গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

অভিশপ্ত হার!≈ পর্ব-১

"অদ্ভুতুড়ে" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ফারহান… (১১৯ পয়েন্ট)



***************** অভিশপ্ত হার! পর্ব~০১… ***************** সুধীর অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছে। অপেক্ষায় কখন তার মৃত্যু হবে। এভাবে সাগরে ভাসতে আর ভালো লাগছে না।একসময় নৌকার অংশটা থেকে হাত সরিয়ে নিল। ধীরে ধীরে ডুবতে শুরু করলো। স্বেচ্ছায় মৃত্যু যাকে বলে…! *** ১. কথাটি প্রথমে তুলেছিল সাইল। সেদিন খুব করে আড্ডা হচ্ছিল। এমন সময় সাইল বললো, বেড়াতে গেলে মন্দ হয় না।বেশ করে খাওয়া-দাওয়া হবে। তখন আমাদের মুভিখোর ও বিল্ডিং(মানে ব্রিলিয়ান্ট!) নাদিম বলল, তোর ভাবনা শুধু খাওয়া নিয়ে।আর কত খাবি রে ভাই?ভুড়িটাকে দেখেছিস! আমিও একটু উস্কে দিলাম,সাইল তুই সত্যিই বেশি খাস।একটু কমিয়ে দে খাওয়া।তোকে নিয়ে কোনো দাওয়াতে যাওয়া যায় না। ঐদিন ফাহিমের হক জন্মদিনে কি খেলিরে…আহা আমিও যদি খেতে পারতাম! সাইল,এটা একটা বিশেষ গুনরে।এরকম গুন সাধারণ মানুষের হয় না! নাদিম,ঠিক কথা। এরকম গুন হয় রাক্ষসের।তাই নারে নাঈম? আমি,কী জানি!(এদের ঝগড়ায় গেলে আমি শেষ, সেজন্য কিছু না বলাই ভালো) সাইল,কী যে বলিস! আমাকে তোর রাক্ষস মনে হয়! নাদিম, হুম পুরাই রাক্ষস!অ্যাকুয়াম্যান মুভিটাতে দেখস নাই? সাইল,নাও শুরু হয়ে গেল ওনার মুভির কথা।এই মুভি দেখতে দেখতে চোখ চারটা করে ফেলেছিস!(মানে চশমা)নাঈমকে দেখ কি ভালো ছেলে। আমার মেজাজ বিগড়ে গেলো।মনে মনে বললাম, নিজেরা ঝগড়া করছিস, আবার আমাকেও দিচ্ছিস!বলে বসলাম,আর বলিস নারে ভাই! কিছুক্ষণ পর তো আকাশে উঠে যাবো! নাদিম, তোর কথা শুনে আরেকটা মুভির কথা মনে পড়লো। আমি লাফিয়ে উঠলাম। নাদিম মুভির কথা শুরু করলে পুরা ১-২ ঘন্টা বসিয়ে বসিয়ে কথা বলবে। কথা কাটানোর জন্য বললাম,ঘুরতে যাওয়া যায় এই গরমে। সাইল,আমিওতো বলতাছি,চল আমাগো গ্রামের বাড়ি! নাদিম,ছ্যা! ঐ নাম আর নিস না। ওটা ঘুরবার জায়গা হলো নাকি? গতবার তোর কথা শুনে গিয়ে তো যা অবস্থা হয়েছিল। আমি বরং মুভি দেখে সময় কাটাই! আমি বললাম,চল সমুদ্রে যাওয়া যাক। গরমকালে ভালো লাগবে। সাইল, খাওয়া দাওয়া থাকব তো? নাদিম, তুই খাওয়া দাওয়ার কথা বন্ধ কর!নাঈম কক্সবাজার যামু চল। আমি,কবে যাবি, কেমনে যাবি। নাদিম,বলা শক্ত! অনুমতি নিতে নিতে বারোটা বাজবো! আমরা মিটিং করবো রাতে।সাইল তুই আসার সময় ঝালমুড়ি নিয়ে আসবি।