গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

Time Travel

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নয়ন চন্দ্র আচার্য্য (০ পয়েন্ট)



বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ♣গল্পঃ টাইম ট্রাভেল - কতটুকু সত্য!! ⭕লেখায়ঃ পলাশ চন্দ্র আচার্য্য "এক্সিডেন্টে দেখা মিললো টাইম ট্রাভেলে ভ্রমণ করা ৩৮ বছর পূর্বের এক যুবকের।" কফি খেতে খেতে পেপারের হেডলাইন পড়ছিলো পল জোসেফ। কিন্তু সকাল সকাল এমন অপ্রত্যাশিত খবর সে আশা করে নি। টাইম ট্রাভেল সংক্রান্ত ঘটনা যে সে শুনে নাই এমন না, কিন্তু এই ঘটনা তার কাছে শুধু হাস্যকর এবং কল্পনার মনে হয়। তবে ইদানিং যা সব ঘটছে এই সময় ভ্রমণকে ঘিরে, এবার একটু বেশিই ঘাবড়াচ্ছে পল। পল জোসেফ একজন ব্যবসায়ী। আমেরিকার ব্রিটল হোমে স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়ে নিয়ে এক ভাড়া বাসায় তার বসবাস। স্ত্রীর নাম লোরা স্ট্রোভা এবং সে সংসারের পাশাপাশি একটি অফিসে জব করে। ছেলের নাম টম হকিন্স এবং মেয়ের নাম জেনি স্যাভার্ট। একরাশ বিরক্তি নিয়ে পল খবরের কাগজ ছুড়ে মারলো সোফায়। কফি হাতে একদৃষ্টিতে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে সে। হঠাৎ লোরার প্রবেশঃ লোরাঃ "কি ব্যাপার পল, সেই কখন তুমি কিচেন থেকে কফিমগ নিয়ে আসলে, এখনোও খাওয়া শেষ হয়নি তোমার?" পলঃ "না মানে খাচ্ছিলাম তো!" চিন্তিত মনে লোরাকে একথা বললো পল। লোরাঃ "আচ্ছা শুনো, আমার অফিসের যাওয়ার সময় হয়ে আসছে। আমি এখনই বের হবো। বাচ্চা দুটোকে আমি স্কুলে দিয়ে যাবো। ছুটির পর তুমি ওদের নিয়ে আসবে। কেমন?" ব্যাগ গোছাতে গোছাতে লোরা পলঃ "হুম" অন্যমনস্ক হয়ে। হুম কথা শোনার সাথে সাথে লোরা একবার পলের দিকে তাকালো। পলের মুখে এখনো চিন্তার ছাপ। সে যতই টাইম ট্রাভেলের ব্যাপারটা অবিশ্বাস করতে চাইছে, ঘটনাগুলো তত দ্রুতই তাকে বিশ্বাসের জন্য ধরা দিচ্ছে। হঠাৎ লোরার কথায় হুশ ফিরলো পলের। লোরাঃ "তুমি কি কোনো কারণে চিন্তিত পল?" পলঃ "না তেমন কিছুই না, আসলে......." লোরাঃ "দেখো পল, কোনো সমস্যা হলে তুমি আমাকে বলতে পারো। আজ তোমাকে একটু বেশিই হতাশ মনে হচ্ছে।" পলঃ "একটা কথা জিজ্ঞেস করবো লোরা?" লোরাঃ "হুম, অবশ্যই।" পলঃ "আচ্ছা তুমি কি টাইম ট্রাভেলের বিশ্বাসী? মানে আমি বলতে চাচ্ছিলাম যে, সময় ভ্রমণ করে ভবিষ্যৎ যাওয়া সম্ভব-একথা কি তুমি বিশ্বাস করো?" লোরাঃ "ওহ্, এই ব্যাপার! দেখো পল, আজকাল সময় ভ্রমণ নিয়ে যা সব ঘটনা ঘটছে তাতে তো অবিশ্বাসের কিছু নেই। ভালো কথা, তোমার সেই বিজ্ঞানী বন্ধু গতকাল ফোন করেছিলো, তুমি ঘুমিয়ে ছিলে তাই বলেছে ফোন ব্যাক করতে।" পলঃ "কে? সিরিন নাকি?" লোরাঃ "হ্যাঁ, আচ্ছা আমি তাহলে