গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

"অভিশপ্ত জীবন"

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)



“আস্তে আস্তে লাগছে তো! এভাবে কেউ করে নাকি। শুয়ার একটা। শরীরে কি দয়ামায়া কিছু নেই। আহ; আমিও তো মানুষ। কুত্তার বাচ্চা উঠ, সর এখান থেকে।”- কথাগুলো বলেই রঞ্জনের গালে সশব্দে চড় বসিয়ে দিলো চ্যামেলী। চড় খেয়ে মাথা আরো গরম হয়ে গেলো রঞ্জনের। গায়ের মধ্যে অসুরের শক্তি এসে গেলো তার। আরো জোরে করতে লাগলো। চ্যামেলী যতই কুৎসিত শব্দ ব্যবহার করছে, ততই বাড়ছে রঞ্জনের জোর। শেষমেষ চ্যামেলী হার মেনে নিয়ে গা এলিয়ে দিলো। প্রতিপক্ষ দূর্বল হওয়ার সাথে সাথে রঞ্জন করার গতি কমিয়ে গেলো। এর কিছুক্ষণ পর থেমে গেলো। “গায়ে জোর না থাকলে করতে আর ভালো লাগেনা।” বললো রঞ্জন।  “আর কত করতে চাও; করে করে তো শেষ করে দিলে।” - এতোটুকু জোর তোমার।  - তোমার সাথে পেরে উঠবে কে? মানুষ তো নয় যেনো জানোয়ার।  রঞ্জন কথা আর না বাড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো। একশো টাকা করে তিনটি নোট ছুড়ে দিয়ে বেরিয়ে যেতে উদ্যোত হলো।  “এই, হচ্ছেটা কি? একে তো শুয়োরের মতো করেছো; তারপর টাকাও কম দিচ্ছো।” - জোর নেই তোর, করে মজা পাইনি; পেলে দিতাম। - যা কন্টাক ছিলো তাই দিতে হবে; একটাকাও কম হলে চলবেনা। “রাস্তার মেয়ে হয়ে এতো কথা বলিস। যা দিচ্ছি তাতে না পোষালে আরেকটা খোঁজ গিয়ে। গায়ে জোর নেই আবার মুখে মুখে কথা।” কথাটা বলেই বের হয়ে হয়ে গেলো রঞ্জন। চ্যামেলী রাগে দুঃখে সশব্দে চেঁচিয়ে উঠলো, “মাদারচোদ আর যদি এদিকে দেখছি তোকে একেবারে ..... (লেখার অযোগ্য) আরো কিছুক্ষণ শুয়ে বিশ্রাম করলো চ্যামেলী। তারপর উঠে আস্তে আস্তে কাপড় বদলে নিজেকে প্রস্তুত করে নিলো। তারপর একটি পেইন কিলার আর জল খেয়ে বের হয়ে গেলো খদ্দেরের সন্ধানে। এইবার সহ আজকে ৬ষ্ঠ ট্রিপ। গায়ে না সইলেও করতেই হবে; কিছু করার নেই। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আরেকজন খদ্দের জুটে গেলো। সারারাত ধরে চ্যামেলীর শরীর নিয়ে খেলা করলো; বিনিময়ে দিলো ৩০০০ টাকা। সবমিলিয়ে আজকে চ্যামেলীর সংগ্রহ ৫৩০০ টাকা। আগের জমানো টাকার সাথে এই টাকা মিলিয়ে মোট ১০০০০ টাকা সকাল সকাল মায়ের হাতে দিয়ে পাঠিয়ে দিলো সুনীলের কাছে। সুনীলের কাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সে সূযোগ পেয়েছে ভালো নাম করা ইউনিভাসিটিতে। জন্মপরিচয়হীন একজন ছেলে। জন্মের পর সে কখনো মায়ের চেহারা দেখেনি। জেনে এসেছে মা খুব কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, দেখা করার সূযোগ পায়না; আরো জেনেছে জন্মের আগে তার বাবা মারা গিয়েছে। যদিও সত্যটা হলো সুনীলের বাবার কোন পরিচয় নেই। ছোটবেলা থেকে সুনীলের কোন চাহিদাই অপূর্ণ রাখেনি তার পতিতা মা; কিন্তু কোনদিনও সামনে আসেনা। কিভাবেই বা আসবে? কিভাবে পরিচয় দেবে তার ছেলের কাছে যে তার মা একজন দেহব্যবসায়ী পতিতা। সুনীলের কথা মনে পড়তেই চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা জল বেড়িয়ে এলো। সুনীলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে মনটা আনন্দে ভরে উঠলো। মনে মনে চ্যামেলী ভাবছে একদিন সে আর কোন কাজ করবেনা।