গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

The Cartone City

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Jubayer Ahmed (১৪ পয়েন্ট)



The Cartone City জুবায়ের আহমেদ মরুর বুকে ছুটে চলেছে একটা সাদা অশ্ব। পিঠে তার এক যুবক সওয়ারী। তার পড়নে সাদা পান্জাবী তার উপরে পড়েছে একটা কালো জ্যাকেট।  মাথায় সবুজ পাগড়ী,কোমরে ঝুলছে কোষ বদ্ধ তলোয়ার,কাধে একটা ব্যাগ। আর তার মাথার উপরে উড়ছে একটা বাজ পাখি।সে যেদিকেই যাচ্ছে পাখিটা তার সাথে সাথেই যাচ্ছে।অশ্বপদধ্বনিতে মনে হচ্ছে যেন কোথাও একাধারে বজ্রপাত হচ্ছে।তার চলার গতীতে মরুভুমিতে ধুলির ঝড় উঠছে। এ যেন এক মরু সাইক্লোন। চলতে চলতে হাত দিয়ে সাওয়ারী কিছু  মরুর ধুলি মুঠোর মধ্যে নিলো তারপর তা একটা ব্যাগে ভরলো।।কয়েক মুহুর্তেই সে পার করে ফেললো সাহারা নামক বিশাল মরুভুমি।ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে যা পার করা কোনো সহজ কথা নয়।এখন সে চলছে সমুদ্রের পানির উপর দিয়ে। তার চলার গতীতে যেন সমুদ্র ভয় পাচ্ছে।তার আগমনে সমুদ্র একেবারে শান্ত হয়ে থেমে গেল।সমুদ্রে কোনো ঢেউ নেই । মাঝ সমুদ্রে যাওয়ার পর  হঠাৎ সে তার ঘোড়ার লাগাম ধরে টান দিলো আর সাথে সাথে ঘোড়া সমুদ্রের উপরেই থেমে গেল।তারপর সে সেখানে দেখলো একজায়গায় জল কালো, লাল, সবুজ ও হলুদ হয়ে আছে। সে সেখানে গেল আর তার কোমর থেকে একটা চামড়ার থলি বের করলো যেটাতে সে মরুর ধুলি ভরে রেখেছিল।তারপর সেই ধুলি পানির উপর ছিটিয়ে দিল।আর সাথে সাথে চার রঙ্গের পানি এক হয়ে সাদা রং ধারন করলো। সেই লোকটা তার হাতের থলেটার মুখ সেখানে ধরতেই সাদা জল সেটায় চলে এলো।তারপর সে কিছু জল হাতে নিয়ে তার ঘোড়ার পিঠে লাগালো এবং কিছু জল ঘোড়াকে খাইয়ে দিল। তারপর সে তার হাত বাড়াতেই বাজ পাখিটা এসে তার হাতের উপর বসলো এবং তাকেও কিছু জল সে খাইয়ে দিল।আর বাকি জলটুকু সে নিজে পান করলো। এবার লোকটি কথা বললো।তার ঘোড়াটাকে বললো,এখন  আমার সাথে সাথে তোমরাও হয়ে গেলে মহাজাগতিক অমর প্রানী।এমনিতেই তোমরা হাজার বছর বাচতে কিন্তু এই পানি পান করার পর তোমরাও অমর হয়ে গেলে। তার ঘোড়া বললো, আমরা যদি আমাদের আলিসা মালকিনকে ফিরিয়ে না আনতে পারি তাহলে এই অমরত্বেরও কোনো মানে হয় না। বাজ পাখিটা এবার বললো,ঐ ফারহান( ১) আমাদের মালকিনকে বন্দি করে নিয়ে গেছে।আর তারপর ঘাপটি মেরে বসে আছে। লোকটা বললো, আমার মনে হয় না ফারহান এমন কাজ করবে। কারন সে জানে যে আলিসা হলো অন্ধকার জগতের রাজা হান্টারের ভাতিজি ও মহাশক্তিধর ফারহানের (২)মেয়ে।আর ফারহান(২) সর্বদা সত্যের পক্ষে লড়াই করে।  