গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ভারত অভিযান (১ম খন্ড)

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ(guest) (৩৬৭৬ পয়েন্ট)



ভারত অভিযান(১ম খন্ড) এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ পর্বঃ৩ ***ইসলাম বলে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নাই।কেউ কারো প্রভু অথবা গোলাম নয়,টাকায় বিক্রি হওয়া পন্য নয় মানুষ।আল্লাহর জমিনে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করবে মানুষ। নিজের মর্জি মতো মানুষের উপর প্রভুত্ব করার অধিকার কোনো শাসকের নাই।শাসক প্রভু নয় সেবক।আমি যদি মুসলমান না হতাম , আমার মনে যদি ইলম আমলের তৃষা সৃষ্টি না হতো,তাহলে হয়তো আজো গোলামই রয়ে যেতাম,এসম্মান ও ক্ষমতার আসনে পর্যন্ত পৌছা সম্ভব হতো না আমার। সবুক্তগীন বলল,আমার আম্মু আমাকে বলতেন, তুমি বড় হলে অনেক সুনাম কুড়াবে।তোমার তরবাড়ির আঘাতে মিথ্যা অপসারিত হবে।তিনি আমাকে কুরআনের সেই আয়াত সম্পর্কে বলতেন যা ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম তার পিতাকে বলেছিলেন,"আপনি সেই জড় পদার্থের পুজা করেন যেগুলো শোনেনা,বলতে পারে ,কিছু করতে পারে না।আপনি আমার সাথে আসুন।আমি আপনাকে সঠিক পথে নিয়ে যাবো।" আর আমার মা আমাকে বলতেন,"তুমি সে সব মুর্তি পূজারীদের সেই পবিত্র মাবুদের পথ দেখাবে যিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল সাঃ।" আমার মায়ের এসব কথা শুনে আব্বা বলতেন ,"তোমার মায়ের আকীদা সঠিক, কিন্তু তার আকাঙ্ক্ষা অলীক।" কারণ, গরীবের সন্তান সুখ্যাতি পায় না, ওদের মধ্যে সত্যনিষ্ঠ , বীরত্ব থাকে না,তারা হয় পরমুখাপেক্ষী ও কাপুরুষ।সুখ্যাতি অর্জন করতে হলে বীরত্ব সত্যনিষ্ঠ হতে হয় এবং শাসক রাজা বাদশাদের সাথে মোকাবেলায় অবতীর্ণ হতে হয়।নিষ্ঠা দিয়ে মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে হয়। কিন্তু গরীবের সন্তানদের চরিত্রে এসব বৈশিষ্ট্যর সমন্বয় ঘটে না,ঘটতেই পারে না,সৎ গুনাবলি অর্জনের সুযোগ তারা পায় না ।" আলপ্তগীন বললেন,তবে আমি বিশ্বাস করি, গরীবের সন্তান ও বড় হতে পারে ।কেন পারবে না ,আরবের বেদুইন  উট ও মেঘ রাখালরা যদি সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে অর্ধ পৃথিবী রাজত্ব করতে পারে তাহলে তুমি কেন পারবে না?বুঝতে হবে যাযাবরদের সন্তান এবং গোলাম হওয়ার‌ পরও তুমি এখন আমার সাথে পাশাপাশি বসে আছো। কোনো জাত গোলাম এমনটি স্বপ্নেও ভাবতে পারে না।আমার মনে হয়, তোমার মায়ের স্বপ্ন সফল হবে। তোমার বিশ্বাস,আস্থা ,কর্মনিষ্ঠা তোমাকে এ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।