গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ভুল মানুষ – মাসুদ আনোয়ার - ২

"ওয়েস্টার্ন গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (৫৮ পয়েন্ট)



দুই বে লিভারি আস্তাবলের সামনে এসে দাঁড়াতে বাস্তবে ফিরে এল রায়ান। ওর নির্দেশনা ছাড়াই শহরে পৌঁছে গেছে ঘোড়াটা। ওটার পিঠ থেকে নেমে দাঁড়াল ও। সূর্যের আলোয় পোড়া মাটিতে ধুলো উড়ল ওর বুটের ঘষায়। ছোট একটা ছেলে এক পাশে দাঁড়িয়েছিল চুপচাপ। ইশারায় ওকে ডেকে দুটো মুদ্রা গুঁজে দিল হাতে। চোখ মটকে আশ্বাস দিল, একটু বেশি যতআত্তি করা হলে আরো বেশি বখশিস দেয়া হবে। বে’টাকে ছেলেটির হাতে গছিয়ে দিয়ে রাস্তায় নামল রায়ান। কাঠের বোর্ডওঅক ধরে হাঁটতে লাগল। এটা একটা নতুন শহর। সম্ভবত বড় বড় র‌্যাঞ্চের উপস্থিতির কারণে গড়ে উঠেছে শহরটা। আরো সামনে এগিয়ে গেল সে। হোটেল থেকে খাবারের গন্ধ এসে নাকে লাগতে খিদে চাগিয়ে উঠল। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে আগে গোসল ও বিশ্রামের জায়গা দরকার ওর। তবে সবচেয়ে বেশি দরকার পেট ভরে খাবার। কিছুদূর গিয়ে সামনে যে-হোটেলটা পেল সেটায় ঢুকে পড়ল ও। ভেতরটা আশ্চর্য রকমের ঠাণ্ডা। কোনো আলো জ্বলছে না। দেয়ালে নানারঙের কাগজ সেঁটে দিয়ে ভেতরের সৌন্দর্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে সম্ভবত। তবে খানিকটা গরম যে ঠেকানো গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বাইরের তুলনায় ঘরটাকে বেশ শীতলই লাগছে তার কাছে। কোণার দিকে একটা টেবিল, তার পাশে একটা চেয়ার। চেয়ারে বসে টেবিলে কনুই ঠেকিয়ে বাম হাতের ওপর গালের ভর রেখে দিবানিদ্রায় মগ্ন মালিক। হালকা নাক ডাকার আওয়াজ কানে এল রায়ানের। ওর সশব্দে ঢোকার শব্দও নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটাতে পারেনি। গলায় খাঁকার দিল রায়ান, মেঝেয় পা ঘষল লোকটাকে ঘুম থেকে জাগানোর উদ্দেশ্যে। লোকটার ঘুম ভাঙল, তবে কাস্টমার দেখে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাল না। ঠাণ্ডা চোখে দেখল এক পলক। ওর প্রশ্নের অপো করল না রায়ান, জরুরি ভঙ্গিতে জানাল তার খাবার, গোসল ও বিশ্রাম তিনটেই চাই। এবার হাসল বুড়ো দোকানদার। আড়মোড়া ভেঙে বলল, ‘জানি। মেরী টমাস যেখানে রাঁধে, লোকজন খাবার জন্যে সেখানেই আসবে। তবে,’ হাই তুলল মস্ত করে, ‘এ-মুহূর্তে ওর ভাণ্ডারে কতটা আছে ঠিক বলতে পারি না। তুমি আসলে সন্ধে হওয়ার অনেক আগেই চলে এসেছ। এখানকার লোকেরা এত তাড়াতাড়ি খায় না। কেবল আমি, মেরী, মেজর আর জনাদুয়েক লোক ছাড়া। ওরা অবশ্য ওদের নিজেদের ঘরে বসেই খায়…’ মৃদু হাসল রায়ান। ‘ওকে বলো, এখন রান্না করে দিলে ওকে দ্বিগুণ টাকা দেব। খুশি হয়েই দেব।’ নিজের সিট থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠল বুড়ো। দ্রুত পদে বেরিয়ে গেল পাশের ঘরের উদ্দেশে। পাশের ঘরে নিচু স্বরে আলাপের শব্দ কানে এল রায়ানের। ঘরের ভেতরটা খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করল ও। এক পাশের দেয়ালের কাছে গোটা তিনেক টেবিল পাতা, মাঝখানে দুটো। সিলিংয়ের তিন জায়গায় ল্যাম্প ঝোলানোর জায়গা। কয়লার তেলের গন্ধে ভারী পুরো ঘর। ঘরের পেছনের অংশে বিশাল স্টোভ। তাতে কয়লার আগুন জ্বলছে। পায়ের শব্দে ঘাড় ফেরাল রায়ান। উজ্জ্বল রঙের অ্যাপ্রনপরা বিশাল এক মহিলাকে দেখল। ওর আপাদমস্তক জরিপ করছে মহিলা। চোখে কৌতূহলী দৃষ্টি। বয়স ও পরিশ্রমের কারণে মুখের কমনীয় ভাবটুকু হারিয়ে গেছে। তবে ওর কণ্ঠস্বর শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল রায়ান। প্রায় তরুণীদের মতো সজীব গলায় মহিলা ওকে বলল, ‘স্টিক, বীনস, আরবিউকলস আর…অ্যাপল পাইয়ের আবদার করলে পাবে না। গত ছয়মাস ধরে এখানে আপেল টাপেল আসে না।’ মৃদু হাসল রায়ান। ‘ওটা চাই না, ম্যাম। আর যা যা আছে, তার সব থেকে একটা একটা করে দাও। আর স্টিকটা যেন অন্তত একটা বাছুরের সমান বড় হয়। নইলে পেট ভরবে না। ভীষণ খিদে পেয়েছে। মনে হয় গত এক মাস ধরে কিছু খাইনি।’ ঠাসা এক প্লেট বীন, দুটো স্টিক, গোটা সাতেক কেক আর পরপর পাঁচ কাপ কফি খেয়ে মেরীর গুণকীর্তন করতে করতে দোকান থেকে বেরোল রায়ান। মিথ্যে বলেনি ও মেরীকে। এত তৃপ্তি সহকারে গত একমাস ধরে এতটা ভালো খাবার খেতে পায়নি সে। বুড়ো দোকানদার অ্যান্থনি যে একটা লিভারিও চালায় জানতে পেল রায়ান। আরও পঞ্চাশ সেন্টের বিনিময়ে ঘোড়াসহ আস্তাবলে রাত কাটাবার অনুমতি পেল সে। শোয়ার জন্যে অবশ্য আলাদা কোনো ঘর ছিল না। মেরী তাকে বলেছিল, সাপ্লাই রূমের মেঝেয় শোয়ার জন্যে। কিন্তু রায়ানের কাছে আস্তাবলে খড় বিছিয়ে নিজের ঘোড়ার কাছেই শোয়াটাকেই ভাল মনে হয়েছে। খাওয়া দাওয়াটা যুৎসই হলেও গোসলের কথা তুলল না ও। শহর থেকে মাইল দুয়েক পুবে একটা নদী আছে। সকালে শহর থেকে বেরিয়ে নদীতে গোসল করে নেবে ভাবল। রাতভর প্রায় মরার মতো ঘুমোল রায়ান। সূর্য দিগন্ত রেখা থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠে আসার পর ঘুম ভাঙল ওর। চোখ না-খুলেই হাই তুলে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসল ও। দেখল লোকগুলেকে। চারদিক থেকে ওকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। সংখ্যায় ওরা পাঁচজন। ওর থেকে একটু দূরে স্টলের পেছনে আরো দু’জনকে দেখল। সবাইকে কাউবয় বলেই মনে হলো ওর। তবে এদের দু’জনকে কাউবয় ছাড়াও অন্য কিছু