গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

জলদানব রহস্য_৭

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Farhan… (৭৮১ পয়েন্ট)



গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিন জলদানব রহস্য_রকিব হাসান  সাত  ‘কিন্তু জলদানব মনস্টার উড লেকে এসেছে কেন?’ রবিনের প্রশ্ন। ‘মিস্টার উলফ কী বলেছেন মনে নেই?’ মুসা বলল, ‘প্রাণীরা যখন দেখবে এখানে ওরা নিরাপদে থাকতে পারছে, একে একে সবাই এসে হাজির হবে।’ এক গাছি চুল আঙুলে জড়াতে লাগল ফারিহা। ‘আমি জানতাম জলদানবেরা শুধু সাগরে বাস করে।’ ‘তাই তো,’ কিশোর বলল। ‘জলদানব সাগরের খোলা পানি বাদ দিয়ে চিপার মধ্যে অভয়াশ্রমের পানিতে থাকতে আসবে না। আর বালুর চরায় হেঁটে বেড়াবে না।’ ‘কিন্তু লক নেসের দানব আসবে,’ জোর দিয়ে বলল মুসা। ‘কারণ সাগরের চেয়ে লেকই ওটার বেশি পছন্দ। মনস্টার উডের লেকটা নিশ্চয় পাতাল নদী দিয়ে সাগরের সঙ্গে যুক্ত। কৌতূহলী বিজ্ঞানীদের অত্যাচারে বিরক্ত হয়ে এখানে চলে এসেছে নেসি, শান্তিতে থাকার জন্য।’ ‘আমি বাড়ি যাব,’ ফুঁপিয়ে উঠল ফারিহা। লেকের দিকে মুখ তুলে তাকাল মুসা। ‘কিন্তু লোকে যখন জানবে মনস্টার লেকে দানব ঢুকেছে, দল বেঁধে ছুটবে সবাই। কৌতূহলী দর্শকে ভরে যাবে মনস্টার উড।’ হাসল কিশোর। বলল, ‘এত দিন শুনেছি, মানুষকে ভূতে ধরে। এখন দেখছি, তোমাকে দানবে ধরেছে।’ কিশোরের কথায় সুর মিলিয়ে রবিন বলল, ‘মিস নেসি দানব নন।’ ‘এত শিওর হলে কী করে?’ ফারিহার প্রশ্ন। ওর দিকে তাকাল রবিন। ‘জলের দানব ব্যাগপাইপ বাজাতে পারে না।’ ‘আর জলে ডুব দিতে ডুবুরির পোশাকও পরতে হয় না ওদের,’ যোগ করল কিশোর। ‘তোমাদের কথাই যেন ঠিক হয়,’ ফিসফিস করে বলল ফারিহা। ‘কারণ, তিনি আসছেন!’ মিস নেসিকে আসতে দেখল ওরা। কালো স্কুবা সুট পরেছেন। ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছে সেটা থেকে। পায়ে ফ্লিপার। বালিতে সেটার ছাপ পড়ছে। কিশোর লক্ষ করল, ছাপগুলো অনেক বড়, আর সামনের দিকটা ব্যাঙের পায়ের মতো। পাশে পাশে হেঁটে আসছেন মিস্টার উলফ। সঙ্গে ক্যাম্পের অন্য ছেলেমেয়েরা। চট করে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল কিশোর, মুসা, রবিন ও ফারিহা। এক সারিতে ওদের সামনে দিয়ে চলে গেল দলটা। হাত তুলে বালুতে পড়া ফ্লিপারের ছাপ দেখাল কিশোর। ‘মুসা, ওই যে ছাপগুলো দেখো। বালুর চরা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মিস নেসির ফ্লিপারের ছাপ পড়েছিল, সেটাই আমরা দেখেছি। তার মানে, মিস নেসি দানব নন। এসো, যাই।’ পিছু নিল চারজনে। পানির কিনারে কাঠের মঞ্চের দিকে চলেছে সবাই। মোটো জোসি আর আরেকটা ছেলের পেছনে নিজেদের আড়াল করে রাখতে চাইল ফারিহা ও মুসা। কিন্তু সারির পাশ কাটিয়ে সবার সামনে চলে গেল কিশোর। ‘পানিতে নামব কখন?’ মিস নেসিকে জিজ্ঞেস করল সে। মুখে এসে পড়া ভেজা চুলের গোছা সরালেন সুইম কোচ। তাঁর হাতটা কাঁপতে দেখল কিশোর। মনে হলো, ঠান্ডায়। ‘বছরের এ সময়ে জঙ্গলে ঘেরা এসব পুরোনো লেকগুলোর পানি ভীষণ ঠান্ডা থাকে,’ মিস নেসি জবাব দিলেন। ‘সুট পরে না নামলে ঠান্ডায় জমে মরবে। তাই, তোমাদের জন্য ওয়েট সুট কিনে রেখেছেন মিস্টার উলফ।’ কাছেই রয়েছে বোট-হাউস। সেখানে এসে কালো রঙের পোশাকগুলো পরল ওরা। ডকে ফিরে এল। ওয়েট সুট পরাতে এক ঝাঁক কালো রঙের পেঙ্গুইনের মতো দেখাচ্ছে ছেলেমেয়েগুলোকে। সবাই উত্তেজিত। মাস্ক আর স্নরকেল লাগিয়ে পানিতে নামার জন্য অস্থির। কেবল ফারিহা বাদে। মুসার হাত খামচে ধরে বলল, ‘আমার নামতে ভয় লাগছে।’ ‘খারাপ লাগবে না দেখো,’ উৎসাহ দিল কিশোর। ‘অনেক মজার জিনিস দেখতে পারব। লেকের তলায় কাদার ওপর ছড়ানো মোহর পেলেও অবাক হব না। বহুকাল আগে এ অঞ্চলে চোর-ডাকাতে ভর্তি ছিল। ওরা ফেলে যেতে পারে।’ মহা উৎসাহে পানিতে ঝপাঝপ লাফিয়ে পড়তে শুরু করল ছেলেমেয়েরা। ‘ইয়াহু!’ বলে চিৎকার দিয়ে পানিতে লাফ দিল কিশোর। মোটো জোসি ঝাঁপ দিতে গিয়ে পিছলে পড়ে গেল পানিতে। তাতেও তার আনন্দের কমতি নেই। চিৎকার-চেঁচামেচি হট্টগোলে কান ঝালাপালা। বোকা হয়ে তাকিয়ে রইলেন মিস নেসি। কানে আঙুল দিলেন। চিৎকার করে বললেন, ‘আরে থামো থামো! চেঁচানো থামাও!’ বহু কষ্টে ছেলেমেয়েদের চেঁচানি বন্ধ করা গেল অবশেষে। কাঁপা গলায় মিস নেসি বললেন, ‘এত চেঁচানো সহ্য হয় না আমার। পানির নিচে এত শব্দ করবে না। পানিতে সামান্য শব্দও খুব জোরে হয়।’ মুসার কানে কানে বলল ফারিহা, ‘শুনলে?’ ‘শুনলাম,’ জবাব দিল মুসা। ‘এবং এতে অবাক হইনি আমি। শব্দের অত্যাচারেই লক নেস মনস্টার নিজের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল, ভুলে গেছি মনে করেছ।’ ‘মিস্টার উলফকে সাবধান করে দেওয়া দরকার,’ ফারিহা বলল। ‘লক নেসের দানব আমাদের সবাইকে গিলে ফেলার আগেই।’ পানির দিকে এগিয়ে গেল মুসা। ‘আরও আগেই বলা উচিত ছিল। এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।’ চলবে…gj


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জলদানব রহস্য_১১
→ জলদানব রহস্য_১০
→ জলদানব রহস্য_৯
→ জলদানব রহস্য_৮
→ জলদানব রহস্য_৬
→ জলদানব রহস্য_৫
→ জলদানব রহস্য_৪
→ জলদানব রহস্য_৩
→ জলদানব রহস্য_০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...