮৭৮ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে ডাক্তারির ডিগ্রি নিয়ে নেটলি গিয়েছিলাম আমি সার্জন পাঠক্রম পড়বার জন্যে। সেখানকার পড়াশুনো চুকিয়ে সামরিক বাহিনীতে যোগদান করলাম অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন পদে। ইন্ডিয়ায় গিয়ে কাজ বুঝে নেওয়ার আগেই লাগল আফগান যুদ্ধ। বোম্বাই পৌছে শুনলাম আমাদের বাহিনী গিরিসংকটের মধ্যে দিয়ে শত্রুদের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। অন্যান্য অফিসারদের সঙ্গে কোনোমতে আমিও পৌঁছোলাম কান্দাহারে। রেজিমেন্টের ডিউটি শুরু করে দিলাম তৎক্ষণাৎ। এই অভিযানে অনেকের বরাত খুলে গেছে— সম্মান পেয়েছে, পদোন্নতি ঘটেছে। আমার বরাতে জুটেছে শুধুই দুর্ভোগ। ব্রিগেড থেকে আমাকে সরানো হয়েছে। বার্কশায়ারের সঙ্গে মেইওয়ান্দের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে গিয়েছি। কাঁধে লেগেছে জিজেল বুলেট। হাড় ভেঙেছে, সাবক্লেভিয়ান ধমনী ছুঁয়ে গেছে। খুনে গাজীদের হাতে ধরা পড়তে পড়তে বেঁচে গিয়েছি আর্দালি মুরে-র জন্যে। ঘোড়ার পিঠে ফেলে নক্ষত্ৰবেগে সে আমাকে নিয়ে এসেছে ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর মধ্যে। দারুণ যন্ত্রণা আর পরিশ্রমে আমি তখন ধুঁকছি। ওই অবস্থায় আমাকে আনা হল পেশোয়ারের সদর হাসপাতালে। অনেকটা সামলে ওঠার পর বারান্দায় বেড়াতাম, হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডে ঘুর ঘুর করতাম। তারপরেই আক্রান্ত হলাম অভিশপ্ত ভারতীয় আন্ত্রিক জুরে। শরীর একেবারে ভেঙে গেল। ভীষণ কাহিল হয়ে পড়লাম। মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফিরে এলাম ইংল্যান্ডে। ইন্ডিয়া থেকে সামরিক জাহাজ ওরোন্টেজ একমাস পরে নামিয়ে দিয়ে গেল পোর্টসমাউথ বন্দরে। শরীরে তখন আমার আর কিছু নেই। সরকার ঠিক করলে আমাকে ন-মাস সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়া হোক। ইংল্যান্ডে আমার তিন কুলে কেউ নেই। পকেটে রেস্ত বলতে দৈনিক সাড়ে এগারো শিলিং বরাদ্দ। তাই এলাম লন্ডনে— ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সব উড়নচণ্ডীরা শেষ পর্যন্ত যেখানে এসে জোটে। উঠলাম একটা হোটেলে। কিন্তু দু-দিনেই বুঝলাম ওই টাকায় হোটেলে থাকা সম্ভব নয়। হয় আমাকে লন্ডন ছেড়ে যেতে হবে— নয় জীবনযাপনের ধারা পালটাতে হবে। শেষেরটাই সহজ মনে হল। কারো বাড়িতে সস্তায় থাকা-খাওয়ার জায়গা খুঁজতে লাগলাম। যেদিন ঠিক বারে দেখা হয়ে গেল স্ট্যামফোর্ডের সঙ্গে। এককালে স্ট্যামফোর্ড ছিল ডাক্তারি কাজে