গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

পরিণতি

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Saniat Ahmed (০ পয়েন্ট)



পরিণতি....! ছোট গল্প লেখাঃ-সানিয়াত আহম্মেদ ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে সাদা পাঞ্জাবী পরা ছেলেটি।সুঠাম দেহ, মাথায় জাকড়া চুল। পেছন থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ছেলেটি এখানে দাঁড়িয়ে রাগে দাঁত কটমট করছে!বেশ রাগ হচ্ছে তার।অবশ্য রাগ না,অভিমান! এরই মধ্যে লাল টুটটুকে শাড়ী পরা একটা মেয়ে তার পাশে মোটামোটি দুরত্ব রেখে দাঁড়ালো। দুজনের অনেকক্ষণ নিরবতার পর মেয়েটিই মুখ খুললো! ---সাহেদ ভাই,আপনি এভাবে চলে এলেন কেনো?আপনি জানেন আমার একা থাকতে ভয় করে!মা বলে...... তাকে আর কিছু বলতে দিলো না সাহেদ!নিজেই বললো, ---চলে আসবো না!তো কি তোর মুখে ভাই ভাই শুনবো বসে বসে? ---রেগে যাচ্ছেন কেনো?এমন রাগলে কিন্তু আমি আপনাকে বিয়ে করবো না!মাকে বলবো আপনি বলেছেন বিয়ের পর আমাকে মারবেন! ---দেখ বুড়ি,একদম আজে বাজে কথা বলবি না।আমি খুব রেগে যাওয়া সত্বেও কখনো তোর গায়ে হাত তুলনি কিন্তু! ---তা তুলেন নি!কিন্তু বললে কে আটকাবে!আপনি?সে সাহস আছে আপনার?সবাই মেয়েদের কথাই শোনে! সাহেদ এবার নিজের রাগকে আটকে রাখতে পারছে না।মনে হচ্ছে বুড়ির গালে কষে কটা চড় বসিয়ে দেয়! বুড়ি মেয়েটা সত্যি আজব।এতো বছর পর সাহেদ দেশে ফিরলো,বাড়ি বয়ে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলো আর সে বলে কিনা,"সাহেদ ভাই,বিদেশে মেয়ে জুটলোনা বুঝি!সেইতো বুড়ির কাছেই আসতে হলো, তবে গিয়েছিলেন কেনো শুনি!" এ আবার কেমন কথা!বিয়ের কথা বলতে গিয়ে মেয়ের মুখে ভাই ডাক শুনাটা অবশ্য যে কারো জন্যই অস্বস্তিকর!সাহেদের বেলায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি।তই নিজের রাগ নিয়ন্ত্রন করতেই ছাদে আসা।কিন্তু তাও তাকে একা ছাড়ছে না মেয়েটি।জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ না করা অবধি অবশ্য সে ছাড়বেও না! অবশ্য এ আর নতুন কি!এ জীবনে যতোবারই সাহেদ বুড়ির সঙ্গে কথা বলেছে ততোবারই এমন অদ্ভুত সব কথা বলে বুড়ি তাকে রাগিয়ে দিয়েছে। এইতো ক'বছর আগে সাহেদ যখন চাকরির জন্য যখন সিঙ্গাপুর যাচ্ছিলো তার আগে বুড়ি সাহেদের ঘরে গিয়েছিলো।এমনই কিছু অদ্ভুত নালিশ করবে বলে। বুড়িকে দেখেতো সাহেদ অবাক!এ বুড়িকে সে চেনেই না বলতে গেলে!কেঁদে কেঁদে মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে!সাহেদ কিছুটা বিব্রত হয়েই জিজ্ঞেস করেছিলো, ---কিরে বুড়ি,কেঁদে কেদে এমন সং সেজেছিস কেনো?কোনো সার্কাসে চাকরি পেয়েছিস?নাকি নাট্য দলে? ---সাহেদ ভাই!আপনি আমার এতো বড় সর্বনাশ কেনো করলেন?