গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ধানক্ষেত

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হেলাল নিরব (০ পয়েন্ট)



চোর থেকে ডাকাত হয়েছে বেশ কিছুদিন। নিজেকে সে বেশ বড় মনে করলেও, গ্রামের আর সবাই সেটা করছে না। তবে আগে যেমন চোর বলে টিটকারি মারত, অবহেলা করত সেটা এখন ভুলেও করে না। যন্ত্রটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রফিক। কি এক আশ্চর্য জিনিস! কল টিপলেই সরু নল দিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ধাতব কিছু বের হয়। তাতেই জীবন নাশ! ভেবে ভেবে অবাক হয় রফিক। যদিও এখন পর্যন্ত কারও উপর এর প্রয়োগ হয় নাই, তবুও এটা রফিকের হাতে আশা মাত্রই, তার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে যশ প্রতিপত্তি ও। গ্রামের আবালবৃদ্ধ পথে দেখা মাত্র সালাম ঠুকতে ভুল করে না। গর্ব হয় রফিকের। যন্ত্রটাকে নিজের ছেলের মত যত্ন করে। সরিষার তেলে ন্যাকড়ার কাপড়ে ভিজিয়ে আস্তে আস্তে মুছতে থাকে। গভীর ভালোবাসা দিয়ে গভীর আবেগ নিয়ে। যেন জোরে ঠুকলে সদ্য ঘুমানো যন্ত্রটার ঘুম ভেঙ্গে যাবে। প্রায় ঘণ্টা খানিক মুছে-টুছে মাথা তুলে তাকায়।ফাকে কখনও মিঠা ব্যবসায়ী মতিনের দেওয়া মিঠা আর একমুঠো মুড়ি মুখে পুরে নেয়। কখনও তা চিবিয়ে খেতে ভুলে যায়। যন্ত্রটার প্রতি তার খুব মায়া জন্মে গেছে। লোকের কাছে মারণাস্ত্র হলেও এটাইতো তার অবহেলার জীবনকে নিষ্কৃতি দিয়েছে। দু-বেলা খাওয়ার মত পথ্য জুগিয়েছে। - রফিক মিয়া ঘরে আছনি? ও রফিক মিয়া! বাইরে হঠাৎ তার ডাক পরায়, বেশ হকচকিয়ে উঠল।তার মাথায় তখন একটা চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল, যন্ত্রটা লুকাতে হবে। - কেডা, কেডা ডাহে? যন্ত্রটা বড় মুটকির একেবারে তলায় রেখে দেয়। একটা তৃপ্তির নিশ্বাস নিয়ে আড়চোখে ঘর মাঝে চোখ বুলিয়ে নেয় রফিক। না, কেউ নেই! নতুন কেনা টিনের বেড়ার ফাকে যদিও কিছু দেখা যাবে না! তবুও সতর্ক হয়ে থাকে সে। যন্ত্রটাকে সে কিছুতেই হারাতে পারবে না, কিছুতেই না। বাইরে বের হয়ে দেখল চেয়ারম্যান সাব। অত্র মাধবপুর ইউনিয়নের একমাত্র সফল চেয়ারম্যান। তাকে ফেল করানো তো দুরে, তার বিপরীতে দাঁড়ানোর সাহসও পায় না কেউ। সেই উগ্র এবং ক্ষমতাধর চেয়ারম্যান তার বাড়িতে!