তখনি সেখানে আবির্ভাব ঘটে মহাশক্তিধর ফারহানের(২)। ফারহানঃ-আল মামুন,আমার মনে হয় এটা সেই কার্টোন জগৎ থেকে আগত নবিতার কাজ।কারন যেদিন   আমার মেয়ে নিখোজ হয় সেদিন আমি ঘরে বসে ডোরেমন কার্টোন দেখছিলাম তার কিছুক্ষন পর ফারহান(১) আসে। তারসাথে আমার কিছু কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে  আমার রাগ কন্ট্রোলের বাহিরে চলে যায়। আর আমি ভুল করে আমার কালোশক্তি টিভিতে ছুড়ে মারি। টিভিতে তখন নবিতাকে দেখাচ্ছিল।আমার মনে হয় সেই শক্তি তার মধ্যে চলে গেছে। ফারহান(১) আমার রাগ দেখে ভয় পায় আর সে চলে যায়। [ সেই লোকটার নাম হলো আল মামুন। আর তার ঘোড়ার নাম হলো রক আর বাজপাখিটার নাম হলো ফাইটার।] আল মামুনঃ- তাহলে সে কিভাবে আলিসাকে নিয়ে যাবে?(কার্টোন নবিতাকে সম্বোধন করে)  ফারহানঃ- কারন তার মধ্যে আমার সকল শক্তি চলে গেছে।ঐ মোবাইলে বা কম্পিউটারে যেভাবে কপি হয় না  ঠিক সেভাবে। কার্টোনটা মনে হয় কালো শক্তি পেয়ে সে তার লোভ সামলাতে পারে নি।সে আরও শক্তি হাসিলের জন্য আমার খুজ করতে থাকে আর সে সেই শক্তির  সাহাজ্যে তার উৎস খুজতে খুজতে এখানে আসে আর আলিসা যেহেতু আমার মেয়ে তাই আলিসার মাঝেও কালোশক্তি আছে। আর তা দেখেই সেই কার্টোন শয়তানটা  তাকেই নিয়ে যায় সাথে করে। আল মামুনঃ- আর ফারহান (১) কে সন্দেহ না করার কারন কি?  ফারহানঃ- তার কারন হলো আমি আমার শক্তির সাহাজ্যে দেখেছি যে যখন আলিসা নিখোজ হয় তখন সে বহুরুপীর সাথে ছিল। আল মামুনঃ- শ্বশুরআব্বা,যেহেতু কার্টোনটার কাছে আপনার শক্তি আছে তাহলে আপনি তাকে মারছেন না কেনো?অথবা সময়ভ্রমন করে তাকে আটকাতেও তো পারেন। তা না করে আমাকে কেন পাঠাচ্ছেন কার্টোন জগতে? ফারহানঃ- তাকে আমি না মারার কারন হলো সে এখন তোমার স্ত্রী  আর যেহেতু তুমিও এখন একজন মহাজাগতিক প্রানী তাই তুমাকেই যেতে হবে কার্টোন জগতে। আর হ্যা,আমি সময় ভ্রমন করে কার্টোনটাকে থামাতেই পারি, কিন্তু তা করলে সেটা হবে প্রকৃতির নিতি বিরোদ্ধ।হয়তো তখন অন্য কেউ এসে আলিসাকে নিয়ে যাবে। তাই সময়কে তার নিজের গতীতেই চলতে দেওয়াটা ভালো হবে। আল মামুনঃ- হুম বুঝলাম।  ফারহানঃ- আমি বহুরুপীকে পাঠিয়েছি কার্টোন জগতে যাওয়ার পথের খুজ করতে। যেখান থেকে কার্টোন জগতের দরজা খুলা যাবে।এতক্ষণে হয়তো সে খুজেও পেয়েছে। তখনি আকাশ থেকে বহুরুপী আর ফারহান(১)এসে নামে। ফারহানঃ- কি খবর আনলে বহুরুপী? বহুরুপীঃ- আমি সেই জায়গার খুজ পেয়েছি। আল মামুনঃ- কোথায় সেই জায়গা? বহুরুপীঃ- সেই জায়গাটা রয়েছে লন্ডনের ম্যাজিক পার্কে।যেটাকে সবাই ব্ল্যাক পার্কও বলে।  আল মামুনঃ- আর কিছু? বহুরুপীঃ- নাহ।