গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান ... গল্পেরঝুড়ি একটি অনলাইন ভিত্তিক গল্প পড়ার সাইট হলেও বাস্তবে বই কিনে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে... স্বয়ং জিজের স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের বড় একটি লাইব্রেরী আছে... তাই জিজেতে নতুন ক্যাটেগরি খোলা হয়েছে বুক রিভিউ নামে ... এখানে আপনারা নতুন বই এর রিভিও দিয়ে বই প্রেমিক দের বই কিনতে উৎসাহিত করুন... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ভারত অভিযান (১ম খন্ড)

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ(guest) (৩৬৮২ পয়েন্ট)



পর্বঃ২ স্থানীয় কোনো কাফেলার যাত্রা সংবাদ দীর্ঘ দিনেও পাওয়া গেল না। একদিন দেখা গেল,তিনশ জনের এক বিরাট কাফেলা নারী শিশু ও বানিজ্যিক পন্য নিয়ে সমরখন্দ বুখারার দিকে যাচ্ছে।কাফেলার অধিকাংশ তলোক সওদাগর মনে হলো।ছেলের ভবিষ্যতের দিকে খেয়াল করে আল হাকাম সওদাগর কাফেলার সাথে মিলে অভিষ্ট লক্ষ্যে যাত্রা করলো। সারাদিন বিরামহীন চলল কাফেলা । সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে একটি ময়দানে কাফেলা যাত্রা বিরতি করলো ।তাবু ফেলে রান্না বান্না হলো।ক্লান্ত শ্রান্ত যাত্রীরা যে যার মতো গা এলিয়ে দিলো ঘুমের কোলে। কয়েকজন তাঁবুর আশে পাশে পাহারায় নিযুক্ত হলো। তাদের হাতে তীর ধনুক ঢাল তরবারী।তখন রাত প্রায় অর্ধেক পেরিয়ে গেছে। হঠাৎ প্রহরীদের কানে ভেসে এলো অশ্বখুরের আওয়াজ।সর্তক প্রহরীরা ধনুকে তীর যোজনা করলো।ক্রমেই আওয়াজ নিকটতর হচ্ছিলো।এক সময় মনে হল,এক বিশাল সৈন্যবাহিনী এ দিকে ধেয়ে আসছে।হয়তো কোনো দিকে যুদ্ধ যাত্রা করেছে কোন সৈন্যদল।আগন্তুকদের সংখ্যাধিক্য আন্দাজ করে প্রহরীরা কাফেলার শক্ত সামর্থ্য কয়েকজনকে জাগিয়ে দিলো।অন্যরা তখনো ঘুমে অচেতন। জাগিয়ে তোলা ব্যক্তিদের মধ্যে আল হাকাম ও ছিলো।ভাবসাব দেখে প্রহরীরা নিশ্চিত হলো আক্রমন অবশ্যম্ভবী।সৈন্যদল হলে এরা বনিক কাফেলার মাল সামান হস্তগত করবে না,আর ডাকাত হলে তো সবই লুটে নিবে।ওরা সংখ্যায় বহু।তাই তারা অশ্বারোহী দলের আক্রমন আশঙ্কায় কাফেলার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হলো। দেখতে দেখতে এক বিশাল বাহিনী মশাল জ্বালিয়ে দ্রুত বেগে অগ্রসর হচ্ছে তাবুর দিকে।তাঁবুর পাশে এসে ডাকাতদল মশাল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলো তাবুতে। বীভৎস ডাক চিৎকার শুরু করল।ডাকাতেরা ওদের ঘোড়াগুলোকে এভাবে বিক্ষিপ্ত হাঁকাতে শুরু করলো যে, তাঁবুর লোকেরা ঘুম থেকে উঠে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওদের ঘোড়ার পায়ে পিষ্ট হতে লাগলো।