গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

প্রিয়জনের স্মৃতি

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান safaet hossen (৩৩৯ পয়েন্ট)



আজ শুক্রবার।শুক্রবার বিকেলে আমি আমার ছেলের সাথে দেখা করতে যাই।আগে প্রতিদিন যাইতাম এখন বয়স এর ভারে আর বউমা বাড়ন করায় আর যাইতে পারি না।কিন্তু আমি প্রতি শুক্রবার এ যাই।আমাক মানা করা সত্তেও আমি যাই।তাই এখন আর বউমাও কিছু বলে না।আমার চশমাটা কই গেলো।আজকাল কোথায় কি যে রাখি খুজেও পাই না।ওদিকে আমার বউমা আর আমার স্ত্রী পাশের বাসায় গেছে কোন কাজে।কখন যে আসবে।দেখি আমার নাতিকেই ডাকতে হবে এখন। "রনি দাদুভাই একটু এদিকে আসোতো আমার চশমাটা কই যে রাখলাম একটু খুজে দাও তো দাদুভাই" রনি এসে বললো দাঁড়াও দাদু দেখছি।ওহ এসেই একটু দেখতেই পেয়ে গেলো।রনি বললো দাদুভাই এই তো তোমার খাটার পাশেই আছে।তোমার কি হয়েছে পাশেই আছে আর পাও না। হয় গো দাদুভাই কি যে হয়েছে আজকাল কোথায় যে কি রাখি মনেই থাকে না।আসলে বয়স হয়েছে তো তাই স্মৃতি অনেক কমে গেছে। রনি বললো দাদু তুমি আব্বুর কাছে যাচ্ছো?আমিও যাই তোমার সাথে? নাহ দাদুভাই তুমি থাকো বাসায় অন্য একদিন নিয়ে যাব নি তোমায়।আর বাসাও ফাকা আছে তুমি বাসাতেই থাকো।আজ আমি একাই যাই। আচ্ছা দাদু ঠিক আছে তুমি যাও। লক্ষি ছেলে আচ্ছা থাকো আমি গেলাম।তোমার আম্মু আর দাদি আসলে বলো আমি তোমার আব্বুর কাছে গেছি। বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলাম আমার ছেলের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।এইতো পৌছে গেলাম কবরস্থানে।এখানে আমার ছেলে চিরনিন্দ্রায় শায়িত হয়ে আছে।কবরের কাছে আসলাম।চারিদিকে কত জংলি গাছ হয়েছে।কি নোংরা।আমার ছেলে এই নোংরার মধ্যে আছে।এই বুড়ো বয়সে জঙ্গল পরিষ্কার কি করে করি।কাউকে বলে দেখতে হবে যেন কবরটা পরিষ্কার করে দেয়।কবরের পাশে বসে কবরটা জিয়ারত করলাম।প্রাণভরে আমার ছেলের জন্য দুয়া করলাম।চোখের কোণে পানি জমেছে মনে পড়ে যাচ্ছে আজ থেকে ৭ বছর আগের কথা।যখন আমার ছেলে রায়হান আমার বউমা মিষ্টিকে সাথে করে নিয়ে এসে বলে "বাবা আমরা দুজন দুজনাকে খুব ভালোবাসি।ওর বাবা মা আমাদের মেনে নেয় নি তোমরা যদি মেনে না নাও তাহলে আমাদের পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।রায়হান ছিল আমাদের একটাই ছেলে।আর কোনো সন্তান নেই নি আমরা।ওর কথা আমরা রাজি হয়ে যাই।ওদের আমরা মেনে নেই।ওদের আমরা বিয়ে দিয়ে দেই।তারপর সবকিছু ভালই চলছিল।আমার বউমা নাম যেমন মিষ্টি তার আচার আচরণ ও খুব মিষ্টি।আমাদের নিজের বাবা মায়ের মতো ভালবাসতো।আমরাও তাকে খুব ভালবাসতাম।এভাবে এক বছর পর আমাদের বাসায় একটি নতুন সদস্যর আগমন ঘটলো।