আর কিছু জানি না। তখনি রক  বলে উঠলো আমি জানি।  ফারহানঃ- কি জানো বলো? রকঃ- সেই পার্কটা বানিয়েছিল ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান। সেখানে সে একটি কার্টোন ওয়াল্ড তৈরি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে নি।ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান পার্ক তৈরি করার পর সেখানে কার্টোন ওয়াল্ড বানানোর কাজ শুরু করে,কিন্তু তা সম্পুর্ন করার আগেই হোয়াইট ম্যাজিশিয়ান এসে তার ম্যাজিক পাওয়ার দিয়ে কার্টোন ওয়াল্ড বানানোর কাজ থামিয়ে দেয় আর ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ানের সকল পাওয়ার ছিনিয়ে নিয়ে তাকে সে কার্টোন ওয়াল্ডে পাঠিয়ে দেয়। ফাইটারঃ- আর সে কার্টোন ওয়াল্ডের কাজ থামানোর কারন হলো যদি সে কার্টোন ওয়াল্ড বানাতে সফল হতো তাহলে সেখান দিয়ে সে সকল কার্টোনদের আমাদের দুনিয়ায় আনতে পারতো আর মানুষকে কার্টোন ওয়াল্ডে পাঠিয়ে কার্টোন বানাতে পারতো।তারপর সে ই হতো পৃথিবীর একমাত্র শাসক। পৃথিবীতে মানুষ নামের কোনো প্রানীই থাকতো না। আল মামুনঃ- সে মানুষকে কিভাবে কার্টোন বানাবে! ফাইটারঃ- কোনো মানুষ কার্টোন ওয়াল্ডে গেলে সে যদি সাতদিনের আগে ফিরে না আসে তাহলে সে সবসময়ের জন্য কার্টোন হয়ে যায়। তাকে আর পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনলেও কিছু হবে না।সে কার্টোনই থেকে যাবে। ফারহান(১)ঃ- তোমরা এসব কি করে জানলে? রকঃ- হোয়াইট ম্যাজিশিয়ানই আমাদের তৈরি করেছে। আল মামুনঃ- আমরা যদি সাতদিনের আগে ফিরতে না পারি তাহলে আমরাও কার্টোন হয়ে যাবো।আমাদের হাতে মাত্র সাতদিন সময় আছে। ফারহানঃ- সাতদিন না ছয়দিন।কারন আকিসা নিখোজ আজ একদিন হলো। আল মামুনঃ- হুম। আমরা কার্টোন ওয়াল্ডে গেলাম। কিন্তু সেখানে যদি আলিসাকে না পাই তাহলে কি হবে।আর যদি আমরা তাকে নিয়ে ফিরতে এক মিনিটও দেড়ি করি তাহলে সে সারাজীবন কার্টোনই থেকে যাবে। ফারহানঃ- সেরকম কিছুই হবে না।তোমরা ফিরবে ইনশাআল্লাহ। আল মামুনঃ- ইনশা আল্লাহ। কিন্ত আপনি যাবেন না? ফারহানঃ- না।কারন অন্ধকার শক্তি যদি জানতে পারে যে আমি পৃথিবীতে নেই তাহলে তারা এই পৃথিবী আক্রমণ করতে একমিনিটও লেট করবে না। আল মামুনঃ- জ্বি৷ আচ্ছা।আল্লাহ হাফেজ ফারহানঃ- আল্লাহ হাফেজ। আল মামুন রকের পিঠে চড়ে বসলো। আর রকের পিঠ দিয়ে দুটো সাদা ডানা বের হলো। আল মামুনঃ- চলো রক ইংল্যান্ড যাওয়া যাক।রক উড়াল দিলো সাথে ফাইটারও।মাঝ সমুদ্রে বিজলীর মতো ঝলক দিলো।আর ফারহান বহুরুপীর পিঠে চড়ে ফিরে গেলো বাংলাদেশে। রক আর ফাইটারের গতি এখন যেন আরও হাজারগুন বেড়ে গেছে।