গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

★আমি হিমু(৩য় পর্ব)★

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইম আরাফাত(হিমু) (৪১১ পয়েন্ট)



-----------আসসালামু আলাইকুম----------- -------লেখকঃ সাইম আরাফাত(হিমু)------- পর দিন সকাল বেলা মেসে ফিরলাম।মেসে ফেরার সময় মেসের রান্নার বুয়া রহিমার সাথে দেখা।তিনি সালাম দিয়ে বললেন,হিমু ভাই,কেমুন আছুইন? —ভালো। —হিমু ভাই,আপনার রুমে একজন লোক বইস্যা আছে।আমি জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন,আমি হিমুর বন্ধু। আমি বললাম,তার কি জান? —আপনের বন্ধু আপনে নাম জানবেন।আমি কেমুন করে জানব? লোকটা কথা কয় বেশি তয় লোকটার মন ভালা। —তুমি কেমন করে জানলে তার মন ভালো? রহিমা তার পান খাওয়া লাল দাঁতগুলো বের করে বলল,আমারে তিনি কইল একগ্লাস শরবত খাওয়াতে।আমি শরবত আইনা দিলাম।তিনি শরবতটা খাইয়া কইল কি রহিমা তোমার হাতের শরবত তো একেবারে ফাস্ট কেলাস,,তুমি তো অনেক ভালো শরবত বানাও।আমারে এত ভালো শরবত খাওয়ানোর লাগি তোমারে আমি খুশি ২০ টাকা দিলাম। রহিমার ২০ টাকার নোট বের করে দেখাল। আমি বললাম,ঠিক আছে তুমি যাও। রহিমা চলে গেল।আমি রুমে ঢুকলাম।রুমে ঢুকে দেখি রফিক চৌকিতে পা তুলে আরাম করে চা খাচ্ছে। আমাকে দেখেই বলল,সেই কখন থেকে বসে আছি আর তুই এখন এলি? আচ্ছা ছাড় তোকে একটা খবর দিতে এসেছিলাম। —কি খবর? —সামনে মাসের পাঁচ তারিখ আমার বিয়ে। —সেকি? তোর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে? —এমন ভাব করছিস যেন বিয়ে করা কোনো বিরাট অপরাধ।আচ্ছা শোন বেশি কথা বলব না,আর একসপ্তাহ পরই বিয়ে কেনা-কাটা করতে হবে,বেশি সময় নেই।তুই কিন্তু পাঁচ তারিখ ঠিক চলে আসবি। —ঠিক আছে। ,—আমি এখন যাই। —চা খাবি? —অলরেডি পাঁচকাপ চা খেয়ে ফেলছি আর খাব না। রফিক চলে গেল।আমি গিয়ে চৌকিতে বসলাম।আমি ভাবছি রফিকের বিয়েতে কি আমি যাব? না আমি যাব না।আমি হিমু।হিমুরা বিয়ে করে না এবং তার বিয়ে শাদী থেকে নিজেদের দূরে রাখে।এ প্রসঙ্গে আমার বাবার বিখ্যাত বাণীঃ "পুত্র হিমু! তোমাকে নিয়ে আমার অনেক আশা।আমি স্বপ্ন দেখি তুমি একদিন মহাপুরুষ হবে।তাই তোমাকে একটা অমূল্য উপদেশ দিচ্ছি। তুমি নিজেকে বিয়ে নামক জিনিস থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে এমনকি কোনো বিয়েতেও অংশ নিবে না কারন একটা কথা মনে রাখবে মহাপুরুষরা কখনো বিয়ে করে না এবং যাবতীয় পার্থিব জিনিস থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে।অতএব আমি আশা কনব তুমি নিজেকে এসব পার্থিব জিনিস থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে"। এই বাণীটা আমার বাবার " অমূল্য উপদেশ বাণী" খাতার ৬৭৬ পৃষ্টায় আছে। আমি শুয়ে পড়লাম।গতকাল বৃষ্টিতে ভিজায় জ্বর এসে গেছে। মাথাটা প্রচন্ড ব্যথা করছে।চোখে সব ঝাপসা দেখছি।মনে হচ্ছে কেউ আমাকে হাত বাড়িয়ে ডাকছে কিন্তু আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি না।কে ডাকছে আমায়? কে? আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম। মনে৷হচ্ছে কেউ যেন মাথায় পানি ঢালছে।কিন্তু কে পানি ঢালছে? রূপা নয়ত।না এটা রূপা না।রূপার গায়ের গন্ধ আমার চেনা,এই গন্ধ আমার অচেনা।তার মানে এটাররূপা নয় কিন্তু কে? জানি না কতক্ষণ পর জ্ঞান ফিরল।চোখ মেলে দেখলাম জয়নাল সাহেব আমার পাশে বসে মাথায় বুলিয়ে দিচ্ছেন।আমি চোখ মেলতেই তিনি বললেন,এখন কেমন লাগছে,হিমু ভাই? —ভালো।কিন্তু আমি এখাসে কেন? —আপনি দুইদিন জ্বরে অজ্ঞান হয়ে ছিলেন।পরে অবস্থা খারাপ দেখে আমি আপনাকে হসপিটালে নিয়ে এলাম।ডাক্তার বলছে আপনি এখন পুরোপুরি সুস্থ, আজকে ছাড়া পাবেন। —ধন্যবাদ জয়নাল সাহেব। —ছিঃ ছিঃ ভাই সাহেব,আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে লজ্জা দিবেন না।