আমি তোমার মধ্যে বিপুল সম্ভবনা দেখতে পাচ্ছি। তুমি যদি চেষ্টা করো তাহলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে অবশ্যই । আমার নিজের জন্য কোনো চাহিদা নেই। কোনো পদ-পদবীর আগ্রহ ও আমার নেই।তবে আমি অবশ্যই একটা কিছু প্রত্যাশা করি, কিন্তু কি সেটা বোঝাতে পারবো না।বলল সবুক্তগীন। হেসে ফেটে পড়লেন আলপ্তগীন। বললেন,এমন অবস্থা আমারো গেছে।আমিও বুঝে উঠতে পারতাম না আমার কি করা উচিত।সময়ই আমাকে বলে দিয়েছে আমার কি করণীয় ও কর্তব্য। তুমি ও অচিরেই বুঝতে পারবে কি তুমি চাও ,কি তোমাকে করতে হবে।আজ থেকে তুমি নিজেকে আর গোলাম মনে করো না ।এখন থেকে তুমি স্বাধীন। শুধু স্বাধীন নও,আমার প্রশাসনের একজন জিম্মাদার ব্যক্তি। সবুক্তগীনের হৃদয়ে ছিলো এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।মিথ্যাকে দূর করে সত্যের বিজয় কেতন উড়ানো, মানুষের বিশ্বাসের নোংরামি দূর করে তাদের সঠিক পথের দিশা দেওয়া এবং সুন্দরের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করা জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা তার হৃদয়ে যেন অগ্নুৎপাত ঘটাতে চাইত কিন্তু পরিস্থিতি তাকে দমিয়ে রাখতো। এতটুকু সে বুঝতো ,একটা নির্ভেজাল, সুন্দর সত্য দিন দিন তার পুষ্ট হচ্ছে,বেড়ে উঠছে। তারুণ্য যৌবনের তারণা তার মাঝে ছিলো না ,এমন নয় কিন্তু তা কখনো তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারতো না।সে প্রচন্ড ভাবে অনুভব করছে বিপ্লব  তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এক যুদ্ধ বিজয় তার হৃদয়ে তোলপাড় শুরু করে দিয়েছে। পড়দিন পড়ন্ত বিকেলে আস্তাবল থেকে একটি তেজী ঘোড়া নিয়ে ভ্রমনের জন্য বেড়িয়ে গেলো।শহর থেকে বেরিয়ে সবুক্তগীন ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসল এবং জোড়ছে ঘোড়া ছুটালো।ধুলি উড়িয়ে উদ্ধশ্বাসে ছুটে চলল সওয়ারী। হঠাৎ তার কানে ভেসে এলো নারী কন্ঠের আর্তনাদ।ঘাড় ফিরিয়ে দেখলো ,এক সওয়ারী ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যাচ্ছে,লাগামহীন ঘোড়া ছুটছে,ঝুলে রয়েছে মহিলা আরোহী।সবুক্তগীন বুঝতে পারলো ,ঘোড়ার জীন ঢিলে হওয়ায় সওয়ারী এদিক সেদিক ফেলে পড়ছিলো।ঘোড় এই সুযোগে সওয়ারীকে  ফেলে দিয়েছে।মগড়া স্বভাবের ঘোড়া সাধারণত এরকমই করে থাকে অথবা সওয়ারী এদিক ওদিক ফেলে পড়ার কারণে ঘোড়া ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে সওয়ারী ফেলে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে এ কান্ড করেছে।সবুক্তগীন তার ঘোড়া মহিলার দিকে ছুটালো। ঘোড়াটি এলোপাথাড়ি দৌড়াচ্ছিলো। মহিলা শুধু চিৎকার করছিলো আর বলছিলো,রিকাব থেকে আমার পা ছাড়িয়ে দাও,লাগামটা ছিড়ে ফেল। কিন্তু ভরকে যাওয়া ঘোড়া ওর পিছনে অন্য সওয়ারীর আগমনে বেসামাল হয়ে এদিকে ওদিকে একে বেঁকে প্রাণপণে পলায়নের চেষ্টায় দ্রুত গতিতে দৌড়াতে শুরু করলো।