মুহুর্তেই তারা পৌছে গেল ম্যাজিক পার্কে। পার্কের বাহিরে একটা সাইনবোর্ড ঝুলছে। সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা "Danger ". আল মামুনঃ- পার্কের ভিতরে চলো রক। রক ভিতরে প্রবেশ করলো। সাথে ফাইটারও। আল মামুন রকের পিঠ থেকে নামলো। আর সে তার শক্তি দিয়ে খুজতে লাগলো সেই জায়গা যেখান দিয়ে ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ানকে কার্টোনা সিটি তে পাঠিয়েছিল হোয়াইট ম্যাজিশিয়ান। কিন্তু এমন কোনো জায়গা সে খুজে পেলো না। রকঃ- আপনি শত চেষ্টা করেও সেই জায়গা খুজে পাবেন না। আল মামুনঃ- কেনো? রকঃ-কারন ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান ছিলো কালো শক্তির বাহক।আর কালোশক্তি কখনো দিনে প্রকাশ পায় না। সেজন্য আপনাকে সূর্য ডোবা অব্দি অপেক্ষা করতে হবে। আল মামুনঃ- কিন্তু আমাদের হাতে সময় খুবই কম সেজন্য আমি অপেক্ষা করতে পারবো না। রকঃ- তাছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আল মামুন হতাশ হয়ে মাটিতে শুয়ে পরলো।ফাইটার নিচে নেমে এসে একটা বিড়ালের রুপ নিলো আর রক নিলো কালো নেকড়ের রুপ। আল মামুন শুয়ে আছে।তার ডান পাশে বসে আছে রক আর বা পাশে বসে আছে ফাইটার। আল মামুনঃ- আচ্ছা, যাওয়ার রাস্তা যদি এখান থেকে তৈরি করতে হয় তাহলে আসার রাস্তাও কি এভাবে খুজে বের করতে হবে? ফাইটারঃ- না।কারন মানুষ তাদের তৈরি করেছে।তাই মানুষ তাদের জগতে যেতে পারবে আর তারা আসতে হলে মানুষের সহায়তা প্রয়োজন। আল মামুনঃ- ওওহ। আল মামুন মনে করতে লাগলো তার অতীত জীবনকে। তার অতীতটা ছিল অত্যন্ত অন্ধকারে নিমজ্জিত। তার বয়স যখন সতেরো বছর তখন সে তার বাবা- মা কে হাড়ায়। তারপর সে তার চাচার বাড়িতে যায়।দুইবছর পর তার চাচাও মারা যান।তার এক বছর পরেই চাচি সহ তার এক চাচাতো বোনও মারা যায়।তারপর থেকে সবাই তাকে অলক্ষুণে বলে ডাকতে থাকে। তার চাচাতো ভাই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় আর তার সকল সম্পত্তি জোর দখল করে নেয়।সারাদিন পথে পথে ঘুরার পরও কোনো কাজ সে পায় নি। সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। সে হাটতে হাটতে জঙ্গলে প্রবেশ করে।জঙ্গল দিয়ে যাওয়ার সময় সে একটা কুড়েঘর দেখে সেখানে যায়।ভিতরে দেখে এক বৃদ্ধ বসে বসে গাছের লতাপাতা দিয়ে কি যেন তৈরি করছে।সে গিয়ে বৃদ্ধকে সালাম দেয়।বৃদ্বের তাকে দেখে মায়া লাগে। সে বলে এই বৃষ্টির সময় এভাবে ভিজে কোথায় যাচ্ছো বাবা? আল মামুন তাকে সবকিছু খুলে বলে। বৃদ্ধ সব শুনে তাকে ভিতরে আসতে বলে। আর তাকে একটা চেয়ার দেয় বসার জন্য। তারপর বৃদ্ধ তাকে একটা সাদা আপেল দিয়ে বলে এটা খেয়ে নাও বাবা। আমার কাছে তোমাকে দেওয়ার মতো আর কিছু নেই। আল মামুন বলে, ধন্যবাদ দাদু। এতেই আমার হবে। বৃদ্ধ মুচকি হাসে। আল মামুন নিস্বন্দেহে তা খেয়ে নেয়।