গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান ... গল্পেরঝুড়ি একটি অনলাইন ভিত্তিক গল্প পড়ার সাইট হলেও বাস্তবে বই কিনে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে... স্বয়ং জিজের স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের বড় একটি লাইব্রেরী আছে... তাই জিজেতে নতুন ক্যাটেগরি খোলা হয়েছে বুক রিভিউ নামে ... এখানে আপনারা নতুন বই এর রিভিও দিয়ে বই প্রেমিক দের বই কিনতে উৎসাহিত করুন... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

♦ছোট ফুপির স্বাস্থ্য সুরক্ষা♦

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Tuba Rubaiyat (৮৭ পয়েন্ট)



ছোট আন্টির দুই মেয়ে,সুবাহ আর রুহি।।আন্টি তাদেরকে এক মিনিট এর জন্যও চোখের আড়াল করেননা শুধু স্কুলের সময়টুকু ছাড়া।।তাও তিনি ওদের স্কুলে পৌছে দেন,, দুপুরে টিফিন এর সময় যান,আবার বিকালে ছুটির পর নিয়ে আসেন।।রুহি,সুবাহ পড়ে ক্লাস এইট আর নাইনে।ওরা নিজেরাই আসা যাওয়া করতে পারে কিন্তু তার কোন উপায় নেই,,আন্টি সবসময় ওদের পাহারা দিয়ে রাখতে চান যে!!! আমি একদিন বলেছিলাম,,"এইতো বাড়ির পাশেই স্কুল ওরা তো নিজেরাই হেটে চলে আসতে পারে।" ছোট আন্টি চোখ গোল গোল করে বললেন,,"তারপর যদি ছেলেধরা ওদের ধরে নিয়ে যায় তো??" আমি: "ছেলেধরা ওদের ধরবে কেন?? ওরা তো ছেলে না।। আন্টি এক ধমক দিয়ে বললেন,,"তুই চুপ কর।।তুই কিছু বুঝিস না!!" টিফিনের সময় গিয়ে আন্টি কড়া নজর রাখেন যাতে ওরা কোনোরকম এ ফুচকা ঝালমুড়ি না খেয়ে ফেলে!!স্কুলের বন্ধুরা মনের সুখে ফুচকা,, ঝালমুড়ি খায় কিন্তু সুবাহ-রুহির কোনো উপায় নেই ওদের ছোট আন্টির সামনে বসেই বাড়ির তৈরি খাবার খেতে হয়!!!কারন তার ধারনা চোর-ডাকাতের মত রোগ জীবাণুরাও মানুষের চারপাশে ওত পেতে আছে।।তাই বাইরের খাবার।খাওয়া তার মেয়েদের জন্য একেবারেই বারন!!! অবশ্য আমি মাঝে মাঝে লুকিয়ে লুকিয়ে ওদেরকে চিপস,চকলেট এনে খাওয়াই যদিও জানি ধরা পড়ে গেলে আমাকেও আন্টির হাতের মার খেতে হবে!!!! একদিন আমি ওদের রান্নাঘরের দিকে।তাকিয়ে চমকে উঠেছিলাম।।দেখি কী,,সেখানে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে,তার মুখটা একটা কাপড় দিয়ে শক্ত করে বাধা।।।। আমি জিজ্ঞেস করলাম: আন্টি ও কে?? আন্টি বললেন: "ওই তো আমাদের রান্নার বাবুর্চি! " আমি:"ওর মুখ বাধা কেন?" আন্টি: "বাঃ মুখ বাধা থাকবে না???আমার রান্নাঘরে মুখ খোলা কাউকে ঢুকতে দেই না।।মনে কর,,রান্না করছে,এমন সময় আপন মনে কথা বলে ফেলল।। আর কথা বললেই থুথু ছিটকে বেরিয়ে আসতে পারে।।তা হলে ওদের সেই থুথু মাখা জিনিস আমরা খাব???" আমি: রান্না করতে করতে আপন মনে কথা বলবে কেন??? আন্টি: "যদি বলে??হঠাত বলে ফেলতেও তো পারে!!!" আমি হাসতে হাসতে বললাম,,,,,"আমরা কথা বলার সময় তো থুথু বের হয় না!!" আন্টি বললেন,,"একটু একটু বের হয়,চোখে দেখা যায়না!!স্বাস্থ্য বইতে লেখা আছে!" আর একদিন দেখেছিলাম ওই বাড়ির বাজার করা।সবাই বাজারে যায় থলি নিয়ে।।আর ছোট আন্টির চাকর যায় একটা বড় প্লাস্টিকের বালতি নিয়ে,,,সেটায় আবার পানি ভরা থাকে।।সেই বালতিতে করে আনা হয় জ্যান্ত মাছ।।