বের হই। দেরি হয়ে যাচ্ছে।" পলঃ "হুম, আচ্ছা সাবধানে!" পল বুঝতে পারলো ঐ যুবকের সাথে ঘটে যাওয়া টাইম ট্রাভেল সম্পর্কেই আলোচনা করতে চায় সিরিন। রবার্ট সিরিন পলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সিরিন বর্তমানে নাসার একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী। টাইম ট্রাভেল নিয়ে বেশ কিছু বছর যাবত সে গবেষণা করছিলো। সমসাময়িক ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়েও সে মহাকাশে টাইম ট্রাভেল করার উপায় বের করতে চাচ্ছে। সিরিন মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, আলোর গতির চেয়েও বেশি গতিতে চলতে পারলে টাইম ট্রাভেল সম্ভব। কিন্তু তারই বন্ধু পলকে কোনো ভাবেই এই বিষয়কে বিশ্বাস করাতে পারছে না। পলঃ " হ্যালো সিরিন, আমি পল বলছি!" সিরিনঃ " ওহ্ বন্ধু! কেমন আছো? কি খবর তোমার?" পলঃ "হ্যাঁ, বেশ ভালোই! আচ্ছা সিরিন শুনো আজকের খবরে যা দেখলাম তা কি সত্য?" সিরিনঃ " কি? সময় ভ্রমণ? " পলঃ " হ্যাঁ!" সিরিনঃ "ছোটবেলায় আমি এরকম একজনের হারিয়ে যাওয়ার কথা শুনেছি! এখন সেই ব্যক্তি কিনা তা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করে দেখা হচ্ছে।" পলঃ "আচ্ছা, কোনো খবর হলে আমাকে বলো" সিরিনঃ "কি ব্যাপার পল! তুমি কি সময় ভ্রমণকে বিশ্বাস করতে চাচ্ছো?" পলঃ "জানিনা সিরিন! আচ্ছা রাখি, পরে কথা হবে" অন্য কোনো দিন পল কোনো বিষয় নিয়ে এতো চিন্তা করতো না। কিন্তু আজ কোনোভাবেই ওই যুবকের কথা মাথা থেকে ঝাড়তে পারছে না। দেখতে দেখতে দুপুর ১ঃ০০ টা বেজে গেলো। পল বেরিয়ে পড়লো বাচ্চা দুটোকে স্কুল থেকে আনার জন্য। টম এবং জেনি দুজনই তাদের বাবার দু হাত ধরে বাসায় পৌঁছালো। বাসা থেকে স্কুল কাছে, তাই তারা হেটে হেটেই যাওয়া আসা করে। লাঞ্চ করার সময় পল, টম এবং জেনি গল্প করতে লাগলো। হঠাৎ টম বলে উঠলো টমঃ "বাবা জানো, আমাদের টিচার আজ অনেক সুন্দর একটা ঘটনা বলেছে!" পলঃ "কি ঘটনা টম?" জেনিঃ "৩৮ বছর আগের একজন লোক নাকি ভবিষ্যতে এসে এক্সিডেন্টে মারা গেছে" পল বুঝতে পারলো শুধুমাত্র তার স্ত্রী নয়, তার সন্তানরাও ইতোমধ্যে সময় ভ্রমণকে বিশ্বাস করা শুরু করেছে। পল আর ওদের সাথে এই ব্যাপারে কথা বাড়াতে চাইলো না। পলঃ "আচ্ছা তোমরা খাওয়া শেষ করো। বিকেলে তোমাদের ঘুরতে নিয়ে যাবো।" টম ও জেনিঃ "ওকে বাবা!" বিকেলে পল, টম এবং জেনিকে নিয়ে স্কটহ্যাট পার্কে ঘুরতে গেলো। ঘুরতে ঘুরতে একসময় বিশ্রামের জন্য এক গাছের নিচে তারা বসলো। "আচ্ছা, সুজা যদি এমন হতো ওই ব্যক্তির মতো আমরাও সময় ভ্রমণ করে ভবিষ্যৎ একটু ঘুরে আসতাম, কেমন হতো তাহলে?" পলের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে একথা বললো। কথাটা