গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান ... গল্পেরঝুড়ি একটি অনলাইন ভিত্তিক গল্প পড়ার সাইট হলেও বাস্তবে বই কিনে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে... স্বয়ং জিজের স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের বড় একটি লাইব্রেরী আছে... তাই জিজেতে নতুন ক্যাটেগরি খোলা হয়েছে বুক রিভিউ নামে ... এখানে আপনারা নতুন বই এর রিভিও দিয়ে বই প্রেমিক দের বই কিনতে উৎসাহিত করুন... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

নিজাম সাহেবের ভূত [ পর্ব -৩ ]

"অদ্ভুতুড়ে" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ✪AS✪ABID☯ (০ পয়েন্ট)



মোতালেব বলল, একটু ইয়ে তো লাগবেই। শুধু একটু না, অনেকটু ইয়ে লাগবে। আধঘণ্টা আগেও ছিলেন মানুষ, এখন হয়েছেন ভূত। আমি যখন প্রথম ভূত হই–কি অভিজ্ঞতা! কি করব না করব কিছুই জানি না। তখন ছিল ঘোর বর্ষা, বুঝলেন ভাই সাহেব। আমি বেকুবের মত সারারাত বৃষ্টিতে ভিজলাম। তার কোন প্রয়োজন ছিল না। ইচ্ছা করলেই যে কোন বাড়িতে ঢুকে যেতে পারতাম। আমরা হলাম ভূত–দরজা বন্ধ থাকুক বা না থাকুক, আমরা যে কোন ফুটোফাটা দিয়ে ঢুকতে পারি, তাই না? কিছু না বুঝেই নিজাম সাহেব বললেন, জ্বি। বুঝলেন ভাই সাহেব, যেহেতু কিছুই জানি না–সারারাত বৃষ্টিতে ভিজে আমার হয়ে গেল সর্দি। বুকে কফ বসে গেল–খকর খকর করে কাশি। নিজাম সাহেব ক্ষীণ গলায় বললেন, ভূতদের সর্দি হয়? মোতালেব বিরক্ত হয়ে বলল, ব্যাঙের যদি সর্দি হতে পারে, ভূতের হবে না। কেন? আমরা কি ব্যাঙের চেয়েও খারাপ? নিজাম সাহেব কিছু বললেন না। তার মাথায় সব তালগোল পাকিয়ে যেতে লাগল। মোতালেব বলল, শুধু শুধু দেরি করছেন কেন স্যার? চলে যান। ভাবীর পাশে বসে থাকুন। আপনার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছানোর পর ভাবী আছাড়-পিছাড় খেয়ে কাদবে। ঐ দৃশ্য দেখে খুব মজা পাবেন। একটা রিকশা নিয়ে চলে যান। তবে চোখকান খোলা রাখবেন–একটু কেয়ারফুল থাকবেন। কেয়ারফুল থাকব কেন? কিছু সন্ত্রাসী ভূত আছে। চাদাবাজ। ভদ্রতা বলতে কিছুই জানে না। মানুষ থাকতে যেমন বদ ছিল মরে আরো বদ হয়েছে। অকারণে মারধোর করে। নিজাম সাহেব আঁতকে উঠে বললেন, সে কি! পরশুদিনের ঘটনা–একটা পাজেরো গাড়ি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। নতুন গাড়ি দেখে লোভ লাগল। গাড়ির প্রতি আমার আবার একটা দুর্বলতা আছে। বিকেলের দিকে গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগে। পাজেরো দেখে লোভ সামলাতে পারলাম না। লাফ দিয়ে গাড়িতে ঢুকে পড়লাম। গাড়ি যাচ্ছিল গুলশানের দিকে। ফার্মগেটেই রেড লাইট। গাড়ি থামছে। আমি বেকুবের মত মাথা বের করেছি। আমাকে দেখেই চার-পাঁচ সন্ত্রাসী ভূত হৈ চৈ করে ছুটে এল। আমি কিছু বোঝার আগেই জানালা দিয়ে টেনে বের করে ফেলল। দিল ধোলাই। এখনো আমার হাতে-পায়ে ব্যথা। নিজাম সাহেব শুকনো গলায় বললেন, সর্বনাশ! অপঘাতে যারা মারা যায় তারাই তো ভূত হয়–অপঘাতে মারা যায় কারা? সন্ত্রাসী-খুনী-চাদাবাজ। আমরা যারা সাধারণ ভূত তারা এদের হাতে জিম্মি। কাওরান বাজারে এক খুনী-ভূত আছে–রামদা হাতে বসে থাকে। কাউকে দেখলেই হুঁ হুঁ হুঁ শব্দ করে রামদা হাতে ছুটে আসে। ভাই সাহেব, কাওরান বাজার এলাকার দিকে ভুলেও যাবেন না। জি আচ্ছা। মিরপুর চার নাম্বারেও যাবেন