গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

না বলা ভালবাসা

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ সোহেল রানা (০ পয়েন্ট)



প্রথম দেখায় প্রেম যাকে ফার্স্ট টাইম লাভ বলা হয় সেটা নিয়ে আমার বেশ কৌতুহল ছিল। অনেক সিনেমাতেই এরকম প্রেমের গল্প দেখেছি। কিন্তু কখনো ভাবিনি আমার বাস্তব জীবনেও এরকম কিছু একটা ঘটবে। রাস্তার মোড়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। পশ্চিম আকাশে দেখা যাচ্ছে লালচে আভা। এমন সময় একটা মেয়ের দিকে চোখ পড়লো আমার। যদিও মেয়েটা আমার আগে থেকেই পরিচিত ছিল। কিন্তু এর আগে ওকে দেখে কখনোই আমার এমনটা অনুভব হয়নি। কেন জানি আজ কেবল ওকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে ইচ্ছে করছে। বিধাতা যেন কি এক অদৃশ্য মায়া লাগিয়ে দিয়েছিল ওর চেহারায়। আমি কিছুতেই চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। ওর চোখের চাহনি আমার ভেতরে এক অন্যরকম যোয়ার এনে দিয়েছিল। ওর ঠোঁটের মৃধু হাসি আমাকে অন্য এক জগতে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। কোনো এক সিনেমায় দেখেছিলাম, কাউকে ভালো লাগলে নাকি পেটের ভেতর কাতুকুতু লাগে। তখন বিশ্বাস করিনি। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি সিনেমার সমস্ত গল্পই গল্প নয়। যাইহোক প্রেমে পড়ে গেছি এটা 100% সত্যি। এখন কীভাবে আমার মনের কথাটা জানাবো সেটা ভাবতে হবে। জীবনে প্রথম প্রেম বলে কথা। হেরে গেলে চলবে না কিছুতেই। আমাদের বাড়ির পাশের বাড়িতে ওরা এসেছে। পাশের বাড়ির হামিদ ভাই ওর দুলাভাই হয়। তাই হয়তো বেড়াতে এসেছে। আগে থেকেই পরিচয় থাকার কারণে ওর সাথে আলাপ জমাতে আমার খুব একটা কষ্ট হলো না। এক কথা দু কথা করে অনেক কথাই হলো দুজনের কিন্তু মনের কথাটা মনের ভেতরেই চাপা পড়ে রইলো যেন। এ যাত্রায় মনের কথাটা বলা হলো না। পরের দিন চলে গেল তাসফিয়া। যতক্ষণ পর্যন্ত ওকে দেখা যায় তাকিয়ে থাকলাম পথের দিকে। চলে গেলেও ওদের বাড়ি ছিল আমাদের গ্রামের পাশের গ্রামেই তাই যেকোনো সময় ওর সাথে দেখা হওয়ার সুযোগ ছিল আমার। তাসফিয়া এবার এস.এস.সি. দিবে। আমি যেই স্কুল থেকে এস এস সি পাশ করেছি সেই স্কুল থেকেই। পরের দিন আমি এবং রুবেল (আমার বন্ধু) স্কুলের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলাম। জীবনে এই প্রথম রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি কোনো একটা মেয়ে কখন আসবে সেই আশায়। একটু পরেই তাসফিয়া আসলো। আমাকে দেখে ও নিজেই বললো-- -আরে সোহেল ভাই, আপনি? কি ব্যাপার? কারো জন্যে অপেক্ষা করছেন বুঝি? আমি একটু লজ্জিত ভাবে বললাম -না মানে ঠিক তা নয়। এমনিই আর কি অনেক দিন স্কুলে আসা হয় না, তাই ভাবলাম স্যারেদের একবার দেখে যাই। -ও আচ্ছা, তো চলুন যাওয়া যাক। -হ্যা,,,,তোমরা এগোও আমরা আসছি। এই যাহ, এবারেও বলা হলো না। কিন্তু তারপরও মনে