গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের আলোকে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব এবং এক নাস্তিকের প্রশ্নের দাঁতভাঙা জবাব!!!

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ফেলুদা,হিমু,মিসির আলি(সাইম) (১৫১৩ পয়েন্ট)



আসসালামু আলাইকুম,, লেখকঃ সাইম আরাফাত,, [২য় সংস্করণ] উৎসর্গঃ জিজের রনি ও মফিজুল ভাইকে,তাদের আমি বলব ব্রাদারস টুয়েন্টি টু ক্যারেট।তাদের হৃদয় ২২ ক্যারেট স্বর্ণ দিয়ে বাধানো।কোনো খাদ নেই,ভাই আপনাদের ব্যবহারে আমি মুগ্ধ,আপনাদের ব্যবহার অত্যন্ত ভদ্র ও অমায়িক।তাই,লেখার মাধ্যমে আপনাদের প্রতি আমার ভালোবাসা জানিয়ে দিলাম"হে আল্লাহ তুমি তাদের নেক হায়াত দান কর"(আমীন)। বিষয়ঃ মহাগ্রন্হ আল-কোরআনের আলোকে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব এবং এক নাস্তিকের প্রশ্নের দাতভাঙা জবাব। √আমি এখন বসে আছি বিজয় এক্সপ্রেস এর শোভন কামরায়।আমি যাচ্ছি রাজশাহী।আমার নানু বাড়িতে।আমি বসে বসে জুনায়েদ জামশেদের গজল শুনছি।এমন সময় একজন লোক আমার কামরায় ঢুকল,তার মুখ হাসি হাসি,দেখে মনে হচ্ছে তৃতীয় বিশুযুদ্ধে ব্যাটা পাজি ট্রাম্পকে হারিয়ে এসেছে।লোকটি আমার সামনের সিটটায় এসে বসল। তার হাতে একটা বই।বইটা সম্ভবত ইংরেজীতে লেখা।বইটা উল্টো করে ধরা তাই নামটা দেখতে পারছি না। লোকটা এবার হাত ঠিক করে ধরলেন।এখন তো দেখছি লোকটার হাতে দুইটা বই,দুটাই ইংরেজীতে লেখা-স্টিফেন হকিং এর "A breif history of time" এবং অন্যকোনো একজন লেখকের বই-"The expanding universe". লোকটা বই দুটা সামনে রেখে ব্যাগ থেকে পানি বের করে খেলেন।আমি লোকটার দিকে তাকিয়ে তার কাজ দেখছি,আমার মনে হয় এই কাজে আমি মজা পাচ্ছি।এবার লোকটি আমার দিকে তাকালেন,আমার মুখে দাড়ি দেখে লোকটি হয়গ তার ভুরু কুন্চিত করল,আমা তা লক্ষ্য করলাম না। লোকটি মুচকি হেসে বলল,"তুমি মুসলিম,তাই না"? --হ্যা। লোকটি হালকা মাথা দুলাতে দুলাতে বলল,"তোমরা ধর্মে বিশ্বাসীরা যে কিভাবে কতটা অবৈজ্ঞানিক হতে পার,তা যদি নিজের চোখে না দেখতাম তবে বিশ্ব্স করতাম না,এই বিজ্ঞানের যুগে দাঁড়িয়েও তোমরা ধর্মের মতো একটা অবৈজ্ঞানিক বিষয়কে কিভাবে বিশ্বাস কর?? --ধর্ম অবৈজ্ঞানিক নয়,আর পৃথিবীতে ধর্ম কখনো পরিবর্তন হয় না,কিন্তু বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে।অন্যান্য ধর্মের ব্যাপারে জানি না,তবে ইসলাম একটা বৈজ্ঞানিক ধর্ম।যদিও আমি বিজ্ঞান দিয়ে ইসলামকে জাস্টিফাই করি না।আল-কোরআনে প্রায় ১০০০ হাজারেরও বেশি বৈজ্ঞানিক আয়াত আছে।যা বর্তমান বিজ্ঞান ধাপে ধাপে প্রমাণ করছে। --তাই বুঝি? আমার মনে হয় স্বপ্নে আকাশে উড়া আর কোরআনে বিজ্ঞান খোঁজা দুটাই হাস্যকর। --ভাই,আপনার হাতে যে বইটি কোরআন ১৪০০ আগেই এটা সম্পর্কে বলেছে। লোকটার হাসি নিমেষে মিলিয়ে গেল।