একবারের জন্যেও ভাবে না যে আপেল কি করে সাদা হয়। সে আপেল খাওয়ার পর তার শরীরে এক পরিবর্তন লক্ষ্য করে।তার শরীর যেন নতুন করে শক্তি পায়। পেশিগুলো ফুলে ওঠে। শরীরের প্রত্যেকটা শিরা - উপশিরা দিয়ে রক্ত যেন দশগুন গতীতে বইতে শুরু করে।সে আর দাড়িয়ে থাকতে না পেরে মাটিতে শুয়ে পরে। কাতরাতে কাতরাতে বলে, এটা আপনি কি খাওয়ালেন আমাকে। বৃদ্ধ ঃ- কিছুক্ষন কষ্ট সহ্য করে থাকো তারপর দেখবে এর কাজ। দশ - পনেরো মিনিট পর আল মামুন উঠে দাড়ায় আর সে নিজের মধ্যে এক অজানা শক্তি অনুভব করে তারপর বৃদ্ধ তাকে বলে, এটা একটা জাদুর ফল ছিল।এটা আমায় যে দিয়েছিল সে তার নাম বলেছিল হোয়াইট ম্যাজিশিয়ান। আর সে বলেছিল , প্রথম যে ব্যাক্তি তোমার কুড়েঘরে আসবে তাকে এ ফল খেতে দিও।সে এও বলেছিল যে এটা একটা ম্যাজিক ফল। আজ এগারো বছর পর তুমি এলে। তাই এটা তোমায় খেতে দিলাম। বৃদ্ধ আরও বলেন, সেই জাদুকর তোমার জন্য দুইটা জিনিস রেখে গেছে আমার কাছে। এই বলে বৃদ্ধ মামুনকে একটা কাঠের বাক্স থেকে দুইটা পুতুল দিলো।একটা ঘোড়ার পুতুল আর অন্যটা ছোট পাখির।পুতুলগুলো হাতে নিতেই তা কথা বলে উঠলো।হ্যালো মি. আই এম রক এন্ড আই এম ফাইটার। মামুন ভয় পেয়ে পুতুলগুলো ফেলে দিলো।পুতুলগুলো মাটিতে পরার সাথে সাথে বড় হতে থাকলো।একপর্যায়ে ঘোড়ার পুতুল বড় ঘোড়া আর পাখির পুতুল বড় বাজপাখিতে রুপান্তরিত হলো। এ দেখে মামুন কিছুটা ভয় পেলো।তারপর কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর সে তাদের বললো, তোমরা এভাবে বড় হলে কি করে। রকঃ- আমরা ছিলাম হোয়াইট ম্যাজিশিয়ান এর গোলাম। হোয়াইট ম্যাজিশিয়ান মারা যাওয়ার আগে তার সমস্ত শক্তি ঐ আপেলটার ভিতরে রেখে যান।আর আমাদের বলে যান যে একদিন এমন একজন আসবে যাকে লড়তে হবে সত্যের পক্ষে মিথ্যার বিপক্ষে,আলোর পক্ষে অন্ধকারের বিপক্ষে। আর তাকে সর্বদা সাহাজ্য করবে তোমরা। তারপর আমাদের কাঠের পুতুল হতে নির্দেশ দিয়ে ম্যাজিশিয়ান মারা যান।বৃদ্ধ ঃ- তাকে বাড়ির পাশেই দাফন করা হয়েছে। মামুনঃ- তা নাহয় বুঝলাম কিন্তু তিনি আমাকেই কেন বেছে নিলেন? রকঃ- তাতো শুধু তিনিই জানেন। তারপর আল মামুন রক আর ফাইটারকে নিয়ে বৃদ্ধ কে বিদায় আর ধন্যবাদ জানিয়ে সেখান থেকে চলে আসে।ফারহানের গ্রামে এসে একটা ছোট হোটেলে চাকরি শুরু করে।সেখানে সে এক নতুন জীবন শুরু করে।সারাদিন হোটেলে কাজ করে আর রাতে রকের পিঠে চড়ে ফাইটারের সাথে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ায়।