গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

~ অচেনা ভুবন(১ম পর্ব)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইম আরাফাত(হিমু) (৪৩৮ পয়েন্ট)



_______লেখকঃ সাইম আরাফাত________ ----------আসসালামু আলাইকুম------------ বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে,যাকে বলে মুষলধারে বৃষ্টি,ইংরেজিতে cats and dogs. টিনের চালে বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা পড়ছে,মনে হচ্ছে চালের উপর দিয়ে কোন কুকুর কোন মেনি বিড়ালকে দৌড়াচ্ছে কিন্তু ধরতে পারছে না।এজন্যই মনে হয় এই বৃষ্টির নাম cats and dogs. বৃষ্টি ক্রমশ বাড়ছে। শফিক চিন্তিত মুখে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।বৃষ্টির ঝাপটায় তার শরীর ভিজে যাচ্ছে, এতে মনে হয় তার তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। শফিক দরজা লাগিয়ে দিল।যেই বৃষ্টি নেমেছে মনে ঘন্টা দুএক ঘন্টার মধ্যে থামবে না। শফিক তার বিছানায় এসে বসল।বিছানা বলতে একটা ভাঙা নড়বড়ে চৌকি,তার উপর ময়লা তোষক বিছানো,তোষকের উপর একটা ছেড়া চাদর। শফিক ঘড়ি দেখল।সকাল ৯.২০ বাজে। শফিকের মন খারাপ হয়ে গেল কারন ১০ টায় একটা একটা জরুরী কাজে বাইরে যেতে হবে কিন্তু এই বৃষ্টির জন্য তা হচ্ছে না।শফিকের রাগ হচ্ছে তবে রাগটা কার উপর হচ্ছে তা সে বুঝতে পারছে না।মাঝেমাঝে শফিকের এমন হয়,ভীষণ রাগ উঠে যায় কিন্তু রাগটা কার উপর তা সে বুঝতে পারে না। শফিকের মনটা একটু খারাপ হলো।সে ভেবেছিল ১০ টায় কাজটা শেষ করে সে জহিরের সঙ্গে দেখা করতে যাবে।জহির শফিকের বন্ধু, শুধু বন্ধু না ভালো বন্ধু। অনেকদিন হলো জহিরের কোনো খোঁজ খবর নেই।না জানি কোনো অসুখ বিসুখ বাধিয়ে বসেছে।ব্যাটা আস্ত একটা গাধা!জন্মেছে অসুখ রাশি নিয়ে।বছরের প্রায় অর্ধেক সময় থাকে তার পেটের সমস্যা আর বাকি অর্ধেক সময় হয় থাকবে হাঁপানি,নাক দিয়ে রক্ত পড়া নয়ত টালটু-ফালটু কিছু অসুখ।কয়েকদিন আগে ব্যাটা এমন জ্বর বাধিয়েছিল যে,এখন যায় তখন যায় অবস্থা। হাসপাতালে ভর্তি করা হলো, হাসপাতালের বেডে শুয়ে প্রলাপ বকছে।শফিক গেল তাকে দেখতে।গিয়ে দেখে অবস্থা কেরোসিনের উপর একেবারে ডিজেল।শফিক কাছে গিয়ে বলল,কেমন আছিস? জহির খুশি খুশি গলায় বলল,বেশি ভালো না, মনে হয় এইবার আর ছাড়া পাব না,এখন যায় তখন যায় অবস্থা, এলাকার ইমাম সাবকে এনে তোওবা করিয়েছি।শরীর কেমন কেমন করে,অস্থির লাগে।মনে হয় কেউ যেন হাড়গুলো হাতুড়ি দিয়ে গুড়া করছে। শফিক হতাশ গলায় বলল,চুপ করে শুয়ে থাক,কথা বলতে হবে না।আমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলছি। —ডাক্তারের সাথে কথা বলে কিছু হবে না,এই যাত্রায় আর বাঁচব না। সে যাত্রায় জহির আজরাইলের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধ বেঁচে গেল।সুস্থ হয়ে উঠেই আবার শুরু করে দিল তার দুই নাম্বারী কাজ কর্ম। বৃষ্টি থেমে গেছে।শফিক ঘড়ির দিকে তাকাল।একি!এখনও ৯.২০ বাজে!সময় কি তাহলে থেমে গেছে? নাকি ঘড়ি নষ্ট হয়ে গেছে?না,সময় কারও জন্য থেমে থাকে না।সময় তার পথে অবিরাম ছুটে চলে।তার দাঁড়ানোর জো নেই।তাকে তার গন্তব্যের দিকে ছুটে যেতেই হবে।তার থামলে চলবে না,পড়ন্ত বিকেলের পথিক যেমন হন্যে হয়ে ছুটে সন্ধ্যা হওয়ার আগে বাড়ি ফিরার জন্য সময়ও তেমনি পড়ন্ত বিকেলের পথিকের মতো।তাকে সন্ধ্যা মিলানোর আগে বাড়ি ফিরতে হবে,তাকে কারও জন্য অপেক্ষা করলে চলবে না।এটাই সত্য,চিরন্তন সত্য এবং হাজার হাজার বছর ধরে এটাই চলে আসছে। তাহলে হয়ত ঘড়িই নষ্ট হয়ে গেছে। শফিকের মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল কারন এই ঘড়িটা তার অত্যন্ত প্রিয় জিনিসগুলোর একটি আর তাছাড়া এখন চাইলেই আরেকটা ঘড়ি কেনা যাবে না।চাকরি-বাকরি নেই,পকেট একদম ফাঁকা।তবে শফিক চাকরির চেষ্টা করছে।আজকে চাকরির জন্যই সে একটা জায়গায় যেত কিন্তু এই বৃষ্টির জন্য তা হলো না। শফিকের ঘরে বসে থাকতে ভালো ভালো লাগছে না আবার বাইরে যেতেও ইচ্ছা করছে না।বাইরে হাঁটুসমান পানি।ম্যানহোলগুলো থাকবে পানির নিচে ডুবে।এখন বাইরে বের হলে পানির নিচে থাকা ম্যানহোলে পড়ে হাবুডুবু খেতে হবে।এর কোনো মানে হয়!তার চেয়ে বরং " হাজী রেস্টুরেন্ট" থেকে দুকাপ মালাই চা খেয়ে আসা যাক।কিন্তু শফিকের পকেটে আছে মাত্র পাঁচ টাকা,পাঁচ টাকা দিয়ে দুকাপ মালাই চা পাওয়া যাবে না।তবে সমস্যা নেই,রেস্টুরেন্টের মালিক হাজী কিসমত মিয়া তার পরিচিত।শফিককে সে ছোটভাইয়ের মতো দেখে।সমস্যায় পড়লে বাকি দেয়। শফিক চা খাওয়ার জন্য বের হলো।দরজার সামনেই ম্যাস ম্যানেজার বজলুর সাথে দেখা।বজলু লোকটা মোটেও সুবিধার না।মাঝেমাঝে শফিকের ইচ্ছা করে ব্যাটাকে ধরে দুঘা দিই কিন্তু সমস্যা একটাই ব্যাটা হচ্ছে ম্যাসের মালিকের শালা।কিছু করলে সমস্যা হবে।বজলুর বয়স ৪০-৪৫ হবে।থুতনিতে সামান্য দাঁড়ি আছে,ব্যাটা খচ্ছর সারাক্ষণ দাঁড়িতে হাত বুলায় আর পান চিবায়।পান খেয়ে যেখানে সেখানে ফিক করে পানের পিক ফেলে দেয় আর দোষ দেয় বোর্ডারদের।ব্যাটা মহা ধরিবাজ লোক।একবার চুরির দায়ে তিন মাস জেলও কেটেছে।ব্যাটা এক নম্বরে খচ্ছর,খচ্ছর দ্য গ্রেট।ম্যাসের কেউই ব্যাটাকে সহ্য করতে পারে না যদিও উপর দিয়ে সবাই খাতির করে চলে। শফিককে দেখে ব্যাটা খচ্ছর তার পান খাওয়া বিশ্রী লাল হয়ে যাওয়া দাঁতগুলো বের করে তাকাল।