আমার বউমার কোলজুড়ে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান আসে।আমার যে তখন কি খুশি লাগছিল যে আমি দাদু হয়েছি।আমাকে কেউ দাদু বলে ডাকবে তাহ ভাবতেই আনন্দে আমার মনে ভরে যাচ্ছিল।তারপর আমার দাদুভাই রনির বয়স যখন এক বছর।তখন আমাদের সুখের সংসার যেন তাসের ঘরের মতো ভেংঙে গেল।একদিন আমার ছেলে বাজার করতে যাচ্ছিল।যাওয়ার সময় আমাকে ও তার মাকে বলো তোমরা কি খাবে বলো সেটা কিনে আনি।আমরা বললাম আমাদের জন্য আবার কি আনবি।তুই যা কিনবি কিনে নিয়ে আয় তাইলেই হবে।তারপর আমার ছেলে বাজারে গেল।তারপর যেন একটা ঝড় এসে সব কিছু এলোমেলো করে দিল।আমার ছেলে বাজার করে ফিরে আসার সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে একটি ট্রাক এসে আমার ছেলেকে ধাক্কা দেয়।ছিটকে পড়ে আমার ছেলে।রাস্তায় থাকা লোকজন আমার ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তাতেই আমার ছেলে মারা যায়।যখন আমার ছেলের বন্ধু সুজন আমায় ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাকে বলে "আংকেল সুজন আর নেই ওহ ট্রাকের ধাক্কায় মারা গেছে আপনারা জলদি হাসপাতালে চলে আসেন" খবরটি শুনে আমার পায়ের নিচের মাটি যেন সড়ে গেছে।আমি যেন মাটির অতল গভিরে পড়ে যাচ্ছি।আমার মুখে যেন আর কোনো শব্দ নেই।আমার বউমা ও আমার স্ত্রী এসে বললো কি হয়েছে? তাদের সব খুলে বলতেই আমার বউমা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল।আমার স্ত্রী তাকে ধরে মুখে পানি দিল তার জ্ঞান ফিরালো।হাসপাতাল থেকে ছেলেকে বাসায় নিয়ে আসলাম।একে একে সব আত্মীয়সজন পাড়া প্রতিবেশি রা ভিড় করলো বাসায়।আমার স্ত্রী কান্নায় ভেংগে পড়েছে।বউমার মুখে যেন কোনো কথা নেই।ওই দিন বিকেলেই আমার ছেলের জানাযা হয়ে তাকে দাফন করা হলো।আমার ছেলের মৃত দেহের খাটিয়ার একটা পা আমি ধরলাম।আমাকে অনেকে বারন করলো তাও আমি তাদের কথা শুনি নি।বাবা হয়ে ছেলের মৃত দেহের খাটিয়া বহন করা যে কি কষ্টের যেন আমার বুকে হাজার টনের কোনো পাথর কেউ চাপিয়ে দিয়েছে।ছেলেকে শেষ বিদায় দিয়ে আসলাম।আজ বাবা মা হয়ে বেঁচে আছি আর আমার ছেলে চলে গেল না ফেরার দেশে।যেখান থেকে আর কেউ কোনোদিন ফিরে আসবে না।তারপর আমার বাসার চেহারা হয়ে গেল মন মরা।সবাই কান্না করে।বউমাকে তো সামলানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।কিন্তু ওরে যে শান্ত থাকতে হবে।ওর যে দুধের শিশু আছে।দাদুভাই তা একটু একটু কথা বলছিল।মা,বাবা বলছিল আর তখনই সে তার বাবা কে হারালো।পড়ে আস্তে আস্তে আমার বউমা শক্ত হলো।বউমা লেখাপড়া শেষ আগেই করেছিল।একটা চাকরির সন্ধান করলো।তারপর সেই আমাদের সংসার চালাতো।বাড়ির কাজ বাইরের কাজ সকল কাজ সামলাতো।