আন্টি তখন দাঁড়িয়ে থাকেন দোতলার বারান্দায়।।চাকর বালতি থেকে মাছটা ছুড়ে দেয় উঠোনে।।তখন মাছটা যদি দুতিনবার লাফায় তাহলে ছোট আন্টি খুব খুশি।।কিন্ত যদি বেচারা মাছটা না লাফাতে পারে অমনি তিনি বলবেন,,যা,এক্ষুনি ফেরত দিয়ে আয়।।। ছোট ফুপিদের দুধ নেওয়া হয় বাড়ির সামনেরই এক গোয়ালা থেকে দুধ দোয়াবার সময় তিনি রোজ সামনে দাড়িয়ে থাকেন যাতে দুধে এক ফোটাও পানি না মেশানো না হয়।।।শুধু তাই নয় তিনি আরেকটা কান্ডও করেন।।দুধ দোয়াবার আগে রোজ সেই গরুকে দশখানা জেলুসিল ট্যাবলেট গুড়া করে খাইয়ে দেন।।।কারন গরুর যদি কোন অসুখ থাকে আর সেই দুধ খেয়ে যদি তার মেয়েরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে তাই!!!!!! এই তো গেল খাওয়া দাওয়ার ব্যাপার।।কিন্তু ঢাকার রাস্তা ঘাটে তো অনেক নোংরা থাকে,,আর নিশ্বাসের সাথে তো তার গন্ধও নাকে ঢুকে যায়।।রাস্তায় বেড়ুলে তো নিশ্বাস নিতেই হবে।।সেই জন্য মেয়েদের তিনি নাকের ব্যায়ামও করান।।। প্রত্যেক শনি রবিবার আন্টি দুই মেয়েকে নিয়ে চলে যান গাজিপুর।।সেখানে অদের একটা চমৎকার বাড়ি আছে।।সাদা রঙ এর তিনতলা বাড়ি,মস্ত বাগান,,গাছগাছালিতে ভরা।।। এখানে তিনি মেয়েদের নিয়ে আসেন টাটকা হাওয়া খাওয়াতে।এখানে ধুলোবালি নেই,আশেপাশে কোন কলকারখানা নেই তাই বাতাসে ধোয়া নেই খুব স্বাস্থ্যকর জায়গা।। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই তিনি রুহি-সুবাহকে নিয়ে ছাদে চলে যান।। ঠিক ড্রিল মাস্টারের মত সামনে দাঁড়িয়ে থেকে বলেন,,"নিশ্বাস নে, এবার ছাড়,, আবার নে।।" কিছুক্ষন এমন করার পর।ছোট আন্টি বলেন,"এইবার হা করে খানিক্টা হাওয়া খেয়ে ফেল।।এরকম টাটকা হাওয়া তো ঢাকায় পাবিনা।।" রুহি-সুবাহ মায়ের সব কথা শুনে লক্ষি মেয়ের মত।ওরা বুঝে গেছে প্রতিবাদ করে কোন লাভ নেই।। ওনার এমন বাড়াবাড়ি দেখে আমরা মাঝেমাঝে হাসাহাসি করি, তাতে কিন্তু আণ্টি চটে যান না।।।।নিজেও হেসে দিয়ে বলেন,,"তবুও দ্যাখনা,এত সাবধানে থেকেও কি সব সময় ভালো জিনিস পাওয়ার উপায় আছে?? সেদিন ওদের খাওয়ার জন্য খুব বেছে বেছে ছোলা ভিজিয়ে দিলাম,,,তারপর ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে দেখি কি একটা ছোলা পোকায় ফুটা করা!!!!"" একদিন দুপুরে আমি ফুপিদের বাড়িতে বেড়াতে গেছি।।তিনি তখন শাওয়ার নিচ্ছিলেন।।বাথরুম থেকে যখন বেরিয়ে এলেন তখন তার চোখ দুটো কপালে উঠে গেছে,, মুখে দারুন ভয়ের চিন্হ।।। আমিও ভয় পেয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,,"কি হল?" আন্টি বললেন,,"হঠাত একটা কথা মনে পড়ে গেল,আর তাই বুকটা যা কাপতে লাগল,,,,,,,,,,,, আমি: "কি কথা??" আন্টি: তুই জানিস পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর একভাগ স্থল??? আমি আকাশ থেকে পড়লাম।এটা আবার নতুন কিছু নাকি???এতে ভয় পাবারই বা কি আছে???? আমি: "তাতে কি হয়েছে??" আন্টি: পৃথিবীর তিন ভাগ জল এটা আগে খেয়াল করিনি।।তার মানে আমার মেয়েরা তো কখনো না কখনো পানির কাছে যাবেই।এদিকে আমি অদের সাতার শিখাইনি!!ওরা যদি ডুবে যায়???" আমি হাসতে লাগলাম।।। আন্টি বললেন,,,ধর ওরা লেখাপড়ায় খুব ভাল হল।।