গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

চোখের আলোয় – আইজাক আসিমভ

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (৫৮ পয়েন্ট)



চোখের আলোয় – আইজাক আসিমভ বাংলা অনুবাদ – প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত অলংকরণ:তৃষা আঢ্য। ♦♦♦♦♦♦♦♦♦ অ্যাডাম ওর বিগত ট্রিলিয়ন বছর ধরে সঞ্চিত স্মৃতিকে একটু একটু করে মনে করার চেষ্টা করছিল। কাজটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। অসাধারণ একটা পরিকল্পনা খেলা করছে মাথায়। যদি… যদি নতুন কিছু করা যায়! একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণহীন এক চেতনার স্রোত নিরন্তর ছড়িয়ে দিচ্ছিল মহাশূন্যের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। আইভি এখনও সাড়া দিচ্ছে না কেন? ‘হ্যাঁ, অ্যাডাম বল। তুমি কি প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছ?’ ‘আইভি, আইভি এতক্ষণ কোথায় ছিলে তুমি?’ অ্যাডাম নামক চেতনাপুঞ্জ যেন আনন্দে ঝলমল করে উঠল! ‘জানো আমি এই আন্ত-মহাজাগতিক প্রতিযোগিতার জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক শিল্প সৃষ্টির কথা ভেবেছি।’ ‘সম্পূর্ণ নতুন?’ বহু অযুত আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে আসা চেতনার স্রোত দপদপ করে উঠল। ‘কিন্তু এটা কি সম্ভব অ্যাডাম? শেষ দুশো মিলিয়ন বছরে নতুন কিছুই আবিষ্কৃত হয়নি যে! সভ্যতার শেষ সীমায় আমরা। নশ্বর দেহের অনেক ঊর্ধ্বে উঠে শুধুই কিছু চেতনা বেঁচে আছে এই মহাবিশ্বে। যার কোনও মৃত্যু নেই, ক্ষয় নেই। এই চেতনা মহাবিশ্বব্যাপী শক্তির অংশ হয়ে গেছে। যা শুধু পরিবর্তিত হয় অলঙ্ঘনীয় নিত্যতা সূত্র মেনে। তোমার সত্যিই কি মনে হয় আর নতুন কিছু আবিষ্কার হওয়ার বাকি আছে?’ ‘আছে আইভি, আছে। আচ্ছা কেমন হয় আমরা যদি আবার সেই নশ্বর দেহেই ফিরে যাই? এটাই আমার পরিকল্পনা বলতে পারো। আমরা সকলেই তো রক্তমাংসেরই পদার্থ ছিলাম এক সময়, সেই কত লক্ষ কোটি বছর আগে। একে অপরকে দেখতে পেতাম আমরা, ধরা যেত—ছোঁয়া যেত। এখন আমরা পদার্থ দিয়ে বিভিন্ন বিমূর্ত বস্তুও তো সৃষ্টি করি, শিল্পের খাতিরেই। তাহলে কেমন হয় যদি আমরা নিজেদের প্রতিকৃতি তৈরি করি? তোমার ইচ্ছা করে না আইভি তুমি একসময় কেমন দেখতে ছিলে জানতে?’ ‘আমার মনে নেই আমরা কেমন ছিলাম। কারোরই মনে থাকার কথা নয়।’ ‘স্মৃতি তো নষ্ট হয় না আইভি। আমি কিছু কিছু মনে করতে পারছি। আমাকে একটু সাহায্য করো। আমাদের চেষ্টা যদি সফল হয় তাহলে শক্তিসত্ত্বাদের সম্মেলনে আমরা নতুন কিছু দেখাতে পারবো যা ওরা বহু অনন্তকাল ধরে দেখেননি।’ বহু আলোকবর্ষ বিস্তৃত ছড়িয়ে থাকা পদার্থের একটা হালকা স্তর নিয়ে অ্যাডাম কাজ শুরু করল। ধীরে ধীরে কিছু আণবিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে পদার্থের স্তরটি একটা ডিমের আকার ধারণ করল। খুশিতে অ্যাডামের মধ্যে ছোট ছোট কম্পন সৃষ্টি হচ্ছিল। ‘এটাকে ওরা কী বলত জান? মাথা!’ কিন্তু প্রাণচঞ্চল আইভির তরঙ্গে যেন একটু বিষণ্ণতার ছোঁয়া লেগেছে। স্মৃতির সরণীতে যতই সে পিছিয়ে যাচ্ছে ততই যেন তার চেতনায় বিষাদের গাঢ় মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। কিছুতেই সে পুরোনো কথা মনে করতে চায় না। কিছুতেই না! ‘মাথার মাঝামাঝি লম্বালম্বি ওই জিনিসটাকে নাক বলে।’ আইভি বলল। ‘হ্যাঁ, একে সেইসময় নাকই বলত। আর মাথার দু’পাশে একে কী বলত মনে আছে? এই অঙ্গ দিয়ে শব্দ শুনতাম আমরা। একে… একে কান বলে!’ অ্যাডাম এর চেতনা তরঙ্গে খুশির ছোঁয়া লাগছিল। আসতে আসতে একটা অবয়ব যেন তার সামনে ফুটে উঠছে। ‘এটা কণ্ঠা, এটা গাল, এটা মুখ! কিন্তু তবু তবু… কী যেন একটা নেই?’ ‘আমার মনে পড়ছে অ্যাডাম। বহু লক্ষ কোটি বছর আগের কথা! কিন্তু কেন তুমি আমাকে মনে করালে? আমার মনে পড়ছে আমার এরকমই একটা ঠোঁট ছিল। অভিমানে কেঁপে কেঁপে উঠত কখনও!’ আইভির চিন্তাতরঙ্গ যেন হাহাকারের মতো শোনাল। অ্যাডাম একটু থমকে গেল। ‘কিন্তু মনে করতে অসুবিধাই বা কোথায়?’ ‘কারণ তুমি আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছ যে আমি একসময় একটি মেয়ে ছিলাম। আমি ভালোবাসতে জানতাম। আর যেটা তুমি মনে করতে পারছিলে না সেটা হল চোখ। হ্যাঁ, আমারও দুটো চোখ ছিল, আর সেটা দিয়ে শুধু আমরা দেখতাম না অ্যাডাম… সেটা শুধুই ইন্দ্রিয়মাত্র ছিল না! মনের বিষাদের ছায়া যেমন পড়ত সেই চোখে, আবার খুশিতেও ঝলমল করে উঠত। চোখেরও একটা ভাষা ছিল, যা এখন আর আমি অনুভব করতে পারি না।’ বলতেই বলতেই গভীর আক্রোশে সে পদার্থের অবয়বটায় চক্ষুদান করল। তারপর নিমেষে মিলিয়ে গেল মহাবিশ্বের অন্ধকারে। অ্যাডাম স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে ছিল অবয়বটার দিকে। সেও মনে করতে পারল সে একসময় মানুষ ছিল। বহু যুগের ওপার থেকে সেই স্মৃতির মূর্ছনা তার চেতনায় অবিরাম ঝরে পড়তে লাগল। এই অভিঘাত সে সহ্য করতে পারল না। অনন্ত এই জীবনের অভিশাপে তার চেতনাও ভেসে গেল নক্ষত্রপুঞ্জে। ওদিকে সেই অবয়বটার চোখ দুটো যেন ছলছল করছিল, হয়তো বা আইভিরই ফেলে যাওয়া বিষাদের স্পর্শে। সে আসলে কাঁদছিল। কাঁদছিল সেই ফেলে আসা নশ্বর জীবনের জন্য। সেই অচিরস্থায়ী মানবতার জন্য। যা আর কখনও ফিরে আসবে না। কোনওদিন না! ********************★******************** মূল গল্প: আইজ ডু মোর দ্যান সি। লেখক: আইজাক আসিমভ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ইবনু কায়সান (রহঃ) – দুরন্ত সাহসের এক অনন্য কাহিনী
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? রাসূল (সা:) এর জীবনী বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষিত হয়েছে – শেষ পর্ব
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? রাসূল (সাঃ) জীবনীর শিক্ষা – পঞ্চম পর্ব
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? মুহাম্মাদ (সাঃ), সবদিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ – চতুর্থ পর্ব
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? রাসূল (সাঃ) – রাসূল (সাঃ) এর জীবনীর বৈশিষ্ট্যাবলী- তৃতীয় পর্ব
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? রাসূল (সাঃ)-আপনার জন্য সর্বোত্তম আদর্শ – দ্বিতীয় পর্ব
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? – তিনি ইসলামের বাস্তব প্রতিচ্ছবি – প্রথম পর্ব
→ হাদিসের গল্প – মদীনায় হিজরতের পথে
→ হাদিসের গল্প – ছুমামাহর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উত্তম আচরণের অনুপম নিদর্শন
→ হাদিসের গল্প – রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মু‘জিযা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...