মহিলারা কোলের বাচ্চাকে বুকের চেপে পালাতে চেষ্টা করলো। কিন্তু ডাকাতদের তীব্র আক্রমনে কারো পক্ষেই নিরাপদ স্থানে যাওয়া সম্ভব হলো না। আল হাকাম ঘটনার আকস্মিকতায় স্ত্রীকে বগলদাবা করে টেনে একটা ঝোপের আড়ালে নিতে চেষ্টা করছিলো। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর মনে পড়লো, তাদের কলিজার টুকরো সবুক্তগীন তাদের সাথে নেই।স্ত্রী চিৎকার শুরু করলো ছেলের জন্য।আল হাকাম ওকে অনেক কষ্টে বোঝালো যে, তুমি চেচালে ডাকাত তোমাকে নিয়ে যাবে।স্ত্রীকে আড়ালে রেখে নিরস্ত্র হাকাম বেড়িয়ে পড়লো ছেলের খোঁজে। এদিকে তখন ডাকাত দল ঘোড়া থেকে নেমে  দুহাতে ধন সম্পদ লুটে মেয়ে ও শিশুদের বেঁধে এক জায়গায় জড় করছে।কাফেলার লোকদের আর্তচিৎকার, মহিলাদের ক্রন্দনরোল আর শিশুদের আর্তনাদে ময়দানে কেয়ামত নেমে এসেছে। ডাকাতদের প্রতিরোধ করার সামর্থ্য তাদের নেই। তীব্র আক্রমনে প্রহরী দলের সবাই নিহত হয়েছে।নিহত হয়েছে প্রতিরোধকারীরাও ‌।পুরো কাফেলা এখন ডাকাতদের কব্জায়।সব মাল সামান,নারী শিশু,উট,ঘোড়া ডাকাতরা নিয়ে চলে গেল। রাত পোহালো।যারা আহতদের আড়ালে গিয়ে কোনো মতে প্রাণ বাঁচাতে চেয়েছিলো তাদের ও আর বাঁচার আশা রইল না।রক্ত আর লাশে একাকার। কোনো সক্ষম পুরুষকেই ডাকাতেরা প্রাণে বাঁচতে দেয়নি।যেসব মহিলা ও শিশু ওদের নির্দেশ মতো দাসত্ব বরণে গরিমসি করেছে ,সময় ব্যায় না করে হিংস্র জানোয়ারগুলো তাদের ও হত্যা করেছে।সকাল বেলা আল হাকামের স্ত্রী স্বামী সন্তানদের জন্য পাগলের মতো চিৎকার করে ময়দান জুড়ে খুঁজতে থাকে । কিন্তু সে প্রিয় সন্তানটিকে খুঁজে পেলো না।স্বামীকে পেলো,সেও আর জীবিত নয় মৃত।আল হাকামের দেহ তরবারির আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলেছিলো ডাকাতেরা।তার সারাদেহ রক্তে ডুবে গিয়েছিলো।বোঝা যাচ্ছিলো,সে অনেক লড়াই করেছে,ডাকাতদের উপর্যপুরি আক্রমনে তার মৃত্যু হয়েছে। সবুক্তগীনের মা ময়দানের সব লাশ ওলট-পালট করে দেখছিলো ,আর যাকেই পাচ্ছিলো বলছিলো,তোমরা কি আমার মানিক সবুক্তগীনকে দেখেছ?ও খুব সুন্দর।কাফেলায় আমার ছেলের মতো এতো সুন্দর আর বাচ্চা ছিলো না।লাশের পর লাশ ওলট পালট করে স্বামীহারা স্ত্রী  একমাত্র সন্তানের দেখা না পেয়ে পাগল হয়ে গেল। বালীয়ারীর আড়ালে ,ঝোপ ঝাড়ের ভেতর টিলার চূরায় আর ময়দানে হাকামের স্ত্রী সন্তানের খোঁজে পাগলীনির মতো দৌড়াচ্ছে। ডাকাতদের রেখে যাওয়া তাবু আর বিক্ষিপ্ত মাল সামান ও প্রতিটি লাশকে বারবার ওলট পালট করে দেখলো, কিন্তু সবুক্তগীনকে পেলো না‌।টিলায় চড়ে গলা চড়িয়ে ডাকলো,সবুক্তগীন! বাবা আমার কাছে আয়! বাবা সবুক্তগীন আমার কোলে আয়!সবুক্তগীন! সবুক্তগীন! সবুক্তগীন! লুটন্ত কাফেলার যারা বেঁচে ছিলো ,তারা সাক্ষাত মরণ থেকে রক্ষা পেয়ে ভীত সন্ত্রস্ত জীবনটা টেনে হেঁচড়ে কোন মতে লোকালয়ে ফিরে চলল।