গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

হাবিব ইবনে ওমর (রহঃ) -এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মরীচিকা (১১৩ পয়েন্ট)



হাবীব  ইবনে ওমর (রহঃ)-এর সংক্ষিপ্ত  বর্ণনা লেখাঃ- রিয়াদুল  ইসলাম রূপচাঁন। উৎসর্গঃ- প্রিয় বন্ধু । নবী ও সাহাবীদের জীবন বৃত্তান্ত  বা জীবনী  সম্পর্কে পাঠ করলে সত্যিই বদলে যায় মন।  পৃথিবীতে হাজারো ঘটণা রয়েছে  যা মন ছেয়ে  যায় ।  আমার বন্ধুর প্রেরণায় এই ইসলামিক গল্পটা লিখছি।  ভুল-ত্রুটি  ক্ষমা করবেন।  বন্ধুর অনুপ্রেরণায় লিখছি।  যদি আপনারাও অনুপ্রেরণা  দেন তবে কনটিনিউ করার চেষ্টা  করবো । যা-ই  হোক  শুরু করা যাক। ✌>> হাবীব ইবনে  ওমর  (রহঃ)-এর ঘটণার আগে একটি ঘটনা বলি। ঘটনাটি হচ্ছে  পাকিস্তানের  একজন ব্যক্তির। যিনি পাকিস্তানের  জমিদার  ছিলেন।  সেই জমিদারের নাম ছিল খান সাহেব । খান সাহেব  খুবই নিকৃষ্ট  একজন ব্যক্তি ছিল। তিনি সেই পাকিস্তানে "একটি জলসাঘর "  -এ তিনি সব সময় যেতেন।  যেখানে সকল প্রকার কু-কর্ম চলতো।  খান সাহেব  নিজে সেই সব নারীদের  সাথে সংগম করতো।  একেকদিন একেক রমনী তার কাছে হাজির করা হতো সংগমের জন্য । খুবই খারাপ  চরিত্রের  এই ব্যক্তিটি একদিন এক সাহাবীর সম্মুখে পড়লেন।  সাহাবী আরজ করিলেন-- "আননিসা হাবালুস শায়তান" অর্থাৎ  শয়তানের হাতিয়ার । -আপনি কি শয়তানের হাতিয়ার সম্পর্কে  জানেন? -না। -শয়তান, মহান রাব্বুল  আলামিনের  কাছে কয়েকটা হাতিয়ার চেয়েছিলো। শয়তান যখন প্রথমবার হাতিয়ার চাইলো, তখন আল্লাহ  তায়ালা  শয়তানকে শয়তানের হাতিয়ার  হিসেবে "লোভ/লালসা" দান করলো। শয়তান  আবার  হাতিয়ার  চাইলো ।  তখন আল্লাহ  তায়ালা  শয়তানকে  তার হাতিয়ার হিসেবে "জোয়া" কে দান করলো। শয়তান  এতেও তৃপ্ত না হয়ে পুনঃরায় চাইলো।  তখন আল্লাহ  তায়ালা  "মদ" নামক পানীয় শয়তানের হাতিয়ার  হিসেবে  দান করলো৷ তবুও শয়তান  আবার আরও হাতিয়ার  চাইলো ।  আল্লাহ  তায়ালা  তাকে তখন "হাম্মাম বা হোটেল" তার হাতিয়ার  বানিয়ে  দিলো। শয়তান তাতেও তৃপ্ত হতে পারলো না। তখন আল্লাহ  তায়ালা  "নারী"-কে তার হাতিয়ার  করে দিলো। তখন শয়তান বলে আর কোনো হাতিয়ার  লাগবেনা৷ আমি আমার  আসল হাতিয়ার  পেয়ে গেছি। শয়তান  অনেক খুশি। ( নারী বলতে এখানে,  সকল নারী শয়তানের হাতিয়ার নয়।  যারা বদ-ন্যাক্কার,অশ্লীল কাজে নিয়োজিত, দুঃচরিত্রা,ঈমানহীন তারা) সুতরাং - শয়তানের  হাতিয়ার  ৫টি। ১/ লোভ/লালসা। ২/ জোয়া । ৩/  মদ । ৪/  হোটেল । এবং ৫/  নারী । এরপর সাহাবী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ  কথা জানালেন পাকিস্তানের  খান সাহেবকে। ---ইহকালে যারা পূণ্য কাজ করবে, আল্লাহ  তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে, তারা এখানকার মতো নারী নয়।  বরং জান্নাতের হুর তাদের জন্য  অপেক্ষা  করে আছেন।  --(খান সাহেব হুর সম্পর্কে জানতে চাইলো) --জান্নাতে আয়না নামে একজন হুর আছে।  যাকে পাওয়া যাবে  সর্বোচ্চ পূন্যের মাধ্যমে ।  জান্নাতের কোনো হুর যদি দুনিয়াতে এক খন্ড থুথুও ফেলে তবে দুনিয়ার সাগর-মহাসাগর ও সমুদ্রের  সকল পানি মধুর চেয়ে মিষ্টি  হবে। আরও বলি জান্নাতের হুর এরকমই যে শয়ং জিব্রাইল (আ.) - ও চিনতে ভূল করেছিলেন। --খান সাহেব বললেন,কিরকম? ---সাহাবী আরজ করিলেন, জিব্রাইল (আ.) একদিন মহান আল্লাহ  তায়ালা র দর্শন পেতে চেয়েছিলেন।  তখন মহান রাব্বুল  আলামীন একটা আলো তার (জিব্রাইল আ.) সামনে হাজির করেন।  জিব্রাইল (আ.) আলোটি দেখে কিছুক্ষণের  মধ্যে  সিজদায় পড়ে যায়। আল্লাহ  তায়ালা  বলেন,  কি হলে জিব্রাইল তুমি সিজদায় কেন? জিব্রাইল আ.