গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

~~ হিমু এবং কুখ্যাত নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ!!

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইম আরাফাত(হিমু) (৮৫ পয়েন্ট)



-----------আসসালামু আলাইকুম----------- ----লেখকঃ সাইম আরাফাত (দুঃখী হিমু)---- "কি সুন্দর বাতাস,মাথার উপরে আকাশ,আমার নেই কোনো অবকাশ" এরকম কবিতা ভাবতে ভাবতে আমি গিয়ে উঠলাম বিজয় ইক্সপ্রেসে।গন্তব্য চিটাগাং।যাব মামার বাড়ি,,মামাদের গিয়ে চমকে দিব।আমি গৌরিপুর থেকে ট্রেনে উঠলাম।এখন আমাকে হুমায়ূন আহমেদের বই গৌরিপুর জংশন এর জয়নাল মনে হচ্ছে।বইটা আমি হাতে করে নিয়ে এসেছি,যেতে যেতে আবার পড়ব।আমি ট্রেনে উঠতেই ট্রেন ছেড়ে দিল।আমি একটা কামরা খুজঁছি বসার জন্য।এমন সময় একটা কামরা চোখে পড়ল।সেখানে শুধু একজন লোক বসে আছে।আমি লোকটির কাছে গেলাম।লোকটাকে দেখতে ভীষণ গম্ভীর,চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা।মুখটা ভালো করে দেখা যাচ্ছে না কারন মুখের উপর বই ধরা।আমি লোকটাকে জিজ্ঞেস করতে গেলাম যে এখানে বসতে পারি কিনা? পরক্ষনেই মনে হলো আমি তো হিমু, হিমু কি কখনও কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করে? ধুর!এজন্যই তো মানুষ আমাকে অর্ধ হিমু ডাকে। আমি লোকটাকে কিছু জিজ্ঞেস না করেই ধপাস করে বসে পড়লাম।লোকটা তার হাতের বইটা নামিয়ে রেখে চশমার ফাঁক দিয়ে আমার দিকে তাকাল।কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,এ্যাই বেয়াদবের বাচ্ছা! বাবা-মা কি তোকে এই শিক্ষা দেয় নাই যে,গুরুজনদের সামনে বসতে হলে অনুমতি নিতে হয়। আমাকে বেয়াদবের বাচ্ছা বলছে তাতে সমস্যা নেই কিন্তু তুই করে বলায় গেলাম চটে।বললাম,এ্যাই ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছা! তুই কোন দেশের লাট সাহেব যে তোর সামনে বসতে হলে অনুমতি লাগবে।এটা সরকারি ট্রেন, আমি যেখানে ইচ্ছা সেখানে বসব,তাতে তোর কি? এই ট্রেন কি তোর বাবার? লোকটা রাগে গজগজ করতে করতে বলল,তুই তো ভারি বেয়াদব রে! তুই আমাকে চিনিস? আমি তাচ্ছিল্যের সুরে বললাম,তোকে চিনতে হবে এটা বাংলাদেশ সংবিধানের কোন ধারায় বলা আছে রে? লোকটা এবার দ্বিগুণ রেগে গিয়ে বললেন,তুই জানিস আমি কে? —তুই কে আমি তা জানব কি করে? তুই আমাকে জিজ্ঞেস করছিস কেন,তুই কে?তুই নিজে জানিস না তুই কে? তবে আমি এটা বলতে পারি যে তুই বাংলাদেশ রামছাগল কমিটির সভাপতির তিন নাম্বার বাচ্ছা। লোকটা এবার আমার দিকে তেড়ে আসলেন।লোকটাকে আরও রাগিয়ে দিতে ইচ্ছা করছে।