পাশেই ছিলো বহতা নদী। দিকভ্রান্ত ঘোড়া শেষ পর্যন্ত নদীর দিকেই ধাবিত হলো।সবুক্তগীন নিজের ঘোড়াকে আরো তীব্র বেগে ছুটালো। বিদ্যুৎ বেগে তার ঘোড়া পলায়নরত ঘোড়াকে তারিয়ে ছুটলো।এক পর্যায়ে সবুক্তগীনের ঘোড়া মহিলার ঘোড়ার গতিরোধ করতে আগে বেরে পথ রোধ করতে চাইলো।সবুক্তগীন তখন লক্ষ্য করলো,এতো সাধারণ কোনো মহিলা নয়।এতো আমীর বা রাজকন্যা হবে।উদ্ভিন্ন যৌবনা,উর্বশী তরুণী।মাথার চুল এলোমেলো হয়ে তার চুল ঢেকে ফেলেছে।ওড়না রেকাব আর লাগামে পেঁচিয়ে বেচারীর দুর্দশা আরো বাড়িয়েছে।সবুক্তগীন চকিতে হাত বাড়িয়ে রেকাবে আটকে যাওয়া তরুনীর পা ছড়িয়ে দিলো এবং ত্বরিৎ গতীতে তরুণীর ঘোড়ার লাগাম ওর মুখের কাছে থেকে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিলো।তরুণীকে সে নির্দেশের স্বরে বলল, তুমি লাফ দিয়ে আমার ঘোড়ায় উঠে আস। মুখের কথা শেষ না হতেই সে নিজের ঘোড়া থেকে নেমে ওই ঘোড়াটাকে বাগে আনার চেষ্টা করলো।ইত্যবসরে তরুণীর ঘোড়া হেঁচকা টান মেরে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়লো।টানের তীব্রতা সামলাতে না পেরে তরুণীও ছিটকে পড়লো পানিতে। পাহাড়ী নদী । প্রচন্ড স্রোত।তরুণী পানিতে পড়ে হাবুডুবু খেয়ে সাঁতরাবার চেষ্টা করছিলো।ঘোড়া ওকে ফেলে থমকে দাঁড়ায়।সবুক্তগীন পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তরুণীকে উদ্ধার করতে।তার ধারণা ছিলো তরুণী হয়তো সাঁতরে উঠতে পারবেনা।সে তরুণীকে নিজের কাঁধে তুলে তীরে রাখা ঘোড়া দুটিকে ধরে এনে এক সাথে দাড় করালো।এমন দূরাবস্থার শিকার হয়ে যে কোনো তরুণীর ঘাবড়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু তরুণী ভীত হওয়া তো দূরে থাক সবুক্তগীনের দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠলো। তুমি বোকা না দুঃসাহসী! আজ তোমার মৃত্যু অবধারিত ছিলো।বলল সবুক্তগীন। আমি এমন বাপের বেটি যিনি বোকা নন,সাহসী।বলল তরুণী।আমি বুখারার শাসক আলপ্তগীনের কন্যা।চলো,তোমাকে পুরষ্কার দেবো। তুমি আমাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছো। না,আমার এই পুরস্কারই যথেষ্ট যে,আমার শুভাকাঙ্ক্ষীর কন্যাকে মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার করেছি।আমি তোমার ঘোড়ায় জীন বেঁধে দিচ্ছি। তরুণী আর সবুক্তগীনের মধ্যে বয়সের ব্যবধান তেমন নয়।উভয়েই তরুণ।টগবগে যুবক যুবতী।তরুণী প্রাণোচ্ছল,সুদর্শনা ,পটল চেড়া চাহনী,মসৃন ত্বক ও লাবণ্যময় চেহারার অধিকারী।সবুক্তগীনের গায়ের রং পোড়ানো তামাটে হলেও তার দেহের গড়ন পৌরুষদীপ্ত,সুঠাম ও আকর্ষণীয়।