গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

আমার জীবনঃ না বলা কিছু কথা..১

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★*অনয়*★ (০ পয়েন্ট)



বিকাল চারটা বেজে তিন মিনিট। সূর্য পশ্চিমের আকাশে ঢলে পড়েছে। আমার মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠলো। রিসিভ করতেই অপরপাশ থেকে ভেসে আসছে, "অনয় তুই কোথায়? এখনো বাড়ি থেকে বের হসনি? খেলা তো শুরু হয়ে যাচ্ছে। ভাই তাড়াতাড়ি আয়। পরে সন্ধ্যা হয়ে যাবে ম্যাচটা শেষ করতে পারবো না।" আচ্ছা আসতেছি দোস্ত মাত্র পাঁচ মিনিট লাগবে, বলেই মোবাইলটা কেটে দিয়ে রেডি হচ্ছি। এমন সময় আম্মুর ডাক। ★ আম্মুঃ- এই অনয় এদিকে আয় তো বাবা। ★আমিঃ- আম্মু আসছি...... ★আম্মুঃ- তাড়াতাড়ি আয় একটু বাবা। ★আমিঃ- জ্বি আম্মু বলো কী বলবে? তবে কোন কাজের কথা বলতে পারবে না এখন। আমি খেলতে যাচ্ছি। ★আম্মুঃ- তোর মামাকে কিছুক্ষণ আগে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। তোর নানা ফোন দিয়েছিলো। এখনি গিয়ে একটু দেখে আয় বাবা। নাহলে কি মনে করবে বল! হাসপাতালে থাকতেও দেখতে যাস নি। ★আমিঃ- কিন্তু মা এখন কি করে যাবো? যেতে যেতেই তো রাত হয়ে যাবে। আসবো কীভাবে? তারচেয়ে আগামিকাল যাই মা। ★আম্মুঃ- না আজকেই যেতে হবে। আর তোকে আসতে বলেছে কে! আজকে ওখানে থেকে আগামীকাল আসবি। আর সাথে রাফিকে নিয়ে যাবি। ★আমিঃ- আচ্ছা ( বাধ্য হয়ে বললাম। পরে ফ্রেন্ডকে কল দিয়ে জানিয়ে দিলাম আমি আসতে পারবো না মামাকে দেখতে যাচ্ছি)। ও বলাই তো হয়নি! আমি অনয় (অনার্স ফাস্ট ইয়ার ঐ সময়)। সাধা সিধে আর মাত্রাতিরক্ত লাজুক প্রকৃতির। খাবার নিয়েও আছে ঝামেলা। তাই কোনো আত্মীয়দের বাড়িতে আমি সহজে যাইনা। আর যে মামাকে দেখতে যাচ্ছি তিনি হলেন, আম্মুর চাচাতো ভাই। প্রায় দশ বছর আগে তারা এখান থেকে চলে গেছে। দুই মাস পনেরো দিন আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। সিএনজিতে থাকা ড্রাইভার সহ ছয়জন যাত্রীর মধ্যে চার জনই স্পটে মারা যান। আর ড্রাইভারকে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রায় আড়াই ঘন্টা জীবনের সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে আত্মসমর্পণ করেন। পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। কিন্তু অলৌকিকভাবে বেচেঁ যান মামা। মামা ডান পা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান। তবে সবচেয়ে বেশী আঘাত পান প্রস্রাবের নালীতে। এজন্য পর পর দুটি অপারেশন করা হয়। পরে প্রস্রাবের নালী বাহিরে ব্যাগে ঝুলিয়ে দিয়ে কিছু দিনের জন্য মামাকে রিলিজ দেওয়া হয় । আর রাফি হচ্ছে আমার মামাতো ভাই (ক্লাস এইটে পড়ে ঐ সময়)। বিকাল পাঁচটা বেজে কুঁড়ি মিনিট। এক প্রকার বাধ্য হয়েই রাফিকে সাথে নিয়ে মামাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। বের হওয়ার আগে বড় মামা মানে রাফির বাবা আমাদের ম্যাপ আকারে দেখিয়ে দিলেন কীভাবে যেতে হবে। অবশ্য আমি এর আগেও দুবার তাদের বাড়িতে গিয়েছি। একবার যখন আমার বয়স চার বছর আর দ্বিতীয়বার যখন গিয়েছি তখন আমি ক্লাশ থ্রি-তে পড়তাম। তাই সেভাবে কিছু মনে নেই। তবে যেটা মনে আছে তা হলো, একটা ছোট্ট দীঘি বয়ে গেছে মামাদের গ্রামের পাশ দিয়ে। বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে এই দীঘি বেয়ে। দীঘির দুই পাড় দিয়েই রাস্তা। দীঘির ডান পাশের রাস্তা ধরে হাটলে মামাদের বাড়ি। রাস্তা থেকে একটু নীচে কিন্তু রাস্তা ঘেষেই ছোট ছোট মাটির তৈরি ঘর। যে কাউকে আকর্ষিত করবে। দুটো বিশাল আকৃতির জামগাছ আর গাছের গোড়া ঘেষে আছে বিশাল উইপোকার টিবি। দেখামাত্র না চাইলেও ভৌতিক ভাবনা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকবে। বাস থেকে নামার পর ত্রিশ মিনিটের পথ। দিনের বেলায় ভাগ্যক্রমে দু-একটা রিক্সা পাওয়া গেলেও সন্ধ্যার পর