আপনার একটুও দয়া-মায়া হলো না!এবার আমার কি হবে! ---কিসব বলছিস বুড়ি!আমি তোর কি সর্বনাশ করলাম!আমি বুঝতে পারছি না কিছুই!বুঝিয়ে বলতো। ---সে কি করে বুঝবেন!আপনিতো গোবর গণেশ! ---বুড়ি, একদম যাবার সময় রাগাবি না বলে দিলাম!তুই কি চাস বলতো? ---সাহেদ ভাই!আপনি চলে গেলে আমি যে অংকে ফেল করবো তা কি আপনি বুঝেন না?আমার এ সর্বনাশটা কি না করলেই নয়? আপনি থেকে যান না! ---বুড়ি!এসব বাজে কথা আর কক্ষনো বলবি না তো।যাবার সময় অযথা প্যাঁনপ্যাঁন! ---সাহেদ ভাই,আপনি চাকরির জন্য যাচ্ছেন না আমি জানি! ---তবে কেনো যাচ্ছি? ---কেনো আবার!নিজের জন্য বিদেশি মেয়ে খুঁজতে! ---বুড়ি তুই! থাক,তোকে কিছু বলাটাই বেকার!আমি চললাম! সেই যে বুড়ির সাহেদ ভাই গেল,তারপর এই তার ফেরা।এ ক'বছরে অবশ্য বুড়ির এই বোকা বোকা কথাগুলো খুব শুনতে ইচ্ছে করেছে সাহেদের।তবে কিছু কথা অজানা থাকলে ক্ষতি কি!তাই বুড়িকে এসবের কিছুই জানায়নি সাহেদ। ভেবেছিলো এবার হয়তো বুড়ি বড় হয়েছে!তাই মাকে দিয়ে খবর পাঠিয়েছিলো বুড়িকে দেখতে এসে পাকা কথা বলবে সে।তবে একা কথা বলতে গিয়ে হলো যত বিপদ! আসতে না আসতে মেয়েটা তার কথার মাধ্যমে সাহেদকে চটিয়ে দিলো।সবসময় বোকা বোকা কথা বলা! বুড়ি যে খুব ছোটো তা নয়।এবার অনার্স পাশ করলো।কিন্তু কথা শুনলে মনে হয় স্কুল পড়ুয়া কোনো বাচ্চা মেয়ে!তবে মাথায় বুদ্ধি না থাকলে কি হবে!অপরূপ সৌন্দর্য তার!টানা টানা কাজল কালো চোখ,গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁট,কোমর অবধি বেয়ে পড়া লম্বা চুল আর মিষ্টি একটা হাসি!এ রকম মেয়ে হাজারে এক!কিন্তু এ রূপবতী যে কথা বললেই বিপদ!যে কাউকে নিমিষেই রাগিয়ে দেবার এক বিশেষ ক্ষমতা তার! অনেকক্ষন নিরবতার পর আবার মুখ খুললো বুড়ি!তবে এবার যা বললো তাতে সাহেদ একটুর জন্য জ্ঞান হারায়নি! ---সাহেদ ভাই,আমাদের বিয়ের পর আপনি আর ঐ সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপাড়ে পাড়ি দেবেন না! ---কি বলছিস তুই বুড়ি!আমি কেনো যাবো না! ---বারে,আপনি গেলে আমার স্বপ্ন পূরণ করবে কে! ---কিসের স্বপ্ন! ---আমার যে খুব সখ।আমার ডজন ডজন বাচ্চা হবে!আমি তাদের খাওয়াবো,গোসল করাবো!লোকে আমায় চুন্নুর মা,মুন্নুর মা,আরো কতো কি নামে ডাকবে।আর ওরা আমায় মা মা বলে ডাকবে!বাড়িটা বাচ্চাদের কলোরবে ভরে যাবে! একি সাহেদ ভাই!আপনি এমন মেঝেতে বসে পড়লেন কেনো? আমাদের ছাদের মেঝে গত চার মাস ধোয়া হয়নি জানেন!কতো পাখি তাদের দুই নম্বর কাজ সেরেছে কে জানে!আপনি উঠুনতো দেখি।ইস!সাদা পাঞ্জাবীটা কেমন নোংরা হয়ে গেলো!আপনার মেঝেতে বসার সখ হলে আমার ঘরের মেঝেতে বসতেন!আমি তো আপনার হবু বউ হই।মানাতো আর করতাম না!ধুর..... কি বলবে বুঝতে পারছে না সাহেদ।এ মেয়েকে কিনা সে বিয়ে করতে চায়!