দেখতে দেখতে ময়দান জনশূন্য হয়ে গেল।শিয়াল শকুন আর হিংস্র হায়েনাদের খোরাক হলো মৃতদেহ গুলো।আধমরা মানুষ গুলোর ওপর ও হুমরি খেয়ে পড়লো শেয়াল শকুনের দল। তখন ও আল হাকামের স্ত্রী ময়দান বালিয়ারী ও ঝোপ ঝাড়ে তার সন্তানটিকে তালাশ করছিলো।ডাকছিলো_সবুক্তগীন! বাবা সবুক্তগীন! আমি এখানে ,আয় বাবা সবুক্তগীন! আয় সবুক্তগীন! বেশ কিছুদিন পর্যন্ত মতো কাফেলা ,ডাকাতদল,সৈন্যবাহিনী এ পথে গিয়েছে একটি নারী কন্ঠের আর্তনাদ আর সবুক্তগীন,সবুক্তগীন আওয়াজ তারা সকলেই শুনেছে।অনেকেই এই আওয়াজ নিয়ে রুপকথার জন্ম দিয়েছে,আবার অনেকে মনে করেছে কোনো প্রেতাত্মার ডাক।দেখা গেল,ওই ডাকের ভয়ে এ পথে লোকের চলাফেরাই বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ প্রতাত্মার ভয়ে এ পথ এড়িয়ে অন্য পথে গেছে।কেউ সাহস পাচ্ছে না এ পথে চলতে।যদিও সবুক্তগীনকে ডাকা কোনো নারী কন্ঠ এখন আর ঐ টিলা থেকে ভেসে আসে না।তবুও টিলার দিকে ভয়ে কেউ তাকায় না। আল হাকাম নিহত হয়েছে।যদি সে জীবিত থাকত তাহলে এই মুহূর্তে স্ত্রীকে টেনে হেঁচড়ে নিরাপদে কোথাও নিয়ে যেত আর বলতো,আমি যা বলেছিলাম তা বুঝতে চাইছিলে না যে,গরীবের ছেলে সত্যের পূজারী হয় না,পেট পূজারী হয়।তোমার কল্পনায় শ্বেত শ্মশ্রুধারী লোকের সেই ঘটনা বাস্তব নয়,অলীক অবাস্তব। ***ভোগ বিলাশীতা,ধন-সম্পদ ,মিথ্যা আর প্রতারণার যেখানে দাপট সেখানে সত্য ও ন্যায় নীতির মৃত্যু ঘটতে বাধ্য। ***আজ জ্ঞান বুদ্ধি ও বিবেকের পরিবর্তে পাষন্ড ও বেইমান বদমাইশরাই সুখ্যাতি পাচ্ছে। সবুক্তগীনের মা , কুরআনের ইঙ্গিত আমাদের মতো ভবঘুরেদের সন্তানের ভাগ্য ফলে না।সাধ হোক আর আকাঙ্ক্ষা হোক,কল্পনা হোক আর বাস্তবেই হোক।জনমানবহীন বিজন প্রান্তরে আর হাকামের স্ত্রীর সবুক্তগীন  ,সবুক্তগীন আওয়াজ তারা কেউ শুনলো না। ইতিহাসের পাতা থেকে অন্ধকারে চলে গেল সবুক্তগীনের মায়ের আহাজারি ও কান্না। ইসলাম মানুষকে দাসী বাদীতে রুপান্তরের ব্যাপারটি প্রায় বিলুপ্তির নিকট নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খেলাফতে রাশেদার পর রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থার আশ্রয়ে গোলাম বাদীর কেনা বেচা আবার জমে উঠলো। *বাদশাহ , শাহেনশাহ ও সম্রাটরা আবার ভোগ আহ্লাদে ডুবে গেল।মুসলিম শাসকদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ সংঘাত, চক্রান্ত,ষড়যন্ত্র বেড়ে গেলো। রাজতন্ত্রের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কবলে খেলাফত ভেঙ্গে খান খান হলো।নামে মাত্র একজন খলিফা রইলো।প্রকৃত খেলাফতের কিছুই অবশিষ্ট রইল না।রাষ্ট্র পরিচালিত হতে লাগলো আমীর উমরার ইচ্ছে মতো।আমীর শ্রেনীর হেরেমগুলো গোলাম বাদীতে ভরে গেল।