গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

কাকিনা রাজপরিবার

"ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বকুল রায় (৩৯ পয়েন্ট)



কাকিনা রাজপরিবারের ইতিহাসঃ উত্তরবঙ্গের নাটোর রাজবাড়ির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজবাড়ি হলো কাকিনা রাজবাড়ী। 1496 খ্রিস্টাব্দে মহারাজ ইশ্বসিংহ ইশু কোচবিহার রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন। এই কোচবিহার রাজ্যের ছয়টি পরগনা ছিল। যার একটি হলো কাকিনা। জমিদারির শুরুতে এর আয়তন প্রায় 250 বর্গমাইল ছিল। পরে এর আয়তন প্রায় 400 বর্গমাইল বেড়েছিল। বর্তমানে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলা বাদে পুরো লালমনিরহাট কাকিনা জমিদারির অধীনে ছিল। বর্তমানের কাকিনা অতীতে কঙ্কণা, কঙ্কাণীয়া, কাক্কিনা, কৈকিনা ও কাকিনিয়া নামে পরিচিত ছিল।1687 খ্রিস্টাব্দে মোগলদের সময় দিল্লীতে মোঘল সম্রাট ছিল আওরঙ্গজেব এবং বাংলার ফৌজদার ছিলেন সুবাদার শায়েস্তা খাঁর পুত্র এবাদত খাঁ। তিনি কোচবিহারের রাজা মাহিন্দ্র নারায়ণের সঙ্গে এক যুদ্ধে কোচবিহারের 6টি পরগনার মধ্যে 3টি পরগনা দখল করে নেন। তার মধ্যে একটি ছিলো কাকিনা। তখন কাকিনা ইন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তীর অধীনে ছিল। এবাদত খাঁ তখন কাকিনার জমিদারি করের বিনিময়ে কোচবিহারের শান্ত নারায়ণকে দিতে চান। কিন্তু শান্ত নারায়ণ এ প্রস্তাবে অসম্মত হন। তখন এবাদত খাঁ ইন্দ্র নারায়ণের এক কর্মচারী রঘু রামের পুত্র রাম নারায়ণ চৌধুরীকে কাকিনা জমিদারির সনদ প্রদান করেন। 1687 থেকে 1723 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জমিদারি করেন। তারপর রাম নারায়ণের জ্যেষ্ঠ পুত্র রায় চৌধুরী 1727 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জমিদারি করেন। তারপর রাম নারায়ণের কনিষ্ঠ পুত্র রুদ্র রায় চৌধুরী 1727 থেকে 1768 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জমিদারি করেন। এরপর রুদ্র রায় চৌধুরীর পুত্র রসিক রায় চৌধুরী 1768 থেকে 1770 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জমিদারি করে মৃত্যু বরণ করেন। আর তার কোনো সন্তান না থাকায় তার স্ত্রী অলোকানন্দা চৌধুরাণী 1772 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জমিদারি করেন। 1772 খ্রিস্টাব্দে এক ভয়াবহ খরা দেখা দেয়।আর প্রজারা খাজনা দিতে পারে না। ফলে জমিদারি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পরে। তাই অলোকানন্দা চৌধুরাণী রামদুলাল নামের একজনকে জমিদারি ইজারা দেন। আর তিনি কোলকাতায় চলে যান। কিন্তু রামদুলাল ছিল এক অত্যাচারী ব্যক্তি। সে প্রজাদের অতিরিক্ত অত্যাচার করতো। তাই প্রজারা তার বিরুদ্ধে বিদ্রহ করে এবং কাচারীবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। আর রামদুলাল কোন রকমে প্রাণ রক্ষা পেয়ে পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে অলোকানন্দা চৌধুরাণী কোলকাতা থেকে চলে আসেন। আর রংপুরের তৎকালীন কালেক্টরের নিকট আবেদন করে তার দত্তক পুত্র রাম রুদ্র রায় চৌধুরীর নামে জমিদারি দেন। রাম রুদ্র রায় চৌধুরী 1784 থেকে 1820 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কাকিনার জমিদারি করেন। তার পুত্র ভৈরব রায় চৌধুরী 1835 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জমিদারি করেন। তারপর ভৈরব রায় চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র কালী চন্দ্র চৌধুরী ও ভাতুষ্পুত্র শ্রীনাথ রায় চৌধুরী ভাগাভাগি করে 1847 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জমিদারি পরিচালনা করেন। 