গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

বোধের অভাব-২

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Najim (০ পয়েন্ট)



ঐ দিন চায়ের আড্ডা শেষে সাইমুন আর হারুন এর দেখা প্রায় কম-ই হতো।অন্যদিকে জাহেদ ও ওর খালাতো ভাই কনক এর বিয়েতে গেছে।সপ্তাহ ঘুরে না আসতে তিন জনের আবার দেখা স্কুল ক্যাম্পাসে।দেখা হওয়ার সাথে সাথে-ই জাহেদ সাইমুনের সাথে হ্যান্ডশেক করল কারণ জাহেদ ততক্ষণে হারুন থেকে সাইমুন এর সব কথা শুনে নিয়েছে এবং নিজের কতটুকু ভূল ছিলো বুঝতে পেরে অকপটে সাইমুনকে সরি ও বলে দিয়েছে।আর আগের মতো চলতে থাকলো তাদের ঐ বন্ধুত্ব, যা পূর্বেই বর্ননা করা হয়েছে।হাসি-তামাশা,গল্প-গুজব ও বিভিন্ন বিষয় বিত্তিক আলোচনা যেন ওদের চলতেই থাকলো ঠিক আগের মতো।অন্যদিকে জাহেদের ও রিলেশনশিপ চলছে অশ্রুর সাথে এতে সাইমুন আর আগের মতো কিছু বলতেও চাচ্ছে না কারণ সাইমুন এখন বিশ্বাস করে যে ওর বলার আর কিছুই নেই।যা বলার আগেই বলে ফেলেছে।এইভাবে সব ঠিকঠাক চলছে। ২ বছর পর....... জাহেদ এখন এইচ এসসি পরিক্ষার্থী হয়ে গেছে। অশ্রুও কলেজে উঠেছে মাত্র তিন মাস হলো।অশ্রুর সাথে এখন তার বেশিই দেখা-সাক্ষাৎ হয় কারণ স্কুল,কলেজ যখন একই গ্রামে তখন যেন তাদের বড্ড উপকার-ই হয়।ঘন ঘন আলাপ, দেখা-সাক্ষাৎ এ তারা যেন খুব আনন্দই পায়!কেন ই বা আনন্দ না পাবে যখন ভালোবাসার মানুষ্টা সামনে থাকবে! কিন্তু একদিন, অশ্রু বলে উঠলো কালকে তুমি দাড়ি কেটে আসবে। দাড়িতে তোমাকে যেন অন্য রকম লাগে। জাহেদ বলল,বড় আজিব মেয়ে তো! দাড়ি কেন কাটবো? দাড়িতে কি সমস্যা? জাহেদ এর কথা শুনে অশ্রু বলল,দাড়িতে কেমন জেনো খ্যাত খ্যাত লাগে, দেখতে স্মার্ট দেখায় না।তাছাড়া আমি যা বলছি তাই করো।অযথা কোন প্রশ্ন করবা না। যদি আমার সাথে রিলেশন রাখতে চাও তাহলে আগামীকাল দাড়ি ফেলে আসবা আমার। জাহেদ একটু রাগান্বিত ভঙ্গিতে বলল এটা কেমন কথা! দাড়ি রাখাতে আমার তো...... (কথা শেষ করার আগেই)অশ্রু বলতে লাগলো আমি এত কথা শুনতে চাই না, যা বলছি তাই করো। আমি এখন যাচ্ছি। জাহেদ পিছন থেকে ডাকতেছে এই শুনো আমার কথা তো শুনে যাও।কিন্তু কে শুনে কার কথা। কথা শেষ করার আগেই চলে গেল। আর আগামীকাল বিকেলে তার সাথে দাড়ি কেটে দেখা করতে বলল। বলে রাখা ভালো যে ''স্কুল লাইফের শেষের দিকে জাহেদের দাড়ি উঠে। আর তার সাথে অর্থাৎ অশ্রুর সাথে জাহেদের রিলেশন শুরু হয় স্কুল লাইফের শেষ দিকে। খুব ভালো সম্পর্ক ছিল তার সাথে।জাহেদ যা পছন্দ করতো সে ও তাই পছন্দ করত। জাহেদের কথার বাহিরে একটা কাজ ও সে করত না। খুব ভালবাসত জাহেদকে। তাতে জাহেদ ও তার ভালবাসার মূল্যায়ন করত, যখন যেটা চাইতো এনে দিতো। কিন্তু যখন থেকে জাহেদের দাড়ি উঠা শুরু করে তখন থেকে সে জাহেদকে দাড়ি কাটতে বাধ্য করে। প্রতি সপ্তাহে ক্লিন সেভ করতে বলে। কিন্তু জাহেদ ওর দাড়িকে খুব ভালবাসত এবং তার মা বাবা ও তার দাড়ি রাখাকে খুব পছন্দ করে। এমনকি তারা দাড়িতে হাত না লাগানোর জন্যও আমাকে নির্দেশ করে। প্রথমে জাহেদ তাকে অনেক ভাবে বুঝায়। দেখো, দাড়ি হলো পুরুষের একটি নিদর্শন। পুরুষের অলংকার বলা যেতে পারে।