যে পলের কান পর্যন্ত পৌছায় নি এমন না, শোনার সাথে সাথে পল তার দুই বাচ্চাকে নিয়ে সোজা বাসায় চলে আসলো। বাসায় আসার পর থেকেই পল আরো চিন্তায় পরে আছে। তার মনে কথা একটাই, সময় ভ্রমণ!! কি করে সম্ভব! আর একজন মানুষ কিভাবে নিজেকে ভবিষ্যতে খুজে পাবে। একজনই বা দুইজন হয় কি করে?? রাতে খাবারের পর পল কারোর সাথেই তেমন একটা কথা বলে নাই। বেডে গিয়ে শুতেই সে আজ গভীর ঘুমে মগ্ন। কিন্তু এই ঘুমেই যে এতো কিছু ঘটবে তা তার জানা ছিলো না। ঘুমের মধ্যেই সারাদিনের চিন্তা ভাবনা স্বপ্নে পরিণত হচ্ছে। সারাদিনের চিন্তা ধারা সব একসাথে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এসব ভাবতে ভাবতে হটাৎ তার ঘুম ভেঙে যায়। পানি খাওয়ার জন্য জগে হাত দিয়ে দেখে জগে পানি নেই। তাই সে ডাইনিং রুমে যায় পানি আনতে। ডাইনিং রুমে পানি খাওয়ার সময় পল খেয়াল করলো ঘরের এক কোণা থেকে অনেক আলো নিঃসৃত হচ্ছে। পল সেই কোণা বরাবর যেতেই দেখতে পেলো সোজা বরাবর একটা পথ সামনে চলে গিয়েছে। পল সেই পথেই এক পা রাখার সাথে সাথে আলোর গতির চেয়েও অনেক বেশি দ্রুত গতিতে ঐ পথে পৌঁছালো। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর সে যা দেখলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। পল দেখতে পেলো একটা পার্কে অনেকগুলো বাচ্চা খেলাধুলা করছে। সাথে ছিলো তাদের পিতা মাতা। আধুনিক প্রায় সব ধরণের খেলনা সেখানে ছিলো। মানুষের মধ্যে পোশাকেরও পরিবর্তন ছিলো। পলের বুঝতে বাকি রইলো না সে সময় ভ্রমণ করে ভবিষ্যতে পৌঁছে গেছে। হঠাৎ একজনের ডাকে পল পিছনে ফিরলো। পল যার ডাকে পিছনে ফিরলো সে আর কেউ না, ৭০ বছর বয়সী পল নিজেই। সাথে ছিলো তার ভবিষ্যতের স্ত্রী। ভবিষ্যতের পলঃ "হাই! কেমন আছো তুমি?" বর্তমান পলঃ "জি হ্যা ভালোই! তুমি দেখতে আমার মতোই প্রায়!" ভবিষ্যতের পলঃ "তুমি বুঝতে পারছো না? তুমি ভবিষ্যতে পৌঁছে গেছো!" বর্তমানের পলঃ "সত্ত্যিই! আমি নিজেই নিজেকে দেখে অবাক হচ্ছি! আচ্ছা আমার হাতে একটা ট্যাটু আছে। তোমার হাতেও কি সেই ট্যাটু আছে?" বর্তমানের পল ভবিষ্যতের পলের হাত মিলিয়ে দেখলো সেইম ট্যাটু দুজনের হাতে আকা এবং তারা আরো কিছুক্ষণ নিজেদের নিয়ে কথা বলে। এরপর পল একই রাস্তা দিয়ে তার পূর্বের স্থানে আবার ফিরে আসে। ঘরে ফেরার পর পল বুঝতে পারলো টাইম ট্রাভেল করে ভবিষ্যতে যাওয়ার ব্যাপারটা তাহলে সত্যি। ৭০ বছর বয়সে নিজেকে দেখার সময় সে যতটা না অবাক হয়েছিল, তার থেকে এখন সে অনেক বেশি ভয় পাচ্ছে। তার শুধু এটাই মনে হচ্ছে, ৭০ বছর বয়সে সে নিজের হয়েই নিজের চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। এসময় লোরার কথায় পলের ধ্যান ভাঙে। লোরাঃ "কি ব্যাপার পল! তুমি এতো রাতে এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? আর এতো ঘামছোই বা কেনো? কি হয়েছে তোমার?" পলঃ "তু....