সাইল কিছুক্ষণ ইতস্তত করে রাজি হয়ে গেল। আরে আমি তো তোমাদের কাছে পরিচয় দিতে ভুলে গেলাম! আমি হলাম গিয়ে নাঈমুল ইসলাম।সবার কাছে ভালো ছেলে হিসেবে বেশ নামডাক আছে। পড়ালেখা একটুআধটু করি।বাকি সময় খুব ব্যস্ত থাকি কিভাবে অন্যকে জ্বালাতন করা যায়!ওটা আমার বড্ড ভালো লাগে! মাঝেমধ্যে শরীর খারাপ থাকে। তখন আমাকে চেনাই যায় না।সেবার বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়ে ১০০ এর উপরে জ্বর উঠে গেল।পুরা ১ সপ্তাহ বিছানায়।ভাবা যায়? এবার আসি সাইলের কথায়। ভালো নাম সাইদুল ইসলাম। সাইদুল থেকে সাইল করতে হলো নাদিমের জন্য। অবশ্য যুক্তি আছে ওর!ওর যুক্তি ছিল,আমরা মানুষ তিনজন। নাঈম আর আমার নাম তিন অক্ষর দিয়ে।তোর নামটাই ঝামেলা বাধাচ্ছে!একটা অক্ষর ফেলে দে!সাইল রেগে বোম হয়ে গেছে। পারমাণবিক নাকি অন্য বোমা কি জানি!নাম কি মুড়ির মোয়া নাকি ছুড়ে ফেলে দিবে। শেষমেষ ওর নাম থেকে"দু" আনুষ্ঠানিক ভাবে ছুড়ে ফেলা হলো। কিন্তু নিবন্ধনে তো আগের নামই! এবার এমন কান্ড করলো যে নিবন্ধন আবার তৈরি করতে হলো।সাইল সুযোগ বুঝে দিল নাম…তবে সাইল নামের আগে একটা উপাধি আছে।"পেটুক" সামনে যা পাবে তাই খাবে।কোনো ছাড়াছাড়ি নেই। একবার আমসত্ব মনে করে ব্যাগের ভিতরের চামরা খেয়ে ফেলেছিল!ভাত খেতে বসলে পুরা ১ ঘন্টার ব্যাপার। এবার আসছি নাদিমের কথায়।ওর মতো মুভিখোর আর একটা পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ! আবার আরেকটা অপরাধ হলো প্রতিদিন পড়া শিখে যাওয়া পরীক্ষায় ফার্ষ্ট হয়ে যাওয়া। আমি আর সাইল টেনেটুনে ভালো করি।আর ঐ হতচ্ছাড়া নাদিম এমনিই ভালো করে ফেলে।আর কথায় কথায় খালি মুভি, গল্পের বইয়ের কথা তুলে।আরে বাবা এটা না তুললে কি ভাত হজম হয় না।কি জানি! আমরা তিনমূর্তি মিলে আমাদের গ্রুপ।"তিনমূর্তি" জগৎ বিখ্যাত না হলেও খ্যাতি একটু হলেও আছে! *** রাতের বেলা মিটিং বসলো।যথানিয়মে সাইল তার কিপ্টামো দেখালো। মাত্র ১০ টাকার ঝালমুড়ি আনছে! আবার অর্ধেকটা নিজেই মেরে দিল! মিটিংয়ে নাদিম আগের নিয়ম অনুযায়ী ভাষণ দিতে শুরু করলো।যেন ও কত বড় নেতা! তার ভাষণের বাক্য শুনলে মাথা এমন গরম হবে যে তাতে ভাত রাঁধতে পারবে! আজকের মিটিংয়ে ওর ভাষণে প্রথমে যা বলবে তা আমার মুখস্থ। নিশ্চিত নাদিম বলবে,"বন্ধুগণ কোনো কিছু করার আগে পরিকল্পনা করতে হবে ভালো করে" সত্যি সত্যি নাদিম ঐটা দিয়েই শুরু করলো। আমার এখন নিজেকে মিসির আলি মনে হচ্ছে।