দাস দাসীরা পরিগণিত হলো আভিজাত্যের প্রতীকরুপে। ***বুখারার এক মাঠ লোকে লোকারণ্য। অসংখ্য মানুষের ভীড়।হাক ডাক হচ্ছে।ডাক উঠছে। মানুষের মেলা।বনি আদম কেনাবেচার হাট।দল বেঁধে ছেলে মেয়ে , তরুণ তরুণী ও মহিলাদের সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। নিলাম হচ্ছে কয়েকটি কাঠের মাচাং এ। উপরে তাবু টানানো। একটি মাচাং এ কয়েকটি তরুণী।আনকোড়া।***ডাক উঠছে...ইনটেক ,কুমারী, সম্পূর্ণ অব্যবহৃত।সরাসরি ঘর থেকে নিয়ে আসা।উমদা তমাল দাম কম।প্রতিটি মাত্র একশ দিনার।কে আছো বলো... একশ একশ একশ।দু'কিশোরীর কাঁধে হাত রেখে হাক ছাড়লো এক বিক্রেতা। এই কিশোরী দল এখানে বিক্রিপণ্য।কাফেলা লুটের শিকার। উঁকি ঝুঁকি দিয়ে ওদের শরীর আর চেহারা পরখ করছে ক্রেতাদল।আমির উমরার হেরেমের রক্ষিতা,আদম ব্যাপারী ও  মেয়েদের ফেরীওয়ালা যারা ওদের নাচ গান শিখিয়ে বাজারে বাজারে বিক্রি করে এমন লোকেরা এখানকার ক্রেতা। একটু দূরে একটি টিলাসদৃশ জায়গায় আরেকটি টিলা। ওখানে বালক শিশু আর পুরুষদের হাট।ক্রেতারা গরু ছাগলের মতো ওদের নাড়িয়ে চারিয়ে দেখছে। অপেক্ষা কৃত কম বয়সী বালকদের দাম বেশি।দশ বারো বছরের কয়েকটি বালক অবিরাম ধারায় কাঁদছে।একটি ছেলে ওদের ব্যতিক্রম।অন্যরা কাদলেও তার মধ্যে কোনো ভাবান্তর নেই। নিরুদ্বেগ, গম্ভীর।এসব বালকদের বণিক কাফেলা থেকে অপহরণ করা হয়েছে,যে কাফেলার সাথে আর হাকাম তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে বুখারার পথ ধরেছিলো। নিরুদ্বেগ বালকটিই সবুক্তগীন।দেখতে সে অন্য বালকদের মতো না হলেও প্রানবন্ত। সুস্থ সবল চেহারায় তার আভিজাত্যের ছাপ। ক্রেতাদের মধ্যে হাজী নসর এর প্রতিনিধি ও উপস্থিত।হাজী নসর বুখারার উপকন্ঠের এক জমিদার লোক।সে তার প্রতিনিধিদের বলছিলো,বয়স্ক খোলামেলা চেয়ে তার দরকার কম বয়েসী কয়েকটি বালক।যাদের তিনি নিজের মতো করে প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলবেন, আস্থাভাজন হিসেবে নিজের বিশেষ কাজে ব্যবহার করবেন।সুবক্তগীনকে দেখে হাজী নসরের প্রতিনিধিদের পছন্দ হলো।তাকে খবর দিলো।হাজী নসর এসে বালকদের কান্না দেখে হতাশ হলেন, কিন্তু নির্বিকার শান্ত-সবুক্তগীনের চেহারায় তার দৃষ্টি আটকে গেলো। রাশভারী গলায় তিনি বললেন ,এসব বালকদের সামলানো সহজ ব্যাপার নয়।তবে একে নিয়ে নাও ।সবুক্তগীনের প্রতি অঙ্গুলী ইশারা করে বললেন তিনি।দাম মিটিয়ে সবুক্তগীনসহ আরো ক'টি বালককে টেনে নিয়ে এলো হাজীর লোকেরা। ঘরে এসে সবুক্তগীনকে কাছে ঠেকে জিজ্ঞেস করলেন হাজী নসর,তোমার কি নাম? সবুক্তগীন। তোমার বাবা মা কি জীবিত? জানি না।আমরা তাঁবুতে ঘুমিয়ে ছিলাম।