তুমি এখানে? না...না আমার কিছু হয় নি। কিছু হয় নি!" বলতে বলতে পল নিজের বেডে কাথা মুড়িয়ে শুয়ে পড়লো। সে চায় না তার এই ভ্রমণ সম্পর্কে কেউ জানুক। কিন্তু একজনকে না বললে পল শান্তি পাবে না, সে হচ্ছে সিরিন। সকাল হতেই পল বেরিয়ে পড়লো তার বন্ধু সিরিনের সাথে দেখা করার জন্য। সময় ভ্রমণ নিয়ে তার সাথে যা ঘটলো, পলের আশা সিরিন নিশ্চয়ই এর একটা বিহিত করতে পারবে। চা-বিস্কুট খেতে খেতে সিরিনকে সব কথা খুলে বললো পল। পলের কথা শুনে সিরিনও বেশ উৎসাহিত। পলের কথা শুনে সিরিন একটু হলেও মজা পাচ্ছে কারণ, যে পল সময় ভ্রমণকে ঘূর্ণাক্ষরেও বিশ্বাস করতো না, অথচ সেই পল সময় ভ্রমণ করেই এক রাতে নিজের ৭০ বছর বয়সীর রূপ দেখে আসলো। সিরিনঃ "আমি বুঝতে পারছি পল, তুমি অনেক ঘাবড়ে গিয়েছো। ঘাবড়ানোটা স্বাভাবিক, এমন হুটহাট ঘটনা!! তবে তুমি চিন্তা করো না, ভয়ের কিছুই নেই এখানে।" পলঃ " তুমি বুঝতে পারছো না সিরিন! নিজের ৭০ বছর বয়সী রূপ দেখার পর এখন যার তার চেহারায় আমি ঐ রূপটাই দেখতে পাই। তুমি জানো আমি এমনেতেই একটু ভীতু প্রকৃতির। তার মধ্যে আবার এসব!!" সিরিনঃ "তুমি এসব নিয়ে একটু বেশিই ভেবে ফেলছো! যার কারণে তুমি সবার মাঝে নিজের ৭০ বছর বয়সের রূপ দেখতে পাও। নিজেকে অন্য কাজে মনোনিবেশ করো, দেখবে সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে।" পলঃ "আচ্ছা!" সিরিনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর পলের মনে পড়লো টাইম ট্রাভেল করে যাওয়া সেই পার্কের কথা। পার্কের এক কোণার এক বোর্ডের উপর পার্কের নাম লেখা ছিলো এবং স্পষ্টত পার্কের নামও পলের মনে ছিলো। পার্কের নাম ছিলো "Stratford Children’s Park". স্ট্রার্টফোর্ড জায়গাটি পলের অপরিচিত নয়, তবে সিরিনের বাসা থেকে পার্কটির দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। পল নিজেই সিদ্ধান্ত নিলো যে সে ওই জায়গাটিতে যাবে। একটা ট্যাক্সি করে স্ট্রার্টফোর্ড জায়গায় পৌঁছায় পল। কিন্তু ওখানে গিয়ে যা দেখলো তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। জায়গাটি ভুতুড়ে ছিলো। জনমানবহীন এলাকা। ঘন ঘন গাছপালা আর পরিত্যক্ত মাঠ ছিলো। পল ভাবতেই অবাক হচ্ছে, সে টাইম ট্রাভেল করেই এখানে এসেছিলো। অথচ কতো পার্থক্য বর্তমান আর ভবিষ্যতের মাঝে!! আর কিছু না ভেবে পল সোজা বাড়ি ফিরলো এবার। রুমে ঢুকতেই লোরা প্রশ্ন করলোঃ "পল! তোমার ফোন কোথায়?" পলঃ "কেনো আমার কাছেই আছে" লোরাঃ " তাহলে ফোন দিচ্ছিলাম, ধরছিলে না কেনো?" পল তার প্যান্টের পকেট হাত দিয়ে দেখে তার ফোন নেই। সে পুরো