গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

জলদানব রহস্য_৫

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Farhan… (৭৮১ পয়েন্ট)



 গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিন জলদানব রহস্য_রকিব হাসান। পাঁচ  ‘তোমার মাথা, ছাগল কোথাকার!’ রেগে গেল কিশোর। ‘মিস নেসি দেখতেই অমন। উনি দানব, গলা কেটে ফেললেও এ কথা বিশ্বাস করব না আমি।’ ‘কেন, নামের সঙ্গেও যে মিল আছে সেটা খেয়াল করোনি?’ তর্কে হারতে রাজি না মুসা। যুক্তি দেখাল, ‘তাঁর ডাকনাম নেসি। লক নেস মনস্টারের ডাকনামও নেসি রেখেছে স্কটল্যান্ডের লোকে।’ ‘তাই তো!’ উত্তেজিত হয়ে উঠল ফারিহা। ‘মিলে যায়! সব মিলে যায়!’ ‘তাঁর এভাবে গায়েব হয়ে যাওয়াটাও কিন্তু অদ্ভুত,’ সমর্থন পেয়ে উৎসাহিত হলো মুসা। ‘সেই যে পানিতে নামল, উঠল তো না আর। এতক্ষণ করেছেটা কী?’ ‘নিশ্চয় উঠে চলে গেছে,’ কিশোর বলল। ‘আমরা তো আর সারাক্ষণ পানির দিকে তাকিয়ে থাকিনি। মিস্টার উলফের সঙ্গে যখন কথা বলছিলাম তখনই নিশ্চয় কোনখান দিয়ে উঠে চলে গেছেন মিস নেসি। এখন হয়তো ডাইনিং টেবিলে বসে শাক চিবোচ্ছেন। দেহ স্লিম রাখার জন্য। ফালতু পেঁচাল বাদ দিয়ে চলো খাবার খেতে যাই।’ ‘কিন্তু পানি থেকে তাঁকে উঠতে দেখলাম না কেন আমরা?’ ভয়ে ফিসফিস করে বলল ফারিহা। ‘দেখবে কী করে? পানিতেই ছিল যে,’ মুসা বলল। ‘এখনো আছে। ঝপাং করে একটা শব্দ হয়েছিল ভুলে গেছ? মিস নেসিই করেছেন।’ ‘দেখো, ভয়ে আমার হাত-পা কাঁপছে,’ গুঙিয়ে উঠল ফারিহা। ‘দূর! কিসের ভয়? ওঠো,’ ফারিহার হাত ধরে টান মারল কিশোর। ‘চলো, ভাগি। নইলে মুসা আমাদের শুধু লেকের দানব না, জলার রাক্ষস আর সাগরের জলকুমারীও দেখিয়ে ছাড়বে।’ লেকের পারের রাস্তা দিয়ে আগে আগে হেঁটে চলল ফারিহা ও মুসা। পেছনে কিশোর আর রবিন। হঠাৎ তাদের পাশে ঝপাং করে প্রচণ্ড জোরে এক শব্দ হলো পানিতে। ঘাই মারল কিসে যেন। বিকট চিৎকার দিয়ে দৌড় মারল ফারিহা। ভ্যাবাচেকা খেয়ে গিয়ে বাকি তিনজনও একই কাণ্ড করল। একদৌড়ে একেবারে কেবিনের ডাইনিং রুমে ঢুকে পড়ল ফারিহা। ডাইনিং রুমে ঢোকার পর হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করল কিশোর, ‘দৌড় দিলে কেন?’ ফারিহার মুখ লাল। হাঁপানির চোটে কথা বলতে পারল না কিছুক্ষণ। তারপর বলল, ‘পানিতে ঝপাং করে উঠল দানবটা, শোনোনি?’ ‘তোমাকে তো বললাম দানব-ফানব কিছু নেই। সব মুসার বানানো গপ্পো। এসব বলে ভয় দেখানোর চেয়ে বসে বসে রূপকথার বই লিখলে ভালো করবে ও। গোয়েন্দাগিরি ওর কাজ না।’ কেঁপে উঠল ফারিহা। ‘বুঝলাম। কিন্তু ওই লেকের ধারে-কাছে যেতে রাজি না আমি। এই ক্যাম্পেই থাকব না। বাড়ি চলে যাব।’ ‘কে নিয়ে যাবে?’ রবিন বলল, ‘মিস্টার উলফ তো আর দিয়ে আসতে যাবেন না।’ কোমরে হাত রেখে দাঁড়াল ফারিহা। ‘তাহলে খালাকে ফোন করব। এসে নিয়ে যাবে।’ ‘এখানে টেলিফোন নেই।’ ‘তাহলে মিস্টার উলফের মোবাইল ফোনটা দিয়ে করব।’ চলে গেল ফারিহা। ‘সর্বনাশ করবে!’ গুঙিয়ে উঠল রবিন। ‘অ্যান্টি শুনলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রকি বিচের সব লোকে জেনে যাবে।’ ঠোঁট কামড়াল কিশোর। ‘জানুক না। দানব থাকলে মানুষকে সাবধান করে দেওয়াই উচিত।’ কিশোর আর রবিনের দিকে তাকাতে লাগল মুসা। ‘মিস্টার উলফ ঠিকই বলেছেন। মনস্টার উডের লেক সব প্রাণীর জন্যই নিরাপদ আশ্রয়।’ ‘দানবের জন্যও?’ রবিনের প্রশ্ন। ‘হ্যাঁ, তাহলেও,’ মাথা ঝাঁকাল মুসা। ‘যতক্ষণ না দানবটা মানুষের কোনো ক্ষতি করে। ওটা যাতে নিরাপদে থাকে, সেদিকটাও দেখতে হবে আমাদের।’ ফিরে এল ফারিহা। ‘মাকে ফোন করেছ?’ মুসা জিজ্ঞেস করল। ফারিহার মুখ দেখে মনে হলো কেঁদে ফেলবে। ‘একটা কথাও বিশ্বাস করেনি খালা।’ পিঠ চাপড়ে ফারিহাকে সান্ত্বনা দিল মুসা। ‘ভয় নেই, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ মিস্টার উলফের গর্জন শোনা গেল। হাতে করে খাবারের ট্রে নিয়ে এসেছেন। ‘অ্যাই, বিচ্ছুরা, খেয়ে ফেলো এগুলো। ঠান্ডা হয়ে যাবে।’ মুসা হাসল। ‘এত খিদে পেয়েছে আমার, হাতি খেয়ে ফেলতে পারব।’ ‘তিমি খেতে পারবে না?’ গর্জন করেই রসিকতার জবাব দিলেন মিস্টার উলফ। ট্রে-গুলো ওদের হাতে ধরিয়ে দিলেন। খাবারের দিকে এক নজর তাকিয়েই গুঙিয়ে উঠল ফারিহা। ‘মাছ!’ মিস্টার উলফ বললেন, ‘মাছ স্বাস্থে্যর জন্য ভালো। খেয়ে দেখো, পছন্দ হবে। সারা সপ্তাহ ধরেই মাছ খাই আমরা এখানে।’ ‘আমার খিদে নষ্ট হয়ে গেছে।’ ট্রেটা নিয়ে একটা টেবিলে বসে পড়ল ফারিহা। মুসা, কিশোর আর রবিনও বসল একই টেবিলে। ফারিহা খুঁটতে থাকল শুধু। কিশোর আর রবিন স্বাভাবিক খাওয়াই খেল। মুসা গপগপ করে সব গিলে ফেলে আরও খাবার আনতে উঠে গেল।   