লোকটা হঠাৎ আমার দিকে তার হাতে থাকা বইটি দিয়ে বলল, দেখ এই বইটির লেখক কে? আমি বইটিকে উল্টেপাল্টে দেখলাম।বইটির নাম- আমার অবিশ্বাস।লেখক-হুমায়ুন আজাদ। আমার বললাম,লেখক তো হুমায়ুন আজা। তোর মতোই কোনো রামছাগলের বাচ্ছা হবে। লোকটা এবার আমাকে একটা চড় বসিয়ে দিলেন। বললেন,আমিই এই বইয়ের লেখক হুমায়ুন আজাদ। ঢাকা ইউনিভার্সিটির বাংলা ডিপার্টমেন্টের ফুল প্রফেসর।আমাকে সারা দেশ চিনে আর তুই চিনিস না? ফাইজলামি করিস? আমি বললাম,আমি ঠিকই ভাবছিলাম!এরকম ছাগল মার্কা বই তোর মতো রাম ছাগলই লিখবে।নাম দিছে আবার আমার অবিশ্বাস।তুই নিজেকে এত বড় লেখক দাবি করিস কিন্তু তোকে দেখে তো মনে হয় তোকে কেউউ চিনেই না। —আমাকে চেনে না?চল এখানকার পাঁচ জনকে জিজ্ঞেস করব তারা আমাকে চিনে কি না? আমরা একজন লোককে জিজ্ঞেস করলাম,ভাই আপনি কি হুমায়ূন আজাদকে চিনেন? —কে হুমায়ুন আজাদ? —লেখক হুমায়ুন আজাদ। — ধুর! ভাই,লেখক তো হুমায়ূন আহমেদ।আজাদটা আবার কে।চিনি না এসব ছাগল পাগলকে। এভাবে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম কিন্তু সবাই একই কথা বলল। আমরা কামরায় ফিরে বললাম,কিরে! তুই না এত বড় লেখক তো তোকে তো একজনও চিনল না,সবাই চিনে হুমায়ূন আহমেদকে,,অবশ্য ওনাকে তো চিনবেই,ওনি হচ্ছেন বাংলা সাহিত্যের রত্ন আর তুই হচ্ছিস বাংলা সাহিত্যের ছাগল।আমার মনে হয় তুই হুমায়ূন আহমেদের নাম ভাঙিয়ে বই ছাপাস।নয়ত তোর এসব আবর্জনা বই কে ছাপায়? —মুখ সামলে কথা বল। —তুই মুখ সামলে কথা বল জোচ্ছর কোথাকার! বেশি বারাবারি করলে যে তোকে কি করব তা তুই জানিস না।ঐদিন আইনস্টাইন, নিউটন, হকিং কে পর্যন্ত কুপকাত করছি।আর তুই তো কোন ছাড়!! লোকটি বলল,কি করবি আমার সাথে? নিজেকে কি ভাবিস তুই?দাঁড়া এক্ষুনি মজা দেখাচ্ছি! —তুই কি মজা দেখাবি রে।তার আগে আমি তোকে ট্রেনের জানালা দিয়ে ফেলে দেব। লোকটা এবার ভয় পাওয়া গলায় বলল,না না এটা করিস না।ট্রেন থেকে পড়ে গেলে তো আমি মরে যাব।আমার মরতে খুব ভয় লাগে। —মরতে ভয় লাগে? — হুম। —তুই না সবকিছু অবিশ্বাস করিস তো মরনকে বিশ্বাস করিস কেন? তুই তো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড করছিস! এক মুখে দুই কথা বলছিস। আমি তার আমার অবিম্বাস বইটা হাতে নিয়ে বললাম, এই বইয়ের নাম দিয়েছিস আমার অবিশ্বাস।তুই কি সবকিছুতে অবিশ্বাস করিস কোনো কিছুতেই বিশ্বাস করিস না? লোকটা জবাব দিল না। আমি বলতে লাগলাম,বইয়ে তো লিখেছিস আমি অবিম্বাস করি সবকিছু।কিন্তু তুই কি সবকিছু অবিশ্বাস করিস? তুই একদিন মারা যাবি এটা বিশ্বাস করিস না? তুই যে মানুষ এটাও বিশ্বাস করিস না? নাকি এটা বিশ্বাস করিস যে,তুই একটা ছাগল? —করি।