আর পাওয়া যায় না। তাই আমরা পায়ে হেটেঁই রওনা দিলাম। অন্ধকার রাত। চারদিক ভালভাবে দেখাও যাচ্ছে না। মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে কোনভাবে এগিয়ে চলেছি। এদিকে বাড়ি থেকে মামা আর আম্মু বারবার ফোন দিয়েই চলেছে। দু-একবার কথা বললেও এখন ভীষন রাগ হচ্ছে। তাই শেষবার ফোন রিসিভ করে বললাম, "আমরা প্রায় চলে এসেছি আর ফোন দিয়েন না"। বলেই কেটে দিলাম। হঠাৎ-ই মনে পড়ে গেল বিশাল আকৃতির ঐ জাম গাছের কথা। ভয়ে আমার সারা শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেছে। রাফিকে কোনোকিছু বুঝতে না দিয়ে খুব দ্রুত হাটছি। কিছুক্ষনের মধ্যেই বাড়ির কাছাকাছি পৌছে গেলাম। কিন্তু বিশাল দৈত্য আকৃতির সেই জামগাছ দুটো চোখে পড়লোনা। মনে মনে ভাবলাম, হয়তো বিক্রি করে দিয়েছে। বিদ্যুৎ নেই। যদিও, রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক থাম বসানো দেখলাম। একটু দুরেই কুপির আলো দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলাম। কাছে গিয়ে ডাকলাম, "কেউ কি আছেন বাড়িতে?" একবার বলা মাত্রই একটি মেয়ে কুপি হাতে বেরিয়ে এলো।কুপির আলোতে মেয়েটিকে ভালভাবে দেখতে পেলাম না। নয় দশ হবে হয়তো। এসেই বলল, "কিছু বলবেন?" জ্বি এখানে মামার নামধরে বললাম, তাদের বাড়িতে যাবো। কিন্তু চিনতে পাচ্ছি না। মামার নাম বলা মাত্রই মেয়েটি তার মাকে ডেকে বললো, "মা দু জন লোক এসেছে মামার কাছে।" বলেই ঘরের ভিতরে চলে গেলো। ঘর থেকে একজন বেরিয়ে এসে আমাদের সাথে নিয়ে মামাদের বাড়ির দিকে হাটা শুরু করলো। এই লোকটি হয়তো মেয়েটির বাবা। পথে আমরা কোথা থেকে এসেছি জিজ্ঞাসা করলেন। সব জানার পর যা বললেন তা শুনে আকাশ ভেঙ্গে মাটিতে পড়ার অবস্থা। মামাকে নাকি কিছুক্ষণ আগে প্রস্রাবে সমস্যা হচ্ছে দেখে আবারও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মা আর রাফির আব্বুর প্রতি ভীষন রাগ হচ্ছে এখন। তবুও কিছুই করার নেই! এসে যখন পড়েছি আজ থাকতেই হবে। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বাড়িতে পৌছে গেলাম। সবকিছুই অচেনা লাগছে। কিছুই আগের মত নেই। বিশাল মাটির দালান। ভিতরে ঢুকতেই দেখি বাড়ি ভর্তি মানুষ। মামাকে নিয়ে এসেছে বলে দেখতে এসেছে সবাই। খালা, খালু তাদের ছেলেমেয়ে ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজন।আমার অস্বস্তি লাগছে। নানা, নানী আর খালাদের সাথে কুশল বিনিময় হলো। এরপর মনে মনে মাকে আবারও উদ্ধার করলাম। এর কারণ, এখানে পানির বড় সংকট। পাহাড়ি এলাকা। বছরের প্রায় সময়-ই টিউবওয়েলে কোন পানি পাওয়া যায়না। খাবার এবং রান্না ছাড়া সবকিছুই সারতে হয় পুকুরের পানি দিয়ে। খাবার পানি আর রান্নার জন্য বাড়ি থেকে কিছুটা দুরে একটা ডিপ টিউবওয়েল আছে সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয়, যেটা কষ্টসাধ্য। নিরুপায় হয়ে পুকুরের পানিতেই ফ্রেস হলাম। সবাইকে একসাথে খেতে দেওয়া হয়েছে। খাবার মেনুতে সাদা ভাত, দেশি মুরগী, বড়মাছ তরকারি, টাকি মাছের ভর্তা আর ডাল। রাফি অলরাউন্ডার। ওর কাছে সবকিছুই কমন। কিন্তু আমার তো বিপত্তি! ভাত আর ডাল ছাড়া কোনোটাই কমন নয়। মুরগী আর বড়মাছে আমার অনীহা ছোট থেকেই। আর টাকি মাছের নাম শুনলেই মনে হয় বড়শি দিয়ে ধরা। চলবে........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নাম নেই
→ জিজের সবার ভূত নিয়ে আলোচনা
→ কাফনের কাপড়ের তো পকেট নাই
→ পিরিয়ড লজ্জার নয়,নারীর অহংকার
→ হাসলে হাসেন নাহয় কাদেন
→ ~স্যার হুমায়ূন আহমেদ কী আসলেই নাস্তিক ছিলেন? নাকি সব ভ্রান্ত ধারণা?
→ সৃষ্টিকর্তা যদি দয়ালুই হন তাহলে এত মানুষ না খেয়ে মারা যায় কেন?এর দায় তো স্রষ্টারই।
→ আমার দুঃখ। আবার পড়ুন☹
→ ~জিজেস'রা এখন আমার বাসায়!
→ অভিশপ্ত আয়না পর্র৬(শেষ পর্ব):-

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...