গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান ... গল্পেরঝুড়ি একটি অনলাইন ভিত্তিক গল্প পড়ার সাইট হলেও বাস্তবে বই কিনে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে... স্বয়ং জিজের স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের বড় একটি লাইব্রেরী আছে... তাই জিজেতে নতুন ক্যাটেগরি খোলা হয়েছে বুক রিভিউ নামে ... এখানে আপনারা নতুন বই এর রিভিও দিয়ে বই প্রেমিক দের বই কিনতে উৎসাহিত করুন... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

আফটার লাইফ ২য় পর্ব

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান M A Kadir Efthe (৩০ পয়েন্ট)



দুপুর পেরিয়ে বিকেল হলো। আমি স্কেটিং সু দিয়ে সাবলীল ভঙ্গিতে এগিয়ে যাচ্ছি। মাঝে একটি ছোট্ট শহরে বিশ্রাম নিয়েছিলাম। সেখান থেকে নতুন জামা-কাপড় কিনেছি। আমি একটি লম্বা হাতা ওয়ালা কালো শার্ট এবং কালো গ্যাভাডিং প্যান্ট কিনেছিলাম ওই শহরের দোকান থেকে। আমি প্যান্ট কেনার টাকা পেয়েছি সিস্টেম থেকে হীরা ক্যাশ আউট করে। একটি হীরা আমাকে দেয় ১০,০০০ পিসি, যা দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড মানের প্যান্ট শার্ট কিনার পর আরো অনেক বাকি থাকে। এই সময়টাতে অনেক গরম তার পরেও আমি কালো শার্ট কিনেছি কারণ কালো শার্ট-এর প্রতি আমার একটা দুর্বল জায়গা রয়েছে। আর লম্বা হাতা ওয়ালা শার্ট কেনার কারণ আমার লৌহ হাতটিকে লুকানো। আমি ওই হাতে গ্লাভসও ওপরে আছি, যাতে পুরোপুরি মানুষের চোখ থেকে লুকানো যায়। আমি আমার ডান চোখের উপর একটি আই প্যাচ লাগিয়েছি। কারন আমার ডান চোখের রং নীল। টম ওরিয়ন পৈত্রিক সূত্রে লাল রঙের চোখের মনি পেয়েছে। তাই এর জন্য বাড়িতে গেলে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে হবে তাই আপাতত চোখ লুকানো ভালো, বলা যাবে অ্যাক্সিডেন্ট করে আমার চোখের সমস্যা হয়েছে তাই কিছুদিন আই প্যাচ দিয়ে ঢেকে রাখতে বলা হয়েছে। ব্রেকিং নিউজ হল আমি এখন লেভেল দশে। আমার নতুন ফাংশন দোকান(সপ) ওপেন হয়েছে। কিন্তু সেখানে কিনার মত একটি জিনিসই ছিল। তা হল, অস্ত্র লেভেল আপ কার্ড। পাঁচ থেকে ছয় লেভেলে যেতে কার্ডের দাম ছিল ৬০ হীরা, সাতে যেতে লেগেছিল সত্তর হীরা লেভেল আটে যেতে লেগেছিল আশি হীরা নেভেল নয়ে যেতে লেগেছিল ৯০ হীরা লেভেল ১০ এ যেতে লেগেছে ১০০ হীরা। হিসেব করলে আমার পিস্তলের লেভেল ১০ করতে লেগেছে মোট ৪০০ হীরা। এর থেকে বেশি লেভেল আপ করতে পারেনি কারণ আমার লেভেল এর উপর অস্ত্রের লেভেল যেতে পারবে না। বর্তমানে আমার গন্তব্যস্থল হলো ফিনেক্স রাষ্ট্রের রাজধানী শেরিন। সেখানেই আমার পরিবারের বসবাস। আমাদের পরিবার এই দেশের বড় মাথাওয়ালা একটি শক্তিশালী পরিবার। এই দেশের শাসক কে বলা হয় রাজা, তারপরের স্থান যুবরাজ আর তারপরেই আসে আর্ক ডিউক। আমার বাবা এই দেশের আর্ক ডিউক টেনিস ওরিয়ন। তার আরেকটি পরিচয় আছে, সেটি হল গ্রেট জেনারেল টেনিস। সুতরাং বলতে গেলে আমাদের পরিবার এই দেশের নবিলিটি কাতারের সবার উপরে (যুবরাজ রয়াল্টি)। কিন্তু এ বলে তা নয় যে আর্ক ডিউক টেনিস ওরিয়নের ছেলে টমাস ওরিয়ন ফেমাস ব্যক্তি। কারণ টমাস ওরিয়ন আরেকজনের ছায়ায় হারিয়ে গেছে, সে হলো টমাস ওরিয়নের বড় ভাই টিম ওরিয়ন। টমাস ওরিয়ন নিতান্তই একজন সাধারন মানুষ, কিন্তু তার ভাই টিম ওরিয়ন হল শত বছরের সেরা মেধাবী, যার গুণের কোন তুলনা হয় না, আর সে কারণেই টমাস ওরিয়নের অস্তিত্ব