গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

মেজদিদি -(১)-- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

"ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Krit (০ পয়েন্ট)



কেষ্টার মা মুড়ি-কড়াই ভাজিয়া, চাহিয়া-চিন্তিয়া, অনেক দুঃখে কেষ্টধনকে চৌদ্দ বছরেরটি করিয়া মারা গেলে, গ্রামে তাহার আর দাড়াইবার স্থান রহিল না৷ বৈমাত্রেয় বড়বোন কাদম্বিনীর অবস্থা ভালো৷ সবাই কহিল, যা কেষ্ট, তোর দিদির বাড়িতে গিয়ে থাক গে৷ সে বড় মানুষ, বেশ থাকবি যা৷ মায়ের দুঃখে কেষ্ট কাঁদিয়া-কাটিয়া জ্বর করিয়া ফেলিল৷ শেষে ভালো হইয়া, ভিক্ষা করিয়া শ্রাদ্ধ করিল৷ তারপরে ন্যাড়া মাথায় একটি ছোট পুতলি সম্বল করিয়া, দিদির বাড়ি রাজহাতে আসিয়া উপস্থিত হইল৷ দিদি তাহাকে চিনিত না৷ পরিচয় পাইয়া এবং আগমনের হেতু শুনিয়া একেবারে অগ্নিমূর্তি হইয়া উঠিল৷ সে নিজের নিয়মে ছেলেপুলে লইয়া ঘরসংসার পাতিয়া বসিয়া ছিল-- অকস্মাৎ এ উৎপাত! পাড়ার যে বুড়োমানুষটি কেষ্টকে পথ চিনাইয়া সঙ্ঘে আসিয়াছিল, তাহাকে কাদম্বিনী দু-চার কথা শুনাইয়া দিয়া কহিল, ভারি আমার মাসিমার কুটুমকে ডেকে এনেছেন,ভাত মারতে! সৎমাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিল, বজ্জাত মাগি জ্যান্তে একদিন খোঁজ নিলে না, এখন মরে গিয়ে ছেলে পাঠিয়ে তত্ত্ব করেছেন৷ যাও বাপু, তুমি পরের ছেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাও- আমি এসব ঝঞ্ঝাট পোয়াতে পারব না৷ বুড়ো জাতিতে নাপিত৷ কেষ্টার মাকে ভক্তি করিত, মা-ঠাকুরুন বলিয়া ডাকিত৷ তাই এত কটূক্তিতেও হাল ছাড়িল না৷ কাকুতি-মিনতি করিয়া বলিল, দিদি ঠাকরুন, লক্ষ্মীর ভাঁড়ার তোমার৷ কত দাস-দাসী, অতিথি-ফকির, কুকুর-বেড়াল, এ সংসার পাত পেতে মানুষ হয়ে যাচ্ছে, এ ছোঁড়া দু-মুঠো খেয়ে বাইরে পড়ে থাকলে তুমি জানতেও পারবে না৷ বড় শান্ত সুবোধ ছেলে দিদি ঠাকরুন! ভাই বলে না হয় মেনে নিলে, দুঃখী অনাথ বামুনের ছেলে বলে বাড়ির কোণে একটু ঠাঁই দাও দিদি৷ এরূপ বাক্যে পুলিশের দারোগার মন ভেজে, কাদম্বিনী তো মেয়েমানুষ মাত্র! কাজেই সে তখনকার মতো চুপ করিয়া রহিল৷ বুড়া কেষ্টকে আড়ালে ডাকিয়া দুটা শলা-পরামর্শ দিয়া চোখ মুছিয়া বিদায় লইল৷ কেষ্ট আশ্রয় পাইল৷ কাদম্বিনীর স্বামী নবীন মুখুজ্যের ধান-চালের আড়ত ছিল৷ তিনি বেলা বারোটার পর বাড়ি ফিরিয়া কেষ্টকে বক্রকটাক্ষে দেখিয়া প্রশ্ন করিলেন, এটি কে? কাদম্বিনী মুখ ভারি করিয়া জবাব দিল, তোমার বড় কুটুম গো, বড় কুটুম! নাও, খাওয়াও পরাও, মানুষ কর-- পরকালের কাজ হোক৷ নবীন সৎ-শ্বাশুড়ির মৃত্যু সংবাদ পাইয়াছিলেন, ব্যাপারটা বুঝিলেন; কহিলেন, বটে! বেশ নধর গোলগাল দেহটি তো! স্ত্রী কহিলেন, বেশ হবে না কেন? বাপ আমার বিষয়-আশয় যা কিছু রেখে গিয়েছিলেন, সে সমস্তই মাগি ওর গব্-ভরে ঢুকিয়েছে৷ আমি তার একটি কানা কড়িও পেলাম না৷ বলা বাহুল্য, এই বিষয়-আশয়ে বলিতে একখানি মাটির ঘর এবং তৎসংলগ্ন একটি বাতাবি নেবুর গাছ ৷ ঘরটিতে বিধবা মাথা গুজিয়া থাকিতেন এবং নেবুগুলি বিক্রি করিয়া ছেলের ইস্কুলের মাহিনা যোগাইতেন ৷ নবীন রোষ চাপিয়া বলিলেন, খুব