গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান ... গল্পেরঝুড়ি একটি অনলাইন ভিত্তিক গল্প পড়ার সাইট হলেও বাস্তবে বই কিনে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে... স্বয়ং জিজের স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের বড় একটি লাইব্রেরী আছে... তাই জিজেতে নতুন ক্যাটেগরি খোলা হয়েছে বুক রিভিউ নামে ... এখানে আপনারা নতুন বই এর রিভিও দিয়ে বই প্রেমিক দের বই কিনতে উৎসাহিত করুন... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

শয়তানের ফুল - ১

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (৪৩৪৪ পয়েন্ট)



লেখকঃ জিৎ দত্ত, কল্পবিজ্ঞান গল্প, চতুর্থ বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা, পূজাবার্ষিকী। ****************★***************** মাপিংগুয়ারির নাম শুনেছিস?’’ সবে বিস্কুটটা শেষ করে গরম চা-টায় একটা চুমুক মেরেছি, অবিনাশদার প্রশ্নটা শুনে তাড়াতাড়ি করে গিলতে গিয়ে জিভটা গেল পুড়ে। কোনও রকমে দু’চার বার ‘‘হু হা’’ করে একটু সামলে নিয়ে বললাম, “মাপিংগুড়ি, সে আবার কী? জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, লাটাগুড়ি, নিদেনপক্ষে হামাগুড়িরও নাম শুনেছি, কিন্তু এমন জায়গার নাম তো শুনিনি। এটা কি নর্থ বেঙ্গলের কোনও জায়গা?’’ সিগারেটটা অ্যাশ ট্রেতে গুঁজে দিয়ে, ট্রে থেকে চায়ের প্লেটটা হাতে তুলে নিল অবিনাশদা। তারপর পায়ের উপর পা তুলে ব্যোমকেশি স্টাইলে বসে, চায়ে একটা চুমুক দিয়ে বলল, —প্রথমত ওটা মাপিংগুড়ি না, মাপিংগুয়ারি, পর্তুগিজ ভাষা। আর দ্বিতীয়ত এটা কোনও জায়গা নয়, এক প্রকার জন্তু। —জন্তু! —হ্যাঁ, তবে একপ্রকার কিংবদন্তি জন্তু। নর্থ আমেরিকার আমাজন অববাহিকায় নাকি এর কথা শোনা যায়। যদিও এর অস্তিত্বের এখনও কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনেকটা আমাদের হিমালয়ের ইয়েতির মতন। —ও বাবা, তা এই জন্তু দেখতে কেমন? —সে নিয়েও অনেক মতান্তর আছে বুঝলি। অনেকের মতে এই জন্তু দু’মিটার বা সাত ফুট অবধি লম্বা, চেহারা অনেকটা ভাল্লুকের মতো রোমশ আর মুখখানা বানর বা গরিলার মতন। অনেকে আবার দাবি করে গ্রিক মাইথোলজির ‘সাইক্লোপস’-এর মতন এর নাকি মাত্র একখানা চোখ! সব থেকে মজার কী জানিস, কিংবদন্তি মতে, এই জন্তুর নাকি ভুঁড়িতে আর একখানা দাঁতালো মুখ আছে, যা দিয়ে এ হাড় মাংস চিবিয়ে খায়। গায়ে নাকি বীভৎস গন্ধ, আর বজ্রনাদের মতন নাকি তার গর্জন। অনেক স্থানীয় রেড ইন্ডিয়ান দাবি করে, তারা নাকি এই জন্তুকে দেখেছে। এমনকী এই নিয়ে ওখানকার সাহিত্যেও অনেক লেখালিখি হয়েছে এবং সাহিত্যিকদের মধ্যেও অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। —ওরে বাবা। বিশাল ব্যাপার তো। তা তোমার কী মনে হয়? এমন জন্তু হতে পারে যার ভুঁড়ির মধ্যে মুখ? —কি জানি? দেয়ার আর মেনি থিংস ইন হেভেন অ্যান্ড আর্থ হোরাশিও, ভুললে চলবে কেন? তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এই মাপিংগুয়ারি হচ্ছে প্রাগৈতিহাসিক জীব ‘মেগাথেরিয়াম’ বা দৈত্যাকার শ্লথের মতন কোন জীব। —ও, বেশ ইন্টারেস্টিং কিন্তু। তা তুমি কি এখন এই মাপিংগুয়ারি নিয়ে রিসার্চ করছ নাকি? —ধুর, এসব আমার টপিকই নয়। আমার রিসার্চ টপিক অন্য, তবে তার সঙ্গে এই মাপিংগুয়ারির