উভয়ে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে পাশাপাশি বাড়ির দিকে রওনা হয়েছে।পথে যেতে যেতে তরুণী যুবককে জিজ্ঞেস করে জেনে নিলো ,কি তার পরিচয়,তার ঠিকানা কোথায়। সবুক্তগীন তার জীবন ও এখানে আগমন বৃত্তান্ত অতি সংক্ষেপে তরুণীকে বলল। রাতে আব্বা তোমার কথাই বাড়িতে আলোচনা করছিলেন।তিনি হয়তো সেনাবাহিনীতে তোমাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দান করবেন। নিজের সেনাবাহিনী! সেনাবাহিনী তার হয় কি করে? সেনাবাহিনী তো থাকে কেন্দ্রীয় শাসকের অধীনে! তোমার কথা ঠিক, কিন্তু আব্বা হয়তো অন্য কিছু ভাবছেন। তিনি হয়তো হুকুমত নিজের কব্জায় নিতে চাচ্ছেন।এ জন্য বুখারাতে যে সেনা ইউনিট রয়েছে এদের মধ্যে নিজস্ব লোকের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন।তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় শাসন এখন শিথিল হয়ে গেছে,তারা আরাম আয়েশ ও ভোগ বিলাসে ডুবে আছে।এরা ধর্ম সম্পর্কে কটুক্তি করছে,ধর্ম সম্পর্কে এদের অনাস্থা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।তিনি এই জমিনে প্রকৃত ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় একান্ত আগ্রহী।গত রাতে তোমার সম্পর্কে বলছিলেন,যুবকটি খুবই বুদ্ধিদীপ্ত ও কুশলী। বাড়ির সদর গেটে উচ্চ পদবীর এক লোককে তারা অতিক্রম করছিলো।লোকটি তরুণী ও সবুক্তগীনকে গভীর দৃষ্টিতে নিরীক্ষণ করছিলো। তরুণী ও সবুক্তগীন উভয়ের কাপড় ভেজা ,তখনো কাপড় থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছে। তরুণীর ভেজা কাপড় সেটে গিয়েছিলো গায়ের সাথে।তার নারী অঙ্গগুলো প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে সিক্ত বসনে।মাথার চুল গুলো ছড়ানো পিঠে কাঁধে।তার চেহারা রক্তিম।রাগে গড়গড় করছিলো লোকটি।চোখ থেকে যেন আগুন ঠিকরে বেরোচ্ছে।উভয়ে লোকটির কাছে গিয়ে ঘোড়া থেকে নেমে পড়লো। কোথা থেকে আসা হচ্ছে? ক্ষুব্ধ কন্ঠে তরুণীর দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো লোকটি।এই ছোকরা কে? হুম,আপনি কে যে হাকিমের মতো জেরা শুরু করেছেন?তাচ্ছিল্যের সুরে জবাব দিলো তরুণী ।আমার ঘোড়া বেসামাল হয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে,রেকাবীতে পা আটকে আমি পড়ে যাচ্ছিলাম।এ লোক আমাকে উদ্ধার করেছে।বুঝলেন হাকিম সাহেব।কিছুটা তাচ্ছিল্যে বর্ষণ করে তরুণী সবুক্তগীনের বাজু ধরে ভিতরে নিয়ে গেলো। এ লোক কে?তরুণীকে জিজ্ঞেস করলো সবুক্তগীন। আমার বাগদত্তা।এখন থেকেই আমার ওপর কর্তৃত্ব চালাতে চাচ্ছেন।কথায় কথায় হুকুম করেন,আগ বেরে খবরদারী চালান।কিছুটা শ্লেষমাখা কন্ঠে বলল তরুণী। তুমি একে পাত্তা দিয়ো না ।ভয় করার ও কিছু নেই। হঠাৎ তরুণী সবুক্তগীনের বাজু ধরে বলল,তোমার কি স্ত্রী আছে, তুমি কি বিবাহিত? না।