ডাকাতরা তাবু আক্রমন করলো,আমি দৌড়ে পালাতে চাচ্ছিলাম,   ৩য় পর্বের ২য় অংশ কিন্তু এক লোক আমাকে ধরে অনেক লোকের সাথে একত্র করে হাত পা রশিতে বেঁধে ফেললো।এরপর এখানে নিয়ে এলো। আব্বু আম্মু কোথায় আমি জানি না। তোমার আব্বু কি কাজ করতো? আমীরদের ঘরে কাজ করতো। তুমি কাঁদছো না কেনো? এর উত্তর দেওয়ার আগে আমি জানতে চাই,আপনার ধর্ম কী? *আমি মুসলমান।আমি হাজী।বলল হাজী নসর। ***তাহলে আমার নয় ,আপনার রোদন(কান্না) করা উচিত।আপনার হজ্ব অর্থহীন।আমাকে আব্বু বলেছিলেন, কুরআনের নির্দেশ হলো, কোনো মানুষ কোনো মানুষকে গোলাম বানাতে পারে না।আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করছেন,আমি কাঁদছি না কেন?আমি বুঝতে পারছি না,আমি কাঁদবো না হাসবো।আমার বয়স আপনার মতো হলে হয়তো এ কথার সঠিক জবাব আমি দিতে পারতাম। হাজী নসর অবাক হয়ে গেলেন সবুক্তগীনের জবাব শুনে। এতটুকু বালকের মুখে এ ধরনের বিজ্ঞোচিত জবাব আর পাল্লা প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন এমনটি তিনি কল্পনাও করেন নি। এ ধরনের কথা তোমাকে কে শিখিয়েছে? আমার এক উস্তাদ আমাকে কুরআন হাদীস শিখিয়েছেন।তিনি যে মসজিদের ইমাম ছিলেন , সেই ঠিকানা এবং বুখারায় পাঠানোর জন্য লেখা তার চিঠির কথাও বলল।আরো বলল তার বাবা নওশেরোয়ার বংশধর।সে তার বাবার মুখে ন্যায়  ইনসাফের বহু গল্প শুনেছে।শুনেছে, তাদের পূর্বপুরুষদের বহু কীর্তি কাহিনী।এও বলল , আমার আম্মা প্রায়ই সপ্নে দেখতেন,তাকে শ্বেতশুভ্র এক দাঁড়িওয়ালা বুজুর্গ ব্যক্তি বলতেন, তুমি এমন এক সন্তানের জন্ম দিবে যে বড় হয়ে অন্যায় রোধ করবে,আর দুনিয়াতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।বুজুর্গ এ কথাও বলতেন,সেই ছেলে যদি আমি না হই তবে আমার বংশে এমন ছেলে অবশ্যই জন্ম নিবে। তুমিও তোমার মায়ের স্বপ্নে কর? **মায়ের কথায় কিভাবে বিশ্বাস করবো? গোলাম দাসীদের আবার আত্নবিশ্বাস ও ঈমান আকিদা থাকে না কী? আপনি কি আমাকে জানোয়ারের মতো মনে করে টাকার বিনিময়ে কিনে আনেন নি?যারা কেনা গোলাম তাদের নিজস্ব চিন্তা ও বিশ্বাসের কোনো মূল্য আছে কী? [উক্ত কথাগুলো এতটাই জীবন্ত। যেন,  মনে হচ্ছে কথা গুলো আমি নিজেই কাউকে বলছি] তোমরা যদিও আমার কেনা গোলাম, কিন্তু আমি তোমাদেরকে জীব জন্তুর মতো রাখবো না।তোমাদেরকে আমি মানুষের মতো করেই গড়ে তুলবো।হাজী নসর বললেন। তুমি কোনো কাজ জানো? আমাকে আব্বু আম্মু বুখারায় নিয়ে আসছিলেন পড়ালেখার জন্য।বলল সবুক্তগীন। আমি তোমাদেরকে আমার ছেলেদের গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে দিচ্ছি। তুমি তার সেবাযত্ন করবে আর পড়ালেখা করতে চাইলে তাও করতে পারবে। সবুক্তগীন রচিত "পান্দে নামা" নামক একটি পুস্তক থেকে জানা যায়,সবুক্তগীন তিন বছর হাজী নসর এর বন্দী দশায় ছিলেন। কিন্তু সেখানে দৃশ্যত গোলাম হলেও তার জীবন গঠনে হাজী নসর-এর পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো কল্যানকামী অভিভাবকের মতো।