সন্দেহ হয় রফিকের- কী ব্যাপার? চোখ কুচকে ওঠে তার। - স্লামালিকুম সাহেব, আমনে, আমার বাড়িতে? কি কিছু কী হইছে? -না মিয়া, এমনি আইলাম, এট্টু কথা কইতে। আর কি? -কি কতা? তাড়াতাড়ি কন! কথাগুলো মুখে না যতটা জোরালো ছিল তার থেকে বেশী ছিল মনে। মস্তিষ্ক বারবার নাড়া দিচ্ছিল, কি এমন কথা, যে সে নিজেই আসছে, কোন লোকও পাঠায় নাই! -আমার এতটা কাম কইরা দিবার পারবা? টেহা যত লাগে আমি দিমু! সন্দেহে চোখ ছোট হয় রফিকের। লোকটা যে খুব একটা সুবিধার না,তা সে ভালো করেই জানে। এর মাঝেই দু-চার বার রফিকের ঘর সার্চ করিয়েছে। লোক লাগিয়ে রাখছে যন্ত্রটার জন্য। সন্দেহ প্রবল হয় রফিকের, পাছে আবার যন্ত্রটা হাত করার ফন্দি আঁটলও না তো। -জলদি কন কি কাম? বেশ সন্দেহ আর বিরক্ত জড়ানো কণ্ঠেও রাগল না চেয়ারম্যান। বরং আরও শিথিল হল যেন তার স্বভাব। কথার স্বর খাদে নেমে গেল। -কামডা কিন্তু চুরি, ডাকাতি বা খুন না! একই রকম উত্তেজনায় গলা চড়িয়ে বললো, তাইলে কি? কাহিনী না কইরা কন জলদি! - ধর্ষণ! মানে এতটা মেয়ের সর্বনাশ করতে হইবো তোমার। আমি ভাইবা দেখছি অত্র এলাকার মাঝে হেইরম সাহসী একজনই আছে।আর হেইডা তুমি। উপর মহলের ক্ষুদ্র প্রশংসাটাও, চাঁদ হাতে পাওয়ার আনন্দের মতো। আর তাতেই বিমোহিত হয়ে গেল রফিক। এতক্ষণের জড়ো হওয়া সন্দেহ আর বিরক্ত মুহূর্তে কর্পূরের মতো উবে গেল। বেশ একটা ভালো লাগা কাজ করল চেয়ারম্যানের প্রতি। কিন্তু একবারও তার রাগী মাথা এই প্রশ্ন আনল না যে, চেয়ারম্যান কেন তার প্রশংসা করল? এর সঠিক উদ্দেশ্য কি? গ্রামে চোর খুনিদের অভাব নেই। কয়েক টাকা দিলেই কাজ করে দেয়।তা হোক ঠ্যাং ভাঙ্গা অথবা খুন। কিছু টাকার কাছে এসব তুচ্ছ। তুচ্ছ আরেক জনের জীবন। -হ পারমু! তয় কেডা হে, আমগো গেরামের কেউ না তো? চোখ কপালে উঠে যায় চেয়ারম্যানের। এত সহজে এমন বাঘা ডাকাত বাগে আসবে তা কল্পনার বাইরে ছিল চেয়ারম্যানের। - সত্যি, তুই পারবি তো! এতক্ষণের সমীহ করে কথা বলা শেষ হলেও তাতে কিছু মনে করল না রফিক। শুধু জিজ্ঞাসু দৃষ্টি ফিরাল চেয়ারম্যানের প্রতি। সে দৃষ্টিতে যেন লেখা ছিল, জগতের সব কাজই পারবে সে। শুধু বলে দেখুক না। - শওকত আলীর একমাত্র মাইয়া কুলসুমরে, পারবি? বেশ চিন্তায় পরে গেল রফিক। তাকেই মনে ধরেছিল; আর তার সাথেই এমন কাজ! কিভাবে করবে সে? - পুরো এক লাখ দিমু। বইসা খাবি ব্যাডা,চিন্তা কইরা দেখ! আমি আহি! শুকনো বালিতে আধ মরা ঘাসের স্তর নতুন করে গজানোর শক্তি ফিরে পেয়েছে। নদীর তীরের খেজুর গাছটাও ছাটা হয় না অনেক দিন। দেখতে খুব বিচ্ছিরি লাগছে। নদীর পানি বেড়েই চলছে। মাঠের ধান ক্ষেতে পেটি হওয়া ধান গুলো হালকা হাওয়ায় ঘস ঘস করে দুলছে। বাতাসে কাচা পাতার ঘ্রাণ। আর রফিকের মনে একই চিন্তা, কাজটা কি তার ঠিক হবে কি না! নদীর পাড় থেকে দুরে কুলসুমদের বাড়ি দেখা যায়। এই সমস্ত জমি তার বাবার। কুলসুম তার বউ হলে সব পাইবে কিন্তু কিভাবে তাকে বলবে, সে তাকে ভালোবাসে, বিয়ে করতে চায়! মাথার ভিতর চিন্তাটা ঘুরঘুর করতে থাকে। হঠাৎ মনে হয় চেয়ারম্যানের কথা।