গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

গারষ্টিন প্লেসে সাহেব ভূত - বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (৫৩ পয়েন্ট)



১৯২৭ সাল। ২৪শে আগষ্ট। কলকাতায় ব্যবসায়িক ভিত্তিতে ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি গারষ্টিন প্লেসের একটি বাড়িতে প্রথম বেতার স্টেশন গড়ে তোলেন। প্রকৃত পক্ষে আমরা মুষ্টিমেয় কয়েকজন বাঙালী ভারতীয় অনুষ্ঠানগুলি চালাতাম। বাকি সবই ইউরোপীয়। লালমুখো সাহেব। এই গারটিন প্লেসে যে বাড়ীটি ছিল তার দোতলা তিনতলাটি আমরা ব্যবহার করতাম। তার একতলায় ছিল এক সাহেবী দোকান। বিলিতি-সুধারস পাইকারি হিসাবে ওরা চালান দিত। সেটি একটি অফিস মাত্র। পাঁচটার পর থেকে অফিস বন্ধ হয়ে যেত। কয়েক বছর পরে অবশ্য সেই কোম্পানিও ওখান থেকে চলে গেল। আমরা একতলাও পেয়ে গেলাম। গারস্টিন প্লেসের এই বাড়ীটি ছিল খুব নির্জন। সাহেবী কায়দার বাড়ী। আশপাশে কোন গোলমাল ছিল না। একতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত একটি কাঠের চকচকে সিঁড়ি ওপরে উঠে গেছে। পাছে শব্দ হয় তার জন্য ম্যাটিং দেওয়া ছিল সিঁড়িটায়। সকলকে সন্তর্পণে উঠতে হত। লোক আসত বটে, তবে সন্ধ্যার পর থেকে নির্জন‚ ডালহাউসির সব অফিস বন্ধ। আমাদের পেছনের দিকে সেন্ট জর্জ গীর্জের বিরাট উদ্যান। তার মধ্যে একটি স্থান, সমাধি স্থল। বেতার ষ্টেশনের দোতালার পেছন দিকে একটি বারান্দা ঘেরা বিরাট ছাদ। রবিবার সন্ধ্যায় চার্চে অর্গ্যান বেজে উঠত। গম্ভীর স্বরে সমবেত ভক্তবৃন্দের অপূর্ব প্রার্থনা সঙ্গীত ভেসে আসততা। আমরা অবসর সময়ে ঐ ছাদে পায়চারি করতাম আর ঐ গান শুনতাম। বেতারের ষ্টুডিওতে গান, বাজনা, বক্তৃতা চলতে প্রতিদিন। এক এক জনের ওপর এক একটি ভার। রাত দশটার পর সব ছুটি। তখনকার দিনের বেতারে অত্যন্ত শৃঙ্খলা থাকত। নীরবতার মধ্য দিয়ে সব কিছু চলত। ইউরোপীয় সাহেব ছিলেন সংখ্যায় বেশি। বাঙালীদের মধ্যে মুষ্টিমেয় আমরা কয়েকজন। আমাদের ভারতীয় অনুষ্ঠানের মূল কর্তা ছিলেন নৃপেন্দ্রনাথ মজুমদার। বেতার জনপ্রিয় করার জন্য তিনি অল্প কয়েকজনকে নিয়ে কাজ করতেন তার মধ্যে আমিও তাঁর সহকারিত্ব করতাম। রাইচাদ বড়াল, রাজেন্দ্রনাথ সেন এরাও বিভাগীয় কর্তা ছিলেন। প্রথম স্টেশন ডিরেক্টর যিনি ছিলেন তিনি মতান্তর হওয়ায় অফিস ছেড়ে দেবার পর এলেন মিঃ জে. আর. স্টেনটন। খুব কড়া মানুষ। একদিন আমি, নৃপেনদা, রাজেনদা প্রভৃতি প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করছি! এমন সময় আমাদের এক ঝাড়ুদার এসে বললে, ‘হুজুর, কাল রাত দো বাজে বঢ়া সাব