হাজী নসর অধিকাংশ সময় সফরে কাটাতেন।**ইতিহাস এ ব্যাপারে নীরব যে,প্রকৃতপক্ষে হাজী নসর কোনো আমীর শাসক ছিলেন,না শুধু ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন।তবে, একথা বোঝা যায়,হাজী নসর অন্যদের তুলনায় ন্যায়পরায়ন ছিলেন। সবুক্তগীন গৃহশিক্ষকের হাতে ন্যস্ত হলে,গৃহশিক্ষক প্রথমে তাকে গোলামের চেয়ে বেশি কিছু মনে করেন নি।তবে,প্রথম দিনেই সবুক্তগীন গৃহশিক্ষককে বুঝিয়ে দেন যে,সে জন্মসূত্রে গোলাম নয়,ভাগ্য বিড়ম্বিত এক বালক।দূর্ভাগ্যক্রমে সে এখানে ভৃত্য পরিণত হয়েছে। হাজী নসরের এক ছেলে কুরআন শরীফ ভুল পড়ছিলো।***সবুক্তগীন তার ভুল নিজে না শুধরিয়ে গৃহশিক্ষকের কাছে গিয়ে বলল,সাহেবজাদা ভুল পড়ছে।গৃহশিক্ষক সবুক্তগীনের উপস্থিত বুদ্ধি ও বিদ্যা দেখে বিস্মিত হলেন এই ভেবে যে,এই পুঁচকে ভৃত্য কুরআন শরীফের ভুল ও ধরতে পারে!তিনি সবুক্তগীনকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কুরআন শরীফ পড়া কোথায় শিখেছ, কার কাছে শিখেছ?জবাবে সবুক্তগীন তার বাবা মা ,উস্তাদ এবং তার অপহরণের সব ইতিবৃত্ত শোনালো।গৃহশিক্ষক সবুক্তগীনের আচরণ ও কথাবার্তায় মুগ্ধ হলেন এবং তার প্রতি একটু বেশি মনোযোগী হয়ে পড়লেন। কিন্তু হাজী নসর তাদের এতোটুকু লেখাপড়া শিখাতে ইচ্ছুক যতোটুকু করলে সৈনিক ও সিপাহী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এদের জন্য এর বেশি শিক্ষাকে তিনি নিজের জন্য ক্ষতিকর ভাবছিলেন। নিজ সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারেও হাজী সাহেবের একটা সীমা নির্ধারিত ছিলো। যতটুকু লেখাপড়া করলে ধর্মের জ্ঞান লাভ করা যায়।আর যেসব কলাকৌশল রপ্ত করলে তেজস্বী অশ্বারোহী ,বীর সেনাপতি আর বাহাদুর যোদ্ধা হওয়া  সম্ভব ছেলেদের তিনি ওই পরিমাণ যুদ্ধকৌশল ও বিদ্যা শেখানোর জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন গৃহশিক্ষকের উপর। কিন্তু হাজী নসর এর ছেলেদের কেউই সবুক্তগীনের মতো দূরদর্শী ও মেধাবী ছিলো না‌।যুদ্ধবিদ্যা তীর চালানো,ঘোড় সওয়ার কি পুঁথি পুস্তক কোনো ব্যাপারেই খুব একটা আগ্রহ ছিলো না হাজীপুত্রদের মধ্যে। পক্ষান্তরে, কিছু দেখে , কিছু শুনে এবং কিছু নির্দেশনা পেয়ে সবুক্তগীন দ্রুতই যুদ্ধকৌশল,ঘোড়সওয়ার  ও তীর তরবারী চালনায় সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠছিলো। গৃহ শিক্ষক যেমন সবুক্তগীনের প্রতি ঝুঁকে পড়লেন তেমনি অন্য ছেলেরাও সবুক্তগীনের প্রতি স্রশদ্ধ ছিলো।সে কথা বলতো সহাস্যবদনে।কখনো  কাউকে কটাক্ষ করে কথা বলতো না।