ভালো৷ কাদম্বিনী কহিল, ভালো নয় আবার! খুব বড় কুটুম গো! তাকে তার মতো রাখতে হবে তো! নইলে অখ্যাতিতে দেশ ভরে যাবে৷ বলিয়া পাশের ঘরের বিশেষ একটা জানালার প্রতি রোষকষায়িত লোচনের অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করিলেন৷ এই ঘর তার মেজ-জা হেমাঙ্গিনীর৷ কেষ্ট বারান্দার একধারে মাথা হেঁট করিয়া বসিয়া লজ্জাই মরিয়া যাইতেছিল৷ কাদম্বিনী ভাঁড়ারে ঢুকিয়া একটা নারিকেল মালায় একটুখানি তেল আনিয়া, তাহার পাশে ধরিয়া দিয়া কহিলেন, আর মায়াকান্না কাঁদতে হবে না৷ যাও, পুকুর থেকে ডুব দিয়ে এস গে; বলি, ফুলেল তেল-টেল মাখা অভ্যাস নেই তো? স্বামীকে উদ্দেশ্য করিয়া চেচাইয়া বলিলেন, তুমি স্নান করতে যাবার সময় বাবুকে ডেকে নিয়ে যেয়ো গো, নইলে ডুবে মরে বাড়িসুদ্ধ লোকের হাতে দড়ি পরবে৷ কেষ্ট ভাত খাইতে বসিয়াছিল৷ সে স্বভাবতই ভাত কিছু বেশি খাইত৷ তাহাকে কাল বিকাল হইতে কিছু খাইতে দেয়া হয় নাই, আজ এতখানি পথ হাটিয়া আসিয়াছে; বেলাও হইয়াছে ৷ নানা কারণে পাতের ভাতগুলি নিঃশেষ করিয়াও তাহার ক্ষুধা মিটে নাই৷ নবীন অদূরে খাইতে বসিয়াছিল; লক্ষ্য করিয়া স্ত্রীকে কহিলেন, কেষ্টকে আর দুটো ভাত দেও গো৷ দিই, বলিয়া কাদম্বিনী উঠিয়া গিয়া পরিপূর্ণ একথালা ভাত আনিয়া সমস্তটা তাহার পাতে ঢালিয়া দিয়া, উচ্চহাস্য করিয়া কহিলেন, তবেই হয়েছে! এ হাতির খোরাক নিত্য যোগাতে গেলে যে আমাদের আড়ত খালি হয়ে যাবে! ওবেলা মণ-দুই চাল পাঠিয়ে দিও, নইলে দেউলে হতে দেরি হবে না, তা বলে রাখছি৷ মর্মান্তিক লজ্জায় কেষ্ট'র মুখখানা আরো ঝুকিয়া পড়িল৷ সে এক মায়ের এক ছেলে৷ দুঃখিনী মায়ের জননীর কাছে সরু চাল খাইতে পাইয়াছিল কি না জানি না, কিন্তু পেঠ ভরিয়া খাওয়ার অপরাধে কোনোদিন লজ্জায় নাথ হেঁট করিয়া থাকিতে হয় নাই৷ তাহার মনে পড়িল, হাজার বেশি খাইয়াও কখনো মায়ের মনের সাধ মিটাইতে পারে নাই ৷ তাহার দুচোখের কোণ বাহিয়া বড় বড় অশ্রুর ফোঁটা ভাতের থালার উপর নিঃশব্দে পড়িতে লাগিল, সে সেই ভাত মাথা গুজিয়া গিলিতে লাগিল৷ বাঁ-হাতি তুলিয়া মুছ্তে পর্যন্ত সাহস পাইল না, পাছে দিদির চোখে পড়ে৷ অনতিপূর্বেই মায়াকান্না কাঁদার অপরাধে বকুনি খাইয়াছিল৷ সেই ধমক তাহার মাতৃশোকেরও ঘাড় চাপিয়া রাখিল ৷……(চলিবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৬১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বড়দিদি/শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়(পর্ব -১)
→ 'শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রচিত "পরিণীতা"
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ৩য় অংক
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ৭ম অংক
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ৬ষ্ঠ অংক
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ৫ম
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ৪র্থ অংক
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ২য় অংক
→ শরৎচন্দ্রের : ছবি : ১ম অংক
→ অনুপমার প্রেম - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...