গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

জলদানব রহস্য_৪

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Farhan… (৭৮১ পয়েন্ট)



গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিন জলদানব রহস্য_রকিব হাসান চার  ‘কিসের শব্দ?’ চিৎকার করে উঠল ফারিহা। শব্দটা মিস্টার উলফও শুনেছেন। লেকের দিকে তাকালেন তিনি। দীর্ঘ একটা মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে ফিরলেন আবার ছেলেমেয়েদের দিকে। হাসলেন। বাঘা সাইজের দাঁতগুলো দেখালেন। ‘ভয়ের কিছু নেই। পানির কোনো প্রাণী হবে। শিকার ধরছে। খাওয়ার জন্য।’ ‘বড় মাছের কথা বলছেন, স্যার?’ জিজ্ঞেস করল মুসা। ‘মাছ কি পানির প্রাণী না?’ রহস্য করে কথা বললেন মিস্টার উলফ। ‘ওহ্‌ হো, আমাদেরও তো খাওয়া হয়নি। সবাই চলে এসো ডাইনিং হলে। ঠিক পনেরো মিনিটের মধ্যে।’ আরেকবার লেকের দিকে ফিরে তাকালেন মিস্টার উলফ। তারপর গটগট করে হেঁটে চলে গেলেন কেবিনগুলোর দিকে। পিছে পিছে চলল ছেলেমেয়েরা। ‘চলো,’ ফারিহা বলল। ‘আমার খিদে পেয়েছে।’ খপ করে তার হাত চেপে ধরল মুসা। ‘দাঁড়াও। কথা আছে। অদ্ভুত এক ধরনের অনুভূতি হচ্ছে আমার।’ ‘পেটের মধ্যে তো? খিদে পেলে হয় এ রকম,’ হেসে বিজ্ঞের ভঙ্গিতে বলল কিশোর। ‘একে বলে হাঙ্গার পেইন, অর্থাৎ ক্ষুধার কারণে ব্যথা।’ ‘না, খিদের জন্য হচ্ছে না,’ মুসা বলল। ‘তাহলে কিসের জন্য?’ ফারিহা, রবিন, কিশোর, তিনজনের মুখের দিকেই একবার করে তাকিয়ে নিল মুসা। তারপর বলল, ‘বিপদের গন্ধ পাচ্ছি আমি। ভয়ংকর বিপদ। আমার অনুমান সত্যি হলে ক্যাম্পের কেউ রেহাই পাবে না।’ ‘মানে?’ বুঝতে পারল না রবিন। ‘কিসের বিপদ?’ ‘আমি বুঝে গেছি,’ মাথা দুলিয়ে বলল ফারিহা। ‘মিস্টার উলফ কী বলেছেন ভুলে গেছ? জায়গাটাকে বুনো প্রাণীর অভয়ারণ্য বানাবেন তিনি।’ ‘কিন্তু সেই প্রাণীগুলোর কোনো একটা যদি দানব হয়?’ মুসা বলল। ‘পানির দানব?’ ‘তাহলে আর কী, তোমার মুণ্ডু চিবিয়ে খাবে,’ কিশোর বলল। জোরে জোরে মাথা নাড়ল রবিন, ‘এই ক্যাম্পে দানব নেই।’ ‘ধ্যাত্তোরি! প্যাঁচাল না পেড়ে চলো খেতে যাই,’ কিশোর বলল। ‘ফালতু কথা আমি বলছি না,’ গম্ভীর স্বরে জবাব দিল মুসা। ‘আমি বুঝে গেছি সব।  গভীরজলেরবাসিন্দা বইটাতে আমি এদের কথাই পড়েছি।’ ‘তুমি আবার বই পড়া শুরু করলে কবে থেকে?’ মুখ বাঁকাল রবিন। ‘কী পড়েছ?’ জানতে চাইল ফারিহা। একটা পাথরের ওপর বসে পড়ল মুসা। মাটিতে তার সামনে বাকি তিনজনের বসার অপেক্ষা করল। ওরা বসলে বলল, ‘মাথামুণ্ডু আমিও কিছু বুঝতে পারিনি প্রথমে। এখন পরিষ্কার। সেই পুরোনো আমল থেকেই দানবের কথা বলে আসছে মানুষ। গভীর পানিতে যাদের বাস।’ ‘চেনো নাকি ওদের? তোমার দোস্ত?’ ব্যঙ্গ করল কিশোর। তার কথা যেন শুনতেই পায়নি মুসা। বলল, ‘স্কটল্যান্ডের লেকগুলোতে জলদানব দেখা গেছে। লেকে বাস করে বলে ওগুলোর নাম হয়ে গেছে লেকের দানব। বহুবার বহু লোকে দেখেছে। ওখানে যেহেতু লেককে বলে লক, দানবগুলোকে বলে লক মনস্টার।’ ‘মিস নেসিও তো লেককে লক বলেছেন!’ চিৎকার করে উঠল ফারিহা। ‘হ্যাঁ, সেটাই তো সন্দেহ!’ মাথা ঝাঁকাল মুসা। ‘দানবের গুজব শুনে আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে খুঁজতে শুরু করলেন বিজ্ঞানীরা। লক নেস নামে একটা লেকের গভীর পানির তলায় বিশাল এক প্রাণীর অস্তিত্ব খুঁজে পেলেন। পরে যখন ডুবুরি নামানো হলো, ওরা কিছুই দেখতে পেল না। স্থানীয় লোকের ধারণা, এত লোকের আনাগোনা আর যন্ত্রপাতির খোঁচাখুঁচিতে বিরক্ত হয়ে নিজেদের বাসাবাড়ি ছেড়ে চলে গেছে দানবগুলো।’ ‘গেছে না ছাই!’ হাত নেড়ে যেন রবিনকে উড়িয়ে দিল কিশোর। ‘যে প্রাণী নেইই, তাকে খুঁজে পাবে কী করে?’ ‘কিন্তু লক নেস মনস্টার ছিল, তার অনেক প্রমাণ আছে। ছবি, ফটোগ্রাফ—সবই আছে।’ মুসা বলল। ‘ওসব প্রাণী খুব লাজুক স্বভাবের। মানুষের সামনে আসতে চাইত না। সে জন্যই লুকিয়ে থাকত লক নেসের গভীর পানির তলায়। ওদের এত সাবধানতার পরেও অনেকেই কিন্তু দেখে ফেলেছে ওদের। একবার না, বহুবার।’ ‘কেমন ছিল দেখতে?’ জিজ্ঞেস করল ফারিহা। লম্বা দম নিল মুসা। ‘কালো রং। ছিপছিপে। গলাটা লম্বা। সাপের মাথার মতো ছোট্ট মাথা। ডাইনোসরের প্রজাতি হতে পারে।’ হেসে উঠল রবিন। ‘মিস নেসির গলা লম্বা, মাথাটা ছোট।’ ‘ঠিক! এই কথাটাই তো বোঝাতে চাইছি আমি এতক্ষণ ধরে!’ চিৎকার করে উঠতে গিয়েও কণ্ঠস্বর খাদে নামিয়ে ফেলল মুসা। ‘লক নেস মনস্টার স্কটল্যান্ডের লক থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে মনস্টার লেকের পানিতে।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৫৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জলদানব রহস্য_১১
→ জলদানব রহস্য_১০
→ জলদানব রহস্য_৯
→ জলদানব রহস্য_৮
→ জলদানব রহস্য_৭
→ জলদানব রহস্য_৬
→ জলদানব রহস্য_৫
→ জলদানব রহস্য_৩
→ জলদানব রহস্য_০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...