গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

মুসলিমরা কি কা'বার উপাসনা করে? এক নাস্তিকের বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন এবং তার দাঁত ভাঙা জবাব।

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ফেলুদা,হিমু,মিসির আলি(সাইম) (১৫১৩ পয়েন্ট)



আসসালামু আলাইকুম,, লেখকঃ সাইম আরাফাত(অর্ধ হিমু) উৎসর্গঃ ইসলামের জন্য যারা প্রাণ দিতেও প্রস্তুত। "আজ এক সপ্তাহ পর ভার্সিটিতে যাচ্ছি।ভার্সিটিতে ঢুকতেই বেল পড়ল।এখন মফিজুর স্যারের ক্লাস।উনি আমাদের এস্ট্রো-ফিজিক্স পড়ান।আমাদের এস্ট্রোলজি ডিপার্টমেন্টের হ্যাড তিনি।ডিপার্টমেন্টে উনার প্রচন্ড জনপ্রিয়তা।উনার জনপ্রিয়তার কারণ উনি অসম্ভব ভালো পড়ান।তবে স্যার একটু নাস্তিক টাইপ,,ইসলাম বিদ্বেষী। আমি ক্লাসের এক কোণে বসে রইলাম।স্যার এসে ক্লাসে ঢুকলেন।সবাই উঠে দাঁড়িয়ে Good Morning,Sir বলল।স্যারও Good Morning,Students বলে আমার দিকে এগিয়ে এলেন।এসে বললেন,এত দিন কোথায় ছিলেন,মহাজ্ঞানী সক্রেটিস? (স্যার আমাকে তাচ্ছিল্য করে সক্রেটিস বলে ডাকেন,,আমি এতে কিছু মনে করি না) স্যারের কথা শুনে ক্লাসের সবাই হেসে উঠলgj।হাসি থামলে স্যার আমার দিকে একটু ঝুকে এসে বললেন," তোমার সাথে আমার কথা আছে।একটা প্রশ্ন আছে।উত্তর দিতে পারবে?" বুঝতে পারছি আজকেও ক্লাসটা হবে না,স্যারের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতেই শেষ হয়ে যাবে।আমি মনে মনে প্রচন্ড বিরক্ত হলাম।তবে বিরক্তি গোপন করে বললাম,"উত্তর আমার জানা থাকলে অবশ্যই দিব"। স্যার বললেন,"আচ্ছা তোমরা মুসলিমরা বল যে,ইসলাম নাকি এক আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনা করে না"। -- অবশ্যই স্যার,,ইসলাম কখনোই এক আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনা করে না। -- কিন্তু আমি তো দেখছি,,মুসলিমরা আরও একজনকে পূজা করে। -- না,স্যার কক্ষোনই না।ইসলাম আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনা করে না। -- করে,অবশ্যই করে,,তোমরা না করতে পারবে যে,তোমরা কাবাকে পূজা কর না,,তোমারা কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় কর না? এতে কি প্রমাণ হয় না যে তোমরা কাবাকে উপাসনা করছ। --- না স্যার এতে প্রমাণ হয় না যে,মুসলিমরা কবাকে উপাসনা করছে। --- কিভাবে? --- স্যার এটা বলতে হলে অনেক সময় লাগবে। --- You,take your time...my sun... --- ঠিক আছে,স্যার।আচ্ছা স্যার,,আমরা সবাই জানি যে কাবা হচ্ছে মুসলমানদের "কেবলা"। যা আমরা মানে মুসলিমরা প্রার্থনার দিক নির্দেশক হিসেবে গণ্য করি। -- হ্যাঁ জানি। --- স্যার,এখানে একটা বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে,মুসলমানরা তাদের প্রার্থনায় কাবার দিকে মুখ ফিরায় বটে কিন্তু তারা কাবার উপাসনা করে না,,বরং তারা কাবা ঘরের মালিক মহান আল্লাহর উপাসনা করে। আল্লাহ তায়ালা মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন যে- " তোমার বার বার আকাশের দিকে মুখ করে তাকানো আমরা দেখছি।এখন আমি কী তোমাকে ঘুরিয়ে দেব সেই কেবলার দিকে যা তোমাকে সন্তুষ্ট করবে?তাহলে ঘুরিয়ে নাও তোমার মুখ সেই মাসজিদুল হারামের দিকে।(এখন থেকে)যেখানেই তোমরা থাক না কেন (নামাযে) তার দিকেই মুখ ফিরিয়ে নেবে" স্যার বললেন,"হুম,কিন্তু এতে তো এটা প্রমাণ হয় না যে মুসলিমরা কাবার উপাসনা করে না"। --স্যার আমি আপনাকে কিছু স্টেপ দেখাব যে,মুসলিমরা কখনোই কাবার উপাসনা করে না। --- বল। ---- স্যার,ইসলাম ঐক্যকে উৎসাহিত করে,,যেমনঃ মুসলিমরা যদি নামায আদায় করতে চায় তাহলে এমনটা হতেই পারে যে,কারো ইচ্ছা হবে উত্তর দিকে ফিরে নামায আদায় করবে,,কারও ইচ্ছা পূর্ব দিকে।তাই ইবাদতের ক্ষেত্রেও মুসলমানদের চূরান্তভাবে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে যেখানেই তারা থাকুক না কেন এক আল্লাহর প্রতি একমুখী হয়ে তাদের নামাজ আদায় করতে বলা হয়েছে।তাই "কাবা" সেই একটি দিকের দিক-নির্দেশক,,অন্য কিছুই নয়।