তারপর আমেরিকা ইংল্যান্ড এ গেল,,,,,,, আমি বললাম,, "তা তো যেতেই পারে।" আন্টি: তখন সমুদ্র পেরিয়ে যেতে হবে,,মনে কর সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্লেন যাচ্ছে হঠাত প্লেন ভেংগে গেল আর ওরা গিয়ে সমুদ্রে পরল,,,তখন যদি সাতার না জানে,,,,উরিবাবা কি সাংঘাতিক ব্যাপার হবে!!!!!!"" আমি: বালাই ষাট,,ওদের প্লেন কেন ভাংবে!!আর ভাংলেও তো প্লেনে প্যারাসুট থাকবে,,,,,,,, আন্টি: "প্যারাসুট এ করে জলে নামার পর তো সাতার জানতে হবে।।যদি জাহাজে করে যায় জাহাজও তো ফুটা হয়ে যেতে পারে।।পরশু থেকে ওদের গরমের ছুটি।পরশু থেকেই আমি ওদেরকে সাতার শিখাবো।।।" আমি : ঠিক আছে তাহলে চল ধানমন্ডি লেকে,,,,,,,, আন্টি::ধুত ওখানে কত লোক সাতার কাটে।।। পানি কত নোংরা,,,,,,, ব্যাস ছোট ফুপি উঠে পড়ে লেগে গেলেন তার দুই মেয়েকে সাতার শেখাতে।।যে কোন জায়গাতে তো তিনি সাতার শিখাতে পারেন না।। একদম পরিষ্কার পানি চাই,,সেই পানিতে আবার ওষুধ দিতে হবে।।।তার আগে মেয়েদেরও নিতে হবে নানা ইঞ্জেকশন।।।।।।। অবশেষে তিনি ব্যাবস্থা করে ফেললেন একটি বড় ক্লাবের সুইমিংপুলে।।।তাও সবার সাথে না,।।। খুব ভোরে যখন কেউ থাকেনা।।সেই সময় আগেরদিনের পানি বদলে নতুন পানি ভরা হবে তাতে আন্টি তার নিজস্ব ওষুধ মেশাবেন।।।সাতার শেখানোর জন্য একজন মেয়ে ঠিক করা হল।।।।।। কিন্তু বাধ সাধলো রুহি- সুবাহ ওরা কিছুতেই সাতার শিখবেনা।।। এবার আন্টি কাদতে লাগলেন।।।অতঃপর ওদের রাজী হতেই হলো।।।। যেদিন প্রথম সাতার শিখতে যাওয়া হবে সেদিন ভোরে গিয়ে হাজির হলাম।।ওদের উতসাহ দিতে হবে তো।।।।ওরা তখনও বলছে মা আজ না গেলে হয়না????ভয় লাগছে খুব,,,।।। আন্টি: কোন ভয় নেই।আমি তো সাথেই থাকব।।।। ওরা সুইমিংপুল এর কাছে গিয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে দিল।।।আমরা সবাই তো অবাক।।।।এবার আর জোরে হাসতে লাগলো।।।এরপর দুজনেই লাফিয়ে পড়ল পানিতে।।।আন্টি আতকে উঠলেন।। ট্রেনার মেয়েটি ওদের ধরতে আসতেই ওরা সাতার কেটে চলে গেল।।। ছোট ফুপি প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেন নি।।।তিনি বললেন,,,,,ওরা এমন করছে কেন???এতদুর কিভাবে গেল???সাতার না জেনেও কিভাবে সাতার কাটছে?????? এর পর ওরা ডুবসাঁতার দিয়ে অনেক দূর গিয়ে ভেসে উঠলো।।।। এবার ফুপি বুঝলেন গালে হাত দিয়ে বললেন,,,"ওমা ওরা সাতার জানে????এই তোরা সাতার শিখলি কিভাবে???কবে শিখলি??? কই শিখলি???কে শেখালো??? রুহি সুবাহ সাতার কাটতে কাটতে বলল,,,,"দাদুবাড়ির দিঘীতে,,,,আর আমরা নিজেরাই শিখেছি।।" ছোট আন্টি ধপাস করে একটা বেঞ্চে বসে পরলেন,,,,,"হায় হায় কি হবে??একা একা সাতার শেখা কি সাংঘাতিক কথা,,,,আর ঐ নোংরা পুকুরে কত মানুষ নামে সেই পুকুরে নেমেছে আমার মেয়েরা।।।ওরা বেচে আছে কি করে??? হ্যারে তুবু বলনা???? আমি হেসে বললাম,,,,"তাইতো কি করে বেচে আছে!!!!!" ততক্ষনে রুহি- সুবাহ ওরা সাতার কেটে পুরা সুইমিংপুল তোলপাড় করছে,,,,আর ফুপি মাথায় পানি ঢালছে।।।।।।।।।।। ( ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন।।।।।,,,,,হ্যাপি রিডিং,,,,,,,,,)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ♦ছোট বেলার ঈদস্মৃতি♦

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...