রুমে যখন ফোন খুজতে যাবে তখন মনে পড়লো টাইম ট্রাভেল করার সময় ফোন তার হাতে ছিলো এবং সেটা ভবিষ্যতেই পড়ে আছে। পলঃ "লোরা! সম্ভবত আমার ফোন চুরি হয়ে গেছে। আমি না হয় একটা কিনে নিবো।" পল মনে করলো এ বাড়িতে থাকলে হয়তো আরো অদ্ভুত কিছু তার সাথে ঘটবে। তাই সে সিদ্ধান্ত নিলো এ বাড়িতে আর থাকবে না। এক রাতের সময় ভ্রমণের ঘটনা যেনো তাকে অন্য পারে দাড় করিয়েছে। তার এই সিদ্ধান্তের মূল রহস্য তার স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়ে না জানলেও তারা বাসা পরিবর্তনে অমত প্রকাশ করে নি। দেখতে দেখতে পল প্রায় ৭০ বছরে পা দিলো। অন্য এক বাসায় তারা বেশ সুখেই ছিলো। তাদের ছেলে-মেয়েরও বিয়ে হয়েছে এবং তারাও অন্য একটা বাসায় নিজেদের সংসার নিয়ে সুখেই ছিলো। এর মধ্যে পলের সাথে ঘটে যাওয়ার ঘটনা পল প্রায় ভুলতে বসেছিলো। কিন্তু একদিন ঠিক আবার ঘটনা এসে নিজ থেকে সাড়া দিলো। একদিন পল এবং তার স্ত্রী একটা পার্কে নিজেদের মতো করে সময় কাটাচ্ছিলো। মনোরম পরিবেশ আর বাচ্চাদের খেলাধুলা নিয়েই তারা ব্যস্ত ছিলো। এমন সময় পল হাটতে হাটতে তার পায়ের কাছে একটা শক্ত পদার্থ অনুভব করে। পল তাকিয়ে দেখে একটা ফোন পরে আছে। সে ফোন হাত দিয়ে উঠিয়ে দেখে অনেক আগের এবং পুরোনো ফোন। সে যখন ফেলে দিতে চাইলো ঠিক তখন একটা বোর্ডের উপর তার নজর যায়। বোর্ডের উপর পার্কের নাম ছিলো এবং এই দুই ঘটনার পর পলের সবকিছু আবার মনে পড়তে থাকে। সেইদিন যেই অবস্থায় পল নিজের ৭০ বছর বয়সী রূপ দেখেছিলো আজও পল সব ঠিক একই রকম দেখতে পাচ্ছে। সে ভাবছে, কতো বিচিত্র এই জগৎ-সংসার। তবে এবার সে ভয় পায়নি। ঘটনাগুলো মনে পড়ে একরকম হেসেই দিয়েছে। তার হাসি দেখে লোরা প্রশ্ন করলোঃ " কি ব্যাপার এভাবে হাসছো যে" পলঃ "জানো লোরা, আমার বয়স যখন ৩৬ তখনই আমি তোমার এই ৭০ বছর বয়সের রূপ দেখেছিলাম। তুমি তখনো সুন্দর ছিলে, এখনোও আছো!!" লোরাঃ "মানে!" পলঃ "কিছু না" পল ও লোরা বাসায় চলে আসলো। সিরিনকে ফোন দিয়ে পল বললো, "বন্ধু সময় ভ্রমণে অইদিন যা ঘটেছিল, আজও আমার সাথে একই কাহিনি ঘটেছে।" সিরিনঃ "এবার তাহলে বিশ্বাস হয় আমার কথা? তবে তোমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা সাথে সাথেই আমি রিসার্চ করেছিলাম এবং এটাও প্রমাণ করতে পেরেছি সময় ভ্রমণ আসলেই সম্ভব। তবে এবার আমি চেষ্টা করছি, মহাকাশে কিভাবে সময় ভ্রমণ করা যায় সেই পদ্ধতি বের করার। ভালো থেকো বন্ধু।" পলঃ "তোমার ইচ্ছা সত্যি একদিন পূর্ণ হবে। তুমিও ভালো থেকো!"❤


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ TIME MACHINE
→ first time লুঙ্গি পড়ার অভিজ্ঞতা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...