তাকে দিয়ে যদি সুপারিশ করা হয় তা শওকত আলী ফেলতে পারবে না। যদিও চেয়ারম্যানের সাথে শওকতের পুরনো শত্রুতা। তারপরও শত্রুর মাথানত হওয়া অন্য পক্ষ সবসময় আনন্দের চোখে দেখে।তখন বড় হওয়ার জন্যেও সব আর্জি মঞ্জুর করে। সন্ধ্যে হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। লুঙ্গিটায় হাত দিয়ে যন্ত্রটা দেখে নেয়। ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে হেটে চলছে সে। ঘস ঘস ঘস ঘস করে লুঙ্গির সাথে ঘসা খাচ্ছে নিরীহ ধানগাছগুলো। খুব বেশি দুর দেখা যাচ্ছে না। চোখের উপর হাতটা আড়া আড়ি করে দুরের কুলসুমদের বাড়ি দেখতে চাইল। পারল না। বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পরে চেয়ারম্যানকে। খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা উঁকি দিয়ে খুঁজছে। গলা খাঁকারি দিল রফিক। হতচকিত চেয়ারম্যান কে কে বলে একরকম চিৎকার করে উঠল। রফিকের মনে হল সে ভয় পেয়েছে। অসাধু লোকদের মনে সবসময় ভয়ই কাজ করে। - চেয়ারম্যান সাব আমি কুলসুমরে ভালো পাই। ওর কোন ক্ষতি আমি করতে পারবো না। হঠাৎ ওর মুখ শক্ত হয়ে গেল। যেন ডাকাতের মতো হা রে রে রে... বলে ঝাঁপিয়ে পড়বে চেয়ারম্যানের ঘাড়ের উপর। - কাউরে যদি ঠিক করেন এই কামে, তাইলে পেট ফুটা কইরা হালামু। আর একটু থেমে আরও গলা চড়িয়ে বলে, ঐ মাইয়ার ক্ষতি কইরা তোর লাভ কি? হ্যাঁ! আপনি থেকে সম্বোধনটা তুইতে নেমে আসায় বেশ সিঁটিয়ে গেল চেয়ারম্যান। বাইরে থেকে তাকে ভীত দেখালেও মনে বেশ প্রফুল্ল অনুভব করতে লাগল। কেননা নতুন আর অব্যর্থ আইডিয়া খেলছে চেয়ারম্যানের মাথায়। - আরে উত্তেজিত হইও না! উত্তেজিত হইলে তোমারই ক্ষতি। রাগে রফিকের মুখের মাংস পেশি ঝুলতে থাকল।আর চেয়ারম্যান ও তার টোপটা ফেলতে বেশ উন্মাদ হয়ে উঠল। - হোন, ঐ মাইয়ার লগে... কথা শেষ করার আগে বেশ শাসিয়ে দিল রফিক।যেন পারলে কোমর থেকে যন্ত্রটা বের করে পেটে মেরে দেয় এখুনি! -শ্যাষ করতে দাও! আমি কি কই হোন আগে! একবার থেমে তাকায় রফিকের দিকে। এই স্তব্ধ পরিবেশে ও একটু হাসাতে চেষ্টা করে। কিন্তু পেরে উঠে না। - মাইয়াডার সর্বনাশ করলেই তোমারে ওর লগে বিয়া দিব। আর সমস্ত সম্পত্তির মালিক ও হবা তুমি। চেয়ারম্যানের টোপে কাজ করে। চকচক করে ওঠে রফিকের মুখ। পৃথিবীর কঠিন মানুষগুলোর ও একটা না একটা দুর্বল জায়গা আছে। সেখানে আক্রমণ করলে হাজার জয়ী বীরও হারতে বাধ্য। আর সেই দুর্বল জায়গাতেই হাত দিয়েছে চেয়ারম্যান। রফিকের মতো এত নিষ্ঠুর ডাকাতের মনেও এত ভালোবাসা থাকতে পারে সেটা কল্পনাও করতে পারে নি চেয়ারম্যান। কুলসুমের প্রতি তার ভালোবাসাই হল একমাত্র দুর্বল জায়গা। এর জন্য পৃথিবীর কত বাঘা বাঘা বীরও কাবু হয়ে গেল! - ঠিক কইতাছেন? তাইলে কি ওরে পামু! - উচ্ছ্বাসিত হয়ে পরে রফিক। - খালি ওরেই না, সাথে শওকতের সব জোতজমিও! এত কিছু সে পাবে, কিন্তু তাতে চেয়ারম্যানের লাভ কি? সে নিজেই করে না কেন কাজটা।