মনে হচ্ছে। বছর কয়েক আগে ডজ সিটিতে এধরনের লোক দেখেছিল সে। এই দু’জনের চেহারায় উগ্র ভাব, দু’ চোখে কঠিন দৃষ্টি। পিস্তল ঝুলিয়েছে কোমরে। সাধারণ কাউবয়ের ঢঙে নয়, মুহূর্তের নোটিশে যেন ড্র করতে পারে, সেভাবে। রায়ান ওদের পিস্তলের বাঁটগুলোর দিকে তাকাল। চকচকে বাঁটগুলো নিয়মিত ব্যবহারে মসৃণ। চামড়ার তৈরি হোলস্টার একটু নিচু করে বাঁধা উরুর সাথে। তৈরি হয়েই দাঁড়িয়ে আছে লোকগুলো, যেন প্রতিপরে সামান্য নড়াচড়াকেই নিজেদের জন্যে চ্যালেঞ্জ বলে ধরে নেবে। স্বাভাবিকভাবে মানুষ যখন দাঁড়ায়, তখন একটা ঢিলেঢালা ভাব থাকে দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে। কিন্তু বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে তাদের দাঁড়ানোর ভঙ্গি পাল্টে যায়। ওই ভঙ্গিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভয়, সাবধানতা, বিরক্তি কিংবা তীব্র আনন্দের অভিব্যক্তি। এই লোকগুলোকে দেখে সেরকমই মনে হচ্ছে রায়ানের। সোজা ঋজু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে ওরা, একে অন্যের কাছ থেকে কিছুটা ফাঁক হয়ে। সাধারণ কৌতূহলী দর্শকমাত্র নয় এরা। এমনভাবে মাঝখানে ফাঁক রেখে দাঁড়িয়েছে যেন কোমরে ঝোলানো পিস্তলে হাত দেয়ার সময় একে অন্যের দ্বারা বাধাগ্রস্ত না-হয়। আর তাদের দাঁড়ানোর ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, ল্যবস্তু তাদের সামনেই। লোকগুলোর চোখে কোনো ভাব নেই। মরা মানুষের চোখের মতো ঘোলাটে। রায়ান এদের কাউকেই চেনে না। কখনো দেখেছে বলেও মনে করতে পারল না। তবে লোকগুলোর জাত চিনতে ভুল করল না ওর অভিজ্ঞ চোখ। দীর্ঘদিন টেক্সাসে কাটিয়েছে সে। ওখানকার প্রায় সবগুলো মানুষই ওর পরিচিত। প্রতিটি মানুষের নাড়ি-নত্রসহ জানে ও। গোলমেলে ও ঝামেলাবাজ লোকগুলেকে দেখলেই চিনতে পারে। এই লোকগুলোকে দেখে ওর মনে হলো, এরা সেধরনের লোক, যারা টাকা পেলে সবকিছুই করতে পারে। হাসতে হাসতে মানুষও খুন করতে পারে। এরা এদের অস্ত্র মানুষ মারার জন্যে ভাড়া খাটায়। কে মরল এবং কেন মরল, তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। আগন্তুকদের মধ্য থেকে গালের হনু ঠেলে বেরিয়ে আসা শুঁটকো মতন একজন জিজ্ঞেস করল, ‘ওই বে’টায় চড়ে তুমিই এসেছ, না?’ উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াল রায়ান। তারপর স্টলের রেইলের সাথে ঠেস দিয়ে রাখা নিজের অস্ত্রের কাছে গিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, কারণ ঘোড়াটা আমার।’ লোকটার চোখে স্থির দৃষ্টি; দেখেই মনে হয়, শুঁটকো হলেও প্রচণ্ড মতাধর, আশেপাশের সবাইকে হুকুম দিতে অভ্যস্ত, কারো হুকুম শুনতে নয়। তীব্র চোখে তাকিয়ে ধমকে উঠল, ‘তোমার অন্যের জিনিস চুরি করার বদ অভ্যাস আছে!’ লোকটার মধ্যে অশুভ কিছু আছে, ভাবল রায়ান। সামান্য বেচাল দেখালেই অনর্থ ঘটিয়ে দিতে পারে। সন্দেহ নেই, সামান্য সুযোগের অপোয় আছে লোকটা। হাতদুটো নিশপিশ করছে। ‘না,’ প্রতিবাদের সুরে বলল রায়ান। ‘এটা চোরাই ঘোড়া নয়। এই ঘোড়াটাকে আমি হোয়াইট মাউন্টিনস এলাকায় পেয়েছি। এটা একটা বুনো ঘোড়া ছিল। আমি পোষ মানিয়ে নিজের কাছে রেখে দিয়েছি।’ ‘ঘোড়ার কথা কে বলছে তোমাকে?’ ভেঙচি কাটল অস্ত্রধারী। সরু চোখে তাকাল রায়ানের দিকে। ‘আমি বলছি আমার সম্পত্তির কথা, আমার খড় আর স্টলের কথা। তোমার ওই বেতো ঘোড়াটা যা খাচ্ছে, সেটা আমার খড় আর যেটা থেকে খাচ্ছে, সেটা আমারই স্টল।’ মৃদু হাসল রায়ান। হালকা গলায় বলল, ‘আচ্ছা, এই ব্যাপার? আমি জানতাম না, মিস্টার। ঠিক আছে, ওটাকে সরিয়ে নিচ্ছি আমি।’ ঘোড়াটাকে সরিয়ে নেয়ার জন্যে স্টলের দিকে পা বাড়াল রায়ান। কিন্তু চোখের কোণায় নড়ে উঠতে দেখে তাকাল লোকটার দিকে। ওর হাতে কখন যেন অস্ত্র চলে এসেছে। ওর মাথা বরাবর তাক করা। চালু, অসম্ভব চালু লোকটা। অবাক হয়ে ভাবল রায়ান। এতটা চালু লোক সহজে চোখে পড়ে না। অন্তত ওর চোখে আর পড়েনি। থেমে গেল রায়ান। বিব্রত চোখে অন্য লোকগুলোর দিকে চাইল। ওদের চোখে অবশ্য অতটা ভয়াবহ ভাব দেখল না। বরং কিছুটা কৌতূহল ল করল। নীরবে অপো করল ও। একচুলও নড়াচড়া করল না। অন্য লোকটা বলল, ‘তুমি ওই ঘোড়া নিয়ে কোথাও যেতে পারবে না, মিস্টার। ওই ঘোড়া আমার স্টল থেকে খড় খাচ্ছে। এটা তোমার নয়, এটা এখন আমার ঘোড়া।’ লোকটার গলা মেয়েদের মতো নরম আর মোলায়েম, খেয়াল করল রায়ান। লোকটার ওপর একই সাথে ঘৃণা আর ক্রোধ টের পেল রায়ান নিজের ভেতরে। বুঝতে পারছে, সে নিজে চাক না চাক, একটা ঝামেলাই জড়িয়ে পড়তেই হচ্ছে তাকে। ব্যাপারটা অসহ্য ঠেকছে ওর। এই ব্যাপারটাকে সে ঘৃণা করে। সে চায় প্রতিটি মানুষ তার যোগ্যতানুযায়ী প্রাপ্যটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুক। এর বাইরে হাত বাড়ানোটা অন্যায়। কারণ তাহলে তাকে অবৈধ পথেই তা পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আর তখনই চলে আসে অন্য লোকের ওপর জোর-জবরদস্তি কিংবা নির্যাতন চালানোর ব্যাপারটা। কিন্তু একজন মানুষকে নির্যাতন করার কোনো অধিকারই নেই আরেকজন মানুষের। এখানে দলে বলে ভারী হয়ে সে-চেষ্টাটাই করতে এসেছে এই লোক। তবু নিজের ভেতর থেকে ঠেলে উঠতে চাওয়া রাগটা দমন করার চেষ্টা করল রায়ান। নিজের এই রাগটাকে মাঝে মধ্যে নিজের কাছেই অপরিচিত মনে হয় ওর। তবে এও ঠিক, এটাই তাকে এ- পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছে। এটা এমন