গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

শয়তানের ফুল - ২

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (৪৩৪৪ পয়েন্ট)



লেখকঃ জিৎ দত্ত, কল্পবিজ্ঞান গল্প, চতুর্থ বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা, পূজাবার্ষিকী। ****************★***************** এরপর প্রায় মাসখানেক কেটে গেছে। মাঝে কিছুদিনের জন্য আমি ছিলামও না। কাজের সূত্রে চেন্নাই যেতে হয়েছিল। ফিরেছি ক’দিন আগেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই ক’দিন অবিনাশদার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা হয়নি। রবিবার সকালবেলা ফ্রেশ হবে বাজারের জন্য বের হতে যাব, এমন সময় অবিনাশদার ফোনটা এল। —হ্যালো, পুলু? —হ্যাঁ বলো অবিনাশদা, গুড মর্নিং। —মর্নিং। তোর মনে আছে তুই আর আমি মিলে সেদিন আমার বাড়িতে দুটো ফুলগাছ বসিয়েছিলাম? —হ্যাঁ হ্যাঁ, সেই ব্রাজিলের আমাজনের সেই শয়তান গাছ না কী যেন। —হ্যাঁ, ঠিকই, মনে আছে তা হলে। তা সেই গাছে ফুল ধরেছে বুঝলি। তুই আমায় হেল্প করেছিলি, তাই ভাবলাম তোকেও জানাই ওটার ব্যাপারে। আশ্চর্য সুন্দর দেখতে বুঝলি ফুলগুলো। তা তুই কি আজ ফ্রি আছিস? পারলে একবার দেখে যা। —এ বেলা তো হবে না, বিকেলের দিকে যাব। প্রবলেম নেই তো? —আরে না না, প্রবলেম আবার কীসের? তুই আয়, তাহলে বিকেলে দেখা হচ্ছে। বাই। অবিনাশদা ফোনটা রেখে দিল। ওর সঙ্গে কথা বলার পর থেকে নিজেরও ভেতরে ভেতরে একটা উত্তেজনা হচ্ছিল জিনিসটাকে দেখার। একে রহস্যময় আমাজন, তার আবার রহস্যময় জন্তু, সেই রহস্যময় জন্তুর চারণভূমিতে আবার নাম না জানা ফুল, মানে যাকে বলে একেবারে সাসপেন্সের ছড়াছড়ি। বিকেলে একটা রিকশা নিয়ে অবিনাশদার বাড়িতে গেলাম। দু’বার বেল বাজাতেই অবিনাশদার বাড়ির কাজের লোক কাম অ্যাসিস্ট্যান্ট রামহরিদা পেছনের বাগান থেকে চিৎকার করে বলল, “কে পুলু দাদাবাবু এলে নাকি? তুমি বাগানে চলে এসো, আমরা এখানে আছি। রামহরিদা অনেকদিনের লোক, জাতে বৈষ্ণব, সাত্ত্বিক,সহজ সরল মানুষ, গলায় তুলসির মালা পরে। আমাকেও সেই ছোটবেলা থেকে চেনে। অবিনাশদার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর থেকে ওই এখন অবিনাশদার একমাত্র অভিভাবক। আমি রামহরিদার কথামতো ওদের পাঁচিলের পাশ দিয়ে সোজা বাগানে চলে এলাম। গিয়ে দেখি অবিনাশদা বাগানের এক কোণে দাঁড়িয়ে এই ফুলটা, ওই পাতাটা এসব টেনে গভীর মনোযোগ সহকারে সেগুলো দেখছে, আর একটা নোটবুকে কীসব টুকছে। আর পাশেই দাঁড়িয়ে আছে রামহরিদা, ওর ফাইফরমাশ খাটছে। আমি যেতেই “আরে পুলু, এদিকে আয়।” বলে অবিনাশদা আমাকে নিজের কাছে ডাকল। ওর কাছে যেতেই একটা বোঁটকা ঘেমো গন্ধ আমার নাকে এসে ঠেকল। জ্যৈষ্ঠ মাসের গরমে ঘাম হওয়াটা স্বাভাবিক। আমি আর থাকতে না পেরে বলেই বসলাম, ‘‘অবিনাশদা, তুমি এই গেঞ্জিটা কতদিন কাচো না শুনি! বড্ড গন্ধ বেরোচ্ছে।’’ রামহরিদা হোহো করে হেসে উঠল। অবিনাশদা একটু অপ্রস্তুত হয়ে গিয়ে একটা বোকা হাসি দিয়ে বলল, “ইয়ে, সত্যি খুব গন্ধ বের হচ্ছে বুঝি। এটা কিন্তু কাচা জামা। আসলে খুব ঘাম হচ্ছে তো, আর এবার গরমটাও বড্ড পড়েছে। তুই একটু দাঁড়া, আমি এটা চেঞ্জ করে আসি। আর রামহরিদা তুমিও একটু চায়ের ব্যাবস্থা করো।’’ অবিনাশদা জামা পাল্টাতে ঘরে গেল। রামহরিদাও ওর সঙ্গেই চলে গেল। আমার একটু খারাপ লাগলো, এভাবে না বললেই হতো, বেচারা লজ্জায় পড়ে গেছে। এতক্ষণে আমি অবিনাশদার বাগানটাকে দেখার সুযোগ পেলাম। এক জায়গায় টবে সেই গাছটা রাখা। কাছে গিয়ে ভালো করে দেখলাম গাছটাকে। লতানো গাছ, তাই একটা বাঁশের কঞ্চির সাপোর্ট দিয়ে জায়গায় জায়গায় বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখা। গাছের পাতাগুলো গাঢ় সবুজ রঙের, তবে ডগার কাছে কচি পাতাগুলো লালচে। গাছটার ডালপালা থেকে ফুটে আছে পোড়া মাটির রঙের বা মেটে রঙের আট-দশটা ফুল। ফুলগুলির উপর যেন কেউ তুলি দিয়ে হলুদ রং ছিটিয়ে দিয়েছে। এক কথায় ফুলগুলো দেখতে অপূর্ব সুন্দর। আমি আমাদের বাংলায় এত সুন্দর ফুল আগে দেখিনি। একটা টকসা মিষ্টি গন্ধ আছে ফুলগুলোর। অনেকটা ঠিক পাকা তেঁতুলের বা আমের আচারের যেমন হয়। হঠাৎ করে গাছটাকে দেখলে আমাদের এখানকার অপরাজিতা বা নীলকন্ঠ গাছের মতন মনে হয়, কিন্তু ফুলগুলো দেখতে অনেকটা টগর বা নয়নতারা ফুলের মতন। ফুলগুলোর চারপাশে বেশ কতগুলো প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে। নানান জাতের ফুল গাছ থাকায় অবিনাশদার বাগানে এমনই হরেক রকমের প্রজাপতি দেখা যায়। আমি মোহিত হয়ে ফুলগুলো দেখছি, এমন সময় অবিনাশদা ফিরে এলো। বাবু শুধু জামাই পাল্টায়নি, বেশ কড়া করে পারফিউম ও মেখে এসেছে। “ফুলগুলো দেখলি, কী অসাধারণ দেখতে না?” বলল অবিনাশদা। —হ্যাঁ, আর বেশ একটা গন্ধও আছে বলো। আচ্ছা দুটো টবে বসিয়েছিলে তো, আর একটা কই? —একটা আমার ল্যাবে নিয়ে গেছি ফুলগুলো স্টাডি করব বলে। —কতদিন হল এই ফুলগুলো ফুটেছে? —তা সপ্তাহখানেক হবে। এখনও কত টাটকা দেখ। একটাও শুকিয়ে যায়নি। — তা স্টাডি করে কিছু বুঝতে পারলে ফুলগুলো সম্বন্ধে? মানে কেন একে ‘শয়তানের ফুল’ বলে? — না রে, এখনও বিশেষ কিছুই বুঝতে পারিনি বুঝলি। কাল বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়েছিলাম, ওখানকার বইপত্র ঘাঁটলাম কিন্তু কিছুই পেলাম না এই ফুলগুলো সম্বন্ধে। এর ক্যারেক্টারেস্টিক্সও