আমি মানুষ। —তো বইয়ের নাম দিলি কেন আমার অবিশ্বাস?সেখানে আবার ইসলামকে নিয়ে কটূক্তি করেছিস।এ্যাই,তুই ইসলাম সম্পর্কে কি জানিস যে ইসলামকে নিয়ে লিখেছিস।ইসলামের ই উচ্চারন করতে পারিস?আবার ইসলাম নিয়ে লেখে, এ্যাহ! থাবড়ায়া চাপার সব দাঁত ফেলে দিব,বেয়াদব কোথাকার! ইসলামকে বলিস নির্দয় ধর্ম।আরে রামছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছা! ইসলাম যদি নির্দয় ধর্ম হয় তবে আর কে দয়ালু হতে পারে? ইসলাম যে দয়ালু ধর্ম তা তুই নিজেও জানিস কিন্তু নিজের স্বার্থে ঘা লাগবে বলে বলিস নি।সবকিছু নিয়ে ফাজলামি করবি না।ইসলামকে নিয়ে কটূক্তি করলে তোর মতো এসব কবি টবি দেখব না।থাবড়ায়া গাল লাল করে ফেলব।বেয়াদব জানি কোথাকার! লোকটা মাথা নিচু করে আছে।কিছু বলছে না। আমি বলল,কিরে! চুপ করে আছিস কেন? অবশ্য তোর বলার মতো কিছু থাকলে তো বলতি,তোর তো বলার মতো কিছু নেই।এই দেখ! বইয়ের আরেকটা অধ্যায়ে লিখেছিস এস্ট্রোনমি নিয়ে,তুই এস্ট্রোনমির কি জানিস? পড়েছিস তো বাংলা নিয়ে আবার লিখেছিস এস্ট্রোনমি নিয়ে।এস্ট্রোনমি কি এতই সস্তা জিনিস যে তোর মতো ছাগল তা বুঝবে?তুই কত বড় বিজ্ঞানী হয়ে গেছিস যে বিজ্ঞান নিয়ে লেখা শুরু করেছিস? আচ্ছা সত্যি করে বলতো এস্ট্রোনমির বিষয়গুলো কোত্থেকে জেনেছিস? এবার লোকটা বলল,ইউনিভার্সিটিতে যখন এস্ট্রোলজির ক্লাস হয় তখন লুকিয়ে লুকিয়ে শুনেছি। —আর সেগুলোই নিজের নামে বইয়ে চালিয়ে দিয়েছিস? —হুম। —আবার অনেক অধ্যায়ে পি.বি শেলির কবিতা দিয়েছিস! ঐ ব্যাটাও তো তোর মতো নাস্তিকই।ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটিতে পড়া কালে ঐ শেলি একটা বই লিখছিল,তোর মতোই ছাগল মার্কা বই।নাম ছিলঃThe necessity of Atheism.ওখানে ও নাস্তিকতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখা করে।পরে ব্যাটাকে ঘার ধরে ইউনিভার্সিটি থেকে এ করে দেওয়া হয়।তোকে যে কেন এখনও দেশে রাখছে আল্লাহই জানে।ঐ নাস্তিক তসলিমা নাসরিনের মতো তোকেও দেশ থেকে লাত্থি মেরে বের করে দিলে আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে,আমি হিমিকে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে যাব। —হিমি কে? — হিমি যেই হোক তাতে তোর কি? —আমার কিছুই না। আমি আবার আগের প্রসঙ্গে ফিরে গেলাম।বললাম,তুই তোর বইয়ের আরেকটা অধ্যায়ের নাম দিয়েছিস ধর্ম।সেখানে ধর্ম নিয়ে কথা বলেছিস।তুই ধর্ম সম্পর্কে কি জানিস?সেখানেও ইসলামকে কটাক্ষ করেছিস। ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়েছিস এভাবে যে,ধর্ম হচ্ছে মানুষদের আদি কল্পনা।