না। ঐখানে কি? মিরপুরে আছে দুই ভাই–ছদরুল-বদরুল, দুভাই-ই ভয়ঙ্কর। আমার। ফ্যামিলি থাকে মীরপুরে। দুবছরের উপর হয়ে গেল ওদের দেখতে যেতে পারি। নাই। মন মানে না, দেখতে ইচ্ছ করে–বেকুবের মত একবার চুপি চুপি চলে গেছি, বাসায় উঠার আগেই দুজনের হাতে ধরা পড়লাম। কিরিচের এক কোপে তারা আমার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলল–তারপর সেই কাটা পা নিয়ে কি খুশি! ফুটবলের মত ছোড়াছুঁড়ি করে। ওরা পা নিয়ে লাফালাফি করছিল, আমি সেই ফাঁকে কোনক্রমে পালিয়ে এসেছি। দুমাস ভুগলাম–দুই মাসে নতুন পা গজাল। পা গজায়? তা গজায়। লেজের মত গজায়–ভূত হবার এই এক সুবিধা। যখন পা কাটা গেল তখন জানতাম না পা আবার গজায়। খুব মন-কষ্টে ছিলাম, তারপর একদিন দেখি পা গজিয়েছে। দেখুন না। ভদ্রলোক পায়জামা পরে ছিলেন। পায়জামা সরিয়ে গজানো পা দেখালেন। এবং নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, গজানো পা আসল পায়ের মত হয় না। দুর্বল হয়–জোর পাওয়া যায় না। তবু যে পা গজায় সেটা কম না। ভূত-জীবনে দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। হাত-পা গজানোর সিস্টেম না থাকলে বিরাট বিপদ ছিল। মাথা গজায়? মাথা কাটা পড়লে মাথাও গজায়। সেই মাথা সাইজে ছোট হয়। নিজাম সাহেব ক্ষীণ গলায় বললেন, ভাই সাহেব, আপনি কি আমার সঙ্গে একটু আসবেন? একা যেতে ভয়-ভয় লাগছে। মোতালের সঙ্গে সঙ্গে বলল, চলুন। আপনার উপর মায়া পড়ে গেছে। আপনাকে একা ছাড়তেও ইচ্ছা করছে না। ভূত যদি ভূতকে না দেখে, তাহলে কে দেখবে? একটা গান আছে না–ভূত ভূতের জন্যে … মোতালেব গান ধরল। গলায় সুর বেশ ভাল। একটু নাকি নাকি তারপরও শুনতে খারাপ লাগছে না। কয়েক লাইন গেয়ে বলল, স্যারের গান-বাজনার চর্চা আছে? জি না। চর্চা থাকলে ভাল হত। আমাদের সময় কাটে না তো–গান-বাজনা করে সময় কাটাই। চলুন রওনা হই–রিকশায় যাবেন, না গাড়িতে? রিকশায় যাওয়া। ভাল। আপনার তো নিশ্চয়ই চলন্ত গাড়িতে লাফ দিয়ে ওঠার অভ্যাস নেই। শিখে যাবেন। বেঁচে থাকার জন্যে সবই শিখতে হবে। সংগ্রাম করতে হবে। ভূতদের জীবন। হল সংগ্রামী জীবন। নিজাম সাহেব চমকে উঠলেন। ভূতদের জীবন সংগ্রামী জীবন–তার মানে কি? বেঁচে থাকতে সংগ্রাম, মরার পরেও সংগ্রাম? কি ধরনের সংগ্রাম মোতালেবকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়া ভাল। মোতালেবকে জিজ্ঞেস করা হল না। তার আগেই সে গান ধরল– আইঁজ পাশা খেঁলবরে ভুতনী ও ভূতনী তোঁমার সঁনে। একেঁলা পাইঁয়াছিরে ভূতনী এই নিঘোর বঁনেঁ… নিজাম সাহেবের ভাল লাগল। মোতালেবের গলা আসলেই ভাল। তালজ্ঞানও ঠিক আছে। নিজাম সাহেব হাতে তাল দিতে লাগলেন। মোতালেব গান থামাল স্যার। জ্বী। একটা খালি রিকশা যাচ্ছে, চলুন উঠে পড়ি। আমার হাত ধরে লাফ দিন। হাই জাম্প। ছোটবেলায় হাই জাম্প দেননি? জ্বি না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের কথা।পর্ব-2
→ ক্লান্তহীন অনুভূতি
→ জিজের সবার ভূত নিয়ে আলোচনা
→ চুক্তি নিয়ে তালেবান আমীরের আহবান ও অনুভূতি
→ ভূতুড়ে কুকুর
→ জিজের পরিচিতরা যে কারণে প্রিয় (শেষ পর্ব)
→ জিজের পরিচিতরা যে কারণে প্রিয় (পর্ব-২)
→ খুনীদের খুনী — পর্ব ২
→ কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের কথা। পর্ব-1
→ খুনীদের খুনী— পর্ব ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...