তিনি আমার দিকে কেমন করে তাকালেন।আমার মনে হয় ওনি এটা জানেন না যে,কোরআন ১৪০০ বছর আগেই সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের কথা ঘোষনা করছে। লোকটা আমাকে বলল,"বলেছে"? --হ্যা,কোরআন ১৪০০ বছর আগে এটা নিয়ে কথা বলেছে।শুনতে চান? লোকটি নড়েচড়ে বসলেন।বললেন,"বল"। আমি শুরু করলাম,"সর্বপ্রথম সম্প্রসারনশিল মহাবিশ্বের কথা বলেন বিজ্ঞানী এডুইন হাবল(Edwin Huble,ওরফে বিজ্ঞানী হাবলু ভাই)।তিনি এটা সর্প্রথম বলেন ১৯২৯ সালে।তিনি এটা প্রমান করতে চেয়েছিলেন আলরার্ট আইনস্টাইনের "থিওরি অফ রিলেটিভিটির" একটা সূত্র দিয়ে(কিন্তু আইনস্টাইনও নিজেও তখন এ টা বিশ্বাস করতেন না যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারনশিল)।কিন্তু তিনি যখন আইনস্টাইনের কাছে এটা নিয়ে গেলেন,তখন আইনস্টাইন মুখ কুঁচকে বলল,"তোমার গণিতটা ভালোই আছে,তবে তোমার ফিজিক্সটা এত জঘন্য কেন বাপু"। দেখুন আইনস্টাইন সরাসরি এটাকে না করে দিল।কিন্তু হাবলু ভাই চেষ্টা চালিয়ে গেলেন।অবশেষে তিনি ১৯৫২ সালে বিজ্ঞান মহলে এক হইচই ফেলে দেন।তিনি টেলিস্কোপ আবিষ্কার করে পর্যবেক্ষণমূলক সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেন যে,সকল ছায়াপথ একে অপর থেকে অপসৃত হচ্ছে বা দূরে সরে যাচ্ছে অর্থাৎ বিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে।তখন কিন্তু আইনস্টাইনও স্বীকার করলেন যে,মহাবিশ্ব সম্প্রসারনশিল। ওবং হাবলু ভাইকে ভুল ধরার জন্য ক্ষমা চেয়ে বললেন,"This is the biggest mistake in my life". কিন্তু আপনি কি জানেন কুরআন এটা ১৪০০ বছর আগে ঘোষনা করেছে।আল কোরআন বলেছে-- "আমি নিজ হাত দ্বারা আকাশ নির্মাণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সম্প্রসারণকারী" (সূরাঃ যারিয়াত-৪৭)। আমি লোকটিকে কোরআন খুলে আয়াতটা দেখালাম। লোকটা মাথা নাড়ছে। আমি বলতে লাগলাম,"আরবী শব্দ মূছিয়ূন-এর সঠিক অনুবাদ করা হয় "সম্প্রসারনকারী" হিসাবে,এবং বিশ্বের সম্প্রসারনশিল বিশালতার দিকেই ইঙ্গিত করে। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা জ্যেতির্বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আপনার হাতের বইটায় "A breif history of time" বলেছেন যে,"মহাবিশ্ব সম্প্রসারীত হচ্ছে"। আমার তার হাত থেকে বইটা নিয়ে তার দ্বীতিয় অধ্যায় নাম"The expanding unniverse" থেকে তাকে এটা দেখালাম। আমি বলতে লাগলাম,"কিন্তু আল কোরআন এটা এমন সময় ঘোষনা করেছে যখন মানুষ সামান্য টেলিস্কোপও আবিষ্কার করে নি। আপনি হয়ত বলতে পারেন,কুরআনে জ্যেতির্বিজ্ঞান বিষয়ক উপস্তিতি অবাক হবার মতো কিছু না।কারণ আরব জাতিরা জ্যেতির্বিজ্ঞানে এগিয়ে ছিল।জ্যেতির্বিদ্যায় আবরা এগিয়ে ছিল এটা স্বীকার করার ক্ষেত্রেআপনি সঠিক।