সেদিন তার কোন তাড়া নেই; সেদিন তার আনন্দের দিন। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ঘরের দরজায় টোকা দেওয়ার শব্দ হলো। হাসিমুখে দরজা খুলে দিলো চ্যামেলী। - রেট কত? - (নীরবতা) - হবে ১০০০ টাকায়? - (নীরবতা) - চেহারা সুন্দর বলে দেমাগ দেখাচ্ছিস? আচ্ছা যা আরো ১০০০ বাড়িয়ে দেবো। - (নীরবতা) - কিরে মাগী, এতো দেমাগ কেন? এই চেহারার দাম কত চাস বল?  - (নীরবতা) - বোবা নাকিরে? তোকে আমার মনে ধরেছে। একটু আদর দে তোকে আমি ৫০০০ দেবো যা।  - (নীরবতা) - আচ্ছা ১০০০০ দেবো পুরো। জীবনে এতো টাকা চোখে দেখেছিস? চ্যামেলী দরজা বন্ধ করে কেঁদে দিলো, সশব্দে কান্না করতে লাগলো। অন্যদিন এরকম রেট পেলে তার জীবনে আর কিছুই লাগতোনা। আর আজ এই রেটের কথা শুনে কান্না করতে লাগলো। দরজার ওপার থেকে কান্নার শব্দ শুনে, “কিরে বাল ১০০০০ দেবো; তাতেও মন ভরেনা। উল্টো কান্না জুড়ে দিলি। আজ আমার বড় আনন্দের দিন; আর তুই সব মাটি করে দিবি। না তা হতে পারেনা।” এই বলে ধুম করে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়লো সে। জোর করে ঝাপিয়ে পড়লো চ্যামেলির উপর। চ্যামেলীর মুখ দিয়ে কোন কথাই বের হলোনা। শুধু চোখ দিয়ে জল ঝরতে লাগলো। পুরো ১ ঘন্টা করার পর বের হয়ে গেলো লোকটি। চ্যামেলীর মুখের উপর ছুড়ে দিলো ১০০০০ টাকা। “এই নে মাগী; তোর ওই রূপের দাম। আবার দেখা হবে।” - এই বলে লোকটি বেরিয়ে গেলো। বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে রইলো চ্যামেলী। টাকাটি তুলে নিতেও তার ইচ্ছা করলোনা। নিজের উপরই ঘৃণা এসে গেলো। ভাঙা দরজার কোণায় তীক্ষ্ণ একটি কাঠ মুখ করে ছিলো তার দিকে; সে সেটার উপর লাফিয়ে পড়লো। সারাদিন কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে আশেপাশের সবাই ছুটে এলো চ্যামেলীর ঘরে। ঘরে এসে দেখলো ১০০০০ টাকার বান্ডিল পরে আছে মেঝেতে। তার পাশে কাঠের উপর গেঁথে আছে চ্যামেলী। কাঠটি তার হৃদপিন্ড ভেদ করে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। কেউ বুঝলোনা; ঘটনা কি ঘটেছে। এতোগুলো টাকা পেয়েও কেউ কখনো আত্নহত্যা করতে পারে- এ কথা তারা মাথায় আনতে পারলোনা। কিন্তু এরা কেউই জানেনা, নিজ সন্তানের হাতে ধর্ষিত হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়। লেখক:- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "ব্যাচেলর জীবন"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...