এক রাগ, যা অনেককে ধবংস করেছে, কিন্তু ওর বেলায় কাজ করেছে একটা জীবনদায়িনী ওষুধ হিসেবে। নিজের এ-রাগটাকে সে বুঝতে পারে না, কিন্তু চিনতে পারে। নিজের কোমরে ঝোলানো পিস্তলটার অস্তিত্ব টের পাচ্ছে রায়ান। কিন্তু সে পিস্তল বের করার কথা ভাবছে না। ঝামেলাটা খুনোখুনি পর্যন্ত না-নিয়ে অল্পতেই চুকিয়ে ফেলা যায় কিনা দেখতে চাইছে। কাউকে খুন করার ইচ্ছে ওর নেই। তবে ইচ্ছে করলে খুন করার কাজটা সে শুরুই করতে পারে। ও একা। আর ওরা চার পাঁচজন। স্বভাবতই নিজেদের নিরাপদ ভাবছে ওরা। ওরা রায়ানকে চেনে না। মনে মনে নিশ্চয় ওকে নিজেদের খেলার পুতুল হিসেবে ভেবে নিতে পারে ওরা। ওর তরফ থেকে কোনো ঝামেলা আশা করছে না। চুপচাপ ওদের হুকুম মেনে সরে যাবে, এমনটাই ভাবছে হয়তো। সুতরাং রায়ান আচমকা অ্যাকশনে গিয়ে পিস্তলধরা লোকটার হাত থেকে থাবা মেরে ওটা ফেলে দিয়ে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজের পিস্তল বের করে নিতে পারে। ওর কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে, এমন দু’তিনজনকে চোখের পলকে গেঁথে ফেলতে পারে। এদের অবস্থা দেখলে বাকি লোকগুলো আর দাঁড়াবে বলে মনে হয় না। আতঙ্কে ওদের মনোবল ভেঙে যাবে। কার আগে কে পালিয়ে বাঁচবে, সে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে ওদের মধ্যে। কাকে কাকে খুন করবে, তার একটা ছকও তৈরি করে ফেলল সে মনে মনে। কিন্তু তারপরও দ্বিধায় ভুগল রায়ান। লোকগুলোকে খুন না-করে অন্যভাবে কিছু করা যায় কিনা ভাবছে। ওর মনের ভাব মুখে ফোটেনি। তবু লোকটা কী করে যেন তা আন্দাজ করতে পেরে আচমকা লাফ দিয়ে পিছিয়ে গেল। তারপর ঘিনঘিনে হাসি হেসে বলল, ‘মিস্টার, যেহেতু এই ঘোড়ার মালিক আমি, সেহেতু তোমার উচিত এখানে আর ঝামেলা না-পাকিয়ে চুপচাপ সরে পড়া। আর ওই স্যাডলটাও রেখে যাবে। ওটা ওই ঘোড়ার পিঠে চাপানোর উপযোগী করে বানানো।’ রায়ানের বাম পায়ের কাছে থুতু ফেলল সে। তামাক চিবানো বাদামি রঙের থুতুর দলা দেখে গা ঘিন ঘিন করে উঠল রায়ানের। ‘কই, হাঁটা শুরু করো। এুনি।’ তাড়া দিল লোকটা। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল রায়ান। ‘মন্ট,’ আরেকজন কঠিনদর্শন বলল। ‘আমার মনে হয় ও যাতে আর কখনো ওর ঘোড়ার জন্যে এদিকে না-আসে, সেটা ওকে বলে দেয়া উচিত। কেন আসবে না সেটাও বুঝিয়ে দেয়া উচিত।’ রায়ানের দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করল লোকটা। লোকটার দিকে চাইল মন্ট। মৃদু হাসল। ‘চমৎকার বলেছ, পিট। আমিও তা-ই ভাবছিলাম। ও সম্ভবত এখনো ঠিক বুঝতে পারেনি আমাদের গুরুত্ব।’ ঠিক এ-সময়টায় অ্যাকশনে গেল রায়ান। এক সেকেন্ডের জন্যে গা ঢিলা দিল। সবগুলো লোকের ওপর চোখ বুলিয়ে নিল। পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ভেবে লোকগুলো মোটামুটি বিনোদনের ভঙ্গিতে আছে। পর মুহূর্তে যেন অগ্ন্যুৎপাতের মতো বিস্ফোরিত হলো রায়ান। মন্ট নামের লোকটাকেই বেছে নিল টার্গেট হিসেবে। গলায় প্রচণ্ড ঘুসি খেয়ে পেছনে ছিটকে পড়ল লোকটা, একজন কাউবয়ের ওপর গিয়ে পড়ল। এক সেকেন্ডও না-থেমে পাঁই করে ঘুরল রায়ান। ওর মতো দশাসই লোকের জন্যে অসম্ভব দ্রুত অ্যাকশন এটা। হাতে উল্টো পিঠের মার লাগাল অন্য পাশে দাঁড়ানো পিটের মাথায়। লোকটার পিস্তল হাতেই ছিল। এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশমাত্র সময় পেলে ওটা খালি করে ফেলত ও রায়ানের শরীরে। মারের চোটে ঘুরে গেল পিট। পিস্তল ফেলে দিয়ে আহত মাথা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আরেকজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল রায়ান। জোরসে এক ঘুসি লাগাল। পর মুহূর্তে ঘুরল চরকির মতো। কনুইয়ের গুঁতোয় গুঁড়িয়ে দিল আরেকজনের চোয়াল। একজনকে লাথি হাঁকাল। হাতের উল্টো পিঠে চাঁটি লাগাল আরেকজনের মাথায়। এদিকে বৃষ্টির মতো কিল-গুঁতো-ঘুষি সমানে চলছে ওর ওপর। তবে কোনো ব্যথা-বেদনা যেন অনুভব করছে না সে। আসলে ভেতরের তীব্র ক্রোধের অচেনা সে-অনুভূতিটা খানিকক্ষণের জন্যে যেন আর সব অনুভূতির ঊর্ধ্বে নিয়ে গেছে ওকে। কিন্তু হঠাৎই ওকে জানান দিল ব্যথা। আচমকা মাথা ঘুরে গেল ওর। চোখে অন্ধকার দেখল। মুখ থুবড়ে পড়ল সামনের দিকে। খানিকক্ষণের জন্যে চেতনা হারাল। ওর প্রতিপ সাতজন। এর মধ্যে দু’জন অচেতন হয়ে পড়ে আছে। একজন গলা উজাড় করে বমি করছে আর দু’জন ককাচ্ছে পড়ে পড়ে। কোনোমতে উঠে বসে ভাঙা চোয়াল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে একজন। সাত নম্বর যে, সে দূরে দাঁড়িয়ে আছে। মারের ভয়ে বিশাল প্রতিপরে কাছে আসার সাহস হয়নি ওর। রায়ান অচেতন হয়ে পড়ে যেতে এগিয়ে এল এবার। মাথার ওপর শাবল তুলে দাঁড়াল। তারপর নামিয়ে আনল ওটা লুটিয়ে পড়া লোকটার মাথায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শেষ বিকেলের মায়াবতী♥ (২৪)
→ ডায়রীর ছেঁড়া পাতা২
→ জিজের ছেলেদের ক্রিকেট ম্যাচ -2
→ Never Stop Learning-Ayman Sadiq
→ কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের কথা।পর্ব-2
→ নাইন-ইলেভেন
→ মুসলীমরা বলে কোরআনের আলোকে দেশ চালাতে,এটা অমুসলীমদের জন্যও কীভাবে কল্যান বয়ে আনবে?মানুষ তার ইচ্ছামত চালাবে স্রষ্টার বানী কেন গ্রহন করবে?
→ ~দ্য আলকেমিস্ট-পাওলো কোয়েলহো(বুক রিভিউ)।
→ শেষ বিকেলের মায়াবতী♥ (২৩)
→ অসমাপ্ত ভালোবাসা ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...