গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

মেজদিদি-(৩)- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

"ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Krit (০ পয়েন্ট)



সন্ধ্যার সময় কাদম্বিনী প্রশ্ন করিলেন, কী খেয়ে এলি রে কেষ্ট? কেষ্ট সলজ্জ নতমুখে কহিল, লুচি ৷ কী দিয়ে খেলি ? কেষ্ট তেমনিভাবে বলিল, রুইমাছের মুড়োর তরকারি, সন্দেশ, রসগো… ইস্! বলি মেজ ঠাকরুন কার পাতে মুড়োটা দিলেন? হঠাৎ এই প্রশ্নে কেষ্টর মুখখানি পান্ডুর হইয়া গেল ৷ উদ্যত প্রহরণের সম্মুখে রজ্জুবদ্ধ জানোয়ারের প্রাণটা যেমন করিয়া উঠে, কেষ্ট'র বুকের ভিতরটায় তেমনি ধারা করিতে লাগিল ৷ দেরি দেখিয়া কাদম্বিনী কহিলেন, তোর পাতে বুঝি? গুরুতর অপরাধীর মতো কেষ্ট মাথা হেঁট করিল ৷ অদূরে দাওয়ায় বসিয়া নবীন তামাক খাইতেছিল ৷ কাদম্বিনী সম্বোধন করিয়া বলিলেন, বলি, শুনলে তো? নবীন সংক্ষেপে হুঁ বলিয়া হুঁকায় টানা দিলেন ৷ কাদম্বিনী উষ্মার সহিত বলিতে লাগিলেন, খুড়িয়ে আপনার লোক, ব্যবহারটা দেখ ! পাচুগোপাল আমার রুইমাছের মুড়ে বলতে অজ্ঞান, সে কি তা জানে না? তবে কোন আক্কেলে তার পাতে না দিয়ে বেনাবনে মুক্তো ছড়িয়ে দিলে? বলি হাঁরে কেষ্ট, সন্দেশ-রসগোল্লা খুব পেট ভরে খেলি? সাতজন্মে কখনো তুই এ সব চোখেও দেখিস নি ৷ স্বামীর দিতে চাহিয়া বলিল, যারা দুটি ভাত পেলে বেঁচে যায়, তাদের পেটে লুচি-সন্দেশ কি হবে! কিন্তু আমি বলছি তোমাকে, কেষ্টকে মেজগিন্নি বিগড়ে না দেয় তো আমাকে কুকুর বলে ডেকো ৷ নবীন মৌন হইয়া রহিলেন ৷ কারণ, স্ত্রীর বর্তমানে মেজবউ তাহাকে বিগড়াইয়া ফেলিতে পারিবে, এরূপ দর্ঘটনা তিনি বিশ্বাস করিলেন না ৷ তাঁহার স্ত্রীর কিন্তু স্বামীর উপরে বিশ্বাস ছিল না, বরং ষোলো আনা ভয় ছিল ৷ সাধাসিধা মানুষ বলিয়া যে কেহ তাঁহাকে ঠকাইয়া লইতে পারে ৷ সেইজন্য ছোটভাই কেষ্ট'র মানসিক উন্নতি অবনতি প্রতি সেই অবধি তিনি দৃষ্টি পাতিয়া রাখিলেন ৷ পরদিন হইতেই দুটো চাকরের একটাকে ছাড়ানো হইল, কেষ্ট নবীনের ধান-চালের আড়তে কাজ করিতে লাগিল ৷ সেখানে সে ওজন করে, বিক্রি করে, চার-পাঁচ ক্রোশ পথ হাঁটিয়া নমুনা সংগ্রহ করিয়া আনে, দুপুরবেলা নবীন ভাত খাইতে আসিলে দোকান আগলায় ৷ দিনদুই পরে একদিন তিনি আহার নিদ্রা সমাপ্ত করিয়া ফিরিয়া গেলে, সে ভাত খাইতে আসিয়াছিল ৷ তখন বেলা তিনটা ৷ কেষ্ট পুকুর হইতে স্নান করিয়া আসিয়া দেখিল, দিদি ঘুমাইতেছেন ৷ তাহার তখনকার ক্ষুধার তাড়নায় বোধ করি বাঘের মুখ হইতেও খাবার কড়িয়া আনিতে পারিত, কিন্তু দিদিকে ডাকিয়া তুলিবে, এ সাহস হইল না ৷ রান্নাঘরের দাওয়ায় একধারে চুপটি করিয়া দিদির ঘুম ভাঙার আশায় বসিয়াছিল, হঠাৎই ডাক শুনিল- কেষ্ট? সে আহ্বান কী স্নিগ্ধ হইয়ায় তাহার কানে বাজিল ৷ মুখ তুলিয়া দেখিল, মেজদি তাঁহার দোতলার ঘরের জানালা ধরিয়া দাঁড়াইয়া আছেন ৷ কেষ্ট একটিবার চাহিয়াই মুখ নামাইল ৷ খানিক পরে হেমাঙ্গিনী নামিয়া আসিয়া, সুমুখে দাঁড়াইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ক-দিন