কাবার পশ্চিমাঞ্চলের যে মুসলমানরা বাস করে তারা মুখ করবে পূর্ব দিকে আর পূর্বাঞ্চলে যারা তারা মুখ করবে পশ্চিম দিকে। একইভাবে উত্তরাঞ্চলের লোকেরা দক্ষিণ দিকে আর দক্ষিনাঞ্চলের লোকেরা উত্তর দিকে মুখ করে নামায আদায় করবে। -- হু,,এতে তো প্রমাণ হয় না যে,মুসলিমরা তার উপাসনা করে না। --- স্যার,আপনি কি জানেন পৃথিবী গোলকের কেন্দ্রবিন্দু কা'বা? স্যার,মুসলমানরাই সর্বপ্রথম পৃথিবীর মানচিত্র এঁকেছিল।তাদের মানচিত্রে দক্ষিণ ছিল উপরে আর উত্ত ছিল নিচে।তখন কক'বা ছিল কেন্দ্রবিন্দুতে।পরবর্তিতে পশ্চিমা মানচিত্রকরা পৃথিবীর যে মানচিত্র আঁকলো তাতে উপর দিকটা নিচে আর নিচের দিকটা উপরে করা হলো অর্থাৎ উত্তর হলো উপরের দিকে আর দক্ষিণ হলো নিচের দিকে।আলহামদুলিল্লাহ এই ক্ষেত্রেও "কা'বাই" পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু রয়ে গেল। --- তাই নাকি? জানতাম না। -- জ্বী স্যার।স্যার মুসলিমরা কাবাকে তাওয়াফ করে আল্লাহর একত্বের নির্দেশক হিসাবে।মুসলিমরা কা'বা যেয়ারতে মক্কায় গেলে কাবাঘর "তাওয়াফ" করে।অর্থাৎ কা'বা ঘরকে কেন্দ্র করে চারিদিকে ঘুরে।কাজটি এক আল্লাহকে বিশ্বাস ও ইবাদতের নিদর্শন।প্রতিটি বৃত্ত গোলাকার,,এর একটিই কেন্দ্র বিন্দু থাকে।কাজেই উপাসনার যোগ্য একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা-এটা তারই অন্যতম নিদর্শন। স্যার,হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে হযরত ওমর (রাঃ) এর একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে।সেই উক্তিটিই প্রমাণ করে যে, মুসলমানরা এক আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনা করে না।হাদীস অনুযায়ী যাকে "আছার" বলা যায়।বুখকরী শরীফের হজ্জ্ব সম্পর্কিত ৩৫৬ অধ্যায়ে ৬৭৫ নং হাদীস,,সেখানে বলা হয়েছে যে,ওমর (রাঃ) বলেছেন,"আমি জানি তুমি একটি পাথরখন্ড মাত্র এবং না কোনো উপকার করতে সক্ষম না কোনো ক্ষতি।আমি যদি না দেখতাম যে,স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তোমাকে স্পর্শ করেছেন তা হলে কশ্মনকালেও আমি তোমাকে স্পর্শ করতাম না"। স্যার তার মাথা নিচুতে লাগল।কিছু বলছে না,শুধু মাথা দোলাচ্ছেন। আমি বলতে লাগলাম," স্যার,আপনি কি জানেন একবার লোকেরা কা'বার উপর উঠে আযান দিয়েছিল? আমার কথা শুনে স্যার একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,"কাবার উপর উঠে আযান দিয়েছের?" -- হ্যাঁ স্যার,,রাসূল (সাঃ) এর সময়ে লোকেরা কা'বা ঘরের দিকে ছাদে উঠে আযান দিত।মুসলিমরা কা'বা ঘরের উপাসনা করে যারা এরকম কথা বলে তাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয়,কোন মূর্তি পূজারী কী যে মূর্তির পূজা করে,,তার মাথার উপরে উঠে? সুতরাং স্যার,মুসলিমরা কখনোই এক আল্লাহর ছাড়া আর কারও উপাসনা করে ।" এই যা ঘন্টা পড়ে গের,,,ক্লাস শেষ।সবাই এতক্ষণ আমাদের কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিল।এমন নিরবতা ক্লানে ছিল যরন একটা পিন পড়লরও তার শব্দ শোনা যেত। বেল পড়তেই সবাই হাত তালি দিতে শুরু করল।মুনাকে দেখলাম আমার নাম ধরে চিৎকার করতে লাগল।এবার স্যার মুখ তুলে তাকালেন।আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে হাঁটতে লাগলেন।আর আমি মনে মনে বলতে লাগলাম,"হে আল্লাহ,তুমি তাদের সঠিক পথ দেখকও যারা পথভ্রষ্ট"(আমিন) ------------------------------------------ "ভুল- ক্রটি হতেই পারে,,ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।ধন্যবাদ।এই লেখাটি পড়ে একজনও যদি সঠিক পথের সন্ধান পায় তাহলে আমার পরিশ্রম সার্থক মনে করব।(আমীন)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭১৮ জন


এ জাতীয় গল্প


Warning: mysqli_fetch_array() expects parameter 1 to be mysqli_result, boolean given in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/story.php on line 308

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...