এভাবে একদিন বিকালে সে নদীর পাড়ে ঘুরছিল তখনি তার দেখা হয় আলিসার সাথে।আলিসা নদীর পার ধরে হাটছিল।আল মামুন তাকে দেখে তার রুপে বিমুগ্ধ হয়ে পরে আর আলিসাও মামুনের সুঠাম দেহ, পেশিবহুল শরীর আর সুন্দর মুখমন্ডল দেখে আল মামুনের প্রমে পড়ে যায়।এরপর থেকে প্রতিদিন বিকালে আল মামুন নদীর পাড়ে যেত, আর আলিসাও আসতো প্রতিদিন।যেদিন কোনো কারনে দুজনের একজন আসতো না সেদিন অপরজন যেন দিশেহারা হয়ে পরতো।এমনি একদিন বিকালে আল মামুন একটা কাজের চাপে আসতে পারে নি। সেদিন আলিসা সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল।তারপরের দিন দুপুর গড়াতেই সে চলে আসে নদীর পাড়ে।আল মামুন যে পথে প্রতিদিন আসে সেখানে এসে চারিদিকে শুধু নিরবে যেন কাকে খুজতে থাকে আলিসা।আল মামুন আলিসার হাবভাব দেখার জন্য সেদিন দুপুরের আগেই পৌছে গেছিল নদীর পাড়ে।সারা বিকাল অপেক্ষা করার পরও আল মামুন তার সামনে যায় নি।সে দুর থেকেই দেখছিল আলিসা কি করে।সন্ধ্যার আগে আল মামুন আসেনি দেখে সে সেখানে বসে পরে আর কান্না করতে থাকে।তা দেখে আল মামুন আর থাকতে পারে নি। সে দৌড়ে গিয়ে আলিসার সামনে দাড়ায়।আলিসা তাকে দেখে বসা থেকে দাড়িয়ে আল মামুনের বুকের উপর মাথা রাখে আর দুই হাত দিয়ে তাকে শক্ত করে ধরে রাখে।আল মামুন তাকে বুক থেকে ছাড়িয়ে তার চোখের জল মুছে দেয়।তারপর তারা অনেক্ষন একে অপরের চোখের দিকে চেয়ে থাকে। যেন চোখের ভাষায় তারা কথা বলছে।কথায়ই আছে চোখ মনের কথা বলে।এক পর্যায়ে মামুন প্রথম আলিশাকে বলে, পাগলী! আলিশা আবার তার বুকে মাথা রাখে।তারপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে আলিসা বলে কাল তারাতারি আসবে কিন্তু।বল মামুন মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। তারপর তারা প্রত্যেক দিন নদীর পাড়ে আসতো। আল মামুন তাকে রকের পিঠে বসিয়ে সমগ্র বিকাল ঘুরে বেড়াতো।এক বছর পর তাদের বিয়ে হয়।ফারহান এতে কেনো বাধা দেয় নি। কারন সেও তো একা।তার বাবা-মা নেই। আর তার নিজেরও তেমন সময় নেই আলিসাকে দেওয়ার মতো।তাই আল মামুনের সম্পর্কে সব খুজখবর নিয়ে যখন জানতে পারে ছেলেটা সত্যিই এতিম তখন সে তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। বাসর রাতে আল মামুন যখন আলিসাকে বলে যে সে কোনো সাধারন মানুষ না। একথা শুনে আলিসা তেমন বিচলিত হয় নি। তখন সে বলেছিল, আমি তা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম।কারন আমিও কেনো সাধারন নারী নই। তারপর তারা দুজনে একে একে তাদের জীবনের সকল কাহিনী খুলে বলে একে অপরকে। বিয়ের পর ফারহান তাকে আর হোটেলে কাজ করতে দেয় নি। সে তাকে ফারহানের নিজের জায়গায় ফসল ফলাতে ও পশুচারন করতে বলে।