গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

পাখিদের আত্নহত্যা করার গ্রাম

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mujakkir Islam (৪৪৫৯ পয়েন্ট)



পাখিদের_আত্মহত্যা_করার_গ্রাম লেখকঃমুজাক্কির ইসলাম আচ্ছা পাখি কি হতাশ হয়? কিংবা কোনো কারণে খুব বেশি কষ্ট পায়? এই প্রশ্ন করার কারণ হলো হতাশ হয়ে পড়লে বা খুব বেশি কষ্ট পেলেই কেউ আত্মহত্যা করার কথা ভাবে। পাখি যদি আত্মহত্যা করে, তাহলে তো বলা যেতেই পারে, পাখিটা হতাশ ছিলো?পাখি আবার আত্মহত্যা করে নাকি? গল্পটা তাহলে খুলেই বলি। "জাটিঙ্গা",ভারতের আসাম রাজ্যের গৌহাটি থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে উত্তর কাছাড় জেলার একটি গ্রাম এটি, হাফলং থেকে ৯ কি.মি. দক্ষিনে। জাটিঙ্গা পর্যটনের অন্যতম একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত । কিন্তু যে কারণে জাটিঙ্গা পর্যটকদের আকর্ষণের কারণ, তা কিন্তু খুবই মর্মান্তিক! এই সেই জায়গা যেখানে নানা জাতের পাখি দলে দলে এসে আত্মহত্যা করে! প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা ছোট্ট একটি গ্রাম জাটিঙ্গা। আসামে শিলং পাহাড়ের পর শুরু হয় হাফলং পাহাড়ের সারি। স্থানীয় দিমাশি ভাষায় হাফলং শব্দের অর্থ হলো 'উইপোকার তৈরি করা ছোট পাহাড়'! তবে জাটিঙ্গা শব্দটি দিমাশি ভাষার নয়, শব্দটি জেমে-নাগা উপজাতির। জাটিঙ্গা শব্দের অর্থ হলো 'বৃষ্টি ও পানি বেরিয়ে যাবার পথ'! একই নামের একটি নদীও রয়েছে সেখানে। জানা যায় যে, প্রায় শতাধিক বছর আগে জেমে-নাগা উপজাতির কিছু লোক জাটিঙ্গা এলাকায় কোনো এক কাজে গিয়েছিল। তারা এ জায়গাটায় বেশ কিছুদিন অবস্থান করে। খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে রাত কাটানোর সময় তারা এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পেল, পাখিরা দলে দলে নিচে নেমে এসে আগুনে আত্মাহুতি দিচ্ছে! জেমে-নাগা উপজাতিরা জাটিঙ্গা এলাকায় এখন আর বাস করে না। কারণ তাদের ধারণা জায়গাটা অস্বাস্থ্যকর! জাটিঙ্গায় বর্তমানে বাস করে জৈন্তা উপজাতির লোকেরা। পাখিদের এই আত্মাহুতির বিষয়টিকে তারা ঈশ্বরের দান বলে মনে করে! প্রতি বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর মাসে এ গ্রামে বিভিন্ন ধরনের পাখি এসে দলে দলে আত্মহত্যা করে! আর এই রহস্যময় ঘটনাই জাটিঙ্গাকে অনবদ্য করে তুলেছে ট্যুরিজমের খাতায়! আসাম পর্যটন দপ্তর জাটিঙ্গায় একটি ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করেছে, যেটাতে উঠে রাতের বেলা পাখিদের আত্মহত্যা দেখা যায়! পাখিদের এই আত্মহত্যার ঘটনা পাখি বিশারদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে বহু আগেই। সারা বিশ্বের বহু পাখি বিশারদ জাটিঙ্গায় গিয়ে এই রহস্যময় ঘটনা পর্যবেক্ষণও করে এসেছেন! অনেকে অনেক রকম ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। কিন্তু কোনোটিই সুস্পষ্ট নয় বলে রহস্য রহস্যই থেকে গেছে! যে কারণে জাটিঙ্গা বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে, তার একটি ভিন্ন বাস্তব