আমরা দুই বুড়া বুড়িও যতটুকু পাড়তাম তাকে সাহায্য করতাম।অনেকবার বলছি "বউমা আর কতো এই বুড়া বুড়ির জন্য করবি তোরও তো একটা জীবন আছে।এই বয়সে স্বামী হাড়া হয়েছিস।আরেকটা বিয়ে করে নে। আমরা দুজন কোনোভাবে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারবো।কিন্তু কে শোনে কার কথা আমার বউমা বললো না বাবা যতদিন আপনারা আছেন আপনাদের সেবা করবো।আপনারা আমাকে যা ভালোবাসা দিছেন।আমার নিজের বাবা মা তাহ দেয় নি।এমনকি আপনার ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েও তারা কেউ আসে নি।আর বিয়েতো আমি আর করবা না।আমার ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করবো।বউমার সেই জেদ এর কাছে হার মানছি।তারপরে আর এই বিষয়ে কিছু বলি নাই তারে আমরা।আজ দীর্ঘ ৭ বছর বউমা আমাদের সাথে আছে।আমাদের দেখভাল করছে।সত্যি এমন একটা বউমা পাওয়া ভাগ্যের বিষয়।যে যেন আমার বউমা নয় আমার আরেকটা মেয়ে।ছেলে হাড়ানোর কষ্ট যেন সে আর তার ছেলে আমার দাদুভাই অনেকটাই ভূলিয়ে দিয়েছে। পুরোনো স্মৃতি কথা মনে করতে করতে যে এদিকে বিকেল শেষ হয়ে সন্ধ্যা হতে যাচ্ছে সেদিকে খেয়ালই নাই।চারিদিকে তাকিয়ে দেখি সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাচ্ছে।পাখিরা তাদের ঘরে ফিরছে।সবাই সবার ঘরে ফিড়ছে কিন্তু আমার ছেলে কেন ঘড়ে ফিরে না।আজও আমি পথে চেয়ে বসে থাকি ভাবি একদিন আমার ছেলে এসে বলবে "বাবা আমি এসে গেছি তোমার রায়হান এসেছে দেখো আমায় বাবা"।সেই অপেক্ষাটা এখনো মনে পুষে রেখেছি। আমার নাতির বয়স এখন আট বছর।তাকে দেখতে অনেকটা আমার ছেলে রায়হানের ময় হয়েছে।চেহারার কত মিল।আমার দাদুভাই এখন বুঝে যে ওর বাবা নেই আর ফিরে আসবে না।কিন্তু যখন ওহ ছোট ছিল আমাক বলতো"দাদু আমার বাবা কোথায় সবার বাবা আছে আদর করে তাদের আমার বাবা কোথায়"?আমি কিহ উত্তর দিব ভেবে পাই না আমি কোনো উত্তর দিতে পারতাম না কোনোভাবে কান্না চেপে অন্য প্রসঙ্গে চলে যেতাম।আমার নাতির মাঝেই আজ আমি আমার ছেলেকে খুজে পাই।ওহ যখন আমার সামনে খেলা করে তখন আমি ভাবি যেন আমার ছেলে আমার আশেপাশেই আছে। যাই সন্ধ্যা হয়ে গেল।দেরি হলে আবার বউমা চিন্তা করবে।বাড়ির দিকে হাটা দিলাম।পিছন থেকে যেন মনে হল কেউ বলছে "বাবা আমার জন্য কান্না করো না,আমি আছি তোমার চারপাশে,আমার ছেলের মাঝেই তুমি আমাকে পাবে তাকে সবসময় আগলিয়ে রেখো"।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্মৃতি
→ পুরানো ঈদের রাতগুলো, স্মৃতির পাতায় রয়েই গেল।
→ ♦ছোট বেলার ঈদস্মৃতি♦
→ স্মৃতির শৈশব।
→ ছোটবেলার স্মৃতি
→ ছোটবেলার স্মৃতি
→ শিমুলতলার স্মৃতি
→ সেই দিনগুলো স্মৃতি হয়ে থাকবে
→ ক্রিকেটের স্মৃতি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...