একটা হালকা সম্পর্ক আছে বলে এত কথা বললাম তোকে। এখানে বলে রাখি অবিনাশদা আমার নিজের দাদা নয়, কোন রকমের তুতো দাদাও হয় না। ওর সঙ্গে আমার পরিচয় স্কুল লাইফ থেকে। স্কুলে ও আমাদের দু’ক্লাস সিনিয়র ছিল। ভালো ছাত্র ছিল বলে মাঝেমাঝে ওর কাছে হেল্পের জন্য যেতাম। সেখান থেকেই দু’জনের মধ্যে একটা দাদা-ভাই সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা স্কুল ছাড়ার এত বছর পরেও অটুট আছে। বা বলা ভালো আরও বেড়েছে। বর্তমানে ও একটা ইউনিভার্সিটিতে বটানির প্রফেসর। আমি একটা বেসরকারি অফিসে কাজ করি। মাঝে মধ্যে সময় পেলে ওর বাড়িতে আসি ওর সঙ্গে আড্ডা দিতে। ওর বাড়িতে একটা ছোট্ট বাগান আছে যেখানে ও ওর রিসার্চের গাছপালা চাষ করে। সেই বাগানে হরেক রকমের দেশি ফুলগাছের সঙ্গে আছে নানান জাতের বিলিতি ফুলের গাছ। এদের এক এক জনের রং, রূপ, গন্ধ এক এক রকম। কারও কারও আবার ভেষজ গুণাগুণও আছে। অবিনাশদার কাছ থেকে এই সব গাছ সম্বন্ধে জানতে, তাদের গুণাগুণ শুনতে খুব ভালো লাগে আমার। ওর মুখেই শুনেছিলাম যে পৃথিবীতে শুধু মাত্র গাঁদাফুলেরই নাকি ছাপান্ন রকমের প্রজাতি পাওয়া যায়। চায়ের কাপটাতে শেষ চুমুক মেরে, কাপটা টেবিলে নামিয়ে রেখে বললাম, “তা তোমার রিসার্চের সঙ্গে এই জন্তুর কী যোগাযোগ শুনি?’’ —তোর মনে আছে মাস দুয়েক আগে আমি বেলজিয়াম গেছিলাম একটা কনফারেন্সে যোগ দিতে? ওখানে আমার পরিচয় হয় এক আমেরিকান বিজ্ঞানির সঙ্গে, নাম গ্লেন শেফার্ড। ভদ্রলোক একজন এথনো বায়োলজিস্ট। এথনো বায়োলজি ব্যাপারটা কী জানিস তো, বিভিন্ন প্রাণী বা বস্তুকে বিভিন্ন সম্প্রদায় কীভাবে দেখে বা ট্রিট করে, তার উপর স্টাডি। যেমন ধর, আমাদের হিন্দু ধর্মে সাপকে নাগদেবতা হিসাবে পুজো করা হয়, আবার খ্রিস্টান ধর্মমতে সাপ হল শয়তানের রূপ। আবার ধর প্রাচীন মিশরীয়রা কুমির বা বাঁদর এদের দেবতা রূপে পুজো করত, আবার কেনিয়া বা আফ্রিকার উপজাতিদের কাছে এরা সুখাদ্য রূপে পরিচিত, এইরকম। তা এই শেফার্ড ভদ্রলোক পেরুতে, আমাজনের পশ্চিমে এক উপজাতির উপর রিসার্চ করছিলেন, সেখানে তিনি প্রথম এই মাপিংগুয়ারির কথা শোনেন। এর পরে উনি পশ্চিম আমাজনেরই আর এক বিচ্ছিন্ন উপজাতি কোরুবো-দের নিয়ে রিসার্চ করার সময় আবার মাপিংগুয়ারির খবর পান। ঘটনাটা ঘটেছিল এমন, উনি কোরুবো-দের গ্রামে যাওয়ার ক’দিন আগেই ওখানে জঙ্গলে কাঠ কাটতে যাওয়া কজন কাঠুরে হঠাৎ অন্তর্হিত হয়ে যায়। তার মোটামুটি আট দশদিন পরেই নাকি মানুষরা জঙ্গলের ভিতর থেকে মাপিংগুয়ারিদের সেই বজ্রনাদি গর্জন শুনতে পায়। স্থানীয় মানুষদের ধারণা হয় ওই লোকগুলোকে মাপিংগুয়ারিতেই নিয়ে গেছে। পরদিন কিছু লোক জড়ো হয়ে ওই মানুষগুলোর ও মাপিংগুয়ারির সন্ধানে একটা অভিযান চালায়। আমাদের শেফার্ডও সেই অভিযানে সামিল হন। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় শেফার্ড দেখতে পায় জঙ্গলের এক ধারে কয়েক মাইল জুড়ে লাইন দিয়ে সারি সারি এক ধরনের জংলা ফুল ফুটে আছে। ফুলগুলো মেটে মেটে রঙের, তার উপরে হলুদ ছিটে। ফুলগুলো থেকে খুব সুন্দর নাকি একটা গন্ধ আসছিল। স্থানীয় লোকেরা শেফার্ডকে বলে কাপড় দিয়ে নাকমুখ ঢেকে নিতে। কারণ জিজ্ঞেস করতে লোকগুলো বলে ওগুলো নাকি ‘স্যাটানাস ফ্লোরেস’ বা শয়তানের ফুল। কিন্তু কেন ওগুলোকে ‘স্যাটানাস ফ্লোরেস’ বলা হচ্ছে জিজ্ঞেস