গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ভবিষ্যৎ (একটি আত্মকাহিনী)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ফারহান… (১১৭ পয়েন্ট)



"আমার জীবনটা খুব সাদামাটা ছিল।অন্য সবার মতো আমারও অনুভূতি ছিল প্রখর। আমারও দুঃখ লাগতো, আনন্দ লাগতো। তবে একটা অভ্যাস ছিল, সেটা ভালো না খারাপ আমি নিজেও জানি না। যাইহোক,অভ্যাসটা ছিল একলা থাকা। বেশিরভাগ সময়ই আমি একলা থাকি। আমাদের পরিবারের কথা বলতে গেলে প্রথমেই একটা শব্দ আসবে। সেটা হলো 'দারিদ্র্য' এই শব্দটি সবসময় আমাদের সাথে থাকতো। আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাতো। তারপরেও অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছিলাম। মনে পড়ে সেই দিনটার কথা,যেদিন প্রথম নার্সারিতে ভর্তি হতে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম।আরো অনেক ছেলেমেয়ে ছিল ওখানে। কিন্তু কাউকে চিনি না। বাবাকে ছেড়ে টেবিলে বসতে মন চাইছিল না। বাবা ক্লাস থেকে বের হতেই হাউমাউ করে চিৎকার দিয়ে উঠেছিলাম। বাবাকে কিছুতেই যেতে দিতে চাইলাম না। শেষে বাবা যাওয়ার সময় একটা ললিপপ ও একটি চিপস কিনে হাতে দিয়ে চলে গেলেন। আমি তখন খুশিতে আত্মহারা!যদিও জানতাম এই টাকাটা দিয়ে বাবা অনেক কিছু করতে পারতো। আমি ললিপপ খেতে খেতে পরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষায় একেবারে ১ম হয়ে গেলাম! খুব খুশি হয়ে বাবা বলেছিলেন,যাক টাকাটা আমি কাজেই লাগিয়েছি!সেদিনটা আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক দিন ছিল।কারণটা বলছি সেদিন স্কুল থেকে খুশি মনে লাফাতে লাফাতে বাড়ি ফিরছি। তখনই দূর্ঘটনা ঘটল। আমি এতই খুশি ছিলাম যে কখন মাঝ রাস্তায় চলে গিয়েছি খেয়াল ছিল না। বাবা যখন দেখলেন আমি মাঝ রাস্তায়। তখন দৌড়ে গিয়ে আমাকে ঐপারে নিয়ে গেলেন।এর মাঝে বাবার চশমাটা পড়ে গেল। বাবা চশমাটা নিতে উবু হয়েছেন ঠিক তখনই একটা ট্রাক বাবার…… এই অংশটি আমি লিখতে পারবো না! চোখে পানি চলে এসেছে। আমি একটিবার ডাকার সুযোগ পেলাম না। আমি জানি আমার হাতে সময় নেই।তাই তাড়াতাড়ি লেখাটি শেষ করতে হবে!তো যেখানে ছিলাম…ঐ ঘটনার মাধ্যমে আমাদের পরিবারের একমাত্র সম্বল শেষ হয়ে গেল।বাবাই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।ঐ ট্রাকওয়ালাকে পাওয়া যায়নি আর। বাবার অভাবের কারণে আমাদের পরিবারে আরো নতুন কয়েকটি শব্দ যুক্ত হলো! 'অভাব','অসহায়',… মা'ই তখন কাজে নেমে পড়লো। কষ্ট করে আমাকে পড়াতে লাগলেন। তখন থেকেই আমার মধ্যে ঐ গুনটা চলে আসলো। একাকিত্ব! সবসময় নিজেকে গুটিয়ে রাখতে শুরু করলাম। এত কষ্টের মধ্যে পড়াশুনায় মনোযোগ দিতে পারতাম না। তবুও মাকে খুশি করার জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যেতে লাগলাম। আমি হার মানতে রাজি নই! এই সম্পর্কে স্টিফেন হকিং বলেছেন, 'জীবন যতই কঠিন মনে হোক না কেন,জীবনে অবশ্যই কিছু ব্যাপার আছে,যা আপনি করতে পারবেন'।তারপর আমাদের জীবন কোনোভাবে চলতে লাগলো।মা এই বাড়ি সে বাড়ি ঘুরে কাজ করে আমার পড়াশোনার খরচ চালায়। পরিবারে সদস্য বলতে আমি আর মা। কিন্তু একদিন মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। পাড়ার ডাক্তার কাকাকে দেখাতে তিনি বলেন, খুব শক্ত রোগ। বাঁচাতে হলে অপারেশন করতে হবে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন অনেক অনেক টাকা। আমাদের ক্ষমতা ছিল না এত টাকা রোজগার করার।যার ফলে মাকেও চলে যেতে হলো বাবার কাছে! আমাকেও পড়াশোনা ছাড়তে হলো। একমাত্র সম্বল হিসেবে বাবার জমি ছিল কিছু যেখানে আমাদের ভাঙ্গাচুড়া বাড়িটা ছিলো।