যে নিজেকে সামলাতে পারে না সে নাকি ডজন ডজন বাচ্চা সামলাবে!তারমতো ডিগ্রিধারী ছেলের কি মেয়ের অভাব পড়তো নাকি!তাও তার মন কেনো এই অবুজ মেয়েটার জন্য ব্যাকুল অনেক চেষ্টা করেও তা খুঁজে পায় না সে।আনমনে নিজেকেই কতোক্ষন গাল দিলো সাহেদ। তারপর নিজেকে শান্ত করে বললো, ---বুড়ি,তুই তো বললি ডজন ডজন বাচ্চা হবে আমাদের।তো তাদের খাবার জোগানোর জন্যওতো টাকা লাগবে তাই না?তার জন্য চাকরি করতে হবে।আর চাকরির জন্য দেশান্তর হতে হবে! ---আপনি যেতে চাইছেন যান!তবে আমার কিছু শর্ত আছে! ---বলনা কি শর্ত! ---আমি বিয়ের পরও আপনাকে সাহেদ ভাই ডাকবো।আর তাতে আপনি রাগ করবেন না।আর আপনি যাবার আগে আমাকে একটা বাচ্চা দিয়ে যাবেন।আপনিতো থাকবেন না তবে বাবুটা থাকবে!আর প্রতি বছর দেশে আসবেন।আমার কাছে।প্রতি বছর যখন আমার বাচ্চা হবে তখন আপনাকে আমার পাশে চাই!আর হ্যাঁ শেষ শর্ত,আপনি আর আমাকে বুড়ি ডাকবেন না।আমি আপনার বউ!আপনি আমাকে বুড়ি বললে লোকে কি বলবে শুনি!আমারোতো কোনো মর্যাদা আছে নাকি! ---হাহাহাহাহা,হাসালি তুই।তা তোকে বুড়ি না ডাকলে কি ডাকবো শুনি? ---বউ ডাকবেন!তবে হ্যাঁ সবার সামনে না।সবার সামনে অন্তরা ডাকবেন।আমার নাম কি বুড়ি নাকি!আমার ভালো নামতো অন্তরা।তবে ছোট করে অন্তু ডাকতে পারেন।বুড়ি না ডাকলেই চলবে।তবে একান্তে বউ ডাকবেন কিন্তু! ---........... কি বলবে বুঝতে পারছে না সাহেদ।এই মুহুর্তে বুড়িকে বেশ অচেনা লাগছে তার!সে তো বুড়িকে এভাবেই দেখতে চেয়েছিলো সারাজীবন!তবে কি সত্যিই তার বুড়ি বড় হয়ে গেছে! ---ও সাহেদ ভাই,কিছু তো বলুন!চুপ করে আছেন কেনো? ---কি বলবো বলতো বুড়ি!মা মিথ্যে বলেনি দেখছি।তুই সত্যিই অনেক বড় হয়ে গেছিস রে!নিজের অধিকার আদায়ে তুই ওস্তাদ! ---আবার আমাকে বুড়ি বললেন!আমি কিন্তু এবার রেগে যাবো সাহেদ ভাই! ---পুরোনো অভ্যাসতো তাই বদলাতে সময় লাগবে।রাগ করিস না। ---আচ্ছা।তবে একবার অন্তরা বলে ডাকুন না! ---পরে ডাকবো। ---পরে কবে? ---কোনো একদিন! ---সাহেদ ভাই!কোথায় যান? ---নিচে।তোর ভাইদের বলবো বিয়েটা দু'দিন পর না, আজই হবে। ---আপনার আর তর সয় না বুঝি! ---হ্যাঁ তাই।তাতে তোর কোনো আপত্তি আছে? ---না,তা অবশ্য নেই।তবে আপনি দেখবেন সাহেদ ভাই,আমি কতো লক্ষি বউ হই! সাহেদের অবশ্য এ ব্যপারে কোনো সন্দেহ নেই!সত্যিই তার বুড়ি খুব লক্ষি বউ হবে।কারন মেয়েটার মধ্যে যে সবাইকে খুশি করার এক বিশেষ গুণ আছে।তার এই গুণই এতো বছর পর সাহেদকে ফিরে আসতে বাধ্য করেছে। ---সাহেদ ভাই,একা যাবেন না।বিয়েটা যখন হচ্ছে তখন না হয় একত্রেই যাই! ---তুই বড্ড পাকা রে বুড়ি! ---আবার বুড়ি! ---হাহাহাহাহা, চল যাই। নিচে সাহেদের মা, বুড়ির তিন ভাই আর তাদের বউয়েরা বুড়ির মতামত শুনার অপেক্ষা করছে।