দেখি নি তো? এখানে চুপ করে বসে কেন, কেষ্ট? একে ক্ষুধায় অল্পেই চোখে জল আসে, তাহাতে এমন স্নেহার্দ্র কন্ঠস্বর! তাহার দুচোখ টলটল করিতে লাগিল ৷ সে ঘাড় হেঁট করিয়া রহিল, উত্তর দিতে পারিল না ৷ মেজখুড়ি মাকে সব ছেলেমেয়েরা ভালোবাসিত ৷ তাঁহার গলার স্বর শুনিয়া কাদম্বিনীর ছোটমেয়ে ঘর হইতে বাহিরে আসিয়া চেঁচাইয়া বলিল, কেষ্টমামা, রান্নাঘরে তোমার ভাত ঢাকা আছে, খাও গে , মা খেয়ে দেয়ে ঘুমোচ্ছে ৷ হো হেমাঙ্গিনী অবাক হইয়া কহিলেন, কেষ্টর এখনো খাওয়া হয় নি, তোর মা ঘুমোচ্ছে কী রে-- হাঁ কেষ্ট, আজ এতো বেলা হলো কেন? কেষ্ট ঘাঁড় করিয়াই রহিল ৷ টুনি তাহার হইয়া জবাব দিল, কেষ্টমামর রোজ তো এমনি বেলাই হয় ৷ বাবা খেয়ে দেয়ে দোকানে ফিরে গেলে তবে তো ও খেতে আসে ৷ হেমাঙ্গিনী বুঝিলেন, কেষ্টকে দোকানের কাজে লাগানো হইয়াছে ৷ তাহাকে বসাইয়া খাওয়ানো হইবে এ আশা অবশ্য তিনি করেন নাই; কিন্তু একবার এই বেলার দিকে চাহিয়া, একবার এই ক্ষুধা-তৃষ্ণায় আর্ত শিশুদেহের পানে চাহিয়া, তাঁহার চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল ৷ আঁচলে চোখ মুছিত মুছিতে তিনি বাড়ি চলিয়া গেলেন ৷ মিনিট -দুই পরে একবাটি দুধ হাতে ফিরিয়া আসিয়া, রান্নাঘরে ঢুকিয়াই শিহরিয়া মুখ ফিরিয়া দাঁড়াইলেন ৷ কেষ্ট খাইতে বসিয়াছিল ৷ একটা পিতলের থালার উপর ঠান্ডা শুকনা ড্যালা পাকানো ভাত ৷ একপাশে একটুখানি ডাল ও কী একটু তরকারির মতো ৷ দুধটুকু পাইয়া তাহার মলিন মুখখানি হাসিতে ভরিয়া উঠিল৷ হেমাঙ্গিনী দ্বারের বাহির আসিয়া দাঁড়াইয়া রহিলেন ৷ কেষ্ট খাওয়া শেষ করিয়া পুকুরে আঁচলাইতে চলিয়া গেলে একটিবার মুখ বাড়াইয়া দেখিলেন, পাতে গোনা একটিও ভাত পড়িয়া নাই ৷ ক্ষুধার জ্বালায় সে সেই অন্ন নিঃশেষ করিয়া খাইয়াছে ৷ হেমাঙ্গিনীর ছেলে ললিতও প্রায় সেই বয়সী ৷ নিজের অবর্তমানে নিজের ছেলেকে এই অবস্থায় হঠাৎই কল্পনা করিয়া ফেলিয়া কান্নার ঢেউ তাঁহার কণ্ঠ পর্যন্ত ফেনাইয়া উঠিল ৷ তিনি সেই কান্না চাপিতে চাপিতে বাড়ি চলিয়া গেলেন ৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বড়দিদি/শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়(পর্ব -১)
→ 'শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রচিত "পরিণীতা"
→ সরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর রয়েল বেঙ্গল রহস্য-১
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ৩য় অংক
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ৭ম অংক
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ৬ষ্ঠ অংক
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ৫ম
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ৪র্থ অংক
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ২য় অংক
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ১ম অংক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...