কি চায় রফিকের কাছে! বিনিময়তো অবশ্যই আছে। পৃথিবী এখনও বিনিময় প্রথাতেই চলছে। হয় টাকা না হয় সম্পদ বা অন্যকিছু।কিছু ছাড়া কিছু পাওয়ার চিন্তা অসম্ভব। তেমনি কিছু দিলেও তার পেছনে কোন না কোন কারণ থাকে।কি সেই কারন! সারারাত ঘুমোতে পারে না রফিক। পরেরদিন পরিকল্পনা হল, কিভাবে কাজটা এগোবে! চেয়ারম্যান তার সাথে দুইজন পাহারাদার লোক দিবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজের দিন তারিখ এসে গেল। দুপুরের রোদে খা খা করছে ধানক্ষেত। কুলসুমদের বাড়ির সামনের পুকুরটাও শুকিয়ে আসছে। পুকুর পাড়ের লাউয়ের ডগাগুলোকে সাবধানে এগিয়ে যায় তিন ঘাতক। সাথে থাকা দু'জনের দিকে সন্দেহের দৃষ্টি ঘুরায়। একজন একটু হাসল।হাসিটা বেশ বিদঘুটে! কোমরে হাত দিল রফিক।যন্ত্রটার ছোঁয়ায় ভালো লাগল তার। তড়িৎ ভয় কাটিয়ে সহজ হয়ে উঠল রফিক। ঘরে ঢুকতে বেগ পেতে হল না।মাঠের মাঝে ফাকা বাড়ি। একমাত্র কাজের মহিলা আর কুলসুম ঘুমিয়ে আছে পাশাপাশি খাটে। কি শান্ত চেহারা কুলসুমের! ছোট্ট শিশুর মতো পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে।রফিকের ইচ্ছে হল পাশে রাখা পাখা দিয়ে বাতাস করে। কিন্তু তার চিন্তায় ছেদ পরল, সাথের দু'জনের উদ্ভূত কাণ্ডে। কাজের মহিলাটিকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে চলল দুজন। তাদের একজন রফিককে কিছু করার জন্য ইশারা করল। একবার হাত নিয়েও ফিরিয়ে আনলো রফিক। না, এত বড় সর্বনাশ সে করতে পারবে না! এত বড় পাপ তাকে দ্বারা হবে না।সে চুরি করতে পারে, খুন করতে পারে।তাই বলে এত নিম্ন কাজ! কুলসুম না জানুক সে তো জানে! কুলসুমকে সে ভালোবাসে। ধরফড়িয়ে বিছানায় উঠে বসল কুলসুম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা শক্ত হাত এসে পড়ল তার মুখে। কুলসুমকে টেনে নিলো রফিকের বলিষ্ট বুকের মধ্যে, ডাকাতি করা হাতের বন্ধনে। ওকে আজ পিষে ফেলতে চায়, রফিকের কঠিন বাধনে, নিবিড় নিষ্পেষণে। হাজারও বাধা পেলেও থামে না সে। পাগলা ঘোড়ার মাথায় পাগলামি চেপেছে। আস্ত আস্তে কুলসুমও নিস্তেজ হয়ে পরে।ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়া, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া হরিণের মতো মুখ দিয়ে ঘোত ঘোত শব্দ বের হয়। হঠাৎ থেমে যায় রফিক।তার কোমরের পিস্তল কই? দুরে কোথাও ছিটকে পরেছে।মুহূর্তেই চঞ্চল হয়ে ওঠে রফিকের মন।