খুব ক্ষুদ্রতরে পরিণত হয়েছে। টমাস ওরিয়নের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা ছিল না, না আছে বর্তমান টমাস ওরিয়নের, মানে আমার। আমি শুধু অংকারের সাথে বাঁচতে চাই এবং অংকারের সাথেই মরতে চাই যেমনটা করেছিলাম আমি পৃথিবীতে। আমি আমার দেশকে মিলিটারি সার্ভিস দিয়ে এসেছি। এবং যদি ফিনেক্স আমার প্রতি সদয় হয় তাহলে আমি এই দেশকে মিলিটারি সার্ভিস দিয়ে যাব আর যদি না হয় তাহলে এ দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও তাবু বাধবো। খুব কাছেই রাজধানীর বিশাল প্রবেশদ্বার দেখা যাচ্ছে। এই প্রবেশদ্বার বিশ্বের সবচেয়ে তৃতীয় উচ্চ প্রবেশদ্বার। প্রায় আটশত ফুট লম্বা এই প্রবেশদ্বারটি পৃথিবীর ছোটখাটো পাহাড়ের সমান। প্রবেশদ্বারের সামনে যেতে পাহারাদার দের দেখা গেল। পাহারাদার আমাকে দেখে ভ্রু কুচকালো। "ছোট সাহেব টমাস ওরিয়ন?" একজন পাহারাদার আমাকে দেখে চিনতে পেরে জিজ্ঞাস করল। তারা আমাকে চেনে, যতই হোক আমি গ্রেট জেনারেল টেনিসের ছোট ছেলে, কিন্তু আমার এক চোখ আই প্যাচ দিয়ে বাঁধা দেখে প্রথমে কনফিউশনে পড়ে গিয়েছিল। "হ্যাঁ আমি টমাস ওরিয়ন। আমার চোখে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে।" আমি তাকে আমার চোখ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিলাম। "ছোট সাহেব, আপনি দ্রুত ওরিয়ন বাসভবনে যান। একটা অঘটন ঘটে গিয়েছে।" এটা শুনে আমি ভ্রু কুচকালাম কিন্তু মুখে কিছু বললাম না। কারণ নিজের অজান্তে আমার পা দুটো আমার বাড়ির পথে ছুটতে শুরু করেছে। পাহারাদারের মুখ দেখে বুঝতে পেরেছি যে খারাপ কিছু ঘটে গিয়েছে। কিন্তু এমন কি ঘটেছে যে আর্ক ডিউক ওরিয়ন পরিবার তা অঘটন হিসেবে ধরে নিবে। "আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছে।" আমার পায়ে এখনো স্কেটিং সু ছিল। আমি এটার গতি আরো বাড়িয়ে দিলাম। ওরিয়ন বাসভবনের সামনে এসে আমি আমার স্কেটিং সু খুলে আইটেম বক্সে রাখলাম। আইটেম বক্স খুব সম্ভবত স্পেস ম্যাজিক। জীবিত প্রাণী ব্যতীত এখানে যে কোন কিছু রাখা যাবে। যত বড় জিনিস হোক না কেন। বাসভবনের ভেতরে আমি ঢুকে দেখি, বাগানে অনেক লোক কালো পোশাক পড়ে জড় হয়েছে। কালো পোশাক তখনই পরে যখন কেউ মারা যায়।মৃত্যুর শোক জানানোর জন্য কালো পোশাক পরে সবাই জড়ো হয়। অন্য কথায় আমাদের ওরিয়ন পরিবারের কেউ মারা গিয়েছে। কিছুটা এগিয়ে গেলাম, সেখানে এক বৃদ্ধ লোকের সাথে দেখা হল। সে আমাদের আত্মীয় হয়। "টমাস, তুমি মিশন থেকে ফিরে এসেছো। ভালো। অন্তত, তোমার বড় ভাইয়ের ফিউনারেলে যোগ দিতে পেরেছ।" শুনে নিজের অজান্তে বুক চেপে উঠলো। আমার ভাই টিম ওরিয়ন মারা গিয়েছে! [নোটঃ ফিউনারেল (Funeral): কেউ মারা গেলে তার ছবির সামনে শোক বার্তা দেয়, ফুল দেয় ইত্যাদি। এটি সাধারণত সকালে হয়, তবে এই উপন্যাসে তা সন্ধার আগে হয়, কেন তা পরের পর্বে বলা হবে।] (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমি (পর্ব৫)
→ আমি হিমু (২য় পর্ব)
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম নাম্বার থ্রি (পর্ব২)
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম নাম্বার থ্রি (পর্ব১)
→ অচেনা ভুবন (১ম পর্ব)
→ বিবি ফাতেমা (রাঃ)এর নছিহত ৩ বা শেষ পর্ব
→ শাকিলের দাজ্জাল বউ-শেষ পর্ব
→ অারেক হিমু (পর্ব ৪)
→ আমি হিমু (১ম পর্ব)
→ নিঃসঙ্গ গ্রহচারী ( ২য় পর্ব )

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...