করাতে লোকগুলো বলে, তারা সে সব জানে না, তবে তাদের পূর্বপুরুষেরা জানত। তারাই বলে গেছে, এই ফুলগুলো থেকে দূরে থাকতে, আর এর গন্ধ নাকে না নিতে। শেফার্ড নিজের ক্যামেরা দিয়ে ফুলগুলোর কয়েকটা ছবি তুলে নেয়, তারপর সেই ছবি পাঠায় নিজের পরিচিত বিজ্ঞানী মহলে। কিন্তু কারও কাছ থেকেই তেমন ভাবে কোনও সাড়া পায় না। কেউ কেউ আবার বলে ছবিগুলো নাকি এডিট করা, বাস্তবে এমন কোন ফুলই নাকি নেই। শেফার্ড মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে ফুলগুলোর কথা লোককে বলা বন্ধ করে দেয়। বেলজিয়ামে শেফার্ড আমায় সেই ফুলগুলোর ছবি দেখায়। সত্যি অপূর্ব দেখতে ফুলগুলো। শেফার্ড আমাকে আরও বলে, ও নাকি সেই গ্রামের একটা ছোকরাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে ওই ফুলগাছের কতগুলো বীজও সংগ্রহ করেছে। আমি বই ঘেঁটে দেখেছি বুঝলি, ওই ফুলের ব্যাপারে কোথাও কিছু পাইনি। আমি শেফার্ডের কাছে রিসার্চের জন্য ওই ফুলের একটা বীজ চাওয়ায় ও সাগ্রহে বলেছিল ও ব্রাজিলে ফিরে আমায় পাঠিয়ে দেবে। আজ সকালে ওর পার্সেল এসেছে, তাতে দুটো বীজ আর এক প্লাস্টিক আমাজনের মাটি পাঠিয়েছে শেফার্ড। আমি বললাম, “মাটি কেন?’’ ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চা টা এক চুমুকে শেষ করে অবিনাশদা বলল, “শেফার্ডের মতে ওই মাটি ছাড়া নাকি এ গাছ অন্য মাটিতে হবে না।’’ আমি বললাম, “তা সেই বীজটা কি আমি একবার দেখতে পারি?’’ অবিনাশদা বলল, “হ্যাঁ নিশ্চয়ই, তুই এসে ভালোই করেছিস। আমি এখন ওই বীজটা মাটিতে বসাব, তুই আমাকে এ ব্যাপারে একটু হেল্প করবি।’’ অবিনাশদা উঠে গিয়ে ঘরের এক কোণের একটা শেল্ফ খুলে একটা ছোট্ট ওষুধের খাম নিয়ে এলো। খামটা খুলে ও বীজদুটো টেবিলের উপর ছড়িয়ে দিল। বীজ দুটো দেখতে অনেকটা আমন্ড বাদামের মতন, তবে রঙটা কালচে বাদামি আর আকারেও অনেক ছোট। অবিনাশদা বলল, মাটিটা ও বাগানে রেখে এসেছে। আমরা দু’জনে বাগানে গেলাম। অবিনাশদা একটা ফুলের টব নিয়ে তাতে অল্প কিছুটা মাটি ভরল, তারপর কিছুটা জল দিল, তার উপরে আবার কিছুটা মাটি দিল। এই ভাবে দু’তিন ধাপ মাটি দেওয়ার পর, ও একটা বীজ মাটিতে দিল। তারপর ভালো করে জল দিয়ে ওপরে কিছুটা শুকনো মাটি ছড়িয়ে দিলো। একইভাবে অন্য একটা টবে আর একটা বীজকে রোপণ করে, হাত ধুয়ে উঠে বলল, “চল, আজকের কাজ শেষ। এবার অপেক্ষার পালা, যতদিন না গাছ বেরিয়ে ফুল ধরছে।’’ “আর মাপিংগুয়ারি?” বললাম আমি। অবিনাশদা আমার পিঠে একটা চাপড় মেরে বলল, “আরে রাখ তোর মাপিংগুড়ি, ঘরে চল, ওদিকে রামহরিদা ইজ ওয়েটিং উইথ আলুর দম অ্যান্ড কচুরি।’’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৫৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত আয়না পর্ব২:-
→ ~দীঘির জলে কার ছায়া গো-হুমায়ূন আহমেদ(বুক রিভিউ)(আমার সবচেয়ে প্রিয় আরও একটা বই)।
→ শ্রদ্ধা-2
→ ~অমুসলিমদের জন্য মক্কা-মদিনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ কেন? এতে কী বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব হুমকির মুখে?
→ অবনীল(পর্ব-৬)
→ রহস্য(১)
→ অভিশপ্ত আয়না পর্ব১:-
→ শেষ বসন্ত-(প্রথম পর্ব)
→ ~দ্বিতীয় মানব-হুমায়ূন আহমেদ(বুক রিভিউ)
→ ~গৌরিপুর জংশন-হুমায়ূন আহমেদ(বুক রিভিউ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...