আপনি আমার মেয়েটার যে উপকার করলেন। —শুনেন জয়নাল সাহেব,আমি কোনো মহাপুরুষ না।আমি যদি আপনার মেয়ের জন্য দোয়া নাও করে দিতাম তাহলেও ঐ দিনই আপনার মেয়ের বিয়ে ঠিক হতো।আমি আপনার মতোই একজন সাধারন মানুষ। —ভাই সাহেব,আপনি সবাইকে বোকা বানাতে পারেন কিন্তু আমাকে পারবেন না।আমি জানি আপনি সাধারন কেউ না। আমি বললাম,জয়নাল সাহেব, একটা সগারেট দিন তো। জয়নাল সাহেব প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে দিলেন।আমি সিগারেট নেয়ার জন্য বেড থেকে উঠে দাঁড়ালাম।এখন শরীরটা ভালো লাগছে,মাথা ব্যাথাও নেই। আমি সিগারেট হাতে নিয়ে বললাম,জয়নাল সাহেব,আমি যাই।আমার কাজ আছে। —ঠিক আছে। আমি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামলাম।রূপাকে ফোন করতে হবে।তাই একটা টেলিফোন বুথ খুঁজছি।একটা ঔষুধের ফার্মেসিতে ঢুকলাম।ফার্মেসির লোকটা আমার দিকে কেমন সরু চোখে তাকাল।আমি বললাম,ভাই একটা টেলিফোন করব।টেলিফোনটা দিন তো। লোকটা টেলিফোন এগিয়ে দিল।আমি রূপার নাম্বারে ডায়াল করলাম।অনেকক্ষণ রিং হওয়ার পর কেউ একজন ফোন তুলল। আমি খুশি খুশি গলায় বললাম,হ্যালো,রূপা? ওদিক থেকে কেউ একজন বলল,না রূপা বাাসায় নেই।এখন ফোন রাখতে পারেন। বুঝতে পারছি ফোন রূপার বাবা ফোন ধরেছে।ভদ্রলোক দারুন মিথ্যা কথা বলেন।আমি বললাম, আমি রূপার বন্ধু, প্লিজ রূপাকে একটু দেন,খুবই আর্জেন্ট। —বললাম তো রূপার বাসায় নেই।ফোন রাখ। আমি ফোন রেখে দিতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ ওদিক থেকে রূপার গলা শুনতে পেলাম,কে? হিমু? —হুম,রূপা কেমন আছ? —আমি কেমন আছি না আছি তাতে কি আদৌও তোমার কিছু যায় আসে? —এমনভাবে কথা বলছ কেন,রূপা? তুমি কি আমার উপর উপর রাগ করেছ? —রাগ,অভিমান,ভালোবাসা এসব তো তারই উপর করা যায় যে এসব বুঝে। তুমি এসব কি বুঝবে? তুমি শুধু বুঝ মানুষকে কষ্ট দিতে আর বিভ্রান্ত করতে।তোমার উপর রাগ, অভিমান করা কবেই ছেড়ে দিয়েটি।এখন বলো কেন ফোন করেছ? —এমনিই। —তুমি এমনি এমনি ফোন করেছ এটা হয় না,নিশ্চয় তোমার কোনো উদ্দেশ্য আছে।তুমি উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো কাজ কর না। শুনলাম তুমি নাকি অসুস্থ ছিলে? —হুম।তুমি জানলে কি করে? —তুমি কি ভেবেছ আমি তোমার ব্যাপারে কোন খোঁজ-খবর রাখি না? তুমি কখন কি করছ সবকিছু আমি জানি। —তাই নাকি? —হুম। রূপা কিছু একটা বলতে চাইছিল কিন্তু তার বাবা তার হাত থেকে ফোনটা কেরে নিল। আমি টেলিফোন নামিয়ে ফার্মেসির লোকটার দিকে তাকিয়ে বললাম,ভাই কত টাকা হয়েছে? —আপনাকে টাকা দিতে হবে না। —কেন? —হিমু ভাই,আপনি বোধহয় আমাকে চিনতে পারেন নি।কিন্তু আমি আপনাকে ঠিকই চিনেছি।মাস তিনেক আগে রাত বারটায় আপনার সাথে আমার আমার ফার্মগেটে দেখা হয়েছিল।তখন আমার বউয়ের ডেলিবারি কিন্তু আমার সব টাকা চিনতাইকারিরা নিয়ে গেছিল।ঠিক তখনই আপনি ফেরেশতার মতো এমে আমাকে ২০০০০ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।আমি আপনার কাছে চিরঋনী, ভাই সাহেব। —ওও আচ্ছা। আমি ফার্মেসি থেকে বের হয়ে এলাম। এখন বাজে রাত একটা।আমি রাস্তায় নেমে পড়লাম হাঁটার জন্য।এই সময় রাস্তায় কেউ থাকে না।মাঝেমাঝে কয়েকজনকে দেখা যায়, তারা রাতের বেলায়ও চোখে চশমা পড়ে,গরমেও কোট পড়ে,এরা শুধু রাতের বেলা ঘেরে বেড়ায়।কিন্তু তাদের দেখা যায় না।তারা মানুষ হতে পারে না।তবে তারা কী? তারা অন্য কিছু যাদের নাম আমার জানা নেই।আমি তাদের নাম দিলাম "নিশাচর"। [আমাদের এখানে প্রচন্ড ঝড় হচ্ছে।এইসময় করার মতো কিছু পাচ্ছি না।তাই হিমুকে নিয়ে লিখতে বসলাম।কি লিখলাম নিজেও জানি না।আমি জানি বাকি পর্বগুলোর থেকে এটা খুব বাজে হয়েছে,,তবুও ভুল হলে ক্ষমা করে দিবেন।]♥♥


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ★আমি ফারিহা তাছনিম ঐশী★

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...