গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

পৃথিবীর সিংহাসন

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (৯৭ পয়েন্ট)



পৃথিবীর সিংহাসন - ২য় পর্বঃ বাইতুল মুকাদ্দাসের (হায়কাল) কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পূর্বেই সুলাইমান (আ.) মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ৪০ বছর রাজত্ব করেছিলেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিলো ৯৪ বৎসর। নবী সুলাইমানের অন্তর্ধানের পর তাঁর পুত্র 'রহবে আম' সিংহাসনে আরোহন করেন। এতো বিশাল সম্রাজ্য সামাল দেওয়ার যোগ্যতা তার ছিলো না। পৃথিবীর সকল ছোট বড় সাম্রাজ্য তখন জেরুজালেমের করদরাজ্য। তার অযোগ্যতার সুযোগে সেগুলো একে একে হাতছাড়া হয়ে যায়। সকল অযোগ্য, অপদার্থ ও দুর্নীতিপরায়ণরা রাজসভায় দায়িত্ব লাভ করে। অবস্থা এতো প্রতিকূল হতে থাকে যে, জেরুজালেমের ভেতরের ইসরাঈলী গোত্রগুলোও বিদ্রোহ করে বসে। 'ইয়ার বেয়া' নামক এক বিদ্রোহী নেতার আবির্ভাব ঘটে। তার ডাকে বিদ্রোহী গোত্রগুলো একত্র হতে থাকে। শেষে ইসরাঈলী ১২টি গোত্রের মাত্র দুটি রাহবে আমের হাতে থাকে। বাকি ১০টি গোত্রই বিদ্রোহী ইয়ার বেয়ার সাথে যোগ দেয়। কিন্তু এখানে দু'জনেই দাবার গুটি। আসল শিকারী এমন সুযোগের অপেক্ষায়ই ওঁৎপেতে ছিলো। আবার ফেরাউন। দাউদ (আ.) ও সুলাইমান (আ.) এর রাজত্বের সময়গুলোতে তাঁদের দাপটে একসময়ের প্রবল প্রতাপশালী মিশরের ফারাও সাম্রাজ্য আর ফোরাত অববাহিকার ব্যাবিলনীয়রা জেরুজালেমের অধীনে অসহায় করদরাজ্যে পরিণত হয়েছিলো। যেই বনী ইসরাঈল একসময় ফারাওদের দাস ছিলো সেই দাসেরা ফারাওদের উপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে এটা মেনে নেওয়া অবশ্যই কষ্টকর। জেরুজালেমের এই বিশৃঙ্খলা তাদের জন্য আশির্বাদ হয়ে আসে। মিশরপতি সম্রাট সিসাক সুযোগটা লুফে নিলো সাথে সাথে। ঝড়ের গতিতে আক্রমণ করলো জেরুজালেমে। সম্রাটের সেনারা শহরে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। পুরো শহরে প্রথমে লুটপাট করে। তারপর জ্বালিয়ে দেয়। পবিত্র হায়কালও লুটপাটের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সিসাকের সেনারা শহর থেকে চলে গেলেও বনী ইসরাঈল নির্লজ্জের মত সেই বিদ্রোহ বিদ্রোহ খেলা খেলতে থাকে। জেরুজালেম দু'ভাগ হয়ে যায়। শিরকের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ে। নবীগণকে হত্যা করতে থাকে। এমনকি পবিত্র হায়কালের কথাও ভুলে যায়। সংস্কারের অভাবে হায়কাল পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এভাবে চারশত বছর পেরিয়ে যায়। অতঃপর সম্রাট জোহিয়া(ইয়াহইয়া) বনী ইসরাঈলকে একতাবদ্ধ করেন। বনী ইসরাঈল নির্মাণশিল্পে বরাবরই দক্ষ। তাদের সহযোগিতায় জোহিয়া খুব দ্রুতই শহর ও হায়কাল সংস্কার করে ফেললেন। এছাড়াও তিনি নানাভাবে জেরুজালেমকে সমৃদ্ধ করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। চারশো বছরের ক্লেদাক্ত পাপ মুছলো বলে। এটাকে ভালোভাবে নেয়নি ফারাও আর ব্যাবিলনীয়রা। আবার কোনো বিপদ ঘটার আগেই তৎকালীন বাবেল সম্রাট নিউপলার (বখতে নসরের পিতা) আর মিশরপতি ফারাও নিকোহ জেরুজালেমের উপর একের পর এক যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে শুরু করলো। তবে মিশর আর ব্যাবিলনের প্রাচীন শত্রুতা তখনও চাঙ্গা ছিলো। সম্রাট নিউপলার আসুর নামক শহর থেকে রাজ্য পরিচালনা করতো। সম্রাট ফারাও নিকোহ আসুর আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে বের হলো। তাকে অবশ্যই জেরুজালেমের সীমানার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। জেরুজালেমের সম্রাট জোহিয়া সম্ভবত এটাকে ফারাওদের শায়েস্তা করার সুযোগ হিসেবে ভেবেছিলেন। "নিকোহ জেরুজালেম আক্রমণ করতে আসছে", এমন ভুল বোঝাও অস্বাভাবিক কিছু না। আমার কাছে এটাই মনে হয়। কারণ ফারাওরা ব্যাবিলন আক্রমণ করলে তো জেরুজালেমের লাভ। জোহিয়ার তো এই যুদ্ধ আরো উস্কে দেওয়া উচিত। কিন্তু হলো উল্টোটা। যে কারণেই হোক সম্রাট জোহিয়া যাত্রাপথে ফারাও নিকোহর উপর হামলা করলেন। মিশরীয়রাও প্রবল প্রতিরোধ করলো। ফলে যা হবার তাই হলো। ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলো জোহিয়ার বাহিনী। তিনিও যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করলেন। জোহিয়া নিহত হওয়ার পর তাঁর পুত্র 'ইহু-আখাজ' ক্ষমতায় বসেন। এর তিন মাসের মাথায় সম্রাট ফারাও নিকোহ জেরুজালেম দখল করে নেয়। তার সৈন্যরা শহরে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং হায়কালের ক্ষতি সাধন করে। নিকোহ ইহু-আখাজকে কারাগারে নিক্ষেপ করে জোহিয়ারই আরেক পুত্র 'ইহু-লকিম'কে পুতুলরাজা হিসেবে সিংহাসনে বসায়। এরপর চড়া কর ধার্য করে লুটের মালামাল বোঝাই করে মিশরে ফিরে যায়। এতো বছর পর বনী ইসরাঈল আবার ফেরাউনের অধীনস্থ হয়ে পড়লো। ফারাওদের খাজনা আর ভবিষ্যতের কোনো দানবের খাদ্যের যোগান দিতে তাদের কারিগরি দক্ষতায় জেরুজালেমকে সুসজ্জিত ও সমৃদ্ধ করতে আত্মনিয়োগ করলো। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৫৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পৃথিবীর অন্যতম সেরা ইঞ্জিনিয়ার “নিকোলা টেসলা”.
→ পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রামার "অ্যাডা লাভলেস" এর জীবনী
→ পৃথিবীর আরেক নাম সংগ্রাম
→ পৃথিবীর সিংহাসন
→ পৃথিবীর প্রাচীন ধর্মগুলোতে রোজা
→ ইসলাম ধর্মই কেন পৃথিবীর একমাএ সত্যে ধর্ম?
→ পৃথিবীর ভয়ংকর উদ্ভিদ
→ পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য
→ অর্ধ পৃথিবীর শাসক খলীফা ওমর (রা)’র ঈদ শপিং

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...