1847 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1853 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শ্রীনাথ রায় চৌধুরীর পুত্র দ্বারকানাথ চৌধুরী জমিদারি করেন ও মৃত্যু বরণ করেন। তার কোনো সন্তান ছিল না।। আর তখন ভৈরব রায় চৌধুরীর কনিষ্ঠ পুত্র শম্ভু চরণ রায় চৌধুরী কাকিনার জমিদার হন। তারও কোনো সন্তান না থাকায় 1862 খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যুর পর তার দত্তক পুত্র কৈলাশ রঞ্জন রায় চৌধুরী 1868 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জমিদারি করেন। তার মৃত্যুর পর শম্ভু চরণ রায় চৌধুরীর আরেক দত্তক পুত্র মহিমা রঞ্জন চৌধুরী জমিদারি শুরু করেন। 1887 খ্রিস্টাব্দে র 16 ই ফেব্রুয়ারি বৃটিশ সরকার মহিমারঞ্জন চৌধুরীকে 'রাজা' উপাধি দেন। 1909 খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করলে তার পুত্র মহেন্দ্র রঞ্জন চৌধুরী কাকিনার জমিদার হন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে 1925 খ্রিস্টাব্দে জমিদারি নিলামে উঠে। তিনি 1930 খ্রিস্টাব্দে সপরিবারে ভারতে চলে যান। জনকল্যাণঃ কাকিনার জমিদাররা অত্যন্ত প্রজাবৎসল ছিলেন। প্রজাদের কল্যাণের জন্য অনেক দিঘি আর কূপ খনন করেছিলেন। যা আজও কাকিনায় দেখতে পাওয়া যায়। একজন ইংরেজ পর্যটক 1908 খ্রিস্টাব্দে কাকিনা ভ্রমণ করে কাকিনা জমিদারিকে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে সুসজ্জিত জমিদারি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শম্ভু চরণ রায় চৌধুরী 'শম্ভুচরণ চ্যারিটাবল হসপিটাল' নামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেন। এর ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা ছিলো। পরবর্তীতে এটি 'রাণী শান্তিবালা চ্যারিটাবল হসপিটাল' নামে পরিচিত হয়। মহিমারঞ্জন চৌধুরীর সময়ে মহিমাগঞ্জ, তিস্তা, লালমনিরহাট, মোগলহাট, আদিতমারি ও কাকিনা রেলস্টেশন স্থাপিত হয়। মহেন্দ্র রঞ্জন চৌধুরী দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় 50,000 টাকা দেন। তার অনুদানের টাকায় বেঙ্গল অ্যাম্বুলেন্স কোর গঠন করা হয়েছিল। এই কোর বাহিনী ইরাক পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিল। শিক্ষা ও সাহিত্যঃ শম্ভুচরণ রায় চৌধুরী একজন বিদ্যানুরাগী ও সুপন্ডিত ছিলেন। তার সময়ে কাকিনায় নিয়মিত সাহিত্য সভা বসতো। সেখানে হিন্দু-মুসলিম সব পন্ডিত উপস্থিত ছিলো। মহিমা রঞ্জন চৌধুরী রংপুরের মাহিগঞ্জে বঙ্গবিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর পরবর্তীকালে তিনি এটিকে 'কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয় ' নামে নামকরণ করেন। আর এটিকে রংপুরে স্থান্তরিত করেন। তিনি রংপুর থিয়েটার হল নির্মাণের জন্য জমি দান করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় রংপুর সারস্বত সভা গড়ে উঠে। তিনি বগুড়ার একটি লাইব্রেরিতে বড় অংকের অনুদান দিয়েছিলেন। তার পুত্র মহেন্দ্র রঞ্জন চৌধুরী 'কাকিনা মহিমারঞ্জন স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয় ' প্রতিষ্ঠা করেন।আর রংপুর কারমাইকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় কাকিনা পাবলিক লাইব্রেরি থেকে 5000 অমূল্য বই কারমাইকেল কলেজে দান করেন। ( কাকিনার প্রয়াত সাংবাদিক শহিদুর রহমান প্রচারিত রেডিও প্রোগ্রাম থেকে সংগৃহীত )


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সৌদি রাজপরিবারের

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...