রূপ রয়েছে! আসলে গ্রামটিতে পাখিরা আত্মহত্যা করে না বলে বলা উচিত তারা গ্রামবাসীর হাতে মারা পড়ে! বছরের এই সময়টাতে গ্রামবাসী নানা জাতের পাখির মাংসে ভূরিভোজ করে থাকে। আগস্ট থেকে নভেম্বর অর্থাত্ শরত্ ও হেমন্ত ঋতুতে রাতের বেলা গ্রামবাসীরা দলে দলে বেরিয়ে পড়ে। তাদের হাতে থাকে জ্বলন্ত মশাল, লণ্ঠন। বাঁশের লম্বা খুঁটি সাহায্যে মশাল বা লণ্ঠন উঁচিয়ে ধরে তারা আত্মহত্যাকারী পাখিদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এই আলো লক্ষ্য করে কোথা থেকে যেন ঝাঁকে ঝাঁকে নানা জাতের পাখি এসে পড়তে থাকে। মাটিতে পড়ার পর পাখিগুলো আর ওড়ার চেষ্টা করে না। মাটিতে পড়ে থাকা পাখিগুলোকে গ্রামবাসী পিটিয়ে মেরে ফেলে এবং রান্না করে খায়! অনেকে পাখিগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু লাভ হয়নি! মাটিতে পড়া পাখিগুলোকে কেমন জুবুথুবু, ভীত দেখায়! কিছু খেতে দিলেও খায় না, দিনের পর দিন অভুক্ত থেকে পাখিগুলো অনাহারে মরে যায়! পাখি বিশারদদের মতে, দেশী-বিদেশী পাখি মিলে গড়ে প্রায় ৫০ প্রজাতির পাখি প্রতি বছর জাটিঙ্গায় জৈন্তাদের হাতে মারা যায়। এদের মধ্যে টাইগার বিটার্ন, ব্ল্যাক বিটার্ন, লিটল এগ্রেট, পন্ড হেরন, ইন্ডিয়ান পিট্টা এবং কয়েক প্রজাতির মাছরাঙা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে আশার কথা হচ্ছে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী এভাবে পাখিহত্যা কমে এসেছে। এখন প্রশ্ন হলো, কেন দলে দলে পাখি এসে জাটিঙ্গায় নির্জীব হয়ে পড়বে? আর কেনই বা অনাহারে অথবা স্থানীয়দের হাতে মারা যাবে? কেন আগুন ও আলোর প্রতি এদের অমোঘ টান? এ রহস্যের জট আজ পর্যন্ত কেউ খুলতে পারেনি। এটাকে কেউ বলে আত্মহত্যা, কেউ বলে ভুতুড়ে ব্যাপার। কেননা জাটিঙ্গার পাশেই হাফলং। সেখানে এই পাখি কখনো যায় না অথচ জাটিংগা আর হাফলংয়ের আকাশের দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। স্থানীয় ‘জাইনতিয়া’ জনগোষ্ঠীর ধারণা, এমন ঘটনার পেছনে অশুভ আত্মার ভূমিকা রয়েছে। সারা বিশ্বের পাখি প্রেমিকরা এবং পাখি বিশারদরা বারবার ছুটে গেছেন জাটিঙ্গায় এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। ভারতের প্রাণিবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন গবেষণা করেও এ ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে সক্ষম হননি। ফলে জাটিঙ্গা আজও রহস্যে ঢাকা, পাখিদের আত্মহত্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি বার্ষিক আশ্চর্যজনক ঘটনা! (সহায়তাকারী - Google বন্ধু )


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ~জীবনকে সুন্দর করার টিপস্!
→ পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রামার "অ্যাডা লাভলেস" এর জীবনী
→ পৃথিবীর আরেক নাম সংগ্রাম
→ অনুমান করার যৌক্তিকতা- আল্লাহ কি বলেন?
→ মৃতকে জীবিত করার প্রচেষ্টা
→ রিফাতদের সংগ্রাম
→ ফুটবলের গ্রামীণ রীতিনীতি
→ গ্রাম্য শৈশবের ফুটবল খেলার স্মৃতি
→ হোসেনপুর গ্রাম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...