একটা সুখ ছিল অন্তত একবার হলেও তো ওকে দেখতে পেলাম। পরের দিন একই জায়গায় আবারো দাড়িয়ে আছি কৃষ্ণচূড়া গাছের সাথে পা ঠেকিয়ে। তাসফিয়া এসে আবার বললো -কি ব্যাপার সোহেল ভাই, আজও কি স্যারেদের সাথে দেখা করতে এসেছেন নাকি? -না মানে, গতকাল রতন স্যার বলেছিল আজকে একবার আসতে তাই আর কি। -ও আচ্ছা। এই বলে তাসফিয়া সহ ওর বান্ধবীরা চলে গেল। তবে ওর কথাবার্তা ও আচরণে আমি বুঝতে পারছিলাম যে, ও ঠিক বুঝতে পেরেছে যে আমি কেন এখানে দাড়িয়ে আছি। পরের দিন রুবেলকে বললাম "আজকে যেভাবেই হোক আমার মনের কথাটা বলতেই হবে না হলে আমি ব্লাস্ট হবো"। রুবেল আমাকে বললো " তাসফিয়াকে একা পেলে মনের কথাটা বলতে পারবি তো?" "কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব পাশে তো ওর বান্ধবীরা থাকে তাই না?" রুবেল আমাকে আশ্বাস দিয়ে বললো "আমি ওর দুই বান্ধবীকে যেভাবে পারি সরিয়ে দিবো, তুই এই সুযোগে মনের কথাটা বলে দিবি।" "কিন্তু তুই ওদের সরাবি কীভাবে ? " "সেটা আমার উপর ছেড়ে দে।" একটু পরে তাসফিয়া আর ওর বান্ধবীদের আসতে দেখা গেলো। ওরা যখন আমাদের খুব কাছাকাছি চলে আসলো তখন দুইটা সাপ ওর দুই বান্ধবীর ঘাড়ের উপর পড়লো। তাসফিয়া আগে আগে হাটছিল তাই ও কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওর বান্ধবীরা পিছন দিকে দৌড় দিয়েছে। ওদের চিৎকারে তাসফিয়া প্রথম প্রথম ভয় পেলেও মাটিতে প্লাস্টিকের সাপ পড়ে থাকতে দেখে হাসতে লাগলো৷ ততক্ষণে রুবেলও চলে গিয়েছে। আমি মুগ্ধ হয়ে ওর হাসি দেখছিলাম। সে হাসিতে যেন মুক্তো ঝরে পড়ছে। পৃথিবীর সময় যদি এখানেই থেমে যেত। সমুদ্রের স্রোত ধারা যদি আর বয়ে না যেত। যদি অনন্তকাল ধরে কেবল ওর মুক্তা ঝরানো হাসি দেখতে পেতাম তবে মানব জনম সার্থক হয়ে যেত। কিন্তু প্রেম পিপাসি মনের আবদার বিধাতা গ্রহণ করলেন না। এতক্ষণে ওরা সবাই নকল সাপের কথা বুঝতে পেরে চলে এসেছে। তারপর ওরা কি যেন বলে চলে গেল। আমি সেটা খেয়ালই করিনি। তারপর রুবেলের ধাক্কায় চেতনা ফিরে পেয়ে দেখলাম ওরা অনেক দুর চলে গেছে। তাসফিয়ার হাসি থেকে মুক্ত কুড়াতে পেরেছিলাম কি না জানি না পরে এটা ঠিকই বুঝেছিলাম যে আজও ওকে মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা কথাটা বলা হলো না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৫০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তোর নাম (পর্ব 7)
→ ~অমুসলিমদের জন্য মক্কা-মদিনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ কেন? এতে কী বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব হুমকির মুখে?
→ ❣না বলা ভালোবাসা ❣পাঠ ২
→ ঈদের দিন খারাপ ঘটনা ।
→ একজন পিতার আর্তনাদ
→ অভিশপ্ত আয়না পর্ব১:-
→ আপনার প্রশ্নের জবাব
→ কল্পনা
→ ইলুমিনাতি
→ ~হুমায়ূন আহমেদের সকল বইয়ের নাম।(The most Important post)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...