গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

আফটার লাইফ ৩য় পর্ব

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান M A Kadir Efthe (৩০ পয়েন্ট)



এই সমাজে ফিউনারেল সন্ধ্যার আগে আগে করা হয় কারণ, সূর্যকে যেমন প্রতিদিন ডুবতেই হবে, মরণশীল মানুষ কেউ একদিন মরতে হবে। তাই তার ভালোবাসার মানুষগুলো তাকে হারানোর কষ্ট গুলো ভুলে গিয়ে আত্মার শান্তি কামনা করে পরের দিনের সূর্যোদয়ের মতো নতুন আশার আলো দেখে। টিম ওরিয়ন। আমার ভাই গতকাল মারা গিয়েছে। তাকে একদল ঘাতক হত্যা করেছে। কে করেছে বা কেন করেছে এখনো তার আভাস পাওয়া যায় নি। তবে তা ভালোমতো খতিয়ে দেখার আগে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। অনেক মানুষ হয়েছে। সব ধরনের লোক এই ফিউনারেলে উপস্থিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সবাই এখানে, এমনকি রাজাও এসেছে, আমার মৃত ভাইয়ের আত্মার শান্তি কামনা করতে। আমি জানিনা কেন আমার এত খারাপ লাগছে। টমাস এবং টিম, এই দুই ভাইয়ের ভেতরের সম্পর্ক আহমরি ছিলো না। গত দুই বছর হলো টিম এবং টমাস এর কথোপকথন কেমন আছো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু তারপরেও কেন যেন আমার মধ্যে যে টমাস ওরিয়ন আছে তার বুকে আকস্মিক এক ব্যথা হচ্ছে। হয়তো, যতই হোক তারা দুইজন একই মায়ের পেটের ভাই, রক্ত রক্তই , তাই হয়তো এতটা খারাপ লাগছে। টিমের দাফনের পর একে একে সবাই যে যার বাড়িতে চলে যেতে শুরু করল। আমাকে কয়েকজন জিজ্ঞাস করল আমার চোখের কি হয়েছে। আমি সোজাসাপটা উত্তর দিলাম, "মিশনে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে।" এর মধ্যে মোটা একটি ছেলে এই সম্পর্কে আমাকে আরও অনেক প্রশ্ন করতে শুরু করলো, আমি এক সময় বিরক্ত হয়ে বললাম, ভাই হারানোর কারণে আমার মন ভালো নেই তোমার সাথে আমার পরে কথা হবে। এই বলে ওখান থেকে আমি চলে গেলাম। *** আমার সামনে বসে আছে রক্তে-মাংসে গড়া এক লৌহ মানব। তার বয়স ৫০ এর কাছাকাছি হবে। কিন্তু তার মুখ এবং শরীরের গড়ন দেখে সবাই বলবে তার বয়স ৩০ পার হয়নি। তার চোখ কখনো কখনো ঠান্ডা আবার কখনো কখনো টগবগে তরুণের মতো জ্বলে ওঠে। তার চেহারায় নিষ্ঠুর একটি ভাব আছে, তবে গাঠনিক দিক দিয়ে হলিউডের তারকাকেও হার মানাবে। সব মিলিয়ে এই লোকটি সুপুরুষ। এ আর কেউ নন, আমার বাবা, টেনিস ওরিয়ন। "তোমার এই করুন অবস্থা হলো কিভাবে?" তিনি গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞাস করলেন আমাকে। "অ্যাডভেঞ্চার মিশনে হঠাৎ করে ২০০-৩০০ এর মত গবলিন আমাদের আক্রমণ করে। আমার পুরো গ্রুপ মারা গিয়েছে, আমি কোনমতে জান নিয়ে এখানে আসতে পেরেছি।" এরপর আমি আমার শফিক চৌধুরী এবং "মেশিন আই" সম্পর্কে যত তথ্য আছে লুকিয়ে পুরো ঘটনা বললাম তাকে। "দেখি তোমার চোখের অবস্থা ওই আই প্যাঁচ টি খোলো।" কোন কিছু না বলে আমি আমার চোখটি তাকে দেখালাম। সে ভ্রু কুঁচকে আমার চোখের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। "আমি বুঝতে পারছি না তোমার চোখ কেন নীল হয়েছে। এখানে আমি কোন এবনরমালিটি দেখছি না। এটি যে কোন একটি সাধারণ চোখের মতোই। কিন্তু তার পরেও মনে হচ্ছে কি যেন লুকিয়ে আছে ওই গভীর চোখখানি টায়।" আমি বুঝতে পারলাম যে, একজন অভিজ্ঞ জেনারেলের সামনে সব কিছু লুকানো যায়না। সে জানে না যে আমার চোখের ভেতর কি লুকিয়ে আছে। কিন্তু আমার চোখের ভেতর ভয়াবহতা ঠিকই আঁচ করেছে। "তোমার ডান হাত টা দেখাও?" "...." আমি আমার ডান হাত সম্পর্কে কিছুই বলিনি। কিন্তু আমার ডান হাত যে নরমাল না সেটা তার চোখ এড়ায়নি। আমার ডান হাতটি রক্তে-মাংসে গড়া হাত নয়, এটি একটি ২৫ কেজি ওয়ালা লোহা দিয়ে তৈরি করা হাতের আকৃতি, যা আমি খুব সহজে নিজের হাতের মত