যে সাইকোলজি সিক্সথ পেপার এর অধ্যপক! মিসির আলি হতে গেলে কিছু ভেজাল হবেই হবে। এই যেমন কেউ তার চারপাশে উল্টাপাল্টা জিনিস দেখছে। আমাকে যদি বলে ব্যাখ‌্যা দিতে তাহলে আমি সিউর আমি নিজেই উল্টাপাল্টা জিনিস দেখবো। আমি আবার উদাহরণ দিতে ওস্তাদ! একটা বলা যেতে পারে। সেদিন অজ্ঞান বিষয় মানে বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক বললেন,"এইচ টু ও" মানে কী।পুরা উদাহরণ সহ ব্যাখ্যা দিলাম। কিন্তু স্যার মারলেন কেন বুঝলাম না। আমি শুধু বলেছিলাম,H,I,J,K,L,M,N,O এগুলা একেকটা বর্ণ… পরবর্তী ঘটনা ঘটার পর আমার অবস্থা হলো "বড় ছেলে" এর গানের মতো।"আমি কোনো ভুল করিনি"… যাই হোক এখন নাদিমের ভাষণ শুনা যাক!ওর ভাষণ শুনে মনে হচ্ছে আমরা কোনো অপারেশনে যাচ্ছি! ও বলছে, আমাদের আগে পরিকল্পনা করতে হবে। প্রথমেই পরিবার থেকে অনুমতি নিতে হবে। তারপর… আমার মাথা এমন গরম হচ্ছে তার উপর ভাতের পাত্র রাখলে শুধু চালগুলো থাকবে। পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে আকাশে! সেখান থেকে বিজ্ঞান অনুযায়ী বৃষ্টি হয়ে পড়বে।দয়া করে জিজ্ঞাসা করো না কিভাবে।সেটা বলতে গেলে আমি অজ্ঞান হয়ে যাবো! নাদিম ভাষণের মাঝে থেমে গেল। সাইলের দিকে তাকিয়ে বলল,এক মিনিট। তুই কী খাচ্ছিস? সাইল তোতলাতে তোতলাতে বললো, ক কই কিছু নাতো! নাদিম,না তুই খাচ্ছিস। বলে ফেল নাহলে… সাইলের কাছ থেকে এত্তগুলা বাদাম পাওয়া গেল। গ্রাম্য ভাষায় "কাড বাদাম" নাদিম,কোথা থেকে আনলি? সাইল, আমার মামা কক্সবাজার থেকে এনেছিল। নাদিম, পেয়েছি উপায় পেয়েছি। আমরা সাইলের মাধ্যমে যাবো। সাইল মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল,কী কস! নাদিম ‍,কী আর। তোর মামা কক্সবাজার থাকে। আমরা তোর মামার কাছে যাচ্ছি।এটা বললে অনুমতি পেতে সহজ হবে । সাইল লাফাতে লাফাতে বললো,সাবাস! আমি ভাবছি কিভাবে অনুমতি নেবো।রিয়া যেভাবে পেছনে লেগে থাকে!বাবা মাটে উল্টাপাল্টা বলে রাগিয়ে দিতে পারে। প্রতিদিন একবার না একবার ঝগড়া লাগতেই হবে আমার সাথে। দেখা যাক অনুমতি পাই কিনা -»চলবে«-


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৭২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের কথা। পর্ব-1
→ জিজের পরিচিতরা যে কারণে প্রিয় (পর্ব-১)
→ অভিশপ্ত আয়না পর্র৬(শেষ পর্ব):-
→ অভিশপ্ত আয়না পর্ব৫:-
→ "এখনও আমি অপেক্ষা করছি তোমার জন্য!!!" পর্ব-১
→ অভিশপ্ত আয়না পর্ব৪:-
→ অভিশপ্ত আয়না পর্ব৩:-
→ অভিশপ্ত আয়না পর্ব২:-
→ অভিশপ্ত আয়না পর্ব১:-
→ আমি শুধু তোমারই (পর্ব-১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...