আমার সহযোগী— ড্রেসার। খুব একটা হৃদ্যতা অবশ্য ছিল না। কিন্তু সেদিন পেছন থেকে আমার কাঁধে টোকা মারতেই ওকে দেখে কী ভালোই যে লাগল তা বলবার নয়। লন্ডনের ধু-ধু নিঃসঙ্গতার মধ্যে সে যেন একটা মরূদ্যান। স্ট্যামফোর্ডও দেখলাম উল্লসিত হয়েছে আমাকে দেখে। আনন্দের চোটে তক্ষুনি একটা ছাকড়াগাড়ি নিয়ে রওনা হলাম হলবর্ন অভিমুখে লাঞ্চ খাওয়ার জন্যে। গাড়ির মধ্যেই স্ট্যামফোর্ড জিজ্ঞেস করল, ওয়াটসন, একী ছিরি হয়েছে তোমার? চেহারাটা তো দেখছি তক্তার মতো পাতলা আর বাদামের মতো বাদামি করে ফেলেছ। সংক্ষেপে আমার অ্যাডভেঞ্চার-ইতিবৃত্ত শোনালাম। গাড়ি পৌছে গেল হলবনে। খেতে বসে সহানুভূতির সুরে বললে স্ট্যামফোর্ড, আহারে। এখন কী করবে ঠিক করেছ? সস্তায় মাথা গোঁজার আস্তানা খুঁজছি! অদ্ভুত ব্যাপার তো। আজকেই এই নিয়ে দু-বার হল শুনলাম একই ইচ্ছে। প্রথম ইচ্ছেটা কার? হাসপাতালের কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে কাজ করে। ঘর পেয়েছে চমৎকার, কিন্তু আধাআধি বখরায় থাকবার মতো সঙ্গী পাচ্ছে না। একা খরচ বওয়ার সাধ্যও নেই। বলো কী! খরচ আর ঘর ভাগ করতে চাইছে! আরে আমিও তো তাই চাই। একা থাকতে ভাল্লাগে না। সঙ্গী পেলে বর্তে যাব। স্ট্যামফোর্ড মদের গেলাস হাতে নিয়ে অদ্ভুতভাবে চেয়ে রইল আমার দিকে। বললে, শার্লক হোমসকে তুমি চেনো না। চিনলে তার সঙ্গে অষ্টপ্রহর এক জায়গায় থাকতে চাইতে না। কেন বল তো? গোলমালটা কোথায়? তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাই না! লোক ভালো। বিজ্ঞানের কিছু কিছু ব্যাপার নিয়ে উৎসাহী! মেডিক্যাল স্টুডেন্ট নিশ্চয়? না। ও যে কী চায়, সেটাই একটা রহস্য। অ্যানাটমি ভালো জানে, কেমিস্ট্রিতে তুখোড়। কিন্তু ধরাবাঁধা মেডিক্যাল ক্লাস কখনো করেনি। এলোমেলো উদ্ভট বিষয়বস্তু নিয়ে পড়াশুনা করেছে বিস্তর। বাইরে জ্ঞান ওর এত বেশি যে অনেক প্রফেসরেরও মুণ্ডু ঘুরে যায় সেই বিদ্যের নমুনা শুনলে। লক্ষ্যটা কী জিজ্ঞেস করনি? না; ও-লোকের পেট থেকে সহজে কথা বার করা যায় না! মুড এলে কিন্তু অন্য মানুষ— মুখে তখন তুবড়ি ছোটে। এইরকম লোককেই দোস্ত চাই, বললাম আমি। ভাঙা শরীরে আওয়াজ উত্তেজনা আর ভালো লাগে না। আফগানিস্তানে ঢের সয়েছি— বাকি জীবনটা তার ঠেলা সামলাই। আমি চাই এমন একজনের সঙ্গে থাকতে যার পড়াশুনার অভ্যেস আছে, কথাবার্তা কম বলে, প্রকৃতি শান্ত! বন্ধুটির সঙ্গে কীভাবে দেখা করা যায় বলো। ল্যাবরেটরি গেলেই পাবে। খেয়ালি লোক তো। কয়েক সপ্তাহ হয়তো ল্যাবরেটরির চৌকাঠ মাড়াল না। তারপরেই দেখবে উদয়াস্ত পড়ে