গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ভুতের গল্প

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান M A Kadir Efthe (৩০ পয়েন্ট)



আমি তখন কলেজে ভর্তি হয়েছি মাত্র। আমার বাসা থেকে প্রায় ৩৫-৪০কি.মি. দুরে কলেজ। তাই কলেজ আর প্রাইভেটের এর সুবাদে আমাকে মেস এ থাকতে হয়। তো আমি কলেজ থেকে ১কি.মি. দুরে একটা তিনতলা বিশিষ্ট মেস এ উঠলাম। ২য় তলায় খুবই সুন্দর একটা রুম পেলাম। আমাদের মেস থেকে কিছুদুরেই চৌরাস্তা। আমি আর নীলিমা(মিতুর রুমমেট) দুজন থাকি এই রুমটাতে। সেও আমার সাথেই পড়ে আর এখানে নতুন। দুজন মিলে খুব সুন্দর করে রুমটা সাজালাম। রুমের দরজার পাশেই আমার পড়ার টেবিল, আর পড়ার টেবিলের পিছনে আমাদের বিছানা আর তারপর বিছানার সাথে যুক্ত নীলিমার পড়ার টেবিল। রুমের উত্তরে দুটি জানালা। জানালা খুললেই আকাশ দেখা যায়। আর একটু দুরে দুটো বড় নারিকেলের গাছ। নীলিমার সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল। ৬ মাস খুব ভালোভাবে কেটে গেল। সবার সাথে খুব ভালো পরিচয় হয়ে গেছে। ঘটনাটা ঘটে তখনই। একদিন কলেজ প্রাইভেট শেষ করে সন্ধ্যায় ফিরে দেখি নীলিমা কাপড় গুছাচ্ছে। আমি তাকে বললাম, কি রে নীলু, বাসায় যাবি? আকাশের অবস্থাও তো ভালো না সে বললো, হুমম, বাবা ফোন করেছিলো যেতে বললো ওহ, কোনো কিছু হয়েছে কি? আরে না , এমনি যেতে বললো আচ্ছা সাবধানে যাস। তাড়াতাড়ি পৌঁছিস, যেকোনো সময় ঝড় আসতে পারে আচ্ছা আরও কথা হলো এবং সে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। তার বেরিয়ে যাওয়ার পরে কি মনে করে যেন আমার চোখ জানালায় চলে গেল। আমি স্পষ্ট দেখলাম নারিকেল গাছে একটা ঈগল বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।জানালা দুটো বন্ধ করে দিলাম। যখন জানালা বন্ধ করতে যাই তখন একটা গরম নিশ্বাস আমার উপর এসে পড়েছিল। হঠাত একটা অজানা ভয় কাজ করতে শুরু করলো। মনে হচ্ছে কেউ যেন আমার আশেপাশে আছে। এর কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি শুরু হলো। আমি ভাবছি নীলিমা এতক্ষণে হয়তো গাড়িতে উঠে গেছে। তাই পড়ার টেবিলে বসলাম পড়তে। বাংলা বইটা বের করেছি এমন সময় কারেন্ট টা চলে গেল। আর তখন শুরু হলো ভীষণ বজ্রপাত। কিন্তু এই ঝড়বৃষ্টির রাতেও আমি বাইরে থেকে একটা কুকুরের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি জানালা খুলে দেখলাম একটা কুকুর আমার রুমের দিকে তাকিয়েই এমন করে কাঁদছে। আমি হঠাত বিদ্যুতের আলোতে দেখতে পেলাম ঈগলটা এখনও সেই গাছে বসে আছে। একটা অশরীরির ভয় আমাকে যেন জড়িয়ে ধরছে। সাথে সাথে জানালা বন্ধ করে দেই। আমি ভয়ে ভয়ে মোমবাতি নিয়ে পডড়তে বসলাম। এমন সময় দরজায় ধাক্কা দিয়ে মিতু মিতু করে কে যেন ডাকলো। আমি দরজা খুলতেই দেখি নীলিমা। আমি বললাম,নীলু, ভালোই হয়েছে তুই এসেছিস রে! এমন ভিজতে ভিজতে ফিরে আসলি কেন? আরে রাস্তায় কোনো গাড়ি পেলাম না রে। শুন না আমার ক্ষুধা লাগছে খুব আচ্ছা তুই চেন্জ কর, আমার খাবারটা খাইস।