আয়া থা। ম্যায় তো খাটিয়া লেকে দুতল্লা সিঁড়ি কা পাশ ঘুমাতা থা। সাব খাটিয়া টানকে ঘরমে হটা দিয়া। হমারা নিদ টুট গিয়া থা। সাহাব কুছ বোলা নাহি। গটগট করকে তিনতলা মে উঠ গিয়া। এক ঘণ্টা, দো ঘন্টা খাড়া হোকর উপরমে উন্‌কো পাতা মিলনা ওয়াস্তে ম্যায় উঠা থা। উহা পর গিয়া দেখা, চাবি বনধ হ্যায়। সাব কাঁহাসে চলা গিয়া হুজুর‚ মালুম হুয়া নেই।’ কথা শুনে আমরা বিস্মিত হলাম। ভাবলাম‚ গাঁজা খেয়ে ব্যাটা স্বপ্ন দেখেছে বোধ হয়। নৃপেনদা বললেন, ‘আচ্ছা যাও, সাবকো ম্যায় পুছেগা।’ সে চলে গেল। আমরা খুব হাসলাম। বড় সাহেবকে নৃপেনদা জিজ্ঞাসা কয়লেন‚ কাল রাত দুটোর সময় স্টেশনে আপনি এসেছিলেন নাকি? স্টেপলটন সাহেব ভুরু কুঁচকে বলে উঠলেন, কে বললে? নৃপেনদা জমাদারের উক্তিটি বলতে সাহেব হেসে বললেন, ও বেটা। নিশ্চয় নেশা করেছিল তাই কিছু দেখেছে নেশার ঘোরে। নৃপেনদা মৃদু হেসে বললেন, ভুতটুত ও তো হতে পারে। জায়গাটা যা নিঝঝুম। সাহেব হেসে বলে উঠলেন, অল রাবিশ। এই নিয়ে আমাদের মধ্যেও খুব কৌতুক বোধ জেগে উঠল। ভাবলাম, এই খবরটা সবাইকে দিই। কিন্তু নৃপেনদা বারণ করলেন। বললেন, দেখ, লোকে ভয় পেয়ে যেতে পারে। চুপচাপ থেকো। চুপচাপই ছিলাম। হঠাৎ একদিন আমি তিনতলায় নিজের ঘরে। বসে ফাইল দেখছিলাম। রাত তখন ৮টা। সারাদিন খাটুনির পর আলো নিভিয়ে ওপর থেকে কাঠের সিঁটি বেয়ে নীচে নেমে এসে মনে হল, ফাইলটা নিয়েই বাই। বাড়ীতে দেখব। এমন সময় স্টুডিও বেয়ারা মেহেরবানকে দেখে ডেকে বললাম, মেহেরবান একটা কাজ করবে বাবা? হাঁ হুজুর। বললাম, তিনতলায় আমার ঘরে টেবিলের উপর একটা ফাইল রেখে এসেছি, আবার তিনতলায় উঠতে পারছিনা। একটু কষ্ট করে নিয়ে এসনা বাবা! কোমল স্বরে মানুষকে বলে অনেক কাজ করানো যায় তাই মেহেরবান আমার মিষ্টি কথা শুনেই ধীরে ধীরে তিনতলায় উঠে গেল। তার যাবার ঠিক তিন মিনিট পরেই দুম-দুম করে সিঁড়ি দিয়ে কারো লাফাতে লাফাতে নামার আওয়াজ। একটু পরেই সিঁড়ি কাঁপিয়ে মেহেরবান নেমে এল নীচে। ভয়ে থর-থর করে কাঁপছে। ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করলুম, কী হয়েছে, এত কাঁপছ কেন? হাঁপাতে হাঁপাতে মেহেরবান বলল‚ আরে বাপরে! আপনার ঘরে আলো নেভানো ছিল। অন্ধকারে সুইচ টিপতেই দেখি, একজন লম্বা সাহেব একটা লম্বা হ্যাট, পরে আপনার ফাইলটা টেবিলের ওপর রেখে মাথা নীচু করে পড়ছে। দেখেই আমার মনে হ’ল সাহেবটা বোধ হয় আমার ঘাড়ে এবার লাফিয়ে পড়বে। আমি তখন অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতুম। আল্লাহ আমাকে বাঁচাবার জন্যে বোধ হয় শক্তি দিলেন। তাই এতগুলো সিঁড়ি