চোখ-দুটো সরু।মনে হয় এখনই কিছু কঠিন কঠিন কথা বলবে, তারই প্রস্তুতি নিচ্ছে।সেই কঠিন কথাগুলো কি শফিক তা জানে।পাঁচমাসের ভাড়া দেওয়া হয়নি।তাছাড়া খাওয়ার খরচও দেয়া হয় নি।যদিও গত দুই মাস ধরে ম্যাস থেকে শফিককে খাবার দেয়া হচ্ছে না।সে খাচ্ছে "হাজী রেস্টুরেন্টে"। সকালে দুটা পাতলা রুটি আর সবজি,দুপুরে ডাল-ভাত আর রাতে মাঝেমাঝে খায় মাঝেমাঝে খায় না। বজলু শফিকের দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছে যেন শফিকের মতো বিশ্রী কাউকে সে কখনোও দেখে নি। আরে ব্যাটা টাকা পাবি টাকা নিবি!এখন দিতে পারছে না পরে দিয়ে দিবে নাকি পালিয়ে যাচ্ছে?এভাবে তাকানোর কি আছে? শফিক মনে মনে বজলুকে একটা গালি দিল। শফিক মনে মনে বলল,ব্যাটা বেশি বাড় বেড়েছে! একটা শিক্ষা দিতে হবে। জন্মের মতো শিক্ষা যাতে আর কখনোও কারো দিকে এভাবে না তাকায়।ব্যাটা খচ্ছর কোথাকার! বজলু এবার নরম গলায় বলল,(যদিও নরম গলায় বলল তবুও কর্কশ শোনা গেল),কেমন আছেন শফিক সাহেব? শফিক মুখটাকে হাসি হাসি করে বলল,জ্বী ভালো আছি। — যাচ্ছেন কোথায়? —চা খেতে যাচ্ছি। এবার বজলু তার গলাটাকে অসম্ভব গম্ভীর করে বলল,আপনার তো পাঁচমাসের সিট রেন্ট বাকি তা কি জানেন?তার উপর আবার..... — আমি তো বলেছি আমার চাকরিটা পেয়ে গেলেই আপনার সব টাকা দিয়ে দিব।তাও আপনি এক কথা বার বার বলেন কেন? — আমি তো আর আপনার চাকরির অপেক্ষায় বসে থাকতে পারি না।আপনাকে শেষবারের মতো বলছি হয় আপনি একসপ্তার মধ্যে টাকা দিবেন নয়ত ম্যাস ছেড়ে চলে যাবেন। শফিক শুকনো মুখে বলল,জ্বী,আচ্ছা। বজলু চলে গেল।শফিক কিছুক্ষণ দরজার সামনে দাড়িয়ে থেকে বের হয়ে এলো। শফিক রাস্তায় পাশে এসে দাঁড়াল।শফিক যতটুকু পানি হবে ভেবেছিল পানি তার থেকে বেশি জমেছে।রাস্তায় কোমর সমান পানি।তবে এটা ভেবে রক্ষা যে,হাজী রেস্টুরেন্ট রাস্তায় এপারে,তাই শফিককে কোমর পানিতে নেমে ওপারে যেতে হবে না।রাস্তায় নামলে নির্ঘাত ম্যানহোলে পা ফসকে পড়ত।ইদানীং শহরের ম্যানহোলগুলোতে পড়ে মানুষ মারা যাচ্ছে এমনও হটনা ঘটছে।গত মাসে একবার ঠিক এরকম বৃষ্টি হয়েছিল।শফিক বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে ফিরছিল।তখন দেখে রাস্তার পাশে কতগুলো মানুষ একটা কিছুকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। শফিক কাছে গিয়ে দেখল একটা ৮-৯ বছরের বাচ্চা ম্যানহোলে মরে পড়ে আছে।হকার-টকার হবে হয়ত, ম্যানহোলে পা ফসকে মারা গেছে।বড়ই কষ্টের কথা।তবে এই নিষ্ঠুর শহরে এই চেলের জন্য কারও দুঃখ নেই।তারা ছেলেটাকে ঘিরে মজা দেখছে।