বলল সবুক্তগীন। কোনো মেয়েকে কি তোমার পছন্দ হয়নি? কারো সাথে কি তোমার ভাব নেই? না, মেয়েদের প্রতি আমি কখনো দৃষ্টি দেইনি।এই সুযোগ ও আমার নেই। তরুণী আবেগপ্রবণ হয়ে বলল,আমাকে কি তোমার ভালো লাগছে না? নিরুত্তর সবুক্তগীন।তরুণীর কথায় সে দৃষ্টি অবণত করে ফেলল। হু, তুমি আমাকে বেহায়া মনে করছো,তাই না?বলো,বলো সবুক্তগীন!যদি তুমি আমাকে বেহায়া আর বখাটে মেয়ে ভেবে থাকো তাহলে আর কখনো তোমার দৃষ্টিসীমায় আসবো না। তোমাকে ভালো লাগা না লাগার কি আছে, তুমি তো আরেকজনের বাগদত্তা! এটা আমার পারিবারিক পছন্দ। **ওই মরদটাকে আমি একদম সহ্য করতে পারি না।সে আমাকে দাসী বানাতে চায়।সে আমাকে ঘোড় সওয়ারী হতে বারণ করে।সে চায় আমি শুধু তার হেরেমের শোভা বর্ধন করি।চার দেয়ালের ভেতর আবদ্ধ হয়ে থাকি।ওসব আমার অসহ্য। ***আমি চাই এমন লোক যে, তোমার মতো সুপুরুষ।মে আমার পাশাপাশি ঘোড়া দৌড়াবে , নদীতে ঝাঁপ দেবে।ওসব আয়েশী রাজা বাদশাদের বুঝিয়ে দিতে চাই ,নারী শুধু হেরেমের শোভা বর্ধনের উপকরণ নয়,নারীর দেহ শুধু পুরুষের কাম রিপু চরিতার্থ করার ক্ষেত্র নয়।তারা নারীকে ভোগের দাসী বানিয়ে নিজেরা মদে ডুবে থেকে ইসলামের অপমান করছে।আমি বুঝিয়ে দেব,ইসলাম নারীকে দিয়েছে মাতৃত্বের সম্মান, স্বাধীনভাবে জীবন যাপনের অধিকার।সমাজ সংসারে নারীর ও দায়িত্ব আছে।সেও সমাজ  ও সংস্কৃতি নিয়ে ভাববার দাবিদার।আমি ওদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই , হেরেমের বাইরে বের হলেই নারী নষ্ট হয়ে যায় না।এতে নারীর শাশ্বত সত্তার পবিত্রতা ও নষ্ট হয় না।ওরা চায় , নারীরা হেরেম নামক জিন্দান খানায় বাইজি হয়ে বহু পুরুষের ভোগের সামগ্রী হোক। ওদের ধারণা,নারী হলো শুধু ভোগের বস্তু।তারা মনে করে , কর্তৃত্ব আর বীরত্বের তকমা গলায় বেঁধে দাস দাসী ও বাইজির আসর জমানোই হলো বীরত্ব।***নারীও যে সত্যিকার অর্থে বীরত্ব পূর্ণ কাজ করতে পারে,***পারে ইসলামের সেবায় নিজেকে উজাড় করে দ্বীনের স্তম্ভকে শক্তিশালী করতে, তা ওরা ভুলে গেছে।আজ মুসলিম নেতৃবৃন্দ উজ্জত নয়,জিল্লতির জীবন যাপন করছে।কেনোওওও? এর কারণ ও এরা খুঁজে দেখতে চাচ্ছে না। ***মুমিন নারী যে বিরাট শক্তির আধার,তা নতুন করে ওদের আমি জানিয়ে দিতে চাই। *সবুক্তগীন! মদের মাতাল ওসব শাসকের ঘরে কখনো বীর পুরুষ জন্ম নিতে পারে না, ওদের ঘরে কাপুরুষই বেড়ে ওঠে। ইসলামের পতাকা বহন করার হিম্মত ওদের হয় না। ওদের জন্মই ইসলামের অবমাননার কারণ।•আমি এমন সন্তানের মা হতে চাই ,যে ইসলামের খাদেম হবে,ইসলামকে পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করবে। শুধু আলেম ও মুবাল্লিগের বেশে নয়,বিজয়ী বীরের বেশে। কূটনীতিতে সে সফল হবে,যার তরবারিতে শক্তি বেশি থাকবে।এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে ক্ষোভে উত্তেজনায় হাঁপাতে লাগলো তরুণী। আমার মাও তোমার মতো স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু তার স্বপ্নের ছেলে দাস হিসেবে আদম বাজারে বিক্রি হয়ে গেছে। ইসলামের ঝান্ডাবাহী তোমার মতো গোলাম আর আমার আব্বুর মতো আদর্শবান দাসরাই হতে পারে।কেন, আমার আব্বু তোমাকে বলেননি যে, তিনি ও তোমার মতো আদম বাজারে দাস হিসেবেই বিক্রিত হয়েছিলেন। কিন্তু নিজের কর্মনিষ্ঠা ও সততার জোরে আজ তার অবস্থান এবং মর্যাদা দেখো।দেখো তার কর্মতৎপরতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। তোমাকে কে বলল যে, তোমার গর্ভে যে ছেলের জন্ম হবে সে বাহাদুর আর দ্বীনের সিপাহসালার হবে।এটা তোমার তারুণ্যের আবেগ , যৌবনের আকাঙ্ক্ষা। এটা আমার হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা, দীর্ঘ দিনের লালিত বাসনা।এটা আমার অস্তিত্বের চাওয়া, আমার নারী মনের আর্তি। আমার এই আকাঙ্ক্ষা,স্বপ্ন সাধকে তুমি যৌবনের আবেগ, শব্দের ব্যঞ্জনা আর খেয়ালীপনা মনে করো না সবুক্তগীন! হ্যা, তুমি আমার ভালোবাসাকে উপেক্ষা করতে পারো। কিন্তু আমার ইচ্ছা ও পবিত্র আকাঙ্ক্ষা কে অপমান করো না।আমি ওই গবেটটাকে কিছুতেই স্বামীত্বে বরণ করতে পারবোনা।আবেগ ও উত্তেজনায় কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেললো তরুণী। সবুক্তগীন ওখান থেকে বেরিয়ে এলো।মনের মধ্যে তার তুমুল ঝড়।জীবনের গতি সম্পর্কে এখনো সে স্থির নয়।বুঝে উঠতে পারছিলো না, আশৈশব লালিত তার আকাঙ্ক্ষা ও মায়ের স্বপ্ন বাস্তবরূপ লাভ করবে কি না।এমন সময় এই তরুণীর কথা তার হৃদয়ে চেপে থাকা দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা কে আরো তীব্র করে তুলল।সবুক্তগীন কল্পনাও করতে পারেনি,•কোনো  রাজ হেরেমে এমন ইমানদীপ্ত তরুণী থাকতে পারে,ইসলামী ইমান আকীদার দূর্গরুপী এমন মেয়েও জগতে আছে!!! বহুদিন পরে তার সুপ্ত বেদনা আবার উথলে উঠলো। স্মৃতিগুলো ভাস্কর হয়ে দৃশ্যমান হতে লাগলো।জীবনে মা ছাড়া তার জীবনে কোনো নারীর অস্তিত্ব নেই।মনে পড়ে গেল , ছোটবেলায় মায়ের কোলের উষ্ণতা পেলে প্রশান্তিতে ভরে যেত তার দেহমন।মা তাকে পরম স্নেহে বুকে জড়িয়ে ঘুম পাড়াতেন,কোলে নিয়ে আদর করতেন,তার স্বপ্নের কথা বলতেন,খ্যাতিমান হওয়ার সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতেন।আর আজ এই তরুণী তার মায়ের স্বপ্নেরই  পুনরাবৃত্তি করছে।একই আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে ওর কন্ঠে। অথচ সে এই যুবতীকে যখন পিঠে করে নদী থেকে উদ্ধার করেছিলো,তখন তরুণী তার গলা জড়িয়ে ধরেছিলো দুহাতে,তার ভেজা বসন লেপ্টে গিয়ে শরীরের ভাঁজ ও নারী চিহ্নগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু একটা বিপদাপন্ন তরুণীকে উদ্ধারের ব্রত ভিন্ন কিছুই তখন ভাবতে পারে নি সবুক্তগীন।