সেটাকে বিক্রি করে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটতে লাগলাম। কোথাও থাকার জায়গা নেই। কয়েকদিন এভাবেই চলল। একদিন বাড়ি বিক্রির টাকাও শেষ হয়ে গেল।খিদের জ্বালায় মরার মতো অবস্থা। তখনই ভয়ানক অপরাধ করে বসলাম! রাস্তার ফুটপাতে বসে ছিলাম।পাশ দিয়ে একটা আমার বয়সী ছেলে বার্গার খেতে খেতে যাচ্ছিল।ওর হাত থেকে কেড়ে নিলাম খাবারটা। ছেলেটি থমকে গেল আর আমি সে সুযোগে পালিয়ে গেলাম। বিশ্বাস করুন খুব ভালো লেগেছিল খাবারটা। আমি ঐ পথটাকেই বেছে নিলাম। কিন্তু বেশিদিন ভাগ্য আমার সাথে ছিল না। এভাবে কেড়ে কেড়ে খাবার খেতে গিয়ে অনেক সময় বেদম মারধর পড়তো। একদিন এক হোটেলে গিয়ে চুরি করে খাবার খাচ্ছিলাম। তখন একজন কর্মচারী আমাকে দেখে ফেললেন। আমি কি করবো তা ভাবছি। লোকটি চেঁচাতে যাবে তখন হাতের কাছে একটা ছুরি পেয়ে সেটাই ছুড়ে দিলাম লোকটার উপর।ছুড়িটা লোকটা উপর পড়লো। আমি কাঁপতে কাঁপতে জ্ঞান হারালাম। পরদিন সকালে পুলিশ এসেছিল। কিন্তু আমাকে সন্দেহ করেনি। ওরা মনে করেছে আমিও সেই খুনির স্বীকার হয়েছিলাম! কিন্তু আমি যে খুনি সেটা তারা বুঝতে পারেনি। এরপর আর থেমে থাকতে হয়নি। অনেক মানুষকে খুন করেছি আমি! একজন সাধারণ মানুষ থেকে পরিণত হলাম সিরিয়াল কিলারে! এতক্ষণ লোকটার কথা শুনছিলাম।আর চুপ থাকতে পারলাম না।বলে উঠলাম, আপনি মশাই চমৎকার গল্প বলতে পারেন।আসনি এটা লিখে দিন আমি পত্রিকায় ছাপিয়ে দেবো। আপনি বিখ্যাত হয়ে যাবেন! লোকটি আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, আমাকে লেখক বলতে পারেন। আমি লেখকই।গল্পটা আমি এই পর্যন্ত অনেক মানুষকে বলেছি কিন্তু তারা সেটা কাউকে বলতে পারেননি।কারণ ওরা মৃত্যুর আগে গল্পটা শুনেছিল। আমি বললাম, মানে আপনি এখন আমায় মারবেন? লোকটি বলল, হুঁ ঠিক ধরেছেন। আমি এখন আপনাকে মারবো! আমি হতভম্ব হয়ে বললাম, কিন্তু আমার দোষটা কি? লোকটি হাঁসি দিয়ে বলল, আপনার দোষ কিছুক্ষণের মধ্যেই মনে পড়বে আপনার! আমি বললাম, আমি আপনাকে যদি মেরে ফেলি লোকটি বলল,মেরে ফেলুন।তাহলেও আপনি বাঁচতে পারবেন না। আপনি এই জায়গা থেকে নড়লেই উপর থেকে ছুরিটা পড়বে আপনার উপর। চিন্তা করবেন না আপনি খুব ভাগ্যবান।আপনিই আমার শেষ স্বীকার। আমিও মরে যাবো কিছুক্ষণের মধ্যেই। আমি বললাম, আপনি নিজেকে নিজে মারবেন নাকি? লোকটি কিছু বললো না। শুধু আমার চেয়ারটাকে ধাক্কা দিল। ভীষণ বেগে উপর থেকে ছুরিটা পড়ল আমার উপর।ঠিক তখনই মনে পড়লো আমার অপরাধ কি ছিল! কিছুদিন আগে একটা লোককে গাড়ি চাপা দিয়েছিলাম।এটা ঐ লোকটাই! আমার জন্য আরো অনেক নিরপরাধ মানুষ মারা গেছে। লোকটির শত্রু এখন পত্রিকার সম্পাদকরা!চোখ বন্ধ হবার আগে দেখলাম লোকটিটা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। এতক্ষণ চারপাশে অন্ধকার ছিল। এখন হালকা আলোয় ছেলেটার মুখটাকে দেখলাম!কি বিভৎস একটা মুখ!……


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমার মা (একটি সরল গল্প)
→ জাতির ভবিষ্যৎ...
→ ব্যভিচারের শাস্তি(একটি ঘটনার মাধ্যমে)
→ ভবিষ্যৎ
→ নাস্ট্রাডামুস (রহস্যময় ভবিষ্যৎ কথক)
→ সেদিন আল্লাহই মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন
→ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তের ভবিষ্যৎবাণী আজ আমরা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করছি।
→ নিজের জীবনকে ভালোবাসুন(একটি বাস্তব গল্প)
→ বউ কে নিয়ে আমার কিছু ভবিষ্যৎ ভাবনা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...