গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

জলদানব রহস্য_১১

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Farhan… (৭৮১ পয়েন্ট)



গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিন জলদানব রহস্য_রকিব হাসান   এগারো  ধীরে ধীরে তীরের দিকে এগিয়ে চলল নৌকাটা। যেই তীরের একেবারে কাছে চলে এল, পায়ের নিচে মাটি ঠেকল ওদের, থেমে গেল নৌকা। একটা সেকেন্ড আর দেরি করল না গোয়েন্দারা। পায়ের নিচে মাটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাঙায় ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি লাগিয়ে দিল। হ্যাঁচড়েপ্যাঁচড়ে উঠে এল ডাঙায়। ঠিক এই সময় আশপাশের ঝোপ আর গাছের আড়াল থেকে হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে এল এক ঝাঁক নারী-পুরুষ, টেলিভিশনের লোক সবাই। সবার মাথায় ছাতা। বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। ‘জানল কীভাবে ওরা?’ রবিন বলল। ‘নিশ্চয় অ্যান্টি বলে দিয়েছেন।’ মুসার আম্মার কথা বলল ও। ‘আমারও তা-ই মনে হচ্ছে,’ মুসা বলল। ‘মা-ই খবরটা দিয়েছে টেলিভিশনকে।’ ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন মিস্টার উলফ। ফারিহা, মুসা, কিশোর আর রবিনের সামনে এসে গর্জে উঠলেন, ‘এই আবহাওয়ায় লেকে নামা নিষেধ। তোমাদের বনে যেতে বলেছিলাম আমি।’ বৃষ্টির পানি ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়তে শুরু করল তাঁর দাড়ি বেয়ে। ‘আমাদের দোষ কী?’ প্রতিবাদ জানাল কিশোর। ‘দানবটাই তো যত নষ্টের মূল।’ ‘তাহলে দানব একটা সত্যি আছে লেকের পানিতে?’ লাফ দিয়ে কিশোরের সামনে এসে দাঁড়াল একজন রিপোর্টার। ঝট করে হাতের মাইক্রোফোনটা ঠেলে দিল মুখের কাছে। কিশোরের দিকে ক্যামেরা তাক করল একজন ক্যামেরা অপারেটর। প্রথমে ক্যামেরার দিকে তাকাল কিশোর। তারপর রবিনের দিকে। একগাল হেসে বলল, ‘বিখ্যাত হয়ে যাব আমরা।’ ‘হয়তো,’ মুখ কালো করে ফেলেছে রবিন। ‘কিন্তু নেসিকে যদি খুঁজে বের করে ধরে ফেলে ওরা, তা হলে কী হবে? সবাই মিলে পরীক্ষা করতে করতেই জীবনটা নরক বনিয়ে ছাড়বে ওর। শান্তি বলে আর কিছু থাকবে না তার জীবনে। বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেও বাঁচতে পারল না বেচারা!’ ‘ও আমাদের জীবন বাঁচিয়েছে,’ ফারিহা রবিনের কথায় সুর মেলাল। ‘সব প্রাণীই স্বাধীনভাবে একটু শান্তিতে বাঁচতে চায়। হোক না দানব।’ কিশোরের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন মিস্টার উলফ। জ্বলন্ত চোখে তাকালেন রিপোর্টারের দিকে। গর্জন করে বললেন, ‘আমার ক্যাম্পে চড়াও হওয়ার অধিকার কে দিয়েছে আপনাদের? দানব নেই এখানে। দানবটানব কিচ্ছু না। যান।’ ‘তাই নাকি, খোকা?’ কিশোরকে জিজ্ঞেস করল রিপোর্টার। ‘লেকে দানব থাকার কথা কিছু জানো নাকি?’ ফারিহা আর রবিনের দিকে তাকাল কিশোর। তারপর তাকাল মিস্টার উলফের দিকে। মিস নেসি এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন মিস্টার উলফের পাশে। ভেজা ওয়েট সুট থেকে পানির ফোঁটা ঝরছে। চুল থেকেও পানি পড়ছে। কিশোরের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। হাসিটা ফিরিয়ে দিল কিশোর। তারপর ভারী দম নিয়ে প্রায় ঠোঁটের কাছে ঠেকে থাকা মাইক্রোফোনে বলে উঠল, ‘আপনারা রিপোর্টাররা পাগল হয়ে গেছেন। এত দিন ভাবতাম আমরা ছোটরাই বুঝি এসব দানবফানব তৈরি করি আমাদের মগজের মধ্যে। বড়রাও যে কম না প্রমাণ করে দিলেন সেটা।’ গটগট করে হেঁটে এসে কিশোরের পাশে দাঁড়াল ফারিহা। মাটিতে পড়ে থাকা চিপসের খালি প্যাকেট, সিগারেটের প্যাকেট, কোল্ড ড্রিংকসের ক্যানগুলো দেখিয়ে বলল, ‘দানব আসলে তারাই, যারা এসব জিনিস ছড়িয়ে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করে।’ লাল হয়ে গেল রিপোর্টারের মুখ। এক ঝটকায় সরিয়ে নিল মাইক্রোফোন। চিৎকার করে উঠল ক্যামেরা অপারেটরের দিকে তাকিয়ে, ‘বন্ধ করো! সরাও! সরিয়ে ফেলো সব!’ হা-হা করে হেসে উঠল রবিন। রিপোর্টার আর ক্যামেরাওয়ালারা সরে গেল দ্রুত। তাড়াতাড়ি পালিয়ে বাঁচতে চায় যেন এক অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে। কিশোরের দিকে তাকাল রবিন। ‘আমি ভেবেছিলাম ওদের সব বলে দেবে তুমি।’ ‘কী বলবে?’ মুসা বলল। ‘লেকের পানিতে দানব বলে কিছু নেই?’ ‘তা তো নেইই,’ মিস নেসি বললেন। ‘সব বানানো। ভুয়া কথা। দানব বলে কিছু নেই।’ আড়চোখে কিশোরের দিকে তাকাল রবিন। কিশোর হাসল। ‘তোমাদের মিছে কথা বলেছিলাম আমি সেদিন। লেকের মাঝখানে ডুবে যাওয়ার অভিনয় করেছিলাম। দেখতে চেয়েছিলাম, সত্যি সত্যি নেসি এসে আমাকে ধরে কি না। শিকারকে দুর্বল অসহায় হয়ে যেতে দেখলে অনেক প্রাণীই আক্রমণ করে বসে।’ ‘তাহলে তুমি যে বললে ডাইনোসরের মতো কিছু দেখেছ?’ হাসিটা বাড়ল কিশোরের। ‘ভুল বলিনি। পুরোনো একটা ভাঙা নৌকা উল্টে পড়ে আছে লেকের তলায়। পানির মধ্যে ওপর থেকে ডাইনোসরের পিঠের মতোই লাগে।’ ‘কিন্তু আমাদের নৌকাটা আজ তাহলে উল্টে দিল কে? কিসের ছায়া দেখলাম?’ ‘মেঘের ছায়া। বাতাসে এমনিতেই ঢেউ উঠে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল পানির নিচ দিয়ে ছায়া ছুটে আসছে। ঝড়ের সময় পানিতে ও রকম দেখা যায়। আর নিজেদের নৌকা নিজেরাই উল্টে দিয়েছি আমরা। ছায়াটাকে দানব ভেবে একপাশে সরে গিয়েছিলাম। একপাশে ভার বেশি হয়ে যাওয়ায় নৌকা উল্টে গেছে।’ ‘নৌকাটাকে তাহলে তীরে ঠেলে আনল কিসে?’ মিস নেসির দিকে তাকাল একবার কিশোর। হাসল। ‘বলব?’ হাসলেন ম্যাডাম। ঘাড় কাত করলেন। ‘বলো।’ ‘মিস নেসি এনেছেন। আমাকে সেদিন যেমন করে ঠেলে নিয়ে এসেছিলেন তীরে। নৌকাটাও তিনিই টেনে এনেছেন, পানির নিচে ডুব দিয়ে ছিলেন। স্কুবা সুট আর স্নরকেল পরা থাকায় দীর্ঘ সময় পানির নিচে ডুবে থাকতে পেরেছেন।’ গায়ে কাঁটা দিল কিশোরের। ‘উহ্‌, শীত লাগছে। এখানে দাঁড়িয়ে আর বকবক না করে চলো কেবিনে যাই। ভেজা কাপড়ে আর পারছি না। শুকনো কাপড় দরকার।’ ‘কিন্তু দানব ধরার এ খেলাটা খেললে কেন তুমি?’ জিজ্ঞেস করল মুসা। ‘প্রমাণ করার জন্য, যে দানব বলে কিছু নেই,’ জবাব দিল কিশোর। ‘মিস নেসি যে পানির নিচে সাঁতার কাটছিলেন, এটা তুমি জানতে?’ ‘না, জানতাম না। তবে অনুমান করেছিলাম। কারণ, মিস্টার উলফ চলে গিয়েছিলেন ছেলেমেয়েদের নিয়ে। আর মিস নেসিকে যেতে দেখেছি ডকের দিকে। তারপর আর তাঁকে দেখিনি। তাতে ধরেই নিয়েছিলাম, তিনি পানির নিচে আছেন। তিনি দানব হলে, সেটা প্রমাণ হয়ে যেত। আমাদের একা পেয়ে আক্রমণ করতেন। তা যেহেতু করেননি, বরং সাহায্য করেছেন, তাতে পরিষ্কার বোঝা গেছে, তিনি মানুষ। তবে অত্যন্ত দক্ষ সাঁতারু। আর পানি তাঁর ভীষণ পছন্দ।’ মুসার দিকে তাকিয়ে হেসে জিজ্ঞেস করল রবিন, ‘কী, মুসা, তোমার মাথা থেকে দানবের ভূত গেছে তো?’ ‘কথা অনেক হয়েছে,’ হঠাৎ গর্জে উঠলেন মিস্টার উলফ। ‘এখন আমাদের দরকার আগুন। হাত-পা গরম করার জন্য। শরীর গরম করার জন্য দরকার চকলেট মিল্ক।’ জ্বলন্ত চোখে তাকালেন কিশোরের দিকে। ‘এবারকার মতো মাফ করে দিলাম। এরপর যদি আদেশ অমান্য করো, এক মুহূর্তও আর থাকতে দেব না মনস্টার উডে। বের করে দেব।’ »শেষ«


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জলদানব রহস্য_১০
→ জলদানব রহস্য_৯
→ জলদানব রহস্য_৮
→ জলদানব রহস্য_৭
→ জলদানব রহস্য_৬
→ জলদানব রহস্য_৫
→ জলদানব রহস্য_৪
→ জলদানব রহস্য_৩
→ জলদানব রহস্য_০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...