গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান ... গল্পেরঝুড়ি একটি অনলাইন ভিত্তিক গল্প পড়ার সাইট হলেও বাস্তবে বই কিনে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে... স্বয়ং জিজের স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের বড় একটি লাইব্রেরী আছে... তাই জিজেতে নতুন ক্যাটেগরি খোলা হয়েছে বুক রিভিউ নামে ... এখানে আপনারা নতুন বই এর রিভিও দিয়ে বই প্রেমিক দের বই কিনতে উৎসাহিত করুন... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

অস্পৃশ্যের স্পর্শ

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Limon Mhamud (guest) (৩১৮৮ পয়েন্ট)



কখনো ভাবিনি, এই ফেসবুক থেকেই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটার সাথে দেখা হয়ে যাবে... পরিচয়ের ৪ মাস পর দেখা হবার প্রথমদিনই আমি তাকে বলেছিলাম, বিয়ের পরও আমরা একজন আরেকজনকে 'আপনি' করে বলবো। তখনো কিন্তু আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের বাইরে অন্য কোনো সম্পর্ক হয়নি। তবুও আমি হুটহাট মনে যা আসছিলো, বলে ফেলছিলাম... ... প্রথম দেখার আরো কয়েকটা ঘটনা বলি। গুলশান ফিশ এন্ড কো’র নিচে আমি সিড়িতে বসে ছিলাম। হাতে আড়ংয়ের ব্যাগ। ব্যাগের ভেতর নানান রঙের কতগুলো মোমবাতি। মিনিটদশেক পর তাকে দেখতে পেলাম। হাতে লাল রঙের ছাতা। পিঠে ছোট্ট একটা ব্যাগ। সে সামনে এসে দাঁড়ালো। আমি হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত এগিয়ে দিলাম। বললাম, বসেন। কিছুক্ষণ জিরান... সে আমার পাশে বসলো। ব্যাগ থেকে একটা বড় ক্যাডবেরি বের করে দিলো। আমি তার হাতে আড়ংয়ের ব্যাগটা ধরিয়ে দিয়ে বললাম, এখান থেকে কালো দুইটা মোম আলাদা করে বাকিগুলা নিজের কাছে রেখে দেন। আবার চুরি করে এই দুটো নিয়ে যায়েন না... সে ব্যাগ খুলে বললো, মোমগুলো খুব সুন্দর ! তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। একে তো মোমবাতিগুলো আমি বানাইনি, বানিয়েছে আড়ং। দ্বিতীয়ত এই মেয়েটাকে কোনো কারণ ছাড়াই আমি অপছন্দ করি। তার খুশি হওয়াতেও আমার কিছু যায় আসেনা। ... তবুও ক্যান জানি ভাল্লাগলো ! সেখানে ঝিনুক ওয়ালা একটা সী-ফুড প্ল্যাটার খেয়ে আমরা বসুন্ধরা সিটির দিকে রওনা হলাম। ঝিনুক আমার পছন্দের খাবার। সাথে একটা লিচুর ককটেলও ছিলো। গ্লাসের ভেতর লিচুপাতা সহ আস্ত লিচু দেয়া। আমি দেখতে চাচ্ছিলাম, সে পাতাটা খায় কিনা। ছাগলের লিচু পাতা খাওয়ার ছবি তুলবো... ... কিন্তু মেয়েটার লিচু খাওয়া দেখতেও আমার ক্যান জানি খুব ভাল্লাগলো ! আগে কখনো কারো ক্ষেত্রে এমনটা হয়নি। বসুন্ধরায় ঢুকতে ঢুকতে বললাম, প্রেম করবেন? সে হাসতে হাসতে মাথা ঝুঁকিয়ে আমার কথা উড়িয়ে দিলো। খুব সিরিয়াস মুডে কথাটা না বললেও আমি কিন্তু সেদিন সিরিয়াসই ছিলাম। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার প্রস্তুতি রাখতে গিয়ে সেদিন সিরিয়াসনেসটা আর দেখানো হয় নাই... এরপর প্রায় দেড়বছর কেটে গেছে। বেশ কয়েকবার দেখাও হয়েছে। প্রতিবারই খুব অনিচ্ছা নিয়ে আমি তার সাথে দেখা করতে যাই। আমার জীবনযাত্রা ছিলো আর দশজনের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম। বারো বছরের পিছুটানবিহীন স্বাধীন জীবনযাপনেই আমি অভ্যস্ত ছিলাম। তাই প্রতিবার তার সাথে অনেকগুলো ভালো সময় কাটিয়ে এসেও ঘরে ফিরে ভালোবাসা অনুভব করার কয়েকঘন্টা পর কোনো না কোনোভাবে সেই পিছুটানহীন জীবনেই ফিরে যেতাম... কিন্তু গত চারটা মাসে আমার চারপাশ বদলে গেছে। আমার একঘেয়েমিতে পরিপূর্ণ রুক্ষ আচার আচরণে তার ঢাকার চাকরীটা ছেড়ে ৩৮১ কিলোমিটার দুরে চলে যাওয়ার বিষয়টা যে আমার কাছে কোনোদিন স্বাভাবিক মনে হবেনা, একটা রোড এক্সিডেন্টই তা প্রমাণ করে দিয়েছে ! সে বলে, "এই এক্সিডেন্টটা না হলে আপনার আমার আর কখনো দেখাও হত না। আল্লাহ্ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন"। ... মাথা ফেটে দুই ব্যাগ রক্ত যাবার পরও একটা মানুষ বলছে, 'এক্সিডেন্টটা আমাদের ভালোর জন্য হয়েছে' !! ভাবা যায়? কতটা ভালোবাসা নিয়ে মানুষ এমন সিচুয়েশনে থেকেও এ কথা বলতে পারে ! এদিক থেকে তার হিসাব অনুযায়ী, আমাদের সম্পর্কের সময়কাল মাত্র ৩ মাস। যদিও রিলেশনশীপটা শুরু হয়েছে দুবছর আগে। কিন্তু একজন আরেকজনকে সহ্য করতে না পারার মাঝেই আমরা অনেকগুলো সময় নষ্ট করে ফেলেছি। এখন প্রতিটা সেকেন্ডই আমাদের কাছে মূল্যবান। জীবনের বাকি প্রতিটা মুহূর্ত আমরা একসাথে কাটাতে চাই। এখন আর আমি তাকে ছাড়া একটা দিনের কথাও ভাবতে পারিনা। সেও তার ক্লান্তিময় অবসরের পুরোটা সময় আমাকে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যায়... আমি এখনো সারামাস জুড়ে খুব সস্তা দামের কিছু গিফট কিনতে থাকি তার মুখের ওই এক্সপ্রেশনটা দেখার জন্য - "জিনিসটা তো খুব সুন্দর" ! "হ্যাঁ, আমার পছন্দ হয়েছে" !! আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিয়ের পর বারান্দায় একটা লিচু গাছ লাগাবো। যাতে আরো বেশি বেশি তার লিচু খাওয়া দেখতে পারা যায়। মিশুক মুনীর স্মৃতি ভাস্কর্যের পাশে গিয়েও একদিন দুপুরবেলায় বসে থাকবো। দুজন একসাথে; সে নীল জামায়, আর আমি কনভোকেশনের ড্রেসে... এই শহরের কয়েকশ রেস্তোরা বুকে আশা জমিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে, কোনো একদিন সময়টা আমাদের হবে। আমরাও গিয়ে খেতে বসবো। শহরের রাস্তাগুলো হোক কাঁদামাখা কিংবা ধুলোময়, আমরা আমাদের পায়ের ছাপ রেখে আসবো... ... এই স্বপ্ন নিয়ে একেক দিন একেকটা ১৭ ঘন্টার কাউন্টডাউন শুরু হয়। বাকি ৭ ঘন্টা আমরা ঘুমিয়ে কাটাই। চোখের কোণে ভিড় করে আরো নতুন কিছু স্বপ্ন ! গল্পকারঃ Kazi Nipu


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৫১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ""জিজের সংস্পর্শে আসা ০১""লেখক:Jahid hasan (অপরাধী)
→ অস্পর্শ ভালোবাসা
→ বদলে যাওয়া ভালোবাসার স্পর্শে___
→ স্পর্শ
→ প্রিয়জনের প্রথম স্পর্শ
→ আত্মহননের আগে ধর্ষিতার মর্মস্পর্শী চিঠি
→ প্রথম প্রেমের স্পর্শ
→ শেষ স্পর্শ
→ বাবার আত্মত্যাগ হৃদয় স্পর্শকাতর গল্প।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...