তার আচরণ ও মার্জিত ব্যবহার শিক্ষককে তার প্রতি মনোযোগী করে তুলল। শিক্ষক তার অভিজ্ঞতা ও পান্ডিত্য উজার করে দিয়ে তাকে জ্ঞানের রাজ্যে ডুবিয়ে দিতে লাগলেন।মাত্র তিন বছরে হাজী নসরের আশ্রয়ে পরিপূর্ণ যোদ্ধায় পরিপূর্ণ হয় সবুক্তগীন।শিক্ষক তাকে ইসলামী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ও শিক্ষা দেন। অপরদিকে আয়েশী  হাজিপুত্ররা সবুক্তগীনের কৃতিত্ব প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ না হয়ে ভোগ বিলাসীতায় তলিয়ে যেতে থাকে। দীর্ঘ সফর থেকে ফিরে হাজী নসর যখন সবুক্তগীনকে দেখলেন,তখন মনে হলো তিনি অন্য কাউকে দেখছেন। কৈশোর পেরিয়ে সে তখন পূর্ণস্বাস্থ্যবান সুঠাম যুবকে পরিণত হয়েছে। একদিন হাজী নসর সবুক্তগীনের যুদ্ধকৌশল তীরন্দাজ ও অশ্বারোহণ দেখে বিস্মিত ও মুগ্ধ হলেন।সবুক্তগীনের সমর নৈপুণ্যে হাজী নসর তাকে তার নিজস্ব রক্ষী বাহিনীর দলনেতা ও গোলামদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিলেন। অল্পদিনের মধ্যেই সবুক্তগীন হাজী নসরের ডান হাতে পরিণত হলো। সে সময় আলপ্তগীন বুখারার গভর্নর ছিলেন।তুর্কি খেলাফতের মসনদে দ্বিতীয় আব্দুল মালেক সমাসীন।হাজী নসর আলপ্তগীনের খুব প্রিয়ভাজন ছিলেন।এক তথ্যমতে, ৯৫৭ সাল থেকে ৩৪৮  হিজরীতে একদিন হাজী নসর আলপ্তগীনের সাথে মোলাকাত করতে গেলেন।সে সময় সবুক্তগীন ও সাথে ছিলো।তখন সবুক্তগীনের বয়স বিশ একুশ হবে। ইতিহাসে হয়তো এটাই প্রথম ঘটনা যে, কোনো যাযাবরের ছেলে অপহৃত গোলাম হিসেবে বিক্রি হওয়ার পরেও বুখারার গভর্নর হাউসে প্রবেশাধিকার পেলো।সাক্ষাতের পর আলপ্তগীন হাজী নসর বললেন,আপনি এ গোলামকে আমার হাওলা করে দিন।আলপ্তগীন বিভিন্ন সূত্রে হাজী নসর আশ্রিত সবুক্তগীনের কর্মকুশলতার সংবাদ আগেই পেয়েছিলেন।সাক্ষাতে সবুক্তগীনকে দেখেই আঁচ করতে পেরেছিলেন ,এই যুবকের মধ্যে প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে।তাছাড়া আলপ্তগীনের কন্যা ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের কোনো যোগ্য উত্তরাধীকারীও নেই। তিনি মনে মনে এমন যোগ্য একজন উত্তরসূরী খুঁজছিলেন। **কিন্তু এমন দামী রত্ন হাজী নসর কিছুতেই হাতছাড়া করতে রাজী ছিলেন না। অনেক বলা কওয়ার পর অভাবনীয় উচ্চমূল্যের প্রস্তাব দিলে হাজী নসর সবুক্তগীনকে হস্তান্তর করতে সম্মত হলেন। সে সময় আলপ্তগীন সবুক্তগীন ধরণের নাম সাধারণত তুর্কিরা রাখতো।সবুক্তগীনের মা তুর্কি হওয়ায় ছেলের নাম তুর্কি ধাঁচে রেখেছিলেন।সে সময় তুরস্কের শাসন ক্ষমতা ছিলো অমুসলিমদের হাতে। শাসকদের অত্যাচার -উৎপীরনে মুসলমানরা তুরস্ক ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিলো।দেশ ছাড়াদের দলে সবুক্তগীনের মায়ের বাপ দাদা ও ছিলো। দৈহিক সৌন্দর্য আর মেধা মননে তুর্কিরা ছিলো অন্যদের তুলনায় আকর্ষণীয় ।