খুব গোলমেলে। গাছ দেখে মনে হয় fabaceae গোত্রের, কিন্তু ফুলগুলোর প্রকৃতি আবার apocynaceae গোত্রের গাছেদের মতন। আবার রঙের প্যাটার্ন দেখে আমাদের বাংলার কলাবতী ফুলের কথা মনে পড়ে যায়, যা আবার cannaceae পরিবারভুক্ত। —হুম, তোমার এত বৈজ্ঞানিক নামের কচকচানি না বুঝলেও এটা বুঝতে পারছি যে বেশ আশ্চর্য ব্যাপার। —আর একটা জিনিস, যদিও আমি এই ফুলের কেমিক্যাল অ্যানালাইসিস করিনি, তবুও এটা বলতে পারি এই ফুলের মধ্যে রেডিয়াম বা ফসফরাসের মতো কোনো বস্তু রয়েছে। —কেন? —এর এই যে হলুদ ডট গুলো আছে না, ওগুলো অন্ধকারে চকচক করে, অনেকটা সমুদ্রের ফেনা বা রেডিয়াম ডায়ালের ঘড়ির মতন। —বাহ, বেশ মজার ব্যাপার তো। —হুম, সত্যিই ইন্টারেস্টিং। দেখলে মনে হয় যেন জোনাকি জ্বলে আছে। বুঝলি পুলু, আমার মন বলছে এই ফুলের মধ্যে অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে। আর যদি সেই রহস্য একবার সামনে আনতে পারি তবে বিজ্ঞানমহলকে একেবারে চমকে দিতে পারব। আমি মজা করে বললাম, “দেখো দাদা, যদি নোবেল প্রাইজ টাইজ পেয়ে যাও তখন যেন আবার এই ভাইটাকে ভুলে যেও না।’’ অবিনাশদা হাহা করে হেসে উঠল। আমরা কথা বলছি এমন সময় আমার বাম হাতের কবজির উপরে একটা তীব্র জ্বালা অনুভব করে “বাবারে” বলে চিৎকার করে উঠলাম। দেখি আমার বাম হাতের কবজির ওখানে প্রজাপতির মত একটা পোকা বসে। দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো হলেও এটা কিন্তু ঠিক প্রজাপতি নয়। এর ডানা দুটো কালচে আর শরীরটাও কালো পিঁপড়ের মতন। আর তাই দিয়েই সেটা আমার কব্জির এক জায়গায় মাংস খুবলে রক্ত বের করে দিয়েছে। ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরছিল। অবিনাশদা তাড়াতাড়ি পোকাটাকে তাড়িয়ে,আমায় ঘরে নিয়ে এসে জায়গাটা ধুয়ে ফার্স্ট এড দিয়ে দিল। জ্বালা একটু কমতে বললাম,“এটা কী পোকা বলো তো? এমন পোকা তো আগে দেখিনি।’’ অবিনাশদা অন্যমনস্ক হয়ে কী একটা ভাবছিল, চমকে উঠে বলল, “সত্যি রে, আমিও দেখিনি এমন পোকা।’’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত আয়না পর্ব২:-
→ ~দীঘির জলে কার ছায়া গো-হুমায়ূন আহমেদ(বুক রিভিউ)(আমার সবচেয়ে প্রিয় আরও একটা বই)।
→ শ্রদ্ধা-2
→ ~অমুসলিমদের জন্য মক্কা-মদিনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ কেন? এতে কী বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব হুমকির মুখে?
→ ইউনিকর্ন(পর্ব_২)
→ অবনীল(পর্ব-৬)
→ ❣না বলা ভালোবাসা ❣পাঠ ২
→ অভিশপ্ত আয়না পর্ব১:-
→ শেষ বসন্ত-(প্রথম পর্ব)
→ সময়ে অসময়ে= পর্ব ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...