গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

জলদানব রহস্য_৩

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Farhan… (৭৮১ পয়েন্ট)



গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিন জলদানব রহস্য_রকিব হাসান। তিন  দল বেঁধে ডকে পৌঁছাল ছেলেমেয়েরা। আগেই এসে বসে আছেন মিস নেসি। পানির প্রায় তিন ফুট ওপরে কাঠের মঞ্চটায় পা ঝুলিয়ে বসেছেন। ব্যাগপাইপটা পাশে হাতের কাছে রাখা। কালো রবারের সাঁতারের পোশাকে তাঁকে একটা রোগা সিল মাছের মতো লাগছে। চকচক করছে পোশাকটা। পায়ে পরেছেন লম্বা সবুজ ফ্লিপার। ব্যাঙের পায়ের মতো লাগছে ওগুলো। একটা ফ্লিপারের মাথা পানিতে ডুবে আছে। ‘দেখে তো মনে হচ্ছে সাগরের নিচ থেকে উঠে এসেছেন,’ হেসে বলল কিশোর। ‘সাগরের প্রাণী।’ ‘আস্তে,’ ফারিহা বলল। ‘শুনে ফেলবেন। আমার কাছে তাঁকে কেমন নার্ভাস নার্ভাস লাগছে।’ ‘মিস্টার উলফ আপনার সঙ্গে এখানে দেখা করতে বলেছেন আমাদের,’ মিস নেসির কাছে গিয়ে হেসে বলল মুসা। ছোট্ট কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করলেন মিস নেসি। ‘এসো এসো,’ সুরেলা কণ্ঠে গান গেয়ে উঠলেন যেন তিনি। লেকটা দেখালেন। ‘সুন্দর এই পানির রাজ্যে সাঁতার কাটা শেখাব আমি তোমাদের।’ ‘আমার কাছে মোটেও সুন্দর লাগছে না,’ নীরস গলায় জবাব দিল রবিন। ‘কেমন ঘোলাটে সবুজ হয়ে আছে। থাকার কথা ছিল নীল।’ লেকের পানির দিকে তাকিয়ে জবাব দিলেন মিস নেসি, ‘ওপর থেকে পানির সৌন্দর্য অতটা বোঝা যায় না। কিন্তু নিচে অনেক সুন্দর। মনে হবে যেন লুকানো গুপ্তধন।’ ‘গুপ্তধন পেলে তো ভালোই হতো,’ কিশোর বলল। ‘একবার একটা পাহাড়ের গোড়ায় সত্যি সত্যি গুপ্তধন পেয়ে গিয়েছিলাম আমরা। ডাকাতদের লুকিয়ে রাখা সোনার মোহর। পাহাড়ের ওপর থেকে গড়িয়ে পড়ে নিচে এসে জমা হয়েছিল। ভূমিকম্প বা অন্য কোনো কারণে মাটিতে ধস নেমেছিল হয়তো।’ হাত তুলে দেখাল সে। ‘ওপারে পাহাড় দেখা যাচ্ছে। পুরোনো আমলে ওখানেও হয়তো ডাকাতের আস্তানা ছিল। আর ডাকাত মানেই সোনার মোহর। তাই না?’ মিস নেসি জবাব দিলেন, ‘কিন্তু লকের পানির নিচে মোহর থাকে না।’ ‘ওপর থেকে গড়িয়ে পড়তে পারে।’ ‘লক’ শব্দটা শুনে ফারিহা ভাবল উচ্চারণে ভুল করেছেন মিস নেসি। শুধরে দেওয়ার জন্য বলল, ‘লক, নাকি লেক?’ ‘লক। স্কটল্যান্ডে লেককে ‘‘লক’’ বলে। বানান এল-ও-সি-এইচ।’ ‘ও, তাই। জানতাম না,’ লজ্জা পেল ফারিহা। আস্তে করে আরেকটা ফ্লিপার নামিয়ে দিলেন পানিতে। নিজেও পানিতে নেমে গেলেন এমন আলতোভাবে, সামান্যতম ঢেউও উঠল না। টুপ করে তলিয়ে গেলেন মাছের মতো নিঃশব্দে। একটু পরেই ছেলেমেয়েদের অবাক করে দিয়ে মঞ্চের উল্টো দিকে মাথা তুললেন। ‘লক মনস্টারের পানি আমার খুব পছন্দ। যেখান থেকে এসেছি সেখানকার পানি এত শান্ত, এত নিরাপদ নয়।’ ‘আমিও নামব,’ গাল চুলকে আনমনে বিড়বিড় করল কিশোর। ‘পানিতে নামার খুব আগ্রহ দেখা যাচ্ছে তোমার?’ ভ্রু কুঁচকে তাকাল মুসা। ‘হ্যাঁ,’ অস্বীকার করল না কিশোর। ‘ফারিহার সঙ্গে আমিও একমত। ওপারের পাহাড়টা রহস্যময় মনে হচ্ছে আমার কাছে। সত্যিই ওপর থেকে গড়িয়ে এসে লেকে পড়তে পারে মোহর। ডুব দিয়ে দেখি, কোথাও আছে কি না।’ ‘এত তাড়া কিসের?’ পেছন থেকে গর্জন শোনা গেল। দাড়ি খামচাচ্ছেন মিস্টার উলফ। ‘সাঁতার কাটার কিছু নিয়মকানুন থাকে। সেগুলো জানতে হবে। তার আগে নামবে না কেউ।’ গুঙিয়ে উঠল কিশোর। ‘ছুটিতে এসেও শাসন মানতে হবে নাকি? প্লিজ, স্যার, মজা করতে এসেছি, করতে দিন।’ মিস্টার উলফের দাড়ি খামচানো বেড়ে গেল। দম আটকে ফেলল মুসা। চোখ বুজে ফেলল ফারিহা। ভালুকদেহী মিস্টার উলফ খেপে গিয়ে কিশোরকে কী করে বসেন সেই ভয়ে। কিন্তু ওদের অবাক করে দিয়ে হেসে ফেললেন রোমশ ক্যাম্প ডিরেক্টর। তাঁর দাঁত দেখে মুসার মনে হলো নেকড়ের দাঁত। রোম খাড়া হয়ে গেল তার। ‘ঠিক আছে, করলাম না শাসন,’ মিস্টার উলফ বললেন। ‘যাও তো দেখি। দাও লাফ। মজাটা টের পেয়ে এসো।’ কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়াল কিশোর। ‘সাঁতার জানি না ভাবছেন?’ বলে ডকের কিনারে চলে গেল সে। ‘পানিটা আগে ছুঁয়েই দেখো,’ মিস্টার উলফ সাবধান করলেন। ‘কেন?’ কিশোর বলল। ‘কী হবে? তাহলে টিচার নামলেন কী করে?’ হাত তুলে মিস নেসিকে দেখাতে গিয়ে অবাক হয়ে গেল সে। নেই তিনি। ‘আরে!’ চিৎকার করে উঠল ফারিহা। ‘ম্যাডাম কোথায় গেলেন?’ ‘এভাবে তো কাউকে সাঁতার কাটতে দেখিনি!’ ফিসফিস করে বলল মুসা। ‘একটু শব্দও হলো না।’ ‘যারা পানিতে থাকতে জানে, তাদের জন্য শব্দ না করে সাঁতার কাটা কোনো ব্যাপারই না,’ রহস্যময় কণ্ঠে বলল রবিন। ‘ঠিক,’ গর্জে উঠলেন মিস্টার উলফ, ‘ঠিক এই কথাটাই বোঝাতে চেয়েছি আমি। পানিতে নামা শেখো আগে।’ কিশোরকে বললেন, ‘যাও। আঙুল ছোঁয়াও পানিতে। তাহলেই বুঝতে পারবে কেন নিষেধ করেছি।’ মঞ্চে বসে একটা পা বাড়িয়ে দিল কিশোর। পানিতে ডোবাল। পরক্ষণে অস্ফুট শব্দ করে একটানে তুলে নিয়ে এল পা’টা। ‘বাপ রে! কী ঠান্ডা! বরফও এমন না! মিস নেসি পারছেন কী করে?’ আবার হাসলেন মিস্টার উলফ। ‘তাহলেই বোঝো। এখন চুপ করে বসো। কী করে পারছেন, তাঁকেই জিজ্ঞেস করি। বুঝিয়ে দেবেন।’ কথাটা যেন পানির নিচ থেকেও কানে গেল মিস নেসির। নিঃশব্দে মাথা তুললেন। লেকের ঠান্ডা পানিতে সাঁতার কাটার বিদ্যেটা যখন ছেলেমেয়েদের শেখানো শেষ করলেন মিস নেসি, সূর্য তখন অনেক নিচে নেমে গেছে। তিনি শেখালেন, কীভাবে রবারের সুট পরে পানিতে নামলে গা গরম থাকে, কীভাবে ডুবে থেকেও স্নরকেল লাগিয়ে টিউবের মাধ্যমে পানিতে দম নেওয়া যায়। ‘ডাইভিংয়ের এসব কৌশল জানা থাকলে সাঁতার কাটার অনেক সুবিধে। ডুব দিয়ে অনেকক্ষণ থাকতে পারবে। পানির জগৎটা চলে আসবে হাতের মুঠোয়। আর মজা? সেটা নামলেই বুঝবে। এত সব আজব আজব আর মজার জিনিস আছে নিচে।’ মনে হতেই যেন ‘মজার জিনিস’ দেখার লোভ সামলাতে না পেরে আবার পানিতে নেমে গেলেন মিস নেসি। একটা মুহূর্ত সেদিকে তাকিয়ে থেকে ছেলেমেয়েদের দিকে ফিরলেন মিস্টার উলফ। ‘হ্যাঁ, শোনো, এই ক্যাম্প কেন বানিয়েছি জানো? শুধু তোমাদের বেড়ানোর জন্য নয়। জায়গাটাকে জন্তু-জানোয়ারের অভয়াশ্রমও বানাতে চাই আমি। ছোট-বড় সব ধরনের প্রাণী নির্ভয়ে থাকবে এখানে। গাছেরাও এখানে নিরাপদ।’ ‘কিন্তু জন্তু-জানোয়ার তো খুব একটা দেখছি না এখানে,’ জোসি নামের একটা মোটাসোটা ছেলে বলল। দাড়ি খামচালেন আবার মিস্টার উলফ। ‘এখন নেই, তবে আসবে। সময় লাগবে। জন্তু-জানোয়ারেরা যখন বুঝে যাবে এখানে ওরা নিরাপদ, এলে আর তখন যেতে চাইবে না। ভিড় লেগে যাবে বনের মধ্যে, লেকের পানিতে, সবখানে।’ ‘কোন ধরনের জানোয়ারের কথা বলছেন?’ জানতে চাইল ফারিহা। ‘সব ধরনের।’ ‘যদি মায়া নেকড়েরা আসে? ওই যে দিনের বেলা যেসব ভূতেরা স্বাভাবিক নেকড়ে কিংবা মানুষের রূপ ধরে থাকে, চাঁদনি রাতে হয় ভয়ংকর পিশাচ, তারা?’ মুসার প্রশ্ন। ‘দূর, কিসের মধ্যে কী!’ বিরক্ত হলো কিশোর। ‘তোমার মাথায় ভূতপ্রেত ছাড়া আর কিছু ঘোরে না কেন বলো তো?’ হাত তুলে ওদের থামালেন মিস্টার উলফ। আগের কথাটা শেষ করলেন, ‘ডাঙার প্রাণীরা তো আসবেই। লেকে ঢোকানোর জায়গা করে দিতে পারলে গভীর জলের বাসিন্দারা আসতেও দ্বিধা করবে না, এমন করেই গড়ে তুলব আমি জায়গাটাকে।’ গভীর জলের বাসিন্দা! চমকে গেল মুসা। ঢোক গিলল। জলদানবের কথা ইঙ্গিত করেননি তো মিস্টার উলফ? জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল, ঝপাং করে শব্দ হলো পানিতে। লেকের একেবারে মাঝখানে। পাক খেয়ে ঘুরে গিয়ে সেদিকে তাকাল সে। অবাক চোখে তাকিয়ে রইল পানিতে ছড়িয়ে যাওয়া ঢেউগুলোর দিকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জলদানব রহস্য_১১
→ জলদানব রহস্য_১০
→ জলদানব রহস্য_৯
→ জলদানব রহস্য_৮
→ জলদানব রহস্য_৭
→ জলদানব রহস্য_৬
→ জলদানব রহস্য_৫
→ জলদানব রহস্য_৪
→ জলদানব রহস্য_০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...