তরুণীর তপ্তশ্বাস ও হৃদয়মোহিনী হাসিও তার মধ্যে কোনো তারল্যের উদ্ভব ঘটাতে পারেনি। কিন্তু এখন কি হলো!সব কিছুই যেন ওলট পালট হয়ে গেল।অজানা ভবিষ্যত,আবাল্য স্বপ্ন, মায়ের সাধ আর তরুণীর নিবেদন কেমন যেন উদভ্রান্ত করে তুলেছে তাকে প্রতিক্ষণ ।প্রচন্ড এক আলোড়ন অনুভব করছে মনের মধ্যে সবুক্তগীন।তরুণীর কথাগুলো বারবার কানে বাজছে তার।সে ঠিকই বলেছে ,সম্পদ আর ক্ষমতার সুযোগে আমীর উমরারা হেরেমগুলো জাহান্নামে পরিণত হয়েছে।যে নারী ছিলো প্রশান্তির আঁধার , তাদের আজ শারীরিক উত্তেজনা উপশমের উপাদানে পরিণত করা হয়েছে। ***পুরুষ আজ এক নারীতে তৃপ্ত নয়। ধৈর্য,স্থিরতা,নীতি , আদর্শ, বীরত্ব, বাহাদুরি সবই শাসক শ্রেণীর লোকেরা মদ আর নারী ভোগে খুইয়ে ফেলেছে।***শুধু নারীসঙ্গ ভোগের জন্য মুসলিম সমাজের মাথাগুলো রাজা-বাদশাকে তোষামোদ করে উপঢৌকন দেয়। শাসকদের মধ্যে বিরোধ বাধায় , নিজের জাতী ধর্মের ইজ্জত হুরমত ধুলায় লুটিয়ে দিয়ে ঈমানের সওদা করে।তারপর ও যখন স্বস্তি পায় না, নিশ্চিত করতে পারে না দূরাকাঙ্ক্ষা তখন কওম ও জাতির সর্বনাশ করতে গিয়ে দুশমনের ভুতখানায় হাজিরা দিয়ে স্বস্তি আর সুখ নিশ্চিত করে। ••অধঃপতনের এসব কিছুর শুরুটা নারী থেকেই ঘটে। মুসলিম মাতৃত্ব কে হত্যা করে পুরুষের ঔরসকে কলঙ্কিত করে আমির উমরা শ্রণী শুধু নিজেদের অস্তিত্বের ভীতে ধসই নামায় না,মাযহাব ও মিল্লাতের ভিত্তিকেও গুড়িয়ে দেয়।আমিও কি সে পথেই অগ্রসর হচ্ছি?অবশ্য ভোগবাদীরা সমূলে ধ্বংস করতে চাচ্ছে এই শক্তিটাকে। ***"নারী কোনো সৌন্দর্য বর্ধনকারী বিলাশসামগ্রী নয়,নারী নির্মলতার প্রতিচ্ছবি,অফুরন্ত জীবনী শক্তির আধার।" তরুণীর আবেগাপ্লুত এই কথাগুলো তোলপার সৃষ্টি করে সবুক্তগীনের মনে। **সবুক্তগীনের মনে পড়লো তার মায়ের স্মৃতি।এক আমীর বহুমূল্য ,বিলাশ ব্যসন ও মণি মুক্তার টোপ দিয়ে তার মাকে খরিদ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তার পূতঃপবিত্র মা সোনাদানা ,মণিমুক্তা আর বিলাশব্যসনে লাথি মেরে ঝুপরিতে ফিরে এসেছিলেন ভিখারিনীর বেশে।নিজের আদর্শ আর পবিত্রতা রক্ষায় ,ইসলাম ও ইমানের শুভ্রতা রক্ষায় সর্বস্ব ফেলে পথে নেমেছিলেন স্বামীকে নিয়ে। তবুও নিজের বিশ্বাস ও পবিত্রতাকে কলঙ্কিত করতে দেন নি।জাগতিক সুখের সওদা কিনেননি ইমানের রত্ন দিয়ে। আলপ্তগীনের মেয়ের মতো তার মা ও চেয়েছিলেন এক বাহাদুর সন্তানের মা হতে।রক্ষিতা হতে চাননি কারো।তার মনে বাবার মতোই সংশয় দোলা দিলো ,* "মেয়েরা কি তাহলে এমন স্বপ্নবিলাসী,কল্পনাপ্রবন ই হয়ে থাকে?"পরক্ষনেই মনে পড়লো উস্তাদজীর কথা।