সাথে থাকা দু’জন ও কোথাও নেই। বাইরে বের হয়ে পাগলের মতো খুঁজে। পায় না। দুরে পরে আছে কাজের মহিলাটির লাশ। আরও খানিক দুরে, ধানক্ষেতের আলের পাশে পরে আছে আরেকটা লাশ। কে সে....! কাছে যেতেই নাকে সদ্য ফোটা ধানের গন্ধ ছাপিয়ে এলো তাজা রক্তের গন্ধ! লাশটা কুলসুমের বাবার! কিভাবে হল? কে করল?- নিথর দেহে তাকিয়ে হঠাৎ কি মনে করে ছুটল ঘরে।দোরের কাছে যেতেই দেখল পুলিশ আসছে।ঘরের এক কোণে পড়ে আছে সন্তান তুল্য যন্ত্রটা।সেটা তুলবারও সময় নাই। পুলিশ হাতে নাতে ধরে নিয়ে গেল তাকে। চেয়ারম্যান নিজেই আসল পুলিশ নিয়ে। সাথে সেই লোক দু'জন ও।আরও অনেকে, অনেক লোক! চেয়ারম্যান কুলসুমকে আগলে নিলো। আর সবার চোখ ফাকি দিয়ে যন্ত্রটাও। কুলসুম অত্যন্ত ঘৃণার চোখে রফিককে পর্যবেক্ষণ করছিল।হঠাৎ পড়ে থাকা ছোরা নিয়ে তেড়ে আসল। রফিক চেয়ারম্যানের গভীর জালে ধরা পড়েছে।হাজার ছুটলেও মুক্তি মিলবে না সেখান থেকে। বরং আরো কঠিন ভাবে জড়িয়ে যাবে। দুটো খুনই ছুরি মেরে হয়েছে। কিন্তু তার ছিল পিস্তল। কিন্তু সেটা সে কি করে বুঝাবে।কে শুনবে তার কথা। কিছু কিছু অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিৎকার করে প্রতিবাদ করলেও তা মিথ্যেই প্রমাণিত হয়। মাঠের ধানগুলো পানি না পেয়ে যে ফাটল হয়েছে, সে ফাটলের মতো না।তার চেয়েও অনেক বড় বিশ্বাসের ফাটল ধরেছে, কুলসুমের প্রতি তার ভালোবাসায়। গ্রামের জটলাটা হৈহল্লা করে চলতে লাগল, তপ্ত দুপুরের ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে। চেয়ারম্যানের দিকে আড়চোখে তাকাল রফিক। তার মুখে ক্রুর হাসি।দু'হাতে আগলে রাখা কুলসুমের চোখ লাল হয়ে উঠেছে। রফিক অদৃশ্য ভাবনায় ফেটে পরল রাগে। পিঠে ধাক্কা পড়ল। - শালা শুয়োর হাট তাড়াতাড়ি... পেটি ওঠা ধানক্ষেতে মুখ ধুবড়ে পরে যায় সে।নষ্ট হয়ে যায় অনেক পেটি ওঠা ধান। নাকে সবুজ ধানের গন্ধ লাগল।এই ধানক্ষেতই তো তার প্রিয় কুলসুমের অন্ন জোগাবে। না কি, শিকার হওয়া হরিণের মতো চাপা কান্নায় কেটে যাবে তার জীবন। যন্ত্র আর কুলসুম কোনটাই তার হাতে রইলো না। তবুও তপ্ত আকাশে তাকিয়ে অদৃশ্য আল্লাহর কাছে আর্জি করছে, যন্ত্র ও প্রিয় মানুষটার জন্য। ধানক্ষেত গুলোতে ও ভালো ফসল ফলুক।দু-বেলা পেট পুরে খেয়ে ভালো থাকুক কুলসুম।ভালো ব্যবহার হোক ঐ প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রের। হাটতে হাটতে ধানক্ষেতের শন শন হাওয়ায় খোজে ভরসা আর একটু আশ্বাস। কোন মানুষ বা মানুষের বানানো কোন যন্ত্রের উপর নয়!স্বয়ং আল্লাহর উপর! (‘ধানক্ষেত’-গল্পটি অধিকার নিউজ পত্রিকায় প্রকাশিত।)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...