গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

জলদানব রহস্য_০২

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Farhan… (৭৮১ পয়েন্ট)



"গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিন" জলদানব রহস্য_রকিব হাসান  দুই  বাস থামল। অবাক হয়ে মহিলার দিকে তাকিয়ে রইল রবিন। বাসের দরজার কাছে এসে দাঁড়ালেন বিচিত্র চেহারার একজন মানুষ। দাড়ি-গোঁফে ঢাকা মুখ। সারা গায়ে বড় বড় লোম, ভালুকের মতো। ‘এই যে শহুরে পোকার দল, মনস্টার উডে স্বাগতম,’ বিকট স্বরে বললেন তিনি। মনে হলো যেন গর্জন করে উঠেছে একটা ষাঁড়। ‘এই ক্যাম্পের আমি পরিচালক। আমার নাম মিস্টার উলফ। কে কত নম্বর ঘরে থাকবে, সেটা পরে বলছি। তার আগে তোমাদের সুইমিং ইনস্ট্রাক্টরের সঙ্গে পরিচিত হও। তোমাদের সাঁতার শেখানোর শিক্ষক। এই ক্যাম্পে তিনি নতুন।’ ‘সাঁতার!’ রবিন বলল, ‘এই ঠান্ডার মধ্যে? মাথা খারাপ নাকি! পানিতে নামলেই তো বরফ হয়ে যাব।’ ‘কথার মাঝে কথা বোলো না,’ গর্জে উঠলেন মিস্টার উলফ। পাশে দাঁড়ানো মহিলাকে দেখিয়ে হেসে বললেন, ‘ইনি মিস নিসারিন অ্যান্ডারসন। ডাকনাম নেসি। আমাদের বিশেষ মেহমান। স্কটল্যান্ডে ছিলেন এতকাল। কিছুদিন আগে আমেরিকায় এসেছেন। মুখে স্নরকেল লাগিয়ে কীভাবে সাঁতার কাটতে হয় তোমাদের শেখাতে চান। নিজে থেকেই শেখানোর আগ্রহ দেখিয়েছেন।’ ‘দারুণ!’ চেঁচিয়ে উঠল মুসা। ‘স্নরকেল পরে সাঁতার শেখার আমার অনেক দিনের শখ।’ তার সঙ্গে সুর মেলাল আরও কয়েকজন ছেলেমেয়ে। ‘এ জন্যই আমি আসতে চাইনি। ছুটিটা বাড়িতেই কাটাতে চেয়েছিলাম।’ গজগজ করতে লাগল রবিন। মিস্টার উলফ চোখ গরম করে তাকাতেই চুপ হয়ে গেল সে। মিস নেসির বাহুতে আলতো চাপড় দিলেন মিস্টার উলফ। তাঁকে বক্তব্য রাখার ইঙ্গিত করলেন। ছোটখাটো একটা ভাষণের অপেক্ষা করতে লাগল ছেলেমেয়েরা। সবগুলো চোখ মিস নেসির ওপর। দীর্ঘ একটা মুহূর্ত নীরবে তাকিয়ে রইলেন তিনি। লম্বা ছিপছিপে দেহ। এতটাই রোগা-পাতলা, কিশোরের মনে হলো জোরে চাপ দিলেই মট করে ভেঙে যাবেন পাটকাঠির মতো। ফ্যাকাসে চেহারা। চামড়ার রং মোমের মতো। যেন কোনোকালে সূর্যের মুখ দেখে না। সরু ঘাড়টা দেখে মনে হয় যেন মাথা ধরে টান দিয়ে অস্বাভাবিক লম্বা করে দেওয়া হয়েছে। পরনে কালো রঙের সাঁতারের পোশাক। হাতে ব্যাগপাইপ। ব্যাগপাইপের ওপর আঙুল বোলাচ্ছেন অস্থির ভঙ্গিতে। ‘মনস্টার লেকে স্বাগতম! সুস্বাগতম, বয়েজ অ্যান্ড গার্লস!’ মোলায়েম কাঁপা কাঁপা সুরেলা কণ্ঠে অবশেষে শুরু করলেন তিনি, যেন গান গাইছেন। ‘আমি তোমাদের গভীরতার সৌন্দর্য শেখাব। শেখাতে পারলে খুশি হব। তোমাদের সঙ্গে সাঁতার কাটার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করব।’ মিস নেসির দিকে তাকিয়ে হাসলেন মিস্টার উলফ। ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকালেন। ‘কেবিন অ্যাসাইনমেন্ট কী হবে শোনো এবার। একবারের বেশি বলব না। সুতরাং মনোযোগ দিয়ে শুনবে। বুঝেছ?’ মাথা ঝাঁকিয়ে কিংবা কাত করে জবাব দিল বেশির ভাগ ছেলেমেয়ে। কিশোর কিছুই বলল না। চুপ করে তাকিয়ে রইল। কী করতে হবে দ্রুত বুঝিয়ে দিতে লাগলেন মিস্টার উলফ। এক নম্বর বাড়ির ঘরগুলোতে থাকবে মুসা, ফারিহা আর আরও ছয়জন ছেলেমেয়ে। কিশোর, রবিন আর বাকি সাতজন ছেলেমেয়ে থাকবে চার নম্বরে। ‘জিনিসপত্র যার যার ঘরে রেখে এসে ডকে দেখা করো আমার সঙ্গে,’ গর্জন করে আদেশ দিলেন মিস্টার উলফ। ব্যাগ-সুটকেস নিয়ে কেবিনের দিকে ছুটতে শুরু করল ছেলেমেয়েরা। ‘স্নরকেলিং শেখার জন্য তর সইছে না আমার,’ বন্ধুদের বলল মুসা। ‘আমার ভয় লাগছে,’ ফুঁপিয়ে উঠে বলল ফারিহা। চোখ উল্টে দিল রবিন। ‘টেরটা তো পাবে পানিতে নামার পর। ঠান্ডা যখন জমিয়ে দেবে শরীর। ফ্রিজের বরফ বানিয়ে ছাড়বে।’ হেসে উঠল মুসা। পিঠে ঝোলানো ব্যাকপ্যাকটা সোজা করল। ‘আবহাওয়া ঠান্ডা না গরম বোঝার ক্ষমতাই নেই মিস্টার উলফের।’ ‘কী করে বুঝলে?’ রবিন জিজ্ঞেস করল। ‘এমনি।’ ‘এমনি কিছু বোঝা যায় না।’ ‘যায়, যায়।’ ‘দূর, থামো তো!’ ধমকে উঠল কিশোর। ‘অকারণে কথা বলা। বনটা দেখতে দাও।’ সুন্দর ছিমছাম বনের ভেতর দিয়ে এগোতে এগোতে হাত তুলে দেখাল রবিন। ‘ওই যে আমাদের ঘর।’ কাঠ, বাঁশ আর খড় দিয়ে তৈরি কয়েকটা লম্বা লম্বা ছাউনি। লাল ও সাদা রং করা। নম্বর দিয়ে ঘরগুলোকে আলাদা করা হয়েছে। বাথরুমের কথায় যেন বাথরুমে যাওয়ার কথা মনে পড়ল মুসার। কিংবা অতিরিক্ত মিল্কশেক খেয়ে পেটের সর্বনাশ করে ফেলেছে। ব্যাগটা ছোট বোনের জিম্মায় দিয়ে বলল, ‘এটা দেখো। আমি বাথরুমে যাচ্ছি।’ দৌড়ে চলে গেল সে। হাসল ফারিহা। মুসার দিকে তাকাল। ‘মনে হচ্ছে ভালোই কাটাব এখানে একটা হপ্তা। ছুটিটা মজার হবে।’ ‘মজা না বিরক্তি বোঝা যাচ্ছে না এখনো!’ রবিন বলল। ‘মজাই লাগবে!’ মাথা দুলিয়ে বলল কিশোর। ‘প্রকৃতির মাঝে এসে কারও খারাপ লাগে না।’ চলবে…


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৫৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জলদানব রহস্য_১১
→ জলদানব রহস্য_১০
→ জলদানব রহস্য_৯
→ জলদানব রহস্য_৮
→ জলদানব রহস্য_৭
→ জলদানব রহস্য_৬
→ জলদানব রহস্য_৫
→ জলদানব রহস্য_৪
→ জলদানব রহস্য_৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...