উস্তাদজী বলেছিলেন,*" ন্যায় ও আদর্শের প্রতিক নওশেরোয়া ও মায়ের উদরেই জন্ম লাভ করেছেন।***নারীকে যদি তামাশা আর ভোগের পন্য বানিয়ে ফেলা হয় তবে তাদের গর্ভে আর জন্ম নেবে না তারেক,মুসা ও নওশেরোয়া।" গর্ভনর হাউজ থেকে বেরিয়ে ঘোড়ার লাগাম ধরে অধমুখে আস্তাবলের দিকে হাঁটতে হাঁটতে ইত্যাকার ভাবনায় ডুবে যায় সবুক্তগীন।সেই সাথে তরুণীর প্রতি একটা আকর্ষণ অনুভব করল মনের গহীনে।মনে মনে বলল,অনন্য এই তরুণী।ওর সাথে হেরেমের অন্য ললনাদের তুলনাই অর্থহীন।তরুণী তাকে বলেছে,সে আবার আমার সাথে দেখা করতে অবশ্যই আসবে।এসব কথা ভেবে তরুণীর প্রতি কেমন যেন আস্থা অনুভব করলো সবুক্তগীন। এই দাড়াও! আধো প্রেম,আধো সংকট,আশা নিরাশার দোলাচলে দুলতে দুলতে আনমনে হাটছিলো সবুক্তগীন।জগতের অন্য কিছুর প্রতি খেয়ালই ছিলো না তার। হঠাৎ কর্কশ ডাকে সন্বিত ফিরে দেখলো,তরুণীর বাগদত্তা দ্রুত পায়ে তার দিকে আসছে।সে দাঁড়ালো। রক্তচক্ষু আগন্তুকের।গর্জে উঠে সবুক্তগীনের উদ্দেশ্য বলল,হাজী নসরের বিক্রিত গোলামকে যেন আর কোনো দিন শাহাজাদীর আঙ্গিনা মাড়াতে না দেখি। তুমি যদি বুখারার শাসনকর্তার মেয়েকে নদী থেকে উদ্ধার করেও থাকো,সেটা তোমার আহামরি কোনো বাহাদুরি নয়।এ ছিলো তোমার কর্তব্য।এই কর্তব্য পালন না করলে বরং আমরা তোমাকে জেলখানায় আটকে না খাইয়ে হত্যা করতে পারতাম।এ কাজের জন্য পুরস্কারের যোগ্যেও নয় তুমি। আমি  গোলাম নই, স্বাধীন।বরঞ্চ গোলাম আপনি। খুব মৃদু অথচ দৃঢ় কন্ঠে বলল সবুক্তগীন। অ্যা, এতো স্পর্ধা! ছোট মুখে বড় কথা! শুনে রাখ ,আর কোনোদিন আস্তাবল থেকে ঘোড়া নিতে পারবেনা‌! ক্ষুদ্ধকন্ঠে বলল তরুণীর বাগদত্তা। তুমি তো নসরের গোলাম—বলল সবুক্তগীন। তোর দেহ থেকে মাথা কেটে ফেলবো!কোমরে বাধা তরবারি কোষমুক্ত করে বাঘের মতো গর্জে উঠলো ভাটাপড়া যৌবনের অধিকারী পৌঢ় –প্রায় লোকটি। সবুক্তগীনের কোমরেও খঞ্জন ছিলো।সে ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দিয়ে কোমর থেকে খঞ্জর বের করে বলল,দেড়হাত লম্বা তরবারি যদি আধহাত খঞ্জর দিয়ে আমার পায়ের নিচে ফেলতে না পারি,তবে তোমার তরবারির নিচে মাথা পেতে দেবো।আমার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ো আপত্তি নেই, কিন্তু এর আগে তোমার বাগদত্তা শাহজাদীকে জিজ্ঞেস করে এসো যে,সে তোমাকে ভালোবাসে, না ঘৃণা করে! চলবে ইনশাআল্লাহ.. (আড্ডা দেওয়া বা হাবিজাবি কমেন্ট নিষেধ)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ ভূত অভিযান -পর্ব ৩
→ ভূত অভিযান -পর্ব ২
→ ~ অচেনা ভুবন(১ম পর্ব)
→ ভূত অভিযান -১
→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ সালাউদ্দিন আয়ুবির কমান্ড অভিযান4

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...