খাওয়ার পর বাইরে অগ্নিকুণ্ড ঘিরে বসল ছেলেমেয়েরা। নানা রকম মাছের ছবি দেখাতে লাগলেন মিস নেসি। মাছগুলোর বর্ণনা দিতে লাগলেন। ‘এ রকম মাছ আর দেখিনি আমি,’ কাঁটাওয়ালা একটা মাছ দেখিয়ে বলল কিশোর। মিস নেসি হাসলেন। ‘এগুলো প্রাগৈতিহাসিক মাছ। খুব সামান্যই টিকে আছে এখনো লেক আর সাগরের গভীর পানিতে। দেখার সৌভাগ্যও হয়েছে খুব কম লোকের। গভীর পানিতে আরও নানা রকম অদ্ভুত জীব বাস করে।’ ‘এই যেমন, জলদানবের মতো প্রাণীরা!’ ফিসফিস করে বলল মুসা। খানিক পর যার যার কেবিনে ফেরার সময় ওদের কানে এল ব্যাগপাইপ বাজানোর শব্দ। ‘কী ভয়ানক শব্দ! শুনলেই গায়ে কাঁটা দেয় আমার,’ ফারিহা বলল। ‘এত বাঁশি বাজান কেন তিনি?’ রবিনের প্রশ্ন। ‘আমার মনে হয় ওই বাঁশি বাজিয়েই রূপান্তর ঘটান মিস নেসি,’ নিচুস্বরে ব্যাখ্যা করল মুসা। ‘বাঁশির শব্দ কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে তাঁর শরীরে। মানুষ থেকে দানবে পরিণত হন তিনি। তার মানে লক নেস মনস্টার হয়ে যান।’ বাকি তিনজনের কেউ মুসার কথার জবাব দিল না। চিন্তিত মনে হচ্ছে কিশোরকে। ফারিহার হাঁটার গতি বেড়ে গেল। অন্ধকার হয়ে গেছে। আকাশে তারার মেলা। আবছা আলোয় মিস্টার উলফকে দেখতে পেল ছেলেমেয়েরা। ডাইনিং হল থেকে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। হাতে একটা বড় কড়াই। ‘মাছের কড়াই,’ কিশোর বলল। ‘কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?’ মুসার প্রশ্ন। ‘লেকে,’ রবিন বলল। ‘চলো, দেখে আসি কী করেন।’ পা টিপে টিপে মিস্টার উলফকে অনুসরণ করল ওরা। কড়াই থেকে সমস্ত মাছ লেকের পানিতে ঢেলে দিতে দেখল। ‘লেকের পানি নষ্ট করে দিচ্ছেন তো তিনি,’ ফারিহা বলল। ‘দূষিত করে দিচ্ছেন।’ ‘আস্তে,’ সাবধান করল রবিন। ‘শুনে ফেলবেন।’ ‘দূষিত করছেন না,’ মুসা বলল। ‘তা তো করছেনই,’ জোর দিয়ে বলল ফারিহা। ‘পানিতে ওগুলো পচবে। পানি দূষিত করবে।’ ‘বললাম না, তা তিনি করছেন না,’ আবার বলল মুসা। ‘তাহলে কী করছেন?’ ‘দানবটাকে খেতে দিয়েছেন।’ তাকিয়ে রয়েছে ওরা। মাছগুলো যেখানে ফেলেছেন মিস্টার উলফ, সেখানকার পানিতে শত শত বুদবুদ উঠতে দেখল। ‘সত্যিই তো দানব!’ ফিসফিস করে বলল ফারিহা। ‘নইলে এত ভুড়ভুড়ি দিচ্ছে কিসে?’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জলদানব রহস্য_১১
→ জলদানব রহস্য_১০
→ জলদানব রহস্য_৯
→ জলদানব রহস্য_৮
→ জলদানব রহস্য_৭
→ জলদানব রহস্য_৬
→ জলদানব রহস্য_৪
→ জলদানব রহস্য_৩
→ জলদানব রহস্য_০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...