কিন্তু সে বুঝতে রাজি না। তারপর তাকে ধর্মের দিক থেকে বুঝাই যে, দেখো এটা আদম (আ.) থেকে নিয়ে আমাদের শেষ নবী পর্যন্ত যত নবী রাসূল দুনিয়ায় এসেছেন সবাই দাড়ি রেখেছেন। এটা প্রত্যেক নবী রাসূলের সুন্নাত। কিন্তু তাতেও সে বুঝতে রাজি না। সে বলে, তার বান্ধবীরা নাকি জাহেদকে নিয়ে নানান কথা বলে। দেখতে নাকি বয়স্ক লাগে, আংকেল আংকেল লাগে। তারপর ও জাহেদ তাকে অনেকভাবে বুঝাইতে চেষ্টা করতেছে যে দেখ দাড়ি...কিন্তু কে শুনে কার কথা!অশ্রুর একটাই কথা কালকে দাড়ি কেটে আসবে"। জাহেদ বাড়িতে চলে গেছে শুধু বারবার ঐ একই কথা তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। রাত্রেও ঠিক ঘুম আসতেছে না,কিছুতেই রাত্রে ঘুম আসলো না এই দিকে ফযরের আযান হলো ও বিছানা থেকে উঠে ফজরের সালাত আদায় করলো এবং খুব জোর করে ঘুমাতে গেলো।দুপুরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নামায পড়ে দুপুরের খাবার খেয়ে ফোন করল অশ্রু কাছে।অশ্রু হ্যালো বলতেই জাহেদ বলল ৩ টায় বের হচ্ছি কোথায় আসবো বলো!ঐ দিকে ফোন থেকে শব্দ আসতেছে দাড়ি কাটছো?কিন্তু জাহেদ জায়গাটার নাম জেনেই কলটা কেটে দিলো। ঠিক তিন টায় জাহেদ একটা শফিং বেগ নিয়ে বের হয়ে রিকশা ডেকে ওই জায়গায় পৌঁছাতে ই দেখে অশ্রুর মুখে হাসি ও ভাবছে জাহেদ মনে হয় দাড়ি কাটছে।কিন্তু সামনাসামনি আসতেই অশ্রু বলল তুমি আমার সামনে আসবে না যাও এখনি চলে যাও।জাহেদ খুব ঠান্ডা মাথায় বলল আমি চলে যেতেই এসেছি ধর ব্যাগটা, এইটাতে তোমার দেওয়া গিফট গুলা আছে এবং আমার দেওয়া গিফট গুলা আমাকে ফেরত দিতে হবে না, তুমি পুড়িয়ে ফেলিও। চাইলে নিজেও রাখতে পারো। আর হ্যাঁ শুনে রাখ যে, যেই আমার কাজকে সম্মান করে না,আমার প্রত্যেকটি ভালো কাজের প্রশংসা করে না তাকে নিয়ে অন্তত রিলেশন করা যায় না।আফটার অল আমাকে সেই বুঝবে।কিন্তু,তুমি?ঠিক তার বিপরীত। আফসোস! তোমার ঐ বোধটুকু নেই যে দাড়ি রাখলে আনস্মার্ট দেখায় না বরং স্মার্ট দেখায়!বোধের তোমার এতই অভাব যে তুমি বোঝ না যে কোনটা খ্যাত আর কোনটা সুন্নাত!শুনে রাখ দাড়ি রাখা খ্যাত না, দাড়ি রাখা এইটা সুন্নাত!তুমি স্মার্টের ছোয়ায় এতই বিভোর যে তুমি আসল স্মার্ট টাই চিনতে পারছো না।জাহেদ চলে গেলো। আর জাহেদ ভাবছিলো ঐ বোধহীনতার কথা যে কারণেই ঐ দিন সেই সাইমুনকে ভুল বুঝেছিলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বোধের অভাব!
→ নির্বোধের স্বান্তনা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...