গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ধাপ্পাবাজ(৫)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (০ পয়েন্ট)



ধাপ্পাবাজঃ ক্রমিক-৫ সেই কালো দাড়িওয়ালা হুজুর, যে তার দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে শহরতলীর এক গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলেন, বহার তবিয়তেই তিনি তার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গ্রামবাসীরা তাকে একটি বাড়ীতে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি সেই বাড়ীতে বসে নিত্যনতুন গুজব জন্ম দিচ্ছিলেন আর তার ভক্ত সৈনিকেরা সেই গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছিল মুখ থেকে মুখে। হুজুর খুব সতর্কতা অবলম্বন করে কাজ করছিলেন। জনসমক্ষে না এসে তিনি তার সব কথাই তুলে দিচ্ছিলেন তার একান্ত ভক্ত অনুরক্তদের কাছে। ভক্তদের তিনি বললেন, ‘মিশরে পাপী সৈনিকদের পাপ মোচনের জন্য আমি তিন মাসের চিল্লা শুরু করেছি। এ সময় আমি একান্ত ভক্ত কয়েকজন ছাড়া আর কারো সথে দেখা সাক্ষাত করবো না। তাতে আমার ধ্যানের ক্ষতি হবে।’ হুজুর এখন বাড়ী থেকে সামান্যই বের হন। কোন দর্শনার্থী এলেও তাদের সাথে কথা বলেন না। সারাক্ষণ ধ্যানমগ্ন থাকেন। নিরবে এবাদত বন্দেগী করেন আর কেউ ছালাম দিলে ইশারায় ছালামের উত্তর দিয়ে আবার মগ্ন হয়ে পড়েন ধ্যানে। তার বিশেষ সঙ্গীদের মধ্যে সেই দু’জনও রয়েছে যারা রাস্তায় টিলার মাঝে তাকে সিজদা করেছিল। তারা এবং গ্রামের যেসব সৈন্যরা তার সাথে রমলা থেকে কায়রো ফিরেছিল সবাই হুজুরের সুখ্যাতি ছড়াতে লাগলো। হুজুরের অলৌকিক ক্ষমতার কথা শুনে দূর-দূরান্ত থেকে লোকেরা তার সাক্ষাণ লাভের আশায় সেই বাড়ী এসে ভীড় জমাতে লাগলো। হুজুরের পরিবর্তে এইসব জনতাকে সামাল দেয়ার দায়িত্ব পালন করতো সেই দুই লোক। সেদিন সন্ধ্যায় আলী বিন সুফিয়ানের এক গোয়েন্দা তার ডিউটি চালাতে গিয়ে কায়রোর সন্নিকটে সেই গ্রামে গিয়ে পৌঁছলো। গোয়েন্দাটি ছদ্মবেশে এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করে গ্রামের বড় মসজিদের কাছে চলে এলো। সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। গোয়েন্দাটি মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে প্রবেশ করলো। নামাজ শেষে মুসল্লীদের নিয়ে ইমাম সাহেব দোয়া করলেন। মোনাজাত শেষ হলে এক মুসল্লী রমলার পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলল। বলল, ‘হুজুর আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। হুজুর ঠিকই বলেছেন, জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। আইয়ুবীর ওপর নাখোশ হয়েছেন বলেই আল্লাহ এই জিল্লতি ও গজব চাপিয়ে দিয়েছেন আমাদের ওপর। কারণ আমাদের টাকা দিয়েই প্রতিপালিত হয় তার সেনাবাহিনী। আমরা টাকা দেই দ্বীনের তরক্কীর জন্য, আর সেই টাকায় প্রতিপালিত সেনাবাহিনী ময়দানে গিয়ে মেতে উঠে বর্বরতায়। ফলে তাদের পাপ তো আমাদেরকে স্পর্শ করবেই! আর পাপ করলে গজব যে নেমে আসে এ কথা কার না জানা?’ গোয়েন্দাটি মুসল্লীদের সাথে মিশে তার কথা শুনছীল, হঠাৎ প্রশ্ন করে বসলো, ‘কোন হুজুরের কথা বলছেন?’ ‘কেন, আপনি জানেন না, আমাদের গ্রামের সৈন্যরা যখন রমলা থেকে ফেরার পথে মরতে বসেছিল তখন এক কামেল হুজুর তাদেরকে মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার করে এখানে নিয়ে এসেছেন। তিনি গায়েবের খবর জানেন। জ্বীনেরা তার খাবার পৌঁছে দেয়।’ লোকটি কালো দাড়িওয়ালা হুজুর কি করে তাদেরকে বিরাণ মরুভূমি থেকে উদ্ধার করেছিল তার পূর্ণ কাহিনী বর্ণনা করে বলল, ‘হুজুর যদি সেদিন গায়েবী শক্তির দ্বারা খাবার ও পানি সরবরাহ না করতেন, তবে মরুভূমিতেই আমাদের মৃত্যু হতো। তিনা না থাকলে আমরা কোনদিনই আর বাড়ী ফিরে আসতে পারতাম না।’ গোয়েন্দা লোকটি তো বটেই এমনকি উপস্থিত সকল মুসল্লী তার কথা প্রচণ্ড আগ্রহ ও বিস্ময় নিয়ে শুনলো। তার কথা যখন শেষ হলো তখন মুসল্লীরা তাকে ঘিরে ধরে নানা প্রশ্ন করতে লাগলো। কেউ বললো, ‘তিনি কি মানুষের মনের আশা পুরণ করতে পারেন?’ অন্য একজন বললো, ‘দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের কি তিনি আরোগ্য করতে পারেন?’ কেউ হয়তো বললো, ‘তিনি কি সত্যি গায়েব জানেন? ভবিষ্যতের কথা বলতে পারেন?’ অন্য জন প্রশ্ন করে বসলো, ‘তিনি কি বন্ধ্যা নারীকে সন্তান দিতে পারেন?’ লোকটি জবাবে বলছিল, ‘তিনি সব পারেন, সব পারেন।’ গোয়েন্দা আবার প্রশ্ন করলো, ‘আইয়ুবীর পরাজয় সম্পর্কে তিনি ঠিকই বলেছেন। কথায় বলে না, পাপ বাপকেও ছাড়ে না।’ লোকটি বললো, ‘হুজুর বলেন, সুলতান আইয়ুবী ও তার সৈন্যদের মাঝে ফেরাউনী চাল চলন শুরু হয়ে গেছে। সে জন্য আল্লাহ তাদের ওপর নাখোশ হয়েছেন। আইয়ুবীর পরাজয়ের এটাই নাকি মূল কারণ। এখন যারা আইয়ুবীর পক্ষে যাবে তারা সবাই আল্লাহর ক্রোধের মধ্যে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই আমি ঠিক করেছি আমি নিজেও সেনা দলে থাকবো না এবং কাউকে সেনা দলে ভর্তিও হতে দেবো না।।’ ‘আপনি ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্তমিত সূর্যের সংগী হওয়া উচিত নয় কারো। ডুবন্ত তরীতে কে থাকতে চায়? কেউ এখন সুলতানের সেনাদলে ভর্তি হলে সে তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। যার সামান্য বুদ্ধি আছে সে কেন এমনটি করবে?’ ‘তবে হুজুর বড়ই মেহেরবান। তিনি মিশরবাসীর পাপ মোচনের জন্য তিন মাসের চিল্লায় বসেছেন। হুজুরের চিল্লা এখনো শেষ হয়নি। চিল্লা শেষ হলে তিনি বলতে পারবেন আমাদের পাপ ক্ষমা হয়েছে কিনা?’ লোকটি মসজিদ থেকে বের হয়ে বাড়ীর দিকে হাঁটা দিল। আলী বিন সুফিয়ানের গোয়েন্দা লোকটিকে অনুসরণ করে পথে তাকে পাকড়াও করে বললো, ‘ভাই, আমার একটু উপকার করবেন? আমি হুজুরের সথে একটু দেখা করতে চাই, একটু ব্যবস্থা করে দেবেন?’ ‘হুজুরের সাথে দেখা করবেন? কিন্তু তিনি তো সারাক্ষণ ধ্যাণমগ্ন থাকেন, কোন কথা বলেন, না।’ ‘ভাই, আপনি জানেন না আমি কি বিপদে আছি।’ সে তার অভিপ্রায় বর্ণনা করে বললো, ‘আমি এখনও সেনাবাহিনীতে আছি। আপনার কথা শুনে আমার মনে খুব ভয় হচ্ছে।যে সৈন্যদলের পাপের কারণে এ গজব নেমে এসেছে সে শাস্তিতো আমাকেও ভোগ করতে হবে। আমিও হলবের রণাঙ্গনে গিয়েছিলাম। আমিও সে পাপ করেছি যে কথা আপনি বলেছেন। এখন আমার কি হবে? আমার তো বাঁচার কোন উপায় নেই। আমার ওপর একটু সহম করুন। আমাকে সেই মহান হুজুরের কাছে নিয়ে চলুন, যিনি আপনাদেরকে মরুভূমিতে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে ছিলেন। লোকটি থমকে দাঁড়াল। আনিসের দিকে ফিরে বলল, ‘বলো কি! তোমার মাথার ওপর তো তাহলে সাক্ষাত যম ঘুরাফেরা করছে!’ ‘হ্যাঁ, সেজন্যই তো আমি হুজুরের মদদ চাই। তিনি যদি বলেন, তাহলে আমি সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে যাবো। আমার পাপের কাফফারা হিসাবে তিনি যা করতে বলবেন, আমি তাই করব। যদি তিনি আমাকে প্রাণে বাঁচাতে পারেন এবং পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন তবে আমি সারা জীবন তার খেদমতে নিজেকে বিলিয়ে দেবো। আল্লাহর গজবের কথা শুনে আমার অন্তরে এমন ভয় ঢুকে গেছে যে, এখন আমি আর কিছুই চিন্তা করতে পারছি না। আপনি আমাকে বাঁচান, আমাকে হুজুরের কাছে নিয়ে চলুন।’ তার কণ্ঠ থেকে করুণ অনুনয় বেরিয়ে এলো, চোখ দিযে বেরিয়ে এলো অশ্রু ধারা। গোয়েন্দাটির কণ্ঠের করুণ অকুতি দেখে লোকটির মায়া হলো। বললো, ‘ঠিক আছে, তুমি আমার সাথে চলো। কিন্তু একটা কথা, কাউকে বলবে না যে তুমি তাঁর সাথে দেখা করেছো। কারণ তিনি এখন চিল্লাতে আছেন। চিল্লায় থাকা অবস্থায় সাধারণত তিনি কারো সাথে কথা বলেন না। তবে জরুরী কিছু হলে ভিন্ন কথা।’ ‘তিনি আমার জন্য দোয়া করবেন কিনা এটা কেমন করে বুঝবে?’ ‘তোমাকে দেখে যদি তাঁর দয়া হয় তবে নিজ থেকেই তিনি তোমার সাথে কথা বলবেন। তিনি যা জিজ্ঞেস করবেন শুধু তারই উত্তর দেবে। আজেবাজে কিছু জিজ্ঞাসা করে তাঁকে বিরক্ত করবে না।’ ‘না, বিশ্বাস করুন, তিনি রাগ করতে পারেন এমন কিছুই আমি করবো না। শুধু ভয় পাচ্ছি, আমি তো পাপী মানুষ, তিনি না আবার আমাকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নেন!’ ‘আরে না, তুমি জানো না, তিনি কেমন রহমদীল মানুষ। তাঁর মহত্ব আর মোজেযা দেখেছি আমরা যারা রমলার রণাঙ্গন থেকে তার সাথে একত্রে ফিরে এসেছি। আমাদের বাঁচার কোন আশাই ছিল না। আমরা সবাই ছিলমা পাপী। কিন্তু তিনি আমাদের ঘৃণা না করে যেভাবে আমাদের বুকে টেনে নিয়েছিলেন, সেটা কেবল তাঁর মত মহৎ লোকের পক্ষেই সম্ভব। তুমি পাপী বলেই তো তিনি তোমাকে আশ্রয় দেয়ার প্রয়োজনীয়তা বেশী করে উপলব্ধী করবেন।’ ‘আপনি তো এই গ্রামেরই বাসিন্দা? তাছাড়া আপনি তাঁর সাথে কঠিন সময়ে সফর করে বেরিয়েছেন। ফলে হুজুরকে আপনি যত গভীর ভাবে জানেন সবার পক্ষে কি হুজুরকে সেভাবে চেনা সম্ভব? হুজুরের যত কেরামতি তার খবর আপনার চাইতে আর কে বেশী জানবে!’ ‘এ জন্যই তো আমি কোরআন স্পর্শ করে বলতে পার, এই হুজুর আল্লাহর অতি প্রিয় সঙ্গীদের একজন।’ লোকটি আরো বললো, ‘আমি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিশাপ দেখেছি, হয়তো অনেকেই আমার মত তা দেখেছে। কিন্তু এই হুজুর যেভাবে মরুভূমিকে শস্যক্ষেত বানিয়ে দেখিয়েছেন, আমি হলপ করে বলতে পারি, তেমনটি আর কেউই দেখেনি। সেজন্যই তো আমি আর সেনাবাহিনীতে ফিরে না গিয়ে এই হুজুরের খেদমতে জীবন পার করে দেয়ার মনস্থ করেছি।’ মসজিদ থেকে গ্রাম বেশী দূরে ছিল না। তারা কথা বলতে বলতে গ্রামে পৌঁছে গেল। ততক্ষণে গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে রাতের অন্ধকার। একটি বাড়ীর দরজায় গিয়ে লোকটি আনিসকে বল, ‘তুমি এখানেই দাঁড়াও। আমি ভেতরে গিয়ে দেখি হুজুর কি অবস্থায় আছেন। তাঁর অনুমতি পেলেই আমি এসে তোমাকে ভেতরে নিয়ে যাবো।’ বাইরে রাতের আঁধারে দাঁড়িয়ে রইলো আনিস। সঙ্গের লোকটি বাড়ীর মধ্যে চলে গেল। হুজুরের সাথে লোকটির কি কথা হলো শুনতে পেলো না আনিস। সে চুপচাপ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রইল। একটু পর ফিরে এলো লোকটি। তাকে বললো, ‘তোমার ভাগ্য ভাল, হুজুর তোমার সথে কথা বলতে সম্মত হয়েছেন।’ তার পর বললো, ‘এদিকে এসো।’ লোকটি নিজে আগে আগে চললো আর তাকে অনুসরণ করলো গোয়েন্দা আনিস। একটু পর দু’জনেই উঠান ও বারান্দা পার হয়ে এক কামরার মধ্যে প্রবেশ করলো। বারান্দায় আলো জ্বলছিল। হুজুরের কন্যা পরিচয়ে যে মেয়ে দু’টি তার সঙ্গে এসেছিল তারা ছিল অন্য কামরায়। হুজুরের কামরায় যাওয়ার জন্য উঠান পেরিয়ে ওরা বারান্দায় উঠে এলো। তাদের পায়ের ধ্বনি শুনতে পেয়ে মেয়েরা জানালা দিয়ে দেখতে গেলো কে আসছে, আর তখনি একটা মেয়ে তাদের দেখে এমনভাবে চমকে উঠলো যে, তার মুখ ফসকে বেরিয়ে এলো বিস্ময়সূচক ধ্বনি, ‘হ্! হায়!’ অন্য মেয়েটি তাকে জিজ্ঞাসা করলো, ‘কি হলো? এ লোক কে?’ ‘মনে হয় আমার ধাঁধাঁ লেগেছে।’ মেয়েটি উত্তরে বললো, ‘আমি এই লোককে কোথায় যেন দেখেছি।’ এই বলে সে গভীর চিন্তায় পড়ে গেল। গোয়েন্দা কামরায় ঢুকে কালো দাড়িওয়ালা হুজুরের সামনে সিজদায় পড়ে গেল এবং তাঁর পায়ের উপর কপাল ঠেকিয়ে ওভাবেই পড়ে রইল। হুজুর বিছানায় মখমলের চাদরের ওপর বসেছিলেন। আনিস হুজুরের পায়ের ওপর মাথা রেখে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো। তার চোখের পানির স্পর্শ পেলেন হুজুর। তিনি আস্তে আস্তে তার একটি হাত আনিসের মাথায় ওপর দিয়ে স্নেহের কণ্ঠে বললেন, ‘ভয় পাসনে। আল্লাহ তওবাকারীকে খুবই পছন্দ করেন। উঠ্ বল তোর কি সমস্যা।’ গোয়েন্দা হুজুরের পায়ের ওপর থেকে মাথা তুলে গদগদ কণ্ঠে বললো, ‘হুজুর, আমি পাপী। আল্লাহর গজব আমাকে ঘিরে ফেলেছে। আমাকে বাঁচান।’ তার কণ্ঠে ব্যাকুলতা। গোয়েন্দা নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে বলল, ‘আমরা জঘন্য পাপে জড়িয়ে পড়েছিলাম। সেই পাপের শাস্তি দেয়া শুরু হয়ে গেছে। আপনার দোয়া ছাড়া এই পাপের শাস্তি থেকে কেউ রেহাই পাবে না। একমাত্র আপনিই পারেন শাস্তির হাত থেকে আমাদের বাঁচাতে, যেমন মরুভূমিতে আপনি দয়া করে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন এই প্রামের পাপী সৈনিকদের। আপনি যদি আমাকে এই বিপদ থেকে বাঁচান, সারা জীবন আমি আপনার গোলাম হয়ে থাকবো। আল্লাহরওয়াস্তে আমার ওপর রহম করুন। আমাকে মুক্ত করুন আমার পাপ থেকে।’ তার চোখে অশ্রু টলমল করছিল। আনিসের কথা আর কণ্ঠের কাকুতি শুনে হুজুর হাতের তসবিহ তার মাথার ওপর রেখে হেসে উঠে বললে, ‘যুবক, প্রায়শ্চিত্য না করলে যে তোমার পাপ মোচন হবে না।’ ‘আপনি আমাকে যা খুশী শাস্তি দিন।’ আনিস চোখের অশ্রু ছেড়ে দিয়ে বললো, ‘আপনি আমাকে আদেশ করুন যাতে আমি আপনার আদেশ পালন করে আমার পাপের প্রায়শ্চিত্য করতে পারি। আমার একটি মাত্র সন্তান আছে, আপনি হুকুম দিলে আমি তাকে আপনার পদতলে সোপর্দ করবো। আপনি আদেশ দিলে আমি সুলতান আইয়ুবীকে হত্যা করার জন্য ছুটে যেতেও দ্বিধা করবো না। আমাকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন জানতে পারলে আমি আপনার যে কোন আদেশ ও শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত। আপনার আদেশ পালনে আমি কখনোই কোন অবহেলা করবো না। আপনি কিছু বলুন! কিছু আদেশ করুন! দেখুন আমি আপনার জন্য কি করতে পারি।’ গোয়েন্দা যখন কথা শুরু করেছিল, সে সময় এক লোক কামরায় প্রবেশ করে দেখলো আনিস হুজুরের পা ধরে বসে আছে। আনিসের কথা শুনে সে লোক বললো, ‘তুমি এত উতলা হচ্ছো কেন? এখন তো তুমি মুরশিদের ছায়ায় বসে আছো।’ ‘আমার পাপ এত বেশী যে, পাপের চিন্তায় রাতে ঘুমাতেও পানি না।’ আনিস বললো, ‘আমি হিম্মতের কাছে এক গ্রামের এক মুসলিম পরিবারের সুন্দরী এক মেয়েকে কিডন্যাপ করতে গিয়ে তার ছোট ভাইকে হত্যা করে ফেলি। যদি আমি সেনাবাহিনীর লোক না হতাম তবে গ্রামের লোকেরা আমাকে টুকরো টুকরো করে ফেলতো। কিন্তু আমার হাতে অস্ত্র আর পরণে সেনাবাহিনীর পোশাক থাাকায় আমাকে কেউ কিছু বলার সাহসও পায়নি।’ তার কথা শুনে হুজুর চোখ বন্ধ করে ফেললেন। আনিস তাকিয়ে দেখলো হুজুরের ঠোঁট নড়ছে। সহসা তিনি তার হাত দু’টি উপরে তুলে গুম মেরে বসে রইলেন। একটু পর তিনি হাত নামিয়ে চোখ খুললেন। গভীর দৃষ্টিতে তাকালেন আনিসের দিকে। কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে একটু হেসে বললেন, ‘অনেক বিপদের ঝুঁকি নিয়ে তুমি আমার কাছে এসেছো। এবার আমার কথা মনো যোগ দিয়ে শোন। আমি তোমার গোনাহখাতা মাফ করিয়ে দেবো, তবে এখন নয়। তুমি আগামী কাল আবার এখানে আসবে। কিন্তু তুমি যে এখানে এসেছো এ ব্যাপারে কারো সাথো কোন আলোচনা করবে না। যদি তেমন কিছু করো তবে তুমি তো ধ্বংস হবেই, সেই সাথে তোমার বংশও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’ হুজুর আরও বললেন, ‘কাল সন্ধ্যায় এই লোকের সথে গ্রামের বাইরে মসজিদের ওখানে দেখা করবে। সে তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। তোমার কপালে স্পষ্ট লেখা আছে, তোমার পাপরাশি ক্ষমা হয়ে যাবে এবং তোমার ও তোমার বংশের সবার উপার্জন ও রুজি এত বেড়ে যাবে, যা তুমি স্বপ্নেও কল্পনা করোনি। এখন তুমি চলে যাও, কাল আসলে আমি তোমার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করবো।’ কথা শেষ করে হুজুর আবার মুরাকাবাতে চলে গেলেন। রমলা থেকে ফিরে আসা সৈনিক ও অন্য লোকটি আনিসকে নিয়ে বাইরে এলো। তাকে উঠানে দাঁড় করিয়ে অনেক্ষণ হুজুরের মহিমা ও মোজেজার কথা বলে তাকে একেবারে অভিভূত করে ফেলল। এই ফাঁকে মেয়ে দু’টি জানালার পাল্লার আড়াল থেকে তাকে আবারো দেখলো। যে মেয়েটি প্রথম তাকে দেখে আৎকে উঠেছিল সে তার সঙ্গী মেয়েটিকে আবারো বললো, ‘একে আমি আগেও কোথাও দেখেছি। এটা আমার দৃষ্টিভ্রম নয়, এই সে ব্যক্তি, যার ছবি আমার বুকে এখনো খোদাই করা আছে। কিন্তু ঠিক কোথায় দেখেছি মনে করতে পারছি না।’ ব্যাপারটা ঠিক সেই আগের ঘটনার মতই মনে হচ্ছে, যে কেসটা আমরা পূর্বেও ধরেছিলাম।’ গোয়েন্দা প্রধান আলী বিন সুফিয়ান আনিসের কাহিনী শুনে বললেন, ‘ঠিক সেই মুরাকাবা, সেই চিল্লা ও জ্বীন বশীভূত করে লোকদের মনে ভয় ও ভক্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা, মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে তাদের তাবেদার বানানোর খেলা।’ গোয়েন্দা বলল, ‘সে মসজিদের মুসল্লীদের জড়ো করে সৈন্যদের বিরুদ্ধে এমন সব উস্কানীমূলক কথা বলছিল, যা শুনলে যে কেউ বুঝবে, এ লোক পরিকল্পিতভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’ ‘এতেই প্রমাণ হয়ে গেয়ছে, সে একা নয়। তার সাথে আরও অনেকেই আছে, যারা মসজিদে গিয়ে তার মতই মুসল্লীদেরকে সৈন্যদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে। এটা একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। নাটের গুরু ও হুজুর। আর তার শাগরেদ হয়ে এ কাজ করছে দুশমন গোয়েন্দারা। আর এদের টোপ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে যুদ্ধে ফেরত মূর্খ কিছু সৈনিক ও হুজেরুর অন্ধ ভক্তকূল। যারা আবেগ তাড়িত এবং হয়তো অনেকেই জানেও না তারা কি করছে।’ (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...