আমার কেন জানি আজ খেতে ইচ্ছে করছে না এরপর নীলু চেন্জ করে আমার টেবিল থেকে আমার খাবার টা নিয়ে একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে খেতে শুরু করলো। আমি আবার পড়ায় মনোযোগ দিলাম আর ভাবলাম যাক বাবা , ভয় টা কাটলো। অদিকে কুকুরটারও কাঁদা বন্ধ হয়েছে। ঠিক সে সময় আবার দরজায় ধাক্কা। আমি দরজা খুললাম আর দেখলাম নীলুকে। আবার আগের মতোই ভিজতে ভিজতে চলে আসলো। আমি ভয় পেয়ে গেলাম আর ওকে ভয়ে ভয়ে বললাম তুই? আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। আমার খাবার আমার টেবিলেই। সে বললো, হুম রে আজ আর যাওয়া হলোনা বাইরে এত বৃষ্টি আমি তখন ভয় পেয়ে গেছি প্রচন্ড। আর পরক্ষণে মনে হলো এটা আমার হেলুসিনেশন নয় তো। কিন্তু মনের ভুল হওয়ার তো কথা না। আমার তো স্পষ্ট মনে আছে মিতু কিছুক্ষণ আগেই আসলো। এমন সময় নীলিমা বললো, আমি এখন ঘুমাবো রে, খুব ঠান্ডা করছে। তখন সে লেপ কাথা মুড়ে শুয়ে পড়লো। আমার মাথায় যেন কিছুই কাজ করছেনা। ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছে। আর সেই সময় আবার দরজা ধাক্কানো শুরু। আমি ভয়ে ভয়ে দরজা খুললাম, দেখলাম পাশের রুমের পিংকি দি। খুবই ভয়ার্ত আর কান্নার স্বরে আমাকে বললো, মিতু , নীলু আর নেই রে । চৌরাস্তায় যাওয়ার রাস্তায় সিনেমা হলের সামনে একটা বাসের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে। সবাই যাচ্ছে। তুই ও চল বলতে বলতে দিদির গলা শুকিয়ে যাচ্ছিলো। আমি ২০০০ ভোল্টের শক খেলাম যেন। আমি বললাম কিন্তু কিন্তু টিন্তু না, তাড়াতাড়ি চল বলেই আমার হাত ধরে টানতে লাগলো। আমি সেই মূহুর্তে পিছনে তাকিয়ে দেখলাম নীলুর পুরো শরীরে রক্তমাখা, মাথা টা কেমন বিকৃতি রুপ ধারণ করছে। বিছানায় সুখাসনে বসে আমার দিকে লাল চোখে তাকিয়ে আছে। এটা দেখে ভয়ে আমি মরে যাওয়ার উপক্রম ।আমি সাথে সাথে রুম থেকে বেরিয়ে যাই। আর বাইরে সবাইকে সিনেমা হলের দিকে যেতে দেখলাম। আমি কাউকে কিছুই বলিনি এই ঘটনার ব্যাপারে। হালকা হালকা বৃষ্টি তখনও। আমরা ভিজতে ভিজতে সেখানে গেলাম । ভয়ে আমার হাত পা সব অবশ হয়ে এসেছে। গিয়ে দেখলাম লোকজন গোল হয়ে তার লাশ দেখছে। আমি গিয়ে দেখলাম নীলু নিথর হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে, আর ওর মাথাটা থেতলে গেছে যা আমি রুমেই দেখেছি। আর হঠাত আমার চোখ গেল নারিকেল গাছটার দিকে । দেখলাম নীলু সেই গাছে বসে আছে।আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার দেহ থেকে টপ টপ করে রক্ত পড়ছে। আর নীলু আমার দিকে একপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তার চুলগুলো গলার দুপাশে জড়ানো ছিলো। আমি দেখে ভয়ে কাঁপতে শুরু করি। এটা দেখে পিংকি দি আমার এমন করার কারণ জানতে চাইলো কিন্তু আমার মুখ দিয়ে কথাই বেরুচ্ছিলো না। আমি শুধু আঙ্গুল উঁচিয়ে নারিকেল গাছের দিকে দেখাই। আর ওরা কিছুই দেখতে পায়না কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম, নীলু আমার দিকে রক্ত বর্ণ চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে। পরে আর আমার কিছুই মনে নেই। কিভাবে যেন আমার দু চোখ বন্ধ হয়ে এলো। পরে দিনের বেলা চোখ খুলে পিংকি দির বিছানায়। আমার পরিবারের সবাই আছে আর মেস এর সবাই আছে। আমি সবাইকে সব ঘটনা খুলে বলি।এরপর আমায় বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে আমি ঐ মেস ছেড়ে কলেজ হোস্টেলে উঠি!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৪১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্পের নাম? জানি না।:p
→ গল্পের কোনো নাম নেই
→ শিক্ষাণীয় গল্প
→ একটি ভালোবাসার গল্প
→ মধ্য রাতের গল্প
→ রহস্য গল্প……
→ অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প
→ অত্যাচারী বাদশাহ এর গল্প
→ নপুংসক বাদশার সন্তানের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...