গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

পাঠকের মৃত্যু

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rehnuma Ahmed (০ পয়েন্ট)



পাঠকের মৃত্যু বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়(বনফুল) এক___ প্রায় দশ বৎসর আগেকার কথা। আসানসোল স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় বসিয়াছিলাম। ঠিক আমার পাশেই আর একজন বসিয়াছিলেম। তাঁহার হাতে একখানি বই ছিল। বেশ মোটা একখানি উপন্যাস। আলাপ-পরিচয় হইলে জানিতে পারিলাম যে ভদ্রলোককে ট্রেনের জন্য সমস্ত দিন অপেক্ষা করিতে হইবে। আমার ট্রেনের সময় ঘন্টা- তিনেক দেরি ছিল। আমরা উভয়েই বাঙালি। সুতরাং পাঁচ মিনিট পরেই তাঁহাকে যে প্রশ্নটি আমি করিলাম তাহা এই-- "আপনার বইখানা একবার দেখতে পারি কি?" "হ্যাঁ হ্যাঁ, দেখুন না__" এই উত্তরই স্বাভাবিক এবং আশাও করিলাম। অবিলম্বে বইখানা দখল করিয়া বসিলাম। দু:সহ গ্রীষ্মের দারুণ দ্বিপ্রহর। আসানসোল স্টেশনের টিনের ছাদ। সমস্ত কিছু তলাইয়া গেল। উপন্যাস অদ্ভুত। বহির মালিক ভদ্রলোক আড়-নয়নে একবার আমার পানে চাহিয়া একটু ভুরু কুঞ্চিত করিলেন এবং একটি টাইম-টেবিল বাহির করিয়া তাহাতেই মনোনিবেশ করিলেন। আমি রুদ্ধশ্বাসে পড়িয়া চলিলাম। চমৎকার বই। বস্তুুত এমন ভালো উপন্যাস আমি ইতোপূর্বে পড়ি নাই। একেবারে যেন জুড়াইয়া দিতেছে। দুই ঘন্টা কাটিল। বহির মালিক ভদ্রলোক টাইম টেবিলটি বারংবার উল্টাইয়া অবশেষে আমার দিকে চাহিয়া বলিলেন- "আপনার ট্রেনের তো আর বেশি দেরি নেই। এইবার__" বলিয়া একটু গলা খাঁকারি দিলেন। আমি তখন তন্ময় । চকিতে একবার হাত ঘঁড়িটার পানে চাহিয়া দেখিলাম। এখনও ঘন্টাখানেক সময় বাকি আছে। বই কিন্তু অর্ধেকের উপর বাকি। বাক্যব্যয় করিয়া সময় নষ্ট করিলাম না। গোগ্রাসে গিলিতে লাগিলাম। অদ্ভুত বই। বাকি ঘন্টাটা যেন উড়িয়া গেল। আমার ট্রেনের ঘন্টা পড়িল। বই এর তখনও অনেক বাকি। রোখ চড়িয়া গিয়াছিল। বলিলাম "নেকস্ট ট্রেনে যাব__ এ বই শেষ না করে উঠছি না!" বহির মালিক ভদ্রলোক একটু একটু কাশিয়া নির্বাক হইয়া রহিলেন। ট্রেন চলিয়া গেল__বই পড়িতে লাগিলাম। শেষ কিন্তু করিতে পারি নাই। শেষের দিকে অনেকগুলি পাতা ছিল না। বহির মালিককে বলিলাম__ "এহ, শেষের দিকে এতগুলো পাতা নেই। আগে বলেননি কেন? ছি ছি__" এতদুত্তরে ভদ্রলোক কেবল নিষ্পলকনেত্রে আমার দিকে চাহিয়া রহিলেন। দেখিলাম তাঁহার রগের শিরাগুলি স্ফীত হইয়া উঠিয়াছে। দুই___ দশ বৎসর পর উক্ত পুস্তকখানি আর একবার আমার হস্তগত হইয়াছিল। আমার ভাগিনেয়ীর শ্বশুরায়লে। তাহাকে পৌঁছাইতে গিয়াছিলাম। সেইদিনই ফিরিয়া আসার কথা। কিন্তু বইখানির লোভে থাকিয়া গেলাম। সুযোগমত বইখানি সংগ্রহ করিয়া আবার সাগ্রহে পড়া শুরু করা গেল। খাপছাড়াভাবে শেষটুকু না পড়িয়া গোড়া হইতেই জমাইয়া পড়িব ঠিক করিলাম। কয়েক পাতা পড়িয়াই কেমন যেন খটকা লাগিল। উল্টাইয়া দেখিলাম_হ্যা, সেই বই ই তো! আবার কয়েক পাতা অগ্রসর হইলাম_নাহ, কেমন যেন গোলমাল ঠেকিতেছে। তবু পড়িতে লাগিলাম। কিছুক্ষণ পরে মনে হইল__নাহ, আর তো চলে না। এ কি সেই বই যাহা আমি আসানসোল স্টেশনে দারুণ গ্রীষ্মের দ্বিপ্রহরে ঊর্ধ্বশ্বাসে তন্ময় হইয়া পড়িয়াছিলাম? এমন রাবিশ মানুষে লেখে! এ শেষ করা তো অসম্ভব! দর বৎসর আগেকার সেই উৎসুক পাঠক কবে মারা গিয়াছিল টেরও পাই নাই। এবারও বই শেষ হইল না। * * * * * gj


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৬৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জিজেসদের নিয়ে সারার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন[তৃতীয় ও অন্তিম পর্ব]
→ জিজেসদের নিয়ে সারার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন[দ্বিতীয় পর্ব]
→ জিজেসদের নিয়ে সারার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন[প্রথম পর্ব]
→ মৃত্যু শয্যায় মহাবীর আলেকজান্ডার তার সেনাপতিদের ডেকে বলেছিলেন,'
→ মৃত্যু পুকুর: এক অসমাপ্ত রহস্য
→ মৃত্যু ভয়....
→ মৃত্যু
→ ~ মৃত্যুর চেয়ে চরম সত্য আর কিছু নেই!
→ হাদিসের গল্প – আবূ ত্বালিবের মৃত্যুর ঘটনা
→ মৃত্যু সমাচার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...