শফিক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ম্যাসের দিকে পা বাড়াল। হাজী রেস্টুরেন্টের মালিক হাজী কিসমত মিয়া ক্যাশের চেয়ারে বসে আছে।বসে বসে ম্যাচের কাঠি দিয়ে কান খোঁচাচ্ছে। ম্যাচের কাঠি দিয়ে কান খোঁছানো তার একটা বদঅভ্যেস। কিসমত মিয়ার বয়স ৫০ এর কাছাকাছি।বিয়ে করেছে তিন-তিনটা কিন্তু একজনেরও সন্তান হয় নি।কিসমত মিয়ার এই একটাই আফসোস।তিনটা-তিনটা বিয়ে করল তবে একজনেরও সন্তান নেই।তবে কিসমত মিয়া এখনোও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।তার একটাই স্বপ্ন তার ছেলে হলে সে ছেলের নামে রেস্টুরেন্টের নামকরণ করবে আর বাপ-পুত মিলে রেস্টুরেন্ট চালাবে। শফিক রেস্টুরেন্টে ঢুকল রেস্টুরেন্ট প্রায় ফাঁকা।দুজন বয়স্ক লোক বসে বসে চা খাচ্ছে।কিসমত মিয়া শফিককে দেখে তার বত্রিশ পাটি বের করে বলল,দেখছ শফিক,আজ কিরম বিষ্টি আইছে,মনে অয় বেবাক কিছু ধুইয়া লইয়া গেছে। শফিক কিছু না বলে কোণার একটা টেবিলে গিয়ে বসল।শফিকের মনটা একটু খারাপ হলো।আজ সারাদিনই তার মনটা খারাপ হচ্ছে।আজ মনে হয় তার জন্য মন খারাপ দিবস।শফিক ভেবেছিল কারও সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে চা খাবে।আড্ডার মধ্যে তার সাথে খাতির জমিয়ে ফেলবে এবং উঠার সময় সে বলবে,বিলটা আমি দিয়ে দিই। —আরে না আপনি বসুন,বিলটা আমি দিচ্ছি। ঐলোক চায়ের বিল দিয়ে দিলে পাঁচটা টাকা বেঁচে যেত।পাঁচটা টাকা দিয়ে বাসে করে জহিরের বাসায় যাওয়া যেত।জহিরের বাসা মগবাজারে।মামার সঙ্গে থাকে।এখান থেকে মগবাজারে বাস ভাড়া পাঁচ টাকা।ফেরার সময় হেঁটেই চলে আসত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে খাতির জমানোর মতো লোক নেই।শফিক রেস্টুরেন্টের কাজের ছেলে মন্তুকে দুকাপ মালাই চায়ের অর্ডার দিল।মন্তু দু কাপ মালাই চা এনে শফিকের সামনে রেখে চলে গেল।শফিক আস্তে আস্তে চা খাচ্ছে,মনে হচ্ছে যেন সে অমৃত খাচ্ছে। [পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ~স্বপ্নপূরন~
→ ~স্টপ পর্ণোগ্রাফি(অন্ধকার জগৎ থেকে বের হয়ে আসুন আলের পথে)।
→ ~জিজেতে আমার অত্যন্ত প্রিয় ১০ জন!
→ ~দ্য আলকেমিস্ট-পাওলো কোয়েলহো(বুক রিভিউ)।
→ জিজের পরিচিতরা যে কারণে প্রিয় (শেষ পর্ব)
→ ~স্যার হুমায়ূন আহমেদ কী আসলেই নাস্তিক ছিলেন? নাকি সব ভ্রান্ত ধারণা?
→ ~জিজেস'রা এখন আমার বাসায়!
→ অভিশপ্ত আয়না পর্র৬(শেষ পর্ব):-
→ ~আচ্ছা মানলাম যে এই মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা আছেন,তাহলে তাকে কে সৃষ্টি করল? আমি তো মনে করি মহাবিশ্ব নিজেই স্রষ্টা।
→ ~সান্তনা_দে-২।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...