তবে তারা আগে থেকেই জানে যে সাহেদের মতো পাত্রকে বুড়ি না বলতে পারবে না!তবুও বুড়ির মুখ থেকে শুনতে চায় তারা। ---কিরে অন্তু!বিয়েটা করছিস তো?দু'দিন পর তারিখ ঠিক করি? ---না ভাইয়া,বিয়েটা এখনই হবে।সাহেদ ভাইয়ের যে তর সইছে না।তাই বিয়েটা আজই হবে।কি সাহেদ ভাই,এমন ড্যাবড্যাব করে কি দেখছেন?ভুল বললাম? ---না!তুই ভুল করতে পারিস! সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো।সত্যিই বুড়িটার মন আজও বাচ্চাই রয়ে গেছে। বুড়ি আর সাহেদের বিয়ে সে রাতেই হয়ে গেলো।খুব সুন্দরভাবে নিজের বাচ্চামীগুলো দিয়ে কি সুন্দর করে সাজিয়েছে বুড়ি তার সংসার!সে সংসারে ভালোবাসা আছে,মান-অভিমান আছে,অবাব আছে তবে সুখের কমতি নেই! কিন্তু সুখের দিন যে বেশিদিন স্থায়ি হয় না।বুড়ির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হলোনা।সাহেদের সিঙ্গাপুরে ফেরার তারিখ চলে এলো।আর মাত্র দু'দিন।ইদানিং বুড়ির শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।মনটা খুব কু গাইছে।সাহেদকে চোখে হারাচ্ছে সে! ---বুড়িরে,এবার ডাক্তারটা দেখা বউ।আমি যে তা না হলে ঐ দেশে কাজে মন বসাতে পারবো না! ---আজই যাবেন?ফেরার পথে কিন্তু আমাকে অনেক আচার কিনে দিতে হবে!কি,দেবেন তো? ---দেবোরে বউ,সব দেবো। ---তবে আপনি তৈরি হন।আমিও তৈরি হই। ---ঠিক আছেরে বউ। বিকেলের দিকে ডাক্তারের কাছে গেলো সাহেদ-বুড়ি।ডাক্তার যা বললো তাতে সাহেদ খুশির সপ্তম আসমানে পৌঁছে গেলো।বুড়ির সখ যে পূর্ণ হবে এবার!বুড়ির কোল জুড়ে ছোট্ট একটা পুচকু আসবে!তবে বুড়ির চেহারায় খুশির ছিঁটে ফোঁটা নেই।কেমন গম্ভীর হয়ে গেছে সে।ফেরার পথে আচারও কিনলো না!সাহেদও আর বিরক্ত করে নি।সারা রাস্তা নিরব হয়ে সাহেদের কাঁধে মাথা রেখে শুয়ে ছিলো বুড়ি। বাড়ি ফিরার পর মুখ খুললো বুড়ি।তার কন্ঠে আকুতি স্পষ্ট।তবে সাহেদ যে তার বুড়ির এ ইচ্ছেটা রাখতে পারবে না! ---সাহেদ ভাই,এবার না গেলে চলে না? ---না রে বুড়ি।আমার ছুটি ফুরিযে গেছে।আমাকে যে যেতেই হবে।তুই আর আপত্তি করিস না বউ! সেদিনের পর সাহেদের সাথে আর কথা বলেনি বুড়ি।তার যে অভিমান হয়েছে!তবে যাবার বেলায় আর চুপ থাকতে পারেনি বুড়ি।কাঁদতে কাঁদতে আঁকড়ে ধরলো সাহেদকে। ---সাহেদ ভাই, আপনার মনে আছে আমি আপনাকে কতোগুলো শর্ত দিয়েছিলাম!আপনি কিন্তু সব শুনেন নি!আজো আমায় বুড়ি বলে ডাকেন আপনি! তবে আপনার মনে আছে, আমার বাবু হওয়ার সময় আপনাকে আমার পাশে থাকতো বলেছিলাম!বলুননা,আপনি ফিরবেন তো? থাকবেন তো আমার পাশে! ---থাকবো রে বুড়ি,ঠিক থাকবো। ---কথা দিয়ে কথা না রাখার অভ্যাস আপনার বহু পুরনো।তবে এবার কথা না রাখলে আপনার এ বউ চিরকালের জন্য মুখে তালা দেবে! ---হাহাহাহা, তুইও না বুড়ি!পারিস ও! ---বুড়ির কথার নড়চড় হয় না।