এরকম কোনো একটা সজ্ঞা দিয়েছিলি না? —হুম। —আচ্ছা! ধর্ম যে আদিম মানুষের কল্পনা সেটা তোকে কে বলল? আর একটা কথা মনে রাখবি ইসলাম আদৌ কোন ধর্ম নয় এটা একটা পূর্নাঙ্গ দ্বীন ব্যবস্থা।আর ধর্ম হচ্ছে মানুষ যা অনুসরন করে আর দ্বীন হচ্ছে অন্য জিনিস,তুই এসবের কি বুঝবি রে? তুই তো ধর্মের আসল সজ্ঞায় জানিস না আবার একটা পুরো অধ্যায় লিখে ফেলেছিস ধর্ম বিষয়ে। একটা প্রশ্নের উত্তর দে তো,তুই কি কোনো ধর্মতেই বিশ্বাস করিস না? —না। —তুই নাস্তিকতাকে বিশ্বাস করিস তো অনুসরন করিস তো? —হুম করি। —তাহলে কিভাবে বললি আমি ধর্মে বিশ্বাস করি না,তুই কি জানিস না নাস্তিকতাও একটা ধর্ম কিন্তু সেই ধর্মে সব ছাগলরা যোগ দেয় হাহাহাহা। লোকটা মাথা নিচু করছে। আমি বললাম,তোকে শেষবারের মতো বলছি এরকম ছাগল মার্কা বই লিখে মানুষকে বিভ্রান্ত করবি না।এ্যাহ!বলে কিনা আমি বিশ্বাস করি না কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবকিছুই বিশ্বাস করে।আর শোন তোকে লাস্ট বারের মতো বলছি ইসলামকে নিয়ে যদি আর কোনোদিন কোনো খারাপ কথা বলেছিস তাহলে তোর জিহ্বা কেটে নিব।বদমাইশ কোথাকার! ট্রেন থেমে গেল।ময়মনসিংহ এসে থেমেছে।আমি ময়মনসিংহ নামব, নেমে আরেক ট্রেনে সোজা চিটাগং। আমি ট্রেন থেকে নামলাম।নামার সময় ছাগলটার দিকে একবার তাকালাম। দোখলাম মাথা নিচু করে বসে আছে। বসে থাক!এদের মাথা সবসময় নিচুই থাকবে, কখনো উপরে উঠবে না।ইসলামকে যারা অবমাননা করে তাদের অবস্থা এমনই হবে।আমি ট্রেন থেকে নেমে উত্তর দিকে হাঁটা ধরলাম। মনে একটা অন্যরকম প্রশান্তি পাচ্ছি। ------------------------------------------ [এই লেখাটা যদি কেউ সিরিয়াসলি নেন,তাহলে নিতে পারেন।যা সত্যি তাই বলেছি। আমার কথা শোনে শরীরে যদি জ্বালা উঠে তবে একটা আইসক্রিম খেয়ে শরীর ঠান্ডা করে ফেলুন।(রনি ভাইয়ের ডায়লগgj)ধন্যবাদ সবাইকে ]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৪৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ~স্যার হুমায়ূন আহমেদ কী আসলেই নাস্তিক ছিলেন? নাকি সব ভ্রান্ত ধারণা?
→ রহস্যময় মমি তেতুন খামেন এবং এর অভিশাপ:
→ বিবর্তনবাদ কী? এবং এটার ভুলগুলো।
→ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) এর একটি ঘটনা এবং আমাদের জন্যে শিক্ষা
→ হিমু এবং রাশিয়ান পরী
→ হিমুর পশ্চিমবঙ্গে ভ্রমণ
→ হিমু সড়ক
→ হাদিসের গল্পঃ ইবরাহীম (আঃ) ও সারা এবং অত্যাচারী বাদশাহ
→ তুষার এবং রাত্রি
→ জেমস এবং ডেবিড!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...