ভেঙ্গে লাফিয়ে পালিয়ে আসতে পেরেছি। বাপ রে বাপ! এ বেটা জীন ভূত। রাত্তিরে মরে গেলেও আর তিন তলায় উঠব না। আমি ওর ভয় দূর করার জন্যে মৃদু হেসে বলে উঠলুম, আরে দুর, ও ভূতটুত কিছু নয়। এ কথা শুনে মেহেরবান আমায় চ্যালেঞ্জ করে বলে উঠল, চলুন ওপরে, দেখুন সেই ঘরটায় এখনও আলো জ্বলছে। আমি একটু দূরে সিঁড়িতে দাড়িয়ে থাকব। আপনি আপনার ঘরে গিয়ে দেখে আসুন। ঘরটায় নিশ্চয় এখনও আলো জ্বলছে আসুন। আমি তখন নিজেই ঘোল খেয়ে গেছি। মেহেরবনের সঙ্গে ওপরে ওঠবার সাহস পেলাম না। ‘মুখে মারিতং জগৎ’ করে ভয়ে ভয়ে সরে পড়লুম। কিছুতেই মাথায় ঢুকতে না যে ভূত আছে। একবার সাহস দেখাচ্ছি আবার বুকটাও দুরুদুরু করছে। তবে ভূতের প্রচারটা চাপা গেল না। অনেক ঘটনা এখানে ঘটেছে। সব কথা বলতে গেলে একটা বই লিখতে হয়। সংক্ষেপে আমি একটা দুটো ঘটনা বলছি। আমাদের কলকাতা স্টেশনে এক সময় প্রভাত মুখোপাধ্যায় কাজ করতেন। আমার বিশেষ স্নেহাম্পদ। বর্তমানে তিনি ফিল্ম নিয়ে কাজ করেন, পরিচালনা করেন। যাই হোক, একদিন বর্ষার সময় একতলার পেছনের দিকে রিহার্শেল রুমে বসে বই পড়ছেন। বেলা শেষ হয়ে গেছে। সন্ধ্যে ছ'টা। আলো জ্বেলে পড়ছেন। আমাদের গার্স্টিন প্লেসের পেছন দিকে সেই গির্জা‚ আর আমাদের ঘরের পেছনটায় রেলিং দেওয়া তারের জাল বসানো জানলা। বাইরে বাগান দিয়ে যাতে কেউ না ঢুকতে পারে তার ব্যবস্থা আছে। প্রভাতকুমার বই পড়তে পড়তে বাগানের দিকে মুখ তুলে একবার চেয়েছেন, সেই সময় দেখতে পেলেন, এক দীর্ঘদেহী সাহেব মাথায় টপ হ্যাট, আগেকার দিনে বড়বড় সাহেব ঐ কালো লম্বা হ্যাট মাথায় পরে যেতেন, সেইটে পরে ঘরের দিকে বর্ষার জল মাথায় নিয়ে জানালার কাছে আসছেন। প্রভাত বিস্মিত নয়নে তাঁর দিকে চেয়ে ভয় পেয়ে গেলেন। সাহেবকে দেখেই তিনি দরজার দিকে এগোবেন কিনা ভাবছেন, এমন সময় হঠাৎ সাহেব যেন হাওয়ায় ভর দিয়ে জালঘেরা রেলিং দেওয়া জানলার তারে দুই হাত চেপে দাঁড়িয়ে গেলেন। প্রভাত কোন রকমে ধীরে ধীরে পিছিয়ে দরজাটা খুলতেই সাহেব ভূত ঘরের মধ্যে ঢুকে হাতছানি দিয়ে কি যেন বলতে এলেন। প্রভাত অবশ্য তাঁর বলার অপেক্ষা না করেই প্রায় জ্ঞান হারা হয়ে দরজাটা খুলেই দ্রুত করিডর পেরিয়ে একেবারে একতলার স্টুডিওর সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। তারপর তিনি আর একতলার ঘরে কখনও একা যেতেন না। ছোটখাট অনেক ঘটনা ঘটেছে। তবু আমার পূর্ণ বিশ্বাস হয়নি যে ভূত আছে। সব ঘটনা বলতে গেলে একটা গোটা উপন্যাস হয়ে যাবে। এই গল্পে সম্ভব নয়। তাই আর একটা ঘটনা বলছি। একজন ঘোষক রাত্রে ইউরোপীয় প্রোগ্রামে রেকর্ড