ঃ- প্রভূ আপনার দর্শন পেয়েছি। আল্লাহ তায়ালা  ঃ- এই আলোটি আসছিলো জান্নাতের একটি হুরের একটি আঙ্গুল থেকে। সুবহানাল্লাহ..... দেখুন যদি জান্নাতের হুরের একটি আঙ্গুল  এতো সুন্দর  আর আলো ছড়ায়  তবে সম্পূর্ণ  হুরকে দেখলে কি হবে ? আর আল্লাহ  তায়ালার দর্শন কেমন হতো? আর এই হুরগুলো আপনার আমাদের  জন্য  অপেক্ষা  করছে। তখন খান সাহেব  পুরোপুরি  ভালো পথে, আল্লাহর  পথে চলে এলো। একদিন কোনো এক কাজে খান সাহেব  ঐ জলসা ঘরের পাশ দিয়ে  যাচ্ছিলো।  জলসা ঘরের পুরনো এক রমনী তাকে বলল, কি হয়েছে আপনার, এই পথে আসা ভূলেই গেছেন দেখি? খান সাহেবঃ-যেদিন থেকে ঐ পথ খুজে পেয়েছি, সেদিন থেকেই সব পথ বন্ধ। আমুল পরিবর্তন -মাশাআল্লাহ! হাবিব ইবনে  ওমর (রহঃ)  >> হাবিব ইবনে  ওমর (রহঃ)  ও তার ৮জন সহযোদ্ধা  অর্থাৎ  সর্বমোট  ৯জন রোমের যুদ্ধে  আটকা পড়ে ।  তাদের রোমের জেলখানায়  আটক করা হয়। তখন রোম কা সুলতান  অর্থাৎ  রোমের সুলতান  হাজির হন তাদের  সামনে। তাদের মেরে ফেলা হবে। কিন্তু  রোমের বাদশা তাদের  মারলেন না।  তাদের  একটা শর্ত দিলেন যে, তোমরা যদি খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ  করো তবেই তোমাদের  মুক্তি  দেওয়া হবে। এমন শর্তে কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছে  না।  তখন হাবিব  ইবনে  ওমর  (রহঃ)  বললেন - ইসলামই আমাদের  একমাত্র ধর্ম।  আর মহান রাব্বুল  আলামিন আমাদের  স্রষ্টা ।  আমরা কখনোই এই ধর্ম ত্যাগ করতে পারবো না।  আমরা মৃত্যু ভয়  করিনা।  --রোমের বাদশা একটু চিহ্নিত।  ভাবছেন এদের কি করা যায়?  হঠাৎ  সে সিদ্ধান্ত  নিলো তাকে দিয়ে পাপ কাজ করাবে। আর সেইজন্য রোমের বাদশা তার নিজের মেয়েকে প্রস্তুত করলেন জিনাহ করানোর জন্য ।  নাউজুবিল্লাহ সব রকমের পদ্ধতি  রোমের রাজকন্যাকে শিখিয়ে  দেওয়া হল। এই সময় সাহাবী - হাবিব ইবনে ওমর  (রহঃ)  ২৫বৎসরের টকবগে যুবক ছিলেন। রাজপ্রাসাদের একটি কক্ষে রোমের রাজকন্যা  ও হাবিব  ইবনে  ওমর  (রহঃ)  কে বন্দী  করা  হল।  রোমের রাজকন্যা তার সব রকমের অঙ্গবঙ্গিতে মেতে উঠলো হাবিব  ইবনে  ওমর (রহঃ)  কে দমাতে। কিন্তু  কোনো ভাবেই কাজ হচ্ছে  না।  তার দিকে তাকালেন না পর্যন্ত ।  এভাবে তিনদিন  তিনরাত পার হল।  রাজকন্যা বলল, এই তুই মানুষ, নাকি লোহা?  আমাকে  দেখলিনা, খেলি না, আমি কম কিসে? তোকে বাঁধা  দেয় কে?  আমাকে তোর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। উত্তরে - হাবিব ইবনে  ওমর  (রহঃ)  বললেন,  আমি লজ্জা পাই কুকর্মের কথা শুনলেও, আমার সাহস নেই।  আমার স্রষ্টা  সর্বদাই আমাকে দেখেছেন।  আমি কখনো অন্যনারীর দিকে তাকাতে, জিনাহ করতে পারবোনা। এটা পাপ ব্যভিচার।  আমার জন্য  তো জান্নাতে অপেক্ষা  করছেন  জান্নাতী হুর। [ভুল-ত্রুটি  ক্ষমা করবেন!  আমার মতো করে লিখলাম বুঝতে অসুবিধা  হলে বলবেন ] সাহাবিদের  জীবনী সত্যিই অসাধারণ ! বদলে যাক মন,বদলে যাক জীবন।।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হযরত ঈসা (আঃ) এর জীবনী
→ মুসলিম জাহানের চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রাঃ)-এর জীবনী
→ ইবনু কায়সান (রহঃ) – দুরন্ত সাহসের এক অনন্য কাহিনী
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? রাসূল (সা:) এর জীবনী বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষিত হয়েছে – শেষ পর্ব
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? রাসূল (সাঃ) জীবনীর শিক্ষা – পঞ্চম পর্ব
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? রাসূল (সাঃ) – রাসূল (সাঃ) এর জীবনীর বৈশিষ্ট্যাবলী- তৃতীয় পর্ব
→ হাদিসের গল্পঃ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)
→ হাদিসের গল্প – ছুমামাহর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উত্তম আচরণের অনুপম নিদর্শন
→ হাদিসের গল্প – রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মু‘জিযা
→ করোনা ভাইরাসের আত্মজীবনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...