গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ইচড়ে পাকা

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★*অনয়*★ (৫৩৬ পয়েন্ট)



আমি অনয়। অতি সাধারন সাধা সিধে ভুলে ভালা। কারও আদর, ভালবাসা, স্নেহ কপালে না জুটলেও একটুও অপুর্ণতা নেই।পড়াশোনার পাশাপাশি একটা চাকরি করি। কোন ছেলে মেয়ে নেই। আরে আমার তো বউ ই নেই, ছেলে মেয়ে আসবে কোথা থেকে! বিয়েই তো করিনি। আমি তো ব্যাচেলর। আজকাল যে কি হয়েছে! আমার সব কেমন জানি গুলিয়ে যাচ্ছে। ভার্সিটি, ক্লাস, পড়াশুনা আর চাকরি সবকিছু মিলে যেন এক রোবটিক জীবন। এই রোবটিক জীবনে একটু বিনোদন শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দুর করতে মেডিসিনের ন্যায় কাজ করে। তাইতো একটু সময় পেলেই বেরিয়ে পরি প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে। যদিও সচরাচর যাওয়ার সুযোগ হয় না বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত কক্সবাজারে। কুয়াকাটায় গিয়ে কাছ থেকে দেখা হয় না সূর্যের উদয় আর অস্ত যাওয়া। মাঝে লোকমুখে সৌন্দর্যের বর্ণনা শুনেই মনে প্রশান্তি নেই। প্রকৃতির সব সৌন্দর্য নুয়ে পড়া হিমছড়িতে যাওয়ার মত সৌভাগ্য হয় না। অদেখাই রয়ে যায় অকৃত্রিম অপরুপ মহিমায় সাজানো ম্যানগ্রোভ বন। যা আমাদের কাছে সুন্দরবন নামে অতি পরিচিত। দৃষ্টি পড়েনা কোন পার্ক বা উদ্যানে। এর জন্য আর্থিক অবস্থা যতোটা না দায়ী, তার চেয়ে বেশী দায়ী সময়। যা আমাদের অনুকুলে নেই। নেই বললে ভুল হবে। কখনো অনুকুলে ছিলোই না। সর্বদাই সময়ের অবস্থানটা ছিল প্রতিকূলে। আমরা চিড়িয়াখানায় বন্দী খাঁচার পাখির মতো। বেরোনোর জন্য ডানা ঝাপটাই। কিন্তু, কখনোই বের হতে পারি না। তাই বন্ধের দিনে সপ্তাহের জমানো কাজ সেরে একটু সময় পেলে বেরিয়ে পড়ি চারপাশটা একটু ঘুরে দেখতে আর মনের ক্লান্তিকে একটু হ্রাস করতে। গত শুক্রবার আমরা বের হয়েছিলাম চারপাশটা একটু ঘুরে দেখবো বলে। আমি আমার রুমমেট, বাসার মালিকের ছেলে আর ভাতিজাসহ মোট ছয়জন। আমরা যেখানে থাকি সেখান থেকে আড়াই কি.মি. দুর দিয়ে বয়ে গেছে এক ছোট নদী। নদীর তীরে দাড়ালে নদীর বুক থেকে ভেসে আসা হিম শীতল বাতাস হৃদয়ে আলোড়ন তোলে। নদীর যেদিকেই তাকাই চোখ জুড়িয়ে যায়। স্থানে স্থানে জেলেদের মাছ ধরা, মাঝে মাঝে নদীর বুকের উপর দিয়ে মালবাহী ট্রলারের বয়ে যাওয়া আর ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নৌকা নিয়ে খেলা করা আমাদের আনন্দের মাত্রাটা দিগুন করে তোলে। সেদিনও আমাদের গন্তব্যের জায়গা ঐ নদী। আমাদের দুই পা কে বাহন বানিয়ে এগিয়ে চলেছি আমাদের গন্তব্যের দিকে। কিছুদুর যাওয়ার পর আমাদের পানির পিপাসা পায়। একটু সামনেই একটা পানির ট্যাপ দেখতে পেয়ে আমরা সেদিকেই যাচ্ছিলাম। পানির ট্যাপ থেকে একটু সামনে গিয়ে রাস্তা বাকঁ নিয়ে চলে গেছে। বিপরীত দিক থেকে যদি কেউ আসে তাহলে দেখার উপায় নেই। আমরা আপন মনে এগিয়ে চলেছি পানির ট্যাপের দিকে। কিছুদুর অগ্রসর হতেই হঠাৎ খেয়াল করলাম, আট থেকে নয়জনের একটা মেয়ের গ্রুপ পানির ট্যাপের কাছে এসে হাজির। ওরা হাত পা ধুচ্ছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে মাত্র খেলাধুলা করে এসেছে। আমাদের খেয়াল করেছে কীনা জানি না! তাই আমরা ঠায় দাড়িয়ে রইলাম। ওরা চলে গেলেই আমরা যাবো। কিন্তু হায় আল্লাহ! একী! প্রায় দশ মিনিট হয়ে গেছে তাদের যাওয়ার কোন নিশানা নেই। তাই বাধ্য হয়েই একটু এগিয়ে গেলাম। আমাদের মধ্যে থেকে এক ছোটভাই আরেকটু এগিয়ে তাদের একজনকে বলল, " আপু আপনারা যদি একটু সরে দাড়াতেন তাহলে আমরা একটু পানি খেয়ে চলে যেতাম।" কিন্তু মেয়েটি যে উত্তর দিল তা শুনে হতবাক না হয়ে পারলাম না। মেয়েটি দেখতে ছিল অমায়িক। তার কাজল কালো চোখ, গোলাপী ঠোটঁ, লম্বা কেশ আর ফর্সা গায়ের রং। সবকিছু মিলে যেন এক অপ্সরী। কিন্তু তার বলা উত্তর গুলো ছিল এমন, ""ওই তোরা সর। ছোট বাবু গো পানি খাইতে দে। নইলে মইরা যাইবো।"" বলেই সবার প্রাণ উজাড় করা হাসি। তার এই এহেন অরুচিকর মন্তব্য শুনে ছোট ভাই জিজ্ঞাসা করলো, "আপু আপনি কোন ক্লাশে পড়েন?" তার অকপট জবাব ""তার আগে আপনি কন আপনি কোন ক্লাশে পড়েন?"" ছোট ভাই বলল, "আমি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার"। সাথে সাথে মেয়েটির উত্তর, ""আমি অনার্স সেকেন্ড ইয়ার, আর এ ইয়ার! ইউ আর টু জুনিয়র দেন মি""। আমি মেয়েটির কথা শুনে প্রায় বাকরুদ্ধ। বিশ্বাস করেন, মেয়েটি বড়জোর ক্লাশ এইট কিংবা নাইনে পড়ে। মনে হয় না মেয়েটি এস এস সির গন্ডি পেরিয়েছে। ততক্ষনে আমাদের পানি পিপাসা উবে গেছে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে আমরা সামনের দিকে পা বাড়াই। তাদের অতিক্রম করতেই কানে ভেসে আসছে আমাদের ব্যঙ্গ করে তাদের করুন হাসি। যেন ভৌতিক সিরিয়ালে দেখা শয়তানদের জেরক্স কপি। ...................................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৬১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চুল পাকা ফরমালিন প্রবীন!
→ ভালোবাসা না চাপাকান্না
→ পাকা ফলার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...