তবুও আপনি এটা উপলদ্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, আরবজাতী জ্যেতির্বিজ্ঞানে অগ্রসর হওয়ার কয়েক শতাব্দী পূর্বেই আল-কোরআন নাযিল হয়।তদুপরি আরবরা তাদের বৈজ্ঞানিক অগ্রসরতায় স্বর্ণ শিখরে অবস্থানকালে- বিগ ব্যাঙ -এর জন্য মহাবিশ্বের উৎপত্তি ছাড়াও উপরে উল্লিখিত অনেক সত্য সম্পর্কে অবগত ছিল না। আল-কোরআনে উল্লিখিত বৈজ্ঞানিক সত্যগুলো তাই আরবদের জ্যেতির্বিজ্ঞানে অগ্রগতির ফল নয়।বরং বিপরীত মতটায় গ্রহণযোগ্য যে,আল-কোরআনে জ্যেতির্বিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞানালোচনা বিদ্যমান বলেই তারা জ্যেতির্বিজ্ঞানে এতটা এগিয়ে। আর ভাই আপনি বলছেন যে,স্বপানে আকাশে উড়া আর কোরআনে বিজ্ঞান খোজা দুটোই হাস্যকর।না ভাই এটা সত্য নয় ২০০০ সালের(২০০২ ও হতে পারে)আপনাদের নাস্তিকদের ভাবগুরু ইসলাম গ্রহণ করেছিল।কেন জানেন? কারন তিনি কোরআনের ভুল ধরতে গিয়ে এমন একটা আয়াত পেলেন যা তাকে আস্তিক হতে বাধ্য করে।এমনিভাবে ড.মরিস বুকাইলি,ড.কিথ মুর এরাও কোনআনের ভুল ধরতে গিয়ে এমনসব বৈজ্ঞানিক আয়াত পেলেন যার জন্য তারা সাথে সাথে মুসলিম হয়। তাহলে আপনি কিভাবে বললেন যে,কোরআনে বিজ্ঞান খোজা হাস্যকর।আর একটা কথা মনে রাখবেন কোরঅান কোনো বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ নয়,এটা মানবজাতির পথপ্রদর্শক"। লোকটা কিছু বলতে গিয়েও বললেন না।আমি তার দিকে আমার ব্যাগ থেকে বের করে ড.মরিস বুকাইলির "The QURAN,The BIBLE and the modern science"বইটা দিলাম।.লোকটা হতভম্ব ভাব নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।তিনি বইটা না নিয়ে ডুকরে কেদে উঠলেন।বললেন," ভাই,এখন যদি আমি ইসলামে ফিরে আসি তবে কি আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন"। আমি বললাম,"অবশ্যই করবেন কারন আল্লাহ ক্ষমাশীল"। আমার কথা শুনে লোকটা মুচকি হাসলেন।আমিও তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলাম।মনে মনে বললাম,"হে পরম করুনাময় আল্লাহ আপনি এই ভাইয়ের মতো সবাইকে হেদায়েত দান করুন"(আমীন)। [ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,কারন ক্ষমাকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন।] ধন্যবাদ সবাইকে। THE END...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একদিন রাতে
→ ~ইসলাম কেন পুরুষদের একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দেয়? কিছু ভুল,কিছু বিভ্রান্তের সমাধানের প্রচেষ্টা!
→ এক অন্যরকম অ্যাডভেঞ্চারঃ ফেলুদা অমনিবাস
→ ~দীঘির জলে কার ছায়া গো-হুমায়ূন আহমেদ(বুক রিভিউ)(আমার সবচেয়ে প্রিয় আরও একটা বই)।
→ একটি দামি উপহার
→ একজন পিতার আর্তনাদ
→ আপনার প্রশ্নের জবাব
→ একফোঁটা মধু
→ মৃত্যু পুকুর: এক অসমাপ্ত রহস্য
→ রহস্যময় মমি তেতুন খামেন এবং এর অভিশাপ:

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...