বুড়ি কথা দিয়ে কথা রাখে।মিলিয়ে নেবেন! ---দেখা যাবে! সাহেদ সেদিন চলে গিয়েছিলো।বুড়ি প্রায়ই ফোন দিয়ে খুব কাঁদতো।তবে তাতে সাহেদের কিছুই করার নেই।কাজ ফেলে চাইলেই সে আসতে পারে না। দু সপ্তাহ পর বুড়ির ডেলিভারির তারিখ দিয়েছে ডাক্তার।বুড়িকে চমকে দেবে বলেই দেশে ফিরলো সাহেদ।তবে বুড়ি যে বরাবরই আজব।সাহেদকে এক নিমিষে চমকে দিলো সে!সাহেদের পুরো পৃথিবীটাকে ওলট পালট করে দিয়ে পরপারে চলে গেলো।সত্যিই কি সাহেদ কথা রাখতে পারে নি! ধুপ করে হাসপাতালের মেঝেতে বসে পড়লো সাহেদ।সে তো সময় থাকতেই এসেছিলো!তবে নিয়তি তার সঙ্গেই এ নিষ্ঠুর খেলা কেনো খেললো!কেনো তার বুড়িকে কেড়ে নিলো তার থেকে! ---বাবারে,বৌমা সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে যায়!তাই হাসপাতালে নিয়ে আসি।নাতনীটা বাঁচলেও বউমাকে বাঁচাতে পারে নি ডাক্তার! বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নেয় সাহেদ।তুলতুলে একটা ছোট্ট পুতুল।এ পুতুলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলো বুড়ি!আর আজ সে নেই।বুড়ির লাশের কাছে বাচ্চাটাকে শুইয়ে সাহেদ যেনো পাগলের প্রলাপ শুরু করলো! ---এই বুড়ি,ওঠনা!আমি কথা দিচ্ছি আর তোকে বুড়ি বলবো না।আর তোর কথায় রাগ করবো না।আর তোকে বকবো না।এ দেশ ছেড়েও যাবো না।শুধু একটাবার তুই ওঠ।দেখ,আমাদের ছোট্ট রাজকুমারী কেমন ড্যাবড্যাব করে দেখছে তোকে!ওতো ভয় পাবে বল!ওঠনা বউ!তুই তো চাইতি আমি তোকে অন্তরা ডাকি,দেখ আজ ডাকছি!ওঠনা অন্তরা!তোর সাহেদ ভাইকে এতো বড় শাস্তি দিস না অন্তু! কেনো রাখলি নিজের কথা?কোনো?সব কথা রাখতে হবে!তোর কথা না শুনলে আমার দিন কি করে কাটবে!কি করে আমি বাঁচবো তোকে ছাড়া!অন্তু,ও অন্তু....... জ্ঞান হারালো সাহেদ!ঐদিকে আকাশে বসে বুড়ির আত্না হয়তো চোখের জলে নাকের জলে এক করে বলছে, ---দেখেছন সাহেদ ভাই,আপনি পারলেন না শেষ অবধি আপনার কথা রাখতে।কিন্তু দেখুন না,আপনার ছোট্ট বুড়ি ঠিক পেরেছে!সে তার কথা রেখেছে।আপনি ঠিক সময় আসেন নি,তাই সে আর এজন্মে আপনার সঙ্গে কথা বলবে না।আপনি আর কক্ষণো আপনার বুড়ির গলার আওয়াজ শুনতে পারবেন না।এটাই আপনার শাস্তি।এই অন্তরাকে দেয়া কথা না রাখার নির্মম শাস্তি! **সমাপ্ত**


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৫১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বনু কুরাইজা: ইহুদি গোত্রের নির্মম পরিণতি
→ হাদিসের গল্পঃ লোক দেখানো আমলের ভয়াবহ পরিণতি
→ নৃত্যের পরিণতি(শেষ পর্ব)
→ নৃত্যের পরিণতি(পর্ব ২)
→ অভ্যাসের শেষ পরিণতি!
→ নৃত্যের পরিণতি
→ প্রেম থেকে পরিণতি
→ অশুভ আত্মার ডাক আর তার পরিণতি
→ হাদিসের আলোকে লোক দেখানো আমলের ভয়াবহ পরিণতি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...