কন্ট্রোল করতে পারি। আমি ছোট্ট একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে, শরীর থেকে লোহার হাতটি ছিন্ন করে টেবিলে রাখলাম। "মনে হচ্ছে তুমি নতুন কিছু পেয়েছ। তোমার জীবন মরণ অবস্থায় তুমি নতুন কোন শক্তি খুঁজে পেয়েছো। মেটাল ম্যানিপুলেটর। তোমার মাঝে লুকিয়ে থাকা এই শক্তি টিকে তুমি জাগ্রত করেছো। গতকাল তোমার ভাই মারা গেছে, কিন্তু অন্যদিকে আবার তুমি নতুন শক্তি পেয়েছ, হয়তো এসব ঈশ্বরের লীলাখেলা।" আমার মেটাল ম্যানিপুলেটর সম্পর্কে তার ধারনা আছে। এটি আমার জন্মগত এবিলিটি, কিন্তু এর আগে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারতাম না। সর্বোচ্চ একটা নাট বল্টুকে এদিক ওদিকে করতে পারতাম, আর সাইজ চেঞ্জ করতে পারতাম। আর্ক জেনারেল টেনিস দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন। "যাইহোক যা হবার হয়ে গেছে তা আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তোমার শরীরের অবস্থা দেখার দুটি কারণের মধ্যে একটি আমি তোমাকে এখানে ডেকেছি। অন্যটি হয়তো তুমি বুঝতে পারছ তোমাকে কি বলতে যাচ্ছি আমি।" হ্যাঁ, আমি কমবেশি বুঝেছি, আমাকে এখানে কেন ডাকা হয়েছে। আমার ভাই ছিল এই পরিবারের প্রধান উত্তরাধিকার এবং পরবর্তী পরিবার প্রধান। কিন্তু সে মারা গেছে তার মানে এই দায়িত্ব এখন থেকে আমার নিতে হবে। তাই সে সম্পর্কে সতর্ক করতে আমার বাবা আজ রাতে আমাকে ডেকেছে। "তোমরা দুই ভাই এবং তিন বোন। যেহেতু টিম মারা গিয়েছে, এই পরিবারের পরবর্তী প্রধান তোমাকেই বিবেচনা করা হয়েছে। তোমার বড় বোন লায়লা যতই শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমতী হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত তাকে অন্যের বাড়ি যেতে হবে, তাই তাকে কখনো আমি এই পরিবারের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করতে পারবোনা। তোমার বাকি দুই বোনের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। শক্তির দিক দিয়ে তুমি দুর্বল, তাই আগে আমি চাইনি তুমি পলিটিকাল কিংবা মিলিটারি দুনিয়ায় আসো, আমি ভেবেছিলাম তোমাকে দিয়ে ব্যবসায়িক দিকটা সামলাবো, আর আমি জানি তুমিও এই প্ল্যান করে রেখেছিলে। কিন্তু ভাগ্যবশত কিংবা দুর্ভাগ্যবশত এই বোঝা তোমার মাথায় নিতে হবে। তাই আমি চাই তুমি এখন থেকে বড় ধরনের প্রস্তুতি নাও। এই পরিবারকে সামলে নেওয়ার মতো পুরুষ হও, যখন তোমার সন্তান হবে তাকে এমন করে গড়ে তুলবে যে এই পরিবারের ভার নিতে পারে তখনি তুমি পলিটিকাল কিংবা মিলিটারি ঝামেলা থেকে মুক্ত পাবে।" আমি তার কথার কোন উত্তর দিচ্ছি না, তার কারণ অরিজিনাল টমাস ওরিয়ন এভাবে চুপ করে থাকতো। আমি তার কথার মাঝখানে অনেক কথা বলতে পারতাম কিংবা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে পারতাম। কিন্তু আমি তা করলাম না, কারণ আমার হঠাৎ পরিবর্তন দেখে হিতে বিপরীত হতে পারে। আমার বাবা বলতে থাকলেন, "আর সেকারনেই তোমার সন্তানের ভবিষ্যত নিশ্চিত করার জন্য, রাজকন্যা মরিয়ম এর বিয়ে তোমার সাথে দিতে চাচ্ছি।" এই কথা শুনে আমি অবাক না হয়ে পারলাম না। কারণ রাজকন্যা মরিয়ম এর সঙ্গে আমার ভাইয়ের বিয়ের কথা ছিল। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমি (পর্ব৫)
→ আমি হিমু (২য় পর্ব)
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম নাম্বার থ্রি (পর্ব২)
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম নাম্বার থ্রি (পর্ব১)
→ অচেনা ভুবন (১ম পর্ব)
→ বিবি ফাতেমা (রাঃ)এর নছিহত ৩ বা শেষ পর্ব
→ শাকিলের দাজ্জাল বউ-শেষ পর্ব
→ অারেক হিমু (পর্ব ৪)
→ আমি হিমু (১ম পর্ব)
→ নিঃসঙ্গ গ্রহচারী ( ২য় পর্ব )

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...