আল মামুন এতে দ্বিমন পোষন।করে নি।বিয়ের অনেকদিন পর ফারহান জানতে পারে মামুন তারমতোই এক সুপার হিউম্যান।তারপর তাকে সে ইওন ফেডার উইলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। ফেডার উইল তাকে তলোয়ার চালনা ও আত্মরক্ষা করা শিখায়।আর তাকে একটা তলোয়ার উপহার দেয়। গতকাল সে ইওনের কাছে গিয়েছিল একটা কাজে। আর সে সেখানে থাকতেই ফারহান তাকে বলে যে তোমায় সাহারার কালো ধুলি আর সমুদ্রের চার রঙের পানি একত্র করে পান করতে হবে ও রক এবং ফাইটারকেও খাওয়াতে হবে।এবং তাকে এ ও বলে যে আলিসাকে কেউ কিডন্যাপ করেছে। হয়তো সে ফারহান(১) অথবা অন্য কেউ। আল মামুন তা শুনে ইওনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সাথে সাথে রওয়ানা হয়ে যায়। আল মামুন এসব ভাবছে আর আলিসার জন্য চোখের পানি ফেলছে। রকের ডাকে তার ধ্যা ভাঙ্গে। রকঃ- সন্ধ্যা হয়ে গেছে। এখন সেই জায়গা দৃশ্যমান হবে। আল মামুনঃ- ওহ হ্যা। তারপর রক আর ফাইটার নিজেদের আসল রুপে ফিরে আসে আর আল মামুন উঠে দাড়ায়।কিছুক্ষন পর সেখানে একটা কালো দরজা দেখা যায়। ফাইটার বলে,এটাই সেই দরজা।এই দরজা দিয়েই ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ানকে পাঠিয়েছিল কার্টোন সিটি তে। তারা আর দেড়ি করে না। সাথে সাথে সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে।আর পৌছে যায় কার্টোন সিটি তে। কার্টোন সিটি তে প্রবেশ করার পর তাদের নিজেদের দেহ কার্টোনে রুপান্তরিত হয়।আল মামুন তার শক্তি এই কার্টোন জগতে কাজ করে কি না তা দেখার জন্য একটা সাধারন ম্যাজিক করে।যা ছিল তাদেরকে ডোরেমনদের শহরে পৌছে দেয়ার ম্যাজিক।মামুনের জাদু ঠিকঠাক কাজ করে। তারা পৌছে যায় ডোরেমনদের শহরে।তারপর আল মামুন রকের পিঠে সাওয়ার হয়ে টানা পাঁচদিন খুজেও পায় না আলিসার কোনো হদিস না পায় নবিতাকে।যখন তারা ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে বসেছিল তখন রক কিসের যেন গন্ধ পায়। সে তা শুকে শুকে পৌছে যায় একটা বাড়ির সামনে। তাকে ফলো করে আল মামুন আর ফাইটার।কারন তারা জানে রক নিশ্চয়ই বিনা কারনে এরকম আচরন করবে না।সে বাড়িতে পৌছে রক বলে, এ বাড়িতেই মালকিন রয়েছেন। আমি এখানে তার শরীরের ঘ্রান পাচ্ছি।আর মামুন বলে, আমিও এখানে কালোশক্তির আভাস পাচ্ছি।তারা যেই বাড়িতে প্রবেশ করবে তখনি সেখান থেকে বেড়িয়ে আসে নবিতা। সে বেড়িয়ে এসে আল মামুন কে দেখে বলে,তোদের সাহস কি করে হলো আমার বাড়ির দিকে তাকানোর।এই বলে সে আল মামুনকে মায়াবী শক্তি দিয়ে আক্রমন করে।