সেখানে। যদি একান্তই চাও লাঞ্চ খেয়ে যাওয়া যাবে’খন’। অবশ্যই চাই, তারপর শুরু হল অন্য কথাবার্তা। হলবর্ন থেকে বেরিয়ে ছ্যাকড়াগাড়ি ডেকে উঠে বসলাম। যেতে যেতে ভাবী বন্ধুটি সম্বন্ধে আরও অনেক কথা বললে স্ট্যামফোর্ড। বললে, ওয়াটসন, শার্লক হোমসের সঙ্গে যদি তোমার বনিবনা না হয়, আমাকে কিন্তু দোষ দিয়ো না। ল্যাবরেটরিতে মাঝে মাঝে ওকে দেখেছি— এর বেশি খবর আমি রাখি না। তুমি দেখা করতে চাইছ বলেই যাচ্ছি— আমাকে পরে দুষো না। বনিবনা না-হলে না হয় ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবে। জবাব দিলাম আমি। তারপর শক্ত চোখে তাকিয়ে বললাম, স্ট্যামফোর্ড, ব্যাপার কী বল তো? তুমি মাঝে থাকতে চাইছ না কেন? খুব বদমেজাজি লোক নাকি? খুলে বলো, ঢেকো না। হেসে ফেলল স্ট্যামফোর্ড। বললে, অনেক জিনিস বলেও বোঝানো যায় না। হোমস যেন একটু বেশি রকমের সায়েন্টিফিক— আমার ধাতে সহ্য হয় না। কীরকম যেন হিমশীতল— ঠান্ডা যুক্তিতে ঠাসা— সঠিক জ্ঞানের পেছনে ধাওয়া করার উন্মত্ততা ওর শিরায় উপশিরায়। চামড়ার ওপর ওর নবতম আবিষ্কারের প্রতিক্রিয়া কী জানবার জন্যে খুব ঠান্ডা মাথায় বন্ধুর গায়ে ভেজিটেবল অ্যালক্যালয়েড চিমটি কেটে বসিয়ে দিতে পারে— মনের মধ্যে তিলমাত্র বিদ্বেষ না-রেখে— নিজের চামড়ার ওপরেও এক্সপেরিমেন্ট করতে পারে অম্লান বদনে। সে তো ভালোই। বাড়াবাড়ি হলেই খারাপ। যেমন ধর না কেন, কাটাছেঁড়া করার ডিসেকটিং রুমে যদি যাদের নিয়ে গবেষণা তাদেরকেই লাঠিপেটা করতে আরম্ভ করে, ব্যাপারটা কিন্তুতকিমাকার হয়ে দাঁড়ায় না কি? লাঠিপেটা করে? তাহলে আর বলছি কী! মৃত্যুর পর আঘাত কতখানি ফুটে ওঠে যাচাই করার জন্যে অমন করে। আমার নিজের চোখে দেখা! এর পরেও বলবে সে ডাক্তারি ছাত্র নয়? বলব বই কী। মেডিক্যাল স্টুডেন্ট তো নয়ই, সে যে কীসের স্টুডেন্ট ঈশ্বর জানেন। যাক গে ভাই, এসে গেছি। শার্লক হোমস লোক কীরকম, আলাপ করে নিজেই বুঝে নাও। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সৃষ্টিকর্তা যদি দয়ালুই হন তাহলে এত মানুষ না খেয়ে মারা যায় কেন?এর দায় তো স্রষ্টারই।
→ আইনিস্টাইন
→ হযরত আলী রাঃ এর কয়েকটি উক্তি
→ ইনটেলেকট্রন
→ ~অপারেশন জিরো সিক্সটি নাইন-মামুন মুনতাসির(বুক রিভিউ)
→ "আনিকা তুমি এমন কেন?"[১ম পর্ব]
→ রহস্যময় মমি তেতুন খামেন এবং এর অভিশাপ:
→ হযরত উমর (রাঃ) এর ঈদ শপিং
→ হযরত ঈসা (আঃ) এর জীবনী
→ মুসলিম জাহানের চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রাঃ)-এর জীবনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...