গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

সময়ের সবকিছুই পাল্টে যায়

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (৫৮ পয়েন্ট)



আমি আনিছ। সব সময় হাসি। হাসিতে বিশ্ব জয় করি। তবে জয় করতে পারি নি-কারোর মন। কারো মনে স্থান করে নিতে পারি নি। তবে আমি আছি বেশ। আল্লাহ আমাকে ভাল রেখেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমিঃ আমি তোমাকে পছন্দ করি নীরা। নীরাঃ কোন সাহসে এ কথা বললে। দেখতে তে জোকারের মতো! কি আছে তোমার? নেই কোন ভালভাবে চলার মতো কোন গতি। ছেলেদের স্মার্টনেস বুঝো! দেখছি তাও বুঝো না। ছেলেদের স্মার্টনেস তাদের উচ্চতায়, কথাবার্তায়, আর তাদের সামাজিক স্টেটাসে। আমিঃ হ্যা, আমি উচ্চতায় তোমার চেয়ে খাটো। আমার সামাজিক স্টেটাস তেমন উচু নয়। আমি মধ্যবিত্ত। তবে জেনে নাও। মানুষের এসব নিয়ে অহংকার করতে নেই। নীরাঃ যাও, যাও, তোমার নীতিবাক্য নিয়ে বসে থাকো, আনিছ। নুন আনতে পান্তা ফুরাই যার, তার মুখে রাজার বাণী। হা হা হা। এরপর বছর তিনেক পর। নীরার সাথে দেখা হয়। আমি তো অবাক হয়ে যাই। নীরা একটি ছেলেকে কোলে নিয়ে একটি বাড়িতে যায়। আমিও পিছু পিছু তাকে অনুসরণ করি। একজনকে বলি, নীরা ঐ বাড়িতে কি করে? সে জানাল যে বাপের মুখে চুনকালি লাগালে যা হয়। নীরা এক ধনীর দুলালকে পালিয়ে বিয়ে করে। ঐ ছেলেটি হিরোইনখোর ছিল। নীরা বাবার সম্পত্তি বিক্রি করে নেশা করত। এ দুঃখে নীরা বাবা আত্মহত্যা করে। মা টাও মারা যায়। আর ঐ হিরোইনখোর কে জানি খুন করে রাস্তায় ফেলে যায়। এখন নীরা তার ছেলে ও নিজের পেট চালাতে বাড়ি বাড়ি কাজ করে। আমার এতটাই খারাপ লাগে আমি বলতে পারব না। আমি ওকে ডাক দিলাম। নীরা বের হয়ে এলো। আমাকে চিনতে পারল না। চিনতে পারবে কি করে? এখন তো লম্বা লম্বা দাঁড়ি রাখছি। পাঞ্জাবি পরি। - কে আপনি? আমারে ডাকতেছেন কে? - আমার চিনবার পারলে না নীরা। ভাল করে দেখো। অবশ্যই চিনবে। - চিনা চিনা লাগে, ওওও আনিছ। - হুম আমি আনিছ। - মাশাল্লাহ ভাল লাগছে তোমারে। - তোমার এ অবস্থা কেন? - আমার কপাল! সুখ আর সইল না। তুমি ঠিকই কইছিলা অহংকার পতনের মূল। আমি শুনি নাই। তুমি বিয়ে করছো, আনিছ। - না, তবে করব ভাবছি। আমি নীরার সব কাহিনী শুনে চলে এলাম। আর আল্লাহ উদ্দেশ্যে বললাম, আল্লাহ তুমি সব করো মানুষের মঙ্গলের জন্য। অথচ আমরা বুঝি না। ***********★************★************ আমি তখন কলেজে পড়ি। হঠাৎ একটি দূর্ঘটনায় আমাদের ৫০ লক্ষ টাকা লোকসান হলো। বাবা সেনাবাহিনীর সব পেনশনের টাকা দিয়ে ব্যবসা করেছিল। আমাদের কষ্ট করে চলতে হয়েছিল। একজন বলল, টাকা পয়সা নাই, পড়াশোনার প্রয়োজন কি? তবে আমি পড়াশুনা ছাড়ি নি। চাকরি করে পড়াশুনা করছি। চাকরির জন্য বিজ্ঞান বিষয়ে পড়তে পারি নি। তাই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হই। ২০১৮ সালে আমার অনার্স শেষ হয়। ২০২০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে তথ্য প্রযুক্তিতে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ইন আইটি শেষ করি। রেজাল্ট খুব ভাল। আমি বাড়িতে আসি। করোনার কারণে বাড়িতে আছি। ঐ লোকটা বলল যে বলেছিল টাকা পয়সা নাই পড়াশুনা করা কি দরকার। আমি বললাম, - আপনার তো অনেক টাকা, আপনি শত শত ডিগ্রী কিনে ছেলেকে দেন। চাকরি হয়ে যাবে। - তুমি একথা বললে কেন? - মনে পড়ে, আমাদের দুর্দিনে আপনি কি বলেছিলেন? আপনার মনে না থাকতে পারে আমার মনে আছে। বলেছিলেন, টাকা পয়সা নাই, আপনার দোকানে গোমস্তার চাকরি করি। আমি বলেছিলাম আমি করব না। পড়াশুনা করব। আর আপনি বলেছিলেন, তোমাদের যা অবস্থা তাতে ডিগ্রী পারলেও কাজ হবে না। আজ আপনি আপনার ছেলের চাকরির জন্য আমাকে বলছেন। কেন? আপনি তো আপনার দোকানে আপনার ছেলেকে লাগিয়ে দিতে পারেন। আসলে আপনার ছেলেকে ব্যারিস্টার, আর অন্যের ছেলেকে কুলি মজুর হিসেবে দেখলে বুঝি মজা লাগে। আমার কথা আপনার ভাল লাগবে না। আপনি এখন আসুন। - আসলেই বাবা মানুষের কর্মফল। আমি যদি তোমার মতো ভাবতাম, ভাল হতো। যাই। ***---***★***---***---***★***---*** অবশেষে এটা বুঝলাম মানুষের জীবন থেমে নেই। কোন না কোন উপায়ে আল্লাহ আমাদের জীবনকে পরিচালনা করচে। নিজেকে নিয়ে হতাশা করলে চলবে না। হতাশার বিপরীতে দেখিয়ে দিতে হবে আমিও পারি। তবে সময়ের প্রয়োজন। সময় সবকিছুই পরিবর্তন করে দেয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ যখন প্রকৃতি হয়ে যায় শিক্ষক!!!
→ সৃষ্টিকর্তা যদি দয়ালুই হন তাহলে এত মানুষ না খেয়ে মারা যায় কেন?এর দায় তো স্রষ্টারই।
→ ~অশনি সংকেত-বিভূতিভূষণ বন্দ্যেপাধ্যায়(বুক রিভিউ)
→ ~আরণ্যক-বিভূতিভূষণ বন্দ্যেপাধ্যায়(বুক রিভিউ)
→ ~পুতুল নাচের ইতিকথা-মানিক বন্দ্যেপাধ্যায়(বুক রিভিউ)
→ ~আদর্শ হিন্দু হোটেল-বিভূতিভূষণ বন্দ্যেপাধ্যায়(বুক রিভিউ)
→ মৃত্যু শয্যায় মহাবীর আলেকজান্ডার তার সেনাপতিদের ডেকে বলেছিলেন,'
→ একদিন এক কৃষকের গাধা গভীর কুয়ায় পড়ে গেল
→ মুসলিম সেনাপতি আমর এর ন্যায়পরায়ণতা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...