এ জন্য ডাকাত ও লুটেরাদের হাতে বন্দী হয়ে সেসব তুর্কি হাটে উঠতো তাদের দাম অন্যদের চেয়ে বেশি হতো।বলখ,গজনী,বুখারা ও আশপাশের এলাকায় বহু তুর্কি গোলাম বাদী পাওয়া যেত।দেশ জুড়ে এমন গোলামীর সুখ্যাতি ছিলো।এরা খুবই বিনয়ী ,অনুগত ও বিশ্বস্ত।মুনিবের স্বার্থ রক্ষায় এরা অতুলনীয়। তুমি কি সেসব গোলাম বংশের ,যাদের বেলায় এই অঞ্চলে বেশ সুখ্যাতি রয়েছে? আলপ্তগীন সবুক্তগীনকে জিজ্ঞাসা করলেন। সবুক্তগীন তখন তার দরবারে মাথা নিচু করে ক্রীতদাস হিসেবে দন্ডায়মান। মনিবের প্রশ্নের জবাবে নিরুত্তর। তুমি আমাকে তোমার আদব আখলাক দিয়ে বোঝাতে চাচ্ছো যে, তুমি গোলাম হিসেবে খুবই বিশ্বস্ত হবে,তাই না? আলপ্তগীন ধীর পায়ে গোলামের কাছে এসে পিঠে আলতো চপেটাঘাত করে জোর গলায় বললেন,বেটা! মাথা উপরে ওঠাও ,বুকটান করে দাড়াও ,আমার চোখে চোখ রেখে দেখ,আমিও তুর্কি, তুমিও তুর্কি। সবুক্তগীন মাথা তুলে মনিবের দিকে তাকালো।মনিব তাকে নিজের কাছে বসিয়ে বললেন, তুমি যেমন বুদ্ধিমান,তেমনি সৎ ও কৌশলী যোদ্ধা। আসলে মানুষ শুধু জ্ঞানের দ্বারা আলেম হতে পারে না। ***মানব জীবনে ইলম ও আমলের সমন্বয় থাকতে হয়।আরো একটা ব্যাপার আছে,ইলম থাকা সত্ত্বেও আমল বিশুদ্ধ হয় না যতক্ষণ না সে ব্যক্তি কোনো বুজুর্গ ব্যক্তির নির্দেশনামতো নিজেকে গঠন করে ।***তোমার সৌভাগ্য যে, তুমি জন্মসূত্রে ধর্মীয় চেতনা পেয়েছো আর দুজন বুজুর্গ ব্যক্তির সংস্পর্শে দীক্ষা নিয়েছো।এটা বড় গুণ। আমার মধ্যে এমন কোনো গুণ নেই যা দেখে বুখারার গভর্নর মুগ্ধ হতে পারেন।বলল সবুক্তগীন। এটাই তো তোমার বড় গুণ যে, তুমি একই সাথে তুর্কি ও গোলাম।তোমার মতো আমিও তুর্কি ও গোলাম ছিলাম। ছোটবেলায় আমাকেও এমন কঠিন দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যেমন কঠিন গোলামীর জীবন তুমি বয়ে চলেছ।তবে, তুমি জন্মসূত্রে মুসলিম আর আমার বাবা মা ছিলেন অমুসলিম ।আমি গোলাম অবস্থায় মুসলমান হয়েছি।আমি দীর্ঘদিন একজন বুজুর্গ ব্যক্তির মুখে ইসলামের নীতি ও আদর্শের কথা শুনেছি। ইসলামের কথা শুনে আমার মন সত্য ধর্ম গ্রহণের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। একদিন সেই বুজুর্গের হাতে হাত রেখে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেলাম। চলবে ইনশাআল্লাহ....। (গল্প পড়ে বুঝে কমেন্ট করার অনুরোধ রইল। হাবিজাবি কমেন্ট নিষেধ।)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ ভূত অভিযান -পর্ব ৩
→ ভূত অভিযান -পর্ব ২
→ ~ অচেনা ভুবন(১ম পর্ব)
→ ভূত অভিযান -১
→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ সালাউদ্দিন আয়ুবির কমান্ড অভিযান4

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...