আল মামুন তা সহজেই প্রতিহত করে। এ দেখে নবিতা বলে,তুই তো দেখছি জাদুও জানিস। কিন্তু আজকের পর থেকে আর তোর এই শক্তি থাকবে না। আল মামুনঃ- হাহ! হাসালি নবিতা! তুই ভুল করে ফারহানের পেয়ে গিয়েছিলি তাতে কিছুই হতো না কিন্তু ভুলটা করেছিস আলিসাকে তোর সাথে করে এই কার্টোন জগতে এনে। আমি হলাম তার স্বামী আর অন্ধকারের জম।অন্ধকার শক্তি আমার নাম শুনলেই ভয়ে থরথর করে কাঁপে আর তুই আমায় মারবি।তাহলে আয় দেখি তোর কেমন শক্তি আছে। নবিতা হাতে একটা তলোয়ার নেয় আর মামুন তার তলোয়ার দিয়ে আক্রমন করে।নবিতা লড়ছে ফারহানের অন্ধকার শক্তি দিয়ে আর মামুন লড়ছে তার নিজের শক্তি দিয়ে। প্রায় এক ঘন্টা চলে তাদের লড়াই। এক পর্যায়ে আল মামুন নবিতাকে পরাস্ত করে তাকে মেরে ফেলে। তারপর ফারহানের(২) শক্তি নিজের কাছে এনে বাড়ির ভিতরে যায়।গিয়ে দেখে আলিসা এক রুমে বসে কাঁদছে। তাকে দেখে আলিসা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে।তারপর আল মামুন আলিসাকে কোলে করে নিয়ে রকের পিঠে উঠে বসে। আর রক তাদের নিয়ে উড়াল দেয়। এদিকে ফারহান তারা আসছে না দেখে ভাবছে আল মামুন কি আলিসাকে খুজে পেল না নাকি সে নবিতার কাছে হেরে গেল। ছয়দিন হতে আর মাত্র এক ঘন্টা বাকি।এখন কি তার যাওয়া উচিৎ নাকি সে অপেক্ষা করবে। হঠাৎ দেখলো আকাশে কি যেন উড়ে আসছে। তারপর আল মামুন আর আলিসা এসে নামলো ফারহানের সামনে। ফারহান তাদের দেখে অনেক খুশি হলো।আল মামুনকে সে ধন্যবাদ দিলো। ফারহান বললোঃ- আমি তো ভেবেছিলাম তুমি হয়তো আলিসাকে পাও নি। কিন্তু তুমি দেখিয়ে দিলে অন্ধকার শক্তি যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন সে আলোর শক্তির কাছে পরাজয় মানতে বাধ্য।কারন জয় সবসময় সত্যেরই হয়। আমি আমার নিজের রাগের কারনে নিজের মেয়েকে হারাতে বসেছিলাম। আল মামুনঃ- এটা তো আমার দায়িত্ব। নিজের বৌ কে নিজে বাচাতে না পারলে কে বাচাবে বাবা। আলিসাঃ- বাবা,আমি তোমায় অনেক মিস করেছি। ফারহানঃ- আমিও তোকে মিস করেছি রে মা। তারপর তারা ফারহানের বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। আর তারা আগের মতো জীবন যাপন শুরু করলো। সমাপ্ত #stayhome #staysafe


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ~হুমায়ূন আহমেদের সকল বইয়ের নাম।(The most Important post)
→ ~The old man and the sea-Ernest Hemingway(Book Review)
→ THE BAD DEVIL PART 2
→ °The horse and a boy° (1)
→ THE BAD DEVIL PART 1
→ The bad devil part 1
→ The Adventure of All GJ's(7 and last)
→ The unknown Boyfriend
→ The Adventure of All GJ's (6)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...