বাজাত। দোতলায় একটা ঘর ছিল। লম্বা করিডর দিয়ে স্টুডিওতে ঢুকতে হয়। নীচে থেকে প্রোয়জনীয় রেকর্ড নিয়ে ঘোষক স্টুডিওতে যায়। তিনটি ঘর আছে, একটা খালি ঘরে আটিষ্টরা বিশ্রাম নিতে পারে। একটা গোল টেবিল ঘিরে চারটে চেয়ার বসার জায়গা। ষ্টুডিওতে কাঁচের আড়াল। ঘোষক যন্ত্র চালাতে একটা স্টুডিওতে বসে। সব দিকটা দেখতে পারত। তার হাতে স্টুডিওর চাবি। রাত নটা বেজে গেছে। নীচের স্টুডিওগুলিতে গান বা বাজনা চলছে। ওপর নিস্তব্ধ। ষ্টুডিওর পরিচালক একটা কাজ করে, আর ষ্টুডিও যখন চলছে, তখন কয়েকজন সহকারী ব্যবস্থাপক দেখাশোনা করে। আটিষ্টদের সুবিধা–অসুবিধা, ঘোষকদের অভিযোগ অনুযোগ সব শুনে তাঁরা ব্যবস্থা নেয়। আমি সেই রাত্রে, রাত দশটার সময় নীচে মিঃ দাশগুপ্তর সঙ্গে গল্প করছি। হঠাৎ দোতলার একটা ষ্টুডিও থেকে টেলিফোন বেজে উঠল। দাশগুপ্ত জিজ্ঞাসা করলেন কি চাই। একটি কম্পিত কণ্ঠস্বর শোনা গেল‚ শিগগির আসুন। দাশগুপ্ত বললেন‚ বীরেনদা আপনি একটু বসুন। ঘোষক ব্যানার্জী বোধ হয় কিছু সাংঘাতিক মূর্তি দেখেছে। আপনি চলে যাবেন না যেন। ফাইল কন্ট্রাক্ট চেক পড়ে আছে এই বাক্সে, দেখবেন। বলেই সে ওপরে চলে গেল। আমি শেষ পর্যন্ত বসেই রইলুম। খানিক বাদে ঘর্মাক্ত কলেবরে ঘোষক ব্যানার্জী ও দাশগুপ্ত নেমে এল। সে যে ঘটনা বললো অবিশ্বাস্য বলে মনে হবে। আমি আগেই বলেছি চার্চের দিকে একটা বিরাট ছাদ আছে। তারপরেই একটা ঘর। সেটা আর্টিষ্টদের বিশ্রাম নেবার জায়গা। সেই টেবিলের চতুর্দিকে চেয়ার থাকে। বানার্জীর স্টুডিওর ঠিক সামনা সামনি একটা রুদ্ধ দ্বার স্টুডিও। মধ্যস্থলে বিশ্রাম কক্ষ। ব্যানার্জী সিগারেট ধরিয়ে বগলে চেপে নিয়ে চলেছে কতকগুলি বড় রেকর্ড। ঐদিনে রাত্রে বাজাবে বলে। মুখের সিগারেটের শেষ টানটি সেরে সেটা ছাদে ছুড়ে ফেলে দিয়ে তার স্টুডিওতে ঢুকতে যাবে, এই সময় হঠাৎ সে ফিরতেই দেখলে সেই গোল টেবিলটার একটা চেয়ার চরকির মত রাউণ্ড দিয়ে ঐ স্টুডিওর বিপরীত দিকের দরজায় উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওদিকে টাইম হয়ে গেছে। তৎক্ষণাৎ সে কোনমতে কাঁপতে কাঁপতে কথাগুলো শেষ করেই রেকর্ডটা ডিসকের ওপর চাপিয়ে দিলে। রেকর্ড বাজতে লাগল। এরই ফাঁকে স্টুডিওর সঙ্গে নীচের অফিসে ফোন করা যায়। তখুনি ফোন তুলে সে দাশগুপ্তকে ডাকলে। দাশগুপ্ত আমাকে রেখে ছুটে চলে গেল সেই নির্জন দোতলায় স্টুডিওর মধ্যে। ব্যানার্জী তখন শীতকালেও ঘেমে-নেয়ে গেছে। কি করে তার চোখের সামনে এক অদৃশ্য ভূত চেয়ারটা টেনে বিপরীত স্টুডিওর দরজায় উচু করে ঠেকিয়ে দিয়ে চলে গেল। তার নমুনাও সে ইঙ্গিত করে জানিয়ে দিলে। দাশগুপ্ত দেখলে সত্যিই তো আশ্চর্য কাণ্ড! আমিও দেখে এলাম ভূতের কাণ্ড কারখানা। তবুও কিছুতেই ভূতের অস্তিত্ব বুঝতে পারলাম না। তারও কিছুদিন পরে বেতারের একজন বিশিষ্ট গীটার বাদক অমিয় অধিকারীর যে দুর্গতি ঘটেছিল সেটাও অভিনব। বড় বড় গায়ক গায়িকাদের সঙ্গে সে গীটার বাজাতো। একদিন রাত সাড়ে ৯টা বা ১০টার সময় কোন এক গায়কের সঙ্গে তার গীটার বাজানোর কথা। আমাদের নীচে রিহার্শেল রুমে প্রভাত মুখখাপাধ্যায় ভূত দেখে ভয়ে মূর্চ্ছা গিয়েছিল। আরও ভয়ানক কাণ্ড ঘটেছিল তার জীবনে। গাইয়ে বাজিয়েদের জন্যে একটা রুটীন টাঙিয়ে দেওয়া হত। বিহার্শেল রুমের কাছে। অমিয় রাত ৯টার সময় একা সেইখানে বোর্ডে তার বাজনা কখন কার সঙ্গে বাজাতে হবে সেইটা দেখতে গেছে। রিহার্শেল রুম একদিকে ছিল। আর তার সমান্তরাল আর একটা ঘর চাবি দেওয়া থাকতো। সেই ঘরে ইঞ্জিনিয়ারদের যন্ত্রপাতি থাকত। অমিয় প্রায় কাছাকাছি যখন রুটীন দেখতে আসছে, হঠাৎ সে দেখলে ঐ চাবিদেওয়া ঘরটা থেকে সাহেব ভূত বেরিয়ে এল এবং লম্বা হ্যাট পরে বিরাট দেহ নিয়ে উপর দিকে তাকিয়ে একেবারে গটগট করে আর একটা বদ্ধ রিহার্শেল রুমের দরজা না ঠেলে নিমেষের মধ্যে ভেতরে ঢুকে গেল। অমিয়র আবার হার্টের রোগ ছিল। ওই দৃশ্য দেখে সে ঘরের দরজার কাছে ঘর্মাক্ত কলেবরে বসে পড়ল। মুখে কথা নেই। তখন বেতারের তৎকালীন কর্মী, ছোটদের আসর পরিচালক, জয়ন্ত চৌধুরী তার অবস্থা দেখে কোনরকমে তার শুশ্রুষা ক'রে, গাড়ী পাঠিয়ে তাকে বাড়ী পৌছে দেবার ব্যবস্থা করেন। ভাগ্য ভাল তার হার্ট বন্ধ হয়ে যায়নি, তবে কিছুদিন পরে সুস্থ হয়ে ঘটনাটি সকলকে জানাল। সেদিন থেকে আমার বিশ্বাস হ’ল যে ভূত আছে। নিশ্চয় আছে। এরা কেউ মিথ্যে বলেনি। ছায়ার মধ্যে দেখেনি। একেবারে চর্ম চোখে ভূতের কায়া দেখেছে। যারা যারা দেখেছে তারা কেউ বাজে লোক নয়। বানিয়েও বলেনি। তাই ভূতকে বাতিল করা যায় না। ******************★******************** তথ্যসূত্রঃ শিশিরবিন্দু | শিশির বিশ্বাসের-সাহিত্য ব্লগ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৪৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের কথা।পর্ব-2
→ ক্লান্তহীন অনুভূতি
→ নাইন-ইলেভেন
→ জিজের সবার ভূত নিয়ে আলোচনা
→ চুক্তি নিয়ে তালেবান আমীরের আহবান ও অনুভূতি
→ জিজের ছেলেদের ক্রিকেট ম্যাচ -2
→ ভূতুড়ে কুকুর
→ ~দ্য আলকেমিস্ট-পাওলো কোয